পৃথিবীতে যদি পোকামাকড় না থাকে তাহলে আমাদের জন্য চা বা কফি তো থাকবেই না, বরং ক্রমশ খাদ্যাভাবে আমরা দুর্বল হয়ে পড়ব৷ গবেষকরা বলছেন পোকামাকড়ের দশ শতাংশ প্রজাতি আগামী কয়েক দশকের মধ্যে হারিয়ে যাবে৷
পোকামাকড়ের পৃথিবী
সুন্দর প্রজাপতি থেকে বিরক্তিকর মশা অবধি পোকামাকড়ের জগতটা খুবই বৈচিত্র্যময়৷ এখন পর্যন্ত যতটা জানা গেছে তাতে পোকামাকড়ের প্রায় দশ লাখ প্রজাতি রয়েছে এবং আরো অনেক প্রজাতি এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছে৷ তবে স¤প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, পোকামাকড়ের চল্লিশ শতাংশের বেশি প্রজাতি এখন হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁঁকিতে রয়েছে৷
দক্ষ পরাগবহণকারী
গমের মতো শস্য পরাগায়নের জন্য বাতাসের ওপর নির্ভরশীল হলেও অনেক খাদ্যশস্য আছে যেগুলো পরাগায়নের জন্য পোকামাকড়ের ওপর নির্ভরশীল৷ ফলে তারা হারিয়ে গেলে কৃষকরা বিপাকে পড়বেন৷ বছরে বিশ্বের ২৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ খাদ্য উৎপাদন পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল৷ বিপদের কথা হচ্ছে, মৌমাছির অভাবে চীনের কিছু খামারে এখন আপেলসহ বিভিন্ন গাছের পরাগায়নে শ্রমিক ব্যবহার করতে হচ্ছে৷ ফলে খাবারের দাম বেড়ে যাচ্ছে৷
খাদ্যের অভাব দেখা দেবে
পরাগবাহী পোকামাকড় হারিয়ে গেলে অনেক শাক-সবজি এবং ফলমূল উৎপাদন আর সম্ভব হবে না৷ ফলে আমাদের খাবার টেবিলে খাবারের পরিমাণ কমে আসবে৷ এমনকি চকলেট এবং কফির সংকটও দেখা দেবে৷
প্রকৃতি পরিষ্কার রাখে যারা
গুবরে পোকার মতো অনেক পোকামাকড় মৃত গাছপালা, মরদেহ এবং মল পচতে সহায়তা করে৷ এই পোকামাকড় না থাকলে পচন প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘায়িত হবে, যা পরিবেশ এবং মানুষ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হবে৷
অন্য প্রাণীর খাবার
বিভিন্ন উভচর, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখির মূল খাবার পোকামাকড়৷ ফলে পোকামাকড় কমলে তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রাণীও কমতে থাকবে৷ পক্ষীবিদরা মনে করেন, যুক্তরাজ্যসহ অনেক উন্নত বিশে^ পাখির বিভিন্ন প্রজাতি কমে যাওয়ার পেছনে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে পোকামাকড় কমে যাওয়া অন্যতম কারণ৷
কীটপতঙ্গ বাড়বে
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া অনেক পোকামাকড়ের জন্য কঠিন ব্যাপার৷ যেমন, ভোমরা মূলত ঠান্ডা এবং স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে অভ্যস্ত৷ ফলে অপেক্ষাকৃত গরম আবহাওয়ায় টিকে থাকা তাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে৷ আবার ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যেতে পারে, যা কৃষকের বিপদ বাড়াবে৷
পরাগবহণকারীদের কোনো স্থান নেই
ইউরোপে পোকামাকড় কমে যাওয়ার পেছনে অতিরিক্ত চাষাবাদ অন্যতম কারণ৷ সার এবং কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায়ও পোকামাকড় কমে যাচ্ছে৷
পোকামাকড়ের বসতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে একফসলী চাষের পোকামাকড়বান্ধব কৃষি নীতি গ্রহণ করলে পোকামাকড় রক্ষা সম্ভব হবে৷ পাশাপাশি বাগানে এবং শহুরে অঞ্চলে ফুল গাছ লাগিয়ে পোকামাকড় টিকিয়ে রাখায় ভ‚মিকা রাখা সম্ভব৷
সাপ্তাহিক সময়ের বিবর্তন/ ফিচার ডেস্ক





Users Today : 107
Views Today : 116
Total views : 177367
