প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং সে কারণে তার সরকার ইতিমধ্যেই আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এর আগে গত মাসের ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংকও তাদের একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি ২০২৩ সালের দিকে মন্দার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।
মূলত দু-বছরেরব্যাপী বৈশ্বিক করোনা মহামারির পর ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবেই বিশ্বে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যা মোকাবেলায় দেশে দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার হিমশিম খাচ্ছে।
তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক অর্থনীতির এ পরিস্থিতির জন্য এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ আর পরাশক্তিগুলোর নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞাকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের মানুষকে প্রতি ইঞ্চি জমিতে শস্য আবাদের পরামর্শ দিয়েছেন যাতে করে উৎপাদন বাড়িয়ে মানুষ সঞ্চয় করতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকা ও রাশিয়ার নানা পদক্ষেপের কারণে ইতিমধ্যেই অর্থনীতিতে বিভিন্ন রকম প্রভাব পড়েছে এবং দ্রব্যমূল্য বেড়েছে অনেকখানি। সামনে সংকট আরও বেশি হলে অর্থনীতির অবস্থা কেমন দাঁড়ায় তা নিয়ে তাই বেশ উদ্বেগ আছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
বৈশ্বিক মন্দা ও বাংলাদেশ বিষয়ে যা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে ঢাকায় ফিরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ব্রিটেনের রানীর শেষকৃত্যানুষ্ঠান ও জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে জানান যে, তারা বিশ্বময় একটি দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছেন এবং ২০২৩ সালে দুর্যোগময় সময় ঘনিয়ে আসছে বলে মনে করেন।
তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন যে বাংলাদেশের এ মুহূর্তে উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ভালো যা দিয়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কিন্তু বিশ্ব যদি সমস্যায় থাকে সেক্ষেত্রে আমরা কি ভালো থাকব? এ জন্য মানুষের কষ্ট লাঘবে যা করা দরকার তার সব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আগামী বাজেট নিয়েও এখনি চিন্তা করা হচ্ছে।
এমন অবস্থায় সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই বিলাসদ্রব্য আমদানি সীমিত করেছে ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আমদানিয় ব্যয় কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
বৈশ্বিক মন্দা বিষয়ে বিশ্বব্যাংকে প্রতিবেদন
ওয়াশিংটন থেকে গত মাসেই বিশ্বব্যাংক তার ‘বিশ্বে কি মন্দা আসন্ন’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑবিশ্বে অর্থনৈতিক শক্তির দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপ। এই তিন শক্তির অর্থনীতির চাকা গতি বা শক্তি হারাচ্ছে। এর মধ্যে আগামী বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর মাঝারি কোনো আঘাত এলেও তার পরিণতি গড়াতে পারে মন্দায়। এই মন্দায় মারাত্মক পরিণতি ভোগ করবে মূলত বিকাশমান বাজার ও অর্থনীতির দেশগুলো।
বিশ্বব্যাংক বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যেভাবে একযোগে সুদের হার বাড়াচ্ছে, তা গত পাঁচ দশকে দেখা যায়নি। এই প্রবণতা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে হচ্ছে। তবে করোনা মহামারির আগে মূল্যম্ফীতি যে পর্যায়ে ছিল, সেখানে ফিরে যেতে এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নাও হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করবে, যা ২০০১ সালের গড় হারের দ্বিগুণের বেশি।
যদিও অনেক বিশ্লেষক বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের আগেই মন্তব্য করেছেন, ১৯৭০ সালের মন্দার পর বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন সর্বাধিক সংকটে রয়েছে। আগের মন্দা শুরুর আগে মানুষের ব্যয়ের যে প্রবণতা ছিল, সে তুলনায় বর্তমানে মানুষ অনেক কম খরচ করছে। অর্থাৎ কমে গেছে ভোক্তার আস্থা।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ব্যাপকভাবে কমে আসছে। ভবিষ্যতে যখন বিভিন্ন দেশ মন্দার কবলে পড়বে, তখন এই গতি আরও কমে আসতে পারে। তাঁর শঙ্কা, প্রবুদ্ধি কমে আসার যে হাওয়া বইছে, তা অব্যাহত থাকবে। এর মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে বিকাশমান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোকে।
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া তথ্য বলছে, সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট এবং শ্রমবাজারের ওপর থাকা চাপ যদি প্রশমিত না হয়, তাহলে ২০২৩ সালে জ্বালানি খাত বাদে বৈশ্বিক মূল্যম্ফীতির হার দাঁড়াবে ৫ শতাংশে। এই অঙ্কটা করোনা মহামারির আগের পাঁচ বছরের গড় মূল্যম্ফীতির প্রায় দ্বিগুণ। এ অবস্থায় মূল্যম্ফীতি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার অতিরিক্ত ২ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন পড়তে পারে। অবশ্য চলতি বছরে এরই মধ্যে এ হার গড়ে ২ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে তারা।
বিশ্বব্যাংকের শঙ্কা, একে তো চলছে অর্থনৈতিক সংকট, তার পর সুদের হার বৃদ্ধির এই পরিমাণ ২০২৩ সালে বিশ্বে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ মাথাপিছু আয় সংকোচন করতে পারে। এমন পরিস্থিতিকেই সংজ্ঞাগতভাবে ‘বৈশ্বিক মন্দা’ বলা হয়ে থাকে। সংস্থাটির মতে, আসন্ন মন্দার ঝুঁকি এড়াতে ভোগ কমানোর চেয়ে বরং উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। বাড়াতে হবে উৎপাদনশীলতা।
সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের বিভিন্ন মন্দা আমাদের দেখিয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যখন কম থাকে, তখন দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যম্ফীতি বাড়তে দেওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ দেওয়া হয়েছে ১৯৮২ সালের মন্দার। তখন বিভিন্ন দেশের ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা হারানোর ৪০টির বেশি ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া উন্নয়নশীল অনেক দেশ এক দশক ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হারিয়েছিল।
বিশ্বব্যাংক বলেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের আর্থিক ও রাজস্ব-সংক্রান্ত নীতিমালা আরও কঠোর করা হয়েছে। এই কৌশল মূল্যম্ফীতি কমাতে কাজে লাগতে পারে। তবে এসব পদক্ষেপের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেগুলো পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির গতি আরও কমিয়ে দিতে পারে।
সমস্যা সমাধানে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ
সংস্থাটি বলছে, মূল্যম্ফীতি মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত আরও সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের এমন সব মধ্যমেয়াদি রাজস্ব পরিকল্পনা করতে হবে, যেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে এবং দরিদ্র ও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে আছে এমন পরিবারকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।
কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ
উত্তরণ ও প্রতিরোধে কী করা যেতে পারে
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশের মতো ছোটো অর্থনীতির দেশগুলো কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি বা বড়ো অর্থনীতর দেশগুলোর নেতিবাচক নীতি থেকে মুক্ত নয়। যার ফলস্বরূপ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার একটি বড়ো অংশকে এরা প্রভাবিত করে। আর তাই জি-২০ এর মতো সম্মেলনে স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য এই ছোটো দেশগুলোকে একসাথে খুব জোরালোভাবে যুক্তি তুলে ধরতে হবে এবং ঐ সমস্ত নীতি (শিথিল নীতি যা অবাধ তারল্য বৃদ্ধি করে বুদবুদের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে) বর্জন করতে হবে যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ধ্বংসের কারণ (যেমন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় শিথিলতা এবং অপর্যাপ্ত নিয়মকানুন ও রক্ষণাবেক্ষণ)।
বৈশ্বিক অর্থনীতির ভারসাম্য এবং স্থিতিশীলতার নিরাপদ পথ খুব সহজ হবে যদি বৈশ্বিক তারল্য বৃদ্ধিটাকে বৈশ্বিক জিডিপি’র সাথে যে কোনোভাবে একটা সংযোগ স্থাপন করা যায় বা বৈশ্বিক জিডিপি বৃদ্ধি বা হ্রাসের সাথে সাথে বিপরীত চক্র অনুসরণ করে তারল্যের অনুপ্রবেশ ও প্রত্যাহার নিয়ন্ত্রণ করবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে (IMF) (সদস্য রাষ্ট্রের ভোটাদিকার ও তাদের অংশ যুক্তিযুক্তভাবে সাংশোধন ও সমতা আনয়নের পর) এই ব্যবস্থার কর্ণধার হিসেবে ক্ষমতা প্রদান করা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি সমস্ত বৈশ্বিক আর্থিক খাতের চূড়ায় অবস্থান করে নীতি গ্রহণ করবে। নতুন এই ব্যবস্থার জন্য (মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ স্বর্ণের উপর না হয়ে বৈশ্বিক জিডিপি’র উপর হবে) জনমত তৈরি করা খুব সহজ নয়। এ সম্পর্কে আমাদের এখনই জনমত তৈরি করার জন্য আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।
সায়মা হক বিদিশা, শিক্ষক অর্থনীতি বিভাগ, ঢাবি।
বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি বিষয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আসবে।
এগুলো হলো : ১. রপ্তানি আয় কমে যেতে পারে ২. আমদানি করা খাদ্য পণ্যের দাম বাড়বে ৩. মন্দায় বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম কমলে তার সাথে দেশের বাজারের সমন্বয় সাধন করা ৪. রেমিটেন্স কমতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় পড়লে বাংলাদেশের রপ্তানিতে এর প্রভাব পড়বে কারণ তৈরি পোশাকের চাহিদা কমবে। তবে সঠিক ভাবে এগুতে পারলে এখানে কিছুটা ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে। কারণ বাংলাদেশ যেসব পোশাক রপ্তানি করে সেগুলো খুব উচ্চ মূল্যের নয়। বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের বড়ো অংশ তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকলেও বৈশ্বিক মন্দায় তাতেও প্রভাব পড়তে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের কোম্পানিগুলো পশ্চিমাদের কাছে যে রপ্তানি করে তাতে প্রবৃদ্ধি কম হলে এসব কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
এছাড়া বাংলাদেশের জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জ হবে খাদ্য পণ্যের দাম। কারণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য পণ্য বাংলাদেশকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক মন্দা দেখা গিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে সেটি প্রভাব ফেলবে। আমদানি করা পণ্যগুলোর দাম বাড়বে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৈশ্বিক মন্দায় কমে আসলে সেটি কিছু স্বস্তিরও কারণ হতে পারে। তবে কৃষি আর রেমিটেন্সে প্রণোদনাসহ আনুষঙ্গিক পদক্ষেপ ঠিক মতো নিতে পারলে মন্দার চাপ মোকাবেলা করা কিছুটা সহজ হবে।
তবে সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবে যদি দেশের সার্বিক রপ্তানি আয় কমে আর আমদানি আয় বেড়ে যায় তাহলে চলতি বছরের মতো আবারো ডলার সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম মন্দায় কমে আসলে বাংলাদেশের বাজারে তার সমন্বয়টা বুদ্ধিমত্তার সাথে করতে পারলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে।
একই সাথে চলতি বছর ডলার সংকট মোকাবেলায় যেভাবে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে সে ধরনের পদক্ষেপ নেয়ারও প্রয়োজন হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় মূলত বৈশ্বিক প্রবণতাকেই তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট কোনো দেশের কথা উল্লেখ নেই। তবে বিশ্বমন্দা হলে অনেক ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশও তার বিরূপ প্রভাব এড়াতে পারবে না। অন্যদিকে বৈশ্বিক মন্দা বাংলাদেশকে কিছু সুবিধাও দিতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্বমন্দা হলে ক্রেতা-দেশে ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে আমাদের রপ্তানির ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আবার মন্দা হলে জ্বালানি তেলের দাম হয়ত কিছু কমবে; বিশ্ববাজারে পণ্যের দরও কমবে, যা বাংলাদেশের জন্য ভালো। তবে বৈশ্বিক সুদহার বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ বা বিদেশি পুঁঁজি ব্যয়বহুল হবে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ বেড়ে যাবে।
বর্তমানে আমাদের বেসরকারি খাতের প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণ রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও সুদহার বাড়বে। এতে আমাদের খরচ বেড়ে যাবে।
এতদসংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা দুটি জায়গায় পিছিয়ে ছিলাম। একটি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, অন্যটি সুদহার বৃদ্ধি। তার মধ্যে বিনিময় হারে ধীরে ধীরে অবমূল্যায়ন ঘটছে। কিন্তু সুদহার বাড়ানো যাচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের অনীহা হলেও অনেকে মনে করছেন, এটা একটা সমস্যা। অন্যান্য অনেক সমপর্যায়ের দেশ ঠিকই পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে নীতির সমন্বয় করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সুদের হার বাড়ানোর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখা। উৎপাদক শ্রেণিকে সর্বতোভাবে সহায়তা করা। প্রয়োজন বৃহৎ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে সঠিক সময়ে খাদ্য আমদানি ও নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া। সমান মনোযোগ থাকতে হবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপরেও। সার্বক্ষণিক খাদ্য মজুত পরিস্থিতির ওপরেও নজর রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে ২০২৩ সালের সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দা বাংলাদেশের মতো ছোটো ছোটো দেশেও প্রভাব পড়বে। তাই এই মন্দা যাতে সবচেয়ে কম প্রভাব পড়ে এবং সাধারণ জনগণ যাতে চরম সংকটের মধ্যে পতিত না হয় সেজন্য এখন থেকেই সুদূরপ্রসারী কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে হেলাফেলার কোনো সুযোগ নেই।
নাজিম উদদীন, বিশেষ প্রতিবেদক।





Users Today : 23
Views Today : 25
Total views : 180724
