আমরা আর কত বিবেক বিক্রি করব তা বুঝতে পারছি না। সত্য তো সত্য হয়ে একদিন না একদিন দেখা দেবেই তা কেন ভুলে যাই। মুখে যতই সত্যকে আটককে রাখতে চেষ্টা করি না কেন সে বের হবেই। আমি খুবই খুশি হয়েছি সম্প্রতি একটি দৈনিকের পত্রিকা পড়তে পড়তে। আমাদের সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোনো একটা অনুষ্ঠানে সাবলীলভাবে বলেই ফেললেন আওমীলীগ করে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে অনেকেই। যারা এই কাজ করেছে তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুনদের নিয়ে কমিটি করতে। এটাতে দুটি বিষয় আমার মাথায় এসেছে যে, তিনি বিজ্ঞতায় নতুনদের খাওয়ার ও পাচারের সুযোগ করে দিতে চান। আর সেই সুযোগেই পুরাতনগুলি নিজেদের মতো করে সাবধান হতে পারেন। তিনি স্বীকার করেই নিলেন যে তারা টাকা পাচার করেছেন, বা তাদের দ্বারা টাকা টাকা পাচার হয়েছে এবং তা আওয়ামীলীগই করেছে। তাহলে কি তাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে রেখে আবার নতুন পাচারকারী তৈরি করতে কি তার এই অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন। আমার মনে হচ্ছে এই মহা সত্য কথা বলায় তার চেতনা ফিরতে শুরু করেছে। দৃষ্টিশক্তি বেড়েছে। মনের শক্তিও বেড়েছে।
আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে যে কষ্ট লাগছে না তা নয়। ভোজ্য তেলের অভিযানে যেমন রাজশাহী বিভাগেই লক্ষ লক্ষ লিটার পাওয়া গেল। আর সেখানেও কেন যেন বিচারের পার্থক্য দেখলাম। শাস্তির ভিন্নতাও দেখলাম। বড়ো বড়ো অয়েল মিলে ধরা পড়েছে হাজার হাজার লিটার ভোজ্য তেল। তাদের জন্য শুধু জরিমানাই শেষ। আবার দেখলাম কিছু আড়তের গোডাউনেও ভোজ্য তেল পাওয়া গেছে কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে জরিমানাসহ তেল জব্দ করা হলো-এসব পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদেই জানা গেল। এটা কেমন যেন দ্বৈতনীতি আমার কাছে মনে হয়েছে।
জিনিসপত্রের দাম আবার নতুনভাবে নিয়ন্ত্রণের বাহরে যাওয়ার লাইনে উঠেছে। চাল, চিনি, আটা, ময়দা, ডিম, মুসর ডাল, পেঁয়াজ, গুঁড়ো দুধ এগুলো বাড়ন্ত দামের ট্রেন চলতে শুরু করেছে। কে আনবে এগুলোর সমতা। আমাদের ৫/৯৫ নীতি মানে, ৫ ভাগ মানুষ ৯৫ ভাগ মানুষকে কৌশলে শোষণ অব্যাহত রেখেছে। এখনো এই ৯৫ ভাগ মানুষ বসে বসে দেখছে আর আঙুল চুষছে অসহায়ের মতো। আমরা কি তবে আমাদের লজ্জাজনক অভ্যাস, ঘৃণামূলক অভ্যাস, নিজের হৃদয়ে লালন করতে করতে একেবারেই নিমজ্জিত হয়ে গেছি। নইলে আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দেওয়া উপহারের অ্যাম্বুলেন্সে পাওয়া যায় ফেন্সিডিল। আবার যে সংগঠনকে সেটা উপহার দিয়েছেন সেটার সাধারণ সম্পাদক হলেন সেই জেলার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। হয়ত তার কিছুই হবে না মাঝখানে ড্রাইভার ব্যাটা পড়ে গেল গ্যাঁড়াকলে।
আসলে দেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন চাইলে প্রতিশ্রুতি রক্ষা তো করতেই হবে সেই সাথে প্রতিদান দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে নিজেকে একটা প্রার্থনালয় হিসেবে দেখতে হলে দেশের অন্য জনগণের কাছ থেকে তাদের সমস্যাগুলো শোনার সময় বের করতে হবে। আমরা জনদুর্ভোগ নিয়ে কিছু বললে বা লিখলে বা কোথাও দাঁড়ালে আমরা হয়ে যাই দেশদ্রোহী। তাহলে ঐ ৫ ভাগ মানুষ যারা আমাদের শাষন কাজে ব্যাস্ত, তারাই কি শুধুমাত্র দেশপ্রেমিক? বাকি মানুষগুলো তোদের হাতের দাবার ঘুটি।
মন থেকে মন্দতা দূর করতে হলে নিজেকে, মানুষকে ও প্রকৃতিকে ভালোবাসকে হবে। নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করতে হবে তাদের সাথে। তাদের বুকে কান লাগিয়ে শুনতে চেষ্টা করতে হবে তাদের বুকের হাহাকারের বাণী। কেননা এই ৯৫ ভাগ মানুষ গর্জন করে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিল বলেই আমরা আজ স্বাধীন। বড়ো বড়ো গলায় অনেক ভালো মন্দ কথা বলতে পারছি আমাদের এই স্বাধীন ভুখন্ডে। আবার যেন তাদের নতুন করে গর্জে উঠতে না হয়, সেই দিকে খেয়াল করার সময় কি হয়নি এখনো।
অলোক মজুমদার : চিকিৎসক ও লেখক





Users Today : 171
Views Today : 184
Total views : 177587
