বিশ্ব জুড়ে করোনা মহামারির মধ্যে নতুন বছর এসেছে। নতুন বছরকে উৎসবরে মধ্যে বরণ করে নিতে নিতেও মানুষ শঙ্কিত ছিল করোনা ভাইরাসকে নিয়ে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশাবাদী, ২০২২ সালে করোনাভাইরাস মহামারিকে পরাস্ত করতে পারবে বিশ্ববাসী। তবে সেজন্য বিশ্বের দেশগুলোকে একত্রে কাজ করতে হবে। নতুন বছরে বাংলাদেশ যে ছয়টি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে, তা থেকে উত্তরণে বিশেষজ্ঞগণের প্রাথমিক নির্দেশনাসহ থাকছে নতুন বছরের প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদন।
করোনাভাইরাস ও অমিক্রন ও শতভাগ মানুষকে টিকাদান
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো গত দুই বছর ধরে করোনাভাইরাসের আক্রমণের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। নতুন করে তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘অমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট’ সংক্রমণ। যাকে বলা হচ্ছে সবচেয়ে সংক্রমণশীল। সরকারি তথ্যমতে, এই পর্যন্ত বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ২৮ হাজার ৭২ জন মৃত্যু বরণ করেছেন। গত কয়েকমাস সংক্রমণের হার কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে এখন প্রতিদিন নতুন করে শনাক্ত হচ্ছে পাঁচশো জনের বেশি কোভিড রোগী। বাংলাদেশে মোট শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩৯ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বছরেও করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হবে সরকারের জন্য।

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে হলে আমাদের দেশের সব জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে
শারমীন ইয়াসমিন
চেয়ারপার্সন, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন।
একটার পর একটা করোনাভাইরাসের নতুন ধরন আসছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটা বাংলাদেশেও আসছে। এটা ঠেকাতে পারাটা একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ। যেভাবে আমাদের সব বন্দর খোলা আছে, তাতে এটা করা কঠিন। বর্তমান ভ্যারিয়েন্ট অমিক্রন যেহেতু অতি দ্রুত বিস্তার লাভ করতে সক্ষম তাই এই ভ্যারিয়েন্টের মোকাবেলা করা একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ হবে। আমরা পদক্ষেপগুলো অনেক দেরিতে নেই। বর্তমানে জনসাধারণের মধ্যে একধরনের শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। সব ধরনের পাবলিক অনুষ্ঠান হচ্ছে, কিন্তু সরকারের এই ব্যাপারে কোনো নজরদারি আছে বলে দেখা যাচ্ছে না। আমাদের নিয়মনীতিগুলো পালনের ব্যাপারে আরও সোচ্চার হতে হবে। প্রয়োজনে সরকারকে আইনের প্রয়োগও করতে হবে। এছাড়া টিকার কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আমরা কিন্তু এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে হলে আমাদের দেশের সব জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আর আমার মতে, এটাই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ।
দেশের শতভাগ মানুষের জন্য করোনাভাইরাসের টিকা নিশ্চিত করা এখনো একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ। টিকার জন্য বাংলাদেশকে নির্ভর করতে হয় কোভ্যাক্স সহায়তার ওপর। সরকার ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে চায়। কিন্তু ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৬শে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মাত্র ২৮.৪৪ শতাংশ মানুষ দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছেন। জনসংখ্যা অনুপাতে তা এখনো সন্তোষজনক নয়।
মহামারি থেকে পরিত্রাণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় টিকা পাবার সমঅধিকার নিশ্চিত করা
শেলডন ইয়েট, বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি
মহামারি থেকে পরিত্রাণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা পাবার সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী টিকা দেওয়ার হার বাড়ানো। বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পর সরকার এখন বুস্টার ডোজের কার্যক্রম শুরু করেছে। বুস্টার ডোজ হিসাবে দেয়া হচ্ছে ফাইজার, মর্ডানা এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
গত বছরের শেষের দিকে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল দেশের আইনশৃঙ্খলা বিশেষ বাহিনী র্যাব এবং প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান ছয় জন কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, র্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে।
সেই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানো, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রকাশ বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে একতরফা বলে বর্ণনা করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত এলো-এই প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রীদের অনেকে। বাংলাদেশ সরকার এই নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদও জানিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এখনও মনে করছে, আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন সম্ভব হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, র্যাব ও কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে আমাকে মি. ব্লিঙ্কেন জানিয়েছেন। আমরা তাকে বললাম যে, বিভিন্ন প্রকারে আপনাদের সঙ্গে আমাদের ৫০ বছরের উত্তম সম্পর্ক। বিভিন্নভাবে ডায়ালগ-আলোচনার স্কোপ আছে। আমরা কিছু না জেনে হঠাৎ করে এটায় আমাদের দেশের মানুষ সারপ্রাইজড, এটা অনাকাক্সিক্ষত ছিল। আরও বললাম যে, এটা কিন্তু যথেষ্ট ক্রেডিবল অর্গানাইজেশন। এদের কারণে সন্ত্রাস কমেছে, ড্রাগ মোটামুটি আন্ডার কন্ট্রোল, হিউম্যান ট্রাফিকিং, যেগুলো আপনাদের গোল-সুতরাং আমাদের কাছে খুব তাজ্জব, আশ্চর্য মনে হয়েছে।
আলী রিয়াজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশ্লেষক
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে নিষেধাজ্ঞার পেছনে যেসব কারণ দেখানো হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবর্তনের সুযোগ অবশ্যই থাকে, যদি এখন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয়। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলোর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া এবং প্রতিষ্ঠান হিসাবে র্যাবের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ কাঠামোগত পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বিষয়গুলোতে পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু আলোচনা করলে হবে না।
বাক স্বাধীনতা ও মুক্ত চিন্তা
বিগত কয়েক বছরের মতো বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক চর্চা ও মুক্তচিন্তার প্রশ্নে বিভিন্নভাবে উদ্বেগ থাকছেই ২০২২ সালেও। গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখির কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ প্রায় সময়ই উঠেছে।
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে মামলা দেয়ার বিষয়টি দেশব্যাপী সাংবাদিকদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে কয়েকদিন পরে তাকে জামিন দেয়া হলেও এখনো তার পাসপোর্ট জব্দ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউজের ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২১’ প্রতিবেদনে ইন্টারনেটে বাকস্বাধীনতার সূচকে ১০০তে বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছে মাত্র ৪০ পয়েন্ট। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশে ইন্টারনেটে বাকস্বাধীনতা আংশিক মুক্ত বলে অভিহিত করা হয়েছে।
আর্টিকেল নাইনটিন বছর শেষ হবার আগে তাদের সংগৃহীত তথ্য উপাত্ত পেশ করে জানিয়েছে যে, ২০২১ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাংলাদেশে যত মামলা হয়েছে, তার মধ্যে ৪০ শতাংশ মামলাই হয়েছে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসহ সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নামে কটূক্তির কারণে।
ফারুখ ফয়সাল
আর্টিকেল নাইনটিনের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক
গত বছরগুলোয় বাংলাদেশের যেমন উন্নতি হয়েছে, অনুন্নত দেশ থেকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত হয়েছে, অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু একটাও প্রশ্ন উঠেছে যে এটা টেকসই কিনা? এই প্রশ্নটি উঠছে দুইটি কারণে। এদেশে গণতন্ত্রের মূল্যবোধ কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে? এবং তারই সাথে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা এবং মানুষের মতো প্রকাশের স্বাধীনতা জড়িত। ‘যদি বর্তমান সরকার বিষয়টির মীমাংসা না করে, তাহলে গত বছরের চেয়ে এ বছর ভালো হবে, তার কোনো লক্ষণ আমরা দেখছি না।
সরকারি দলের এসব নেতাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীরা ছাড়ারও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের মতো সংগঠনের নেতারাও রয়েছেন, যাদের নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও গণতন্ত্র
নতুন বছরের শুরুতেই নিশ্চিতভাবে সবার দৃষ্টি থাকবে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ার দিকে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করেছেন। কিন্তু শুরুতেই অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও সিপিবি সংলাপে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়ায় এই উদ্যোগ বড়ো ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ২০২১ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে গণতন্ত্র নিয়ে ভাবমূর্তি সংকটে থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
দেশের সকল রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব না হলে সামনের বছরের জাতীয় নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।

খাদ্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ
ডিজেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে পরিবহণ ভাড়া বেড়েছে। কিন্তু তার আগে থেকেই চাল, সয়াবিন তেল, চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ছেই।
বর্তমানে মোটা চালের দাম ৪২ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশে ২০২১ সালের শেষে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে।
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মূল্যস্ফীতি বাড়ার পেছনে মূল প্রভাবক হিসাবে কাজ করেছে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি। যেমন-পরিবহণ, স্বাস্থ্যসেবা, বাড়িভাড়া, আসবাব, পোশাক ইত্যাদি।
পণ্যের দাম যাতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে, সরকারের সেদিকে বিশেষ নজর দেয়া উচিত জাহিদ হোসেন, অর্থনীতিবিদ
সাধারণ মানুষের যেসব পণ্য দরকার হয়, যেমন, চাল, ডাল, তেল, নুন, চিনি, সেসব পণ্যের দাম যাতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে, সরকারের সেদিকে বিশেষ নজর দেয়া উচিত। আমরা দেখতে পাই ভরা মৌসুমেও চালের দাম বাড়ছে। এর কারণ হলো, উৎপাদক আর ভোক্তার মধ্যে একটি গোষ্ঠী বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারকে এইখানে ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে বাজার স্থিতিশীল থাকে।

কর্মসংস্থান
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘদিন লকডাউন কার্যকর থাকায় এর বড়ো প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, অসংখ্য মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ-তরুণী বাংলাদেশের চাকরির বাজারে যোগদান করে। এদের বড়ো একটি সংখ্যক স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ ২০১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ৬ কোটি ৩৫ লাখ। এর মধ্যে কাজ করেন ৬ কোটি ৮ লাখ নারী-পুরুষ আর ২৭ লাখ বেকার।
আর সম্ভাবনাময় কিন্তু সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পান না এরকম ব্যক্তি যাদের ছদ্ম-বেকার বর্ণনা করা হয়, এরকম মানুষ রয়েছেন প্রায় ৬৬ লাখ। এরা চাহিদা মাফিক কাজ না পেয়ে টিউশনি, রাইড শেয়ারিং, বিক্রয় কর্মী ইত্যাদি খ-কালীন কাজ করেন। বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ৪.২% হলেও যুব বেকারত্বের হার ১১.৬ শতাংশ। করোনাভাইরাসের কারণে জুন ২০২০ সাল নাগাদ সেটি কয়েকগুণে বেড়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস সংকটে বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন বেকার হয়েছে আর বাংলাদেশের প্রতি চারজন যুবকের মধ্যে একজন কর্মহীন বা বেকার রয়েছে (২৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ)। করেনা মহামারি শুরুর পর লকডাউন থেকে এই বেকারত্ব বাড়ছে। সেই সঙ্গে প্রবাসী অনেক শ্রমিক চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। নতুন বছরেও সেই দূরাবস্থার মুখোমুখি হতে হবে দেশকে।
তরুণদেরও নিজেদের কোয়ালিটি বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে
রওশন আলী বুলবুল, বিশেষজ্ঞ।
সরকার এককভাবে তো সব বেকারকে চাকরি দিতে পারবে না। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হলে নতুন চাকরি তৈরি হবে। সেই সঙ্গে তরুণদেরও তাদের কোয়ালিটি বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি নতুন বছরের যে চ্যালেঞ্জগুলো উঠে এসেছে সেগুলো মূল পুরোনোই কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় বা ব্যবস্থা গ্রহণের সদিচ্ছা না থাকায় সেগুলোই প্রলম্বিতই হয়েছে। মূল সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে শুধু বড়ো বড়ো বক্তৃতা দিয়ে জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা না করে সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিক ও নিরপেক্ষ হতে হবে। শুধুমাত্র বড়ো বড়ো অবকাঠামো নির্মাণ করেই আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই কেননা বৃহত্তর সমস্যা বা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে যথাযথ সমাধান না করলে কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন দেখনদারিই হয়ে থাকবে তা দেশের বা দশের কতটা কাজে লাগবে তা প্রশ্নযুক্ত।
নাজিম উদদীন, বিশেষ প্রতিবেদক।





Users Today : 141
Views Today : 182
Total views : 182030
