• প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
No Result
View All Result
শুক্রবার, মে ১, ২০২৬
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
Somoyer Bibortan
No Result
View All Result

তাই তোমার আনন্দ আমার ’পর :ড. এলগিন সাহা

Admin by Admin
এপ্রিল ২১, ২০১৯
in ধর্ম-দর্শন
0 0
0
তাই তোমার আনন্দ আমার ’পর  :ড. এলগিন সাহা
21
SHARES
142
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

RelatedPosts

বিশেষ নিবন্ধ ● রক্ত ▌ পাস্টর এএম চৌধুরী

বিশেষ নিবন্ধ ● না চিনি আমার প্রকৃত ঈশ্বর, না চিনি আমার প্রতিবেশী ▌ডা. অলোক মজুমদার

বিশেষ নিবন্ধ ● ক্রুশের বেদনা পেরিয়ে পুনরুত্থানের আলো ▄ জেমস আব্দুর রহিম রানা

খ্রীষ্ট ধর্মালম্বীদের ধর্ম অনুষ্ঠানের মধ্যে ইস্টার বা পুনরুত্থান অন্যতম। ইস্টার পালনে জন্য যত ধর্মতান্ত্রিক ব্যাখ্যা রয়েছে বড়দিন পালনের জন্য ততটা নেই। যিহুদী ক্যালেন্ডার নিশান মাসে ১৪ তারিখে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে। যিহুদীদের ক্যালেন্ডার চন্দ্র মাস হিসাবে গণিত হয়। তাই আমাদের ইস্টার বিভিন্ন বছরের বিভিন্ন মাসে পালিত হয় যেমন এ বছর ২২ এপ্রিল ইস্টার নির্ধারিত হয়ে আছে। ইস্টারের আগে একটি বিশেষ পর্ব আছে। একে পাম সানডে বা খজ্জুর রবিবার বলা হয়ে থাকে। এই দিন যিশু মৃত্যুর পূর্বে শেষ বারের মতো জেরুশালেম গিয়েছিলেন বাইতুল মোকাদ্দস যেয়ারত করার জন্য।
যিহুদীদের জন্য ওই দিনটি বিশেষভাবে পবিত্র। এটাকে ওরা বলে পাসকা বা পাসওভার। কারণ এই দিন হয়রত মুসার নেতৃত্বে লক্ষাধিক যিহুদী মিশর দেশ থেকে পালিয়ে ৪০ বছর প্রান্তরে ঘুরে জর্ডান নদী পেরিয়ে ছিলেন। এই জর্ডান নদীর তীরে ছিল কনান দেশ। যা বর্তমান প্যালেস্টাইন। যিহুদীদের কাছে এই যাত্রাটি ছিল একটা প্রতিকী মাত্রÑএকজন মানুষ জীবন সংগ্রামে ব্রতি হয়ে যখন জীবন শেষে মৃত্যুবরণ করে তখন সে হয় নরকে কিংবা স্বর্গে যেতে পারে। বেহেস্তে যাওয়ার আগে এই নদী পার হওয়ার বিষয়টি মানুষের জীবনে মুক্তির শেষ চিহ্ন হিসাবে বিবেচিত হয়। সেই থেকে এই দিনটিকে বলা হয় পাসওভার বা উদ্ধার দিন। প্রকৃত পক্ষে প্রত্যেকটি মানুষের উদ্ধার পাওয়ার জন্য জন্য এই পৃথিবীকে পাপের বন্ধন থেকে মুক্তি পেতে হয়। যিহুদী ধর্ম বিশ্বাস আনুসারে পাপ মোচনের জন্য পশু বলি দিতে হত।
তাই কিতাবে, মাবুদ মোশিকে বললেন, “কোনো মানুষ আকস্মিকভাবে প্রভুর পবিত্র জিনিস অপবিত্র করতে পারে। সেক্ষেত্রে সেই লোকটি তখন কোনো খুঁত নেই এমন একটি পুরুষ মেষ অবশ্যই আনবে। এটাই হবে প্রভুর প্রতি দোষের জন্য দেওয়া নৈবেদ্য। তুমি অবশ্যই পবিত্র স্থানের মাপকাঠি ব্যবহার করবে এবং পুরুষ মেষটির একটি মূল্য ঠিক করবে। পবিত্র জিনিসের সঙ্গে সে যে পাপ করেছে তার জন্য লোকটি অবশ্যই তার জরিমানা দেবে। যা সে ইস্ররায়েলে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা দেবে ও তার সঙ্গে মূল্যের এক পঞ্চমাংশ যোগ করবে এবং সেই মূল্য যাজককে দেবে। এইভাবে পাপমোচনের নৈবেদ্যও মেষটি উৎসর্গ করে যাজক সেই মেষটিকে শুচি করবে এবং ঈশ্বর ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন। “যদি কোনো ব্যক্তি পাপ করে এবং প্রভুর আজ্ঞাগুলির কোনো একটি লঙ্ঘন করে, এমনকি যদি সে তা না জেনে করে থাকে, সে দোষী সাব্যস্ত হবে এবং তার পাপের জন্য দাযী হবে। সেই লোকটিকে ইস্রারায়েল যাজকের কাছে কোনো খুঁত নেই এমন একটি পুরুষ মেষ আনতে হবে। সেই পুরুষ মেষ হবে দোষ মোচনের নৈবেদ্য। এইভাবে অজান্তে লোকটি যে পাপ করেছিল তা থেকে যাজক তাকে মুক্ত করবে এবং ঈশ্বর সেই মানুষটিকে ক্ষমা করবেন। এমন কি, সে যে পাপ করেছে এটা না জানলেও লোকটি দোষী সুতরাং সে প্রভুকে অবশ্যই তার দোষার্থক নৈবেদ্য দান করবে।” [লেবীয় ৫:১৪-১৯]
“দোষ মোচনের বলি উৎসর্গের এগুলি হল নিয়ম : এ অত্যন্ত পবিত্র। একজন যাজক দোষ মোচনের বলী অবশ্যই সেই জায়গায় হত্যা করবে, যেখানে হোমের বলী হত্যা করা হয, তারপর দোষ মোচনের বলীর রক্ত বেদীর সবদিকে ছিটিয়ে দেবে। “যাজক দোষ মোচনের বলীর সমস্ত মেদ অবশ্যই উৎসর্গ করবে, মেদসহ লেজ এবং ভিতর অংশের ওপর ছড়িয়ে থাকা মেদ উৎসর্গ করবে। যাজক নৈবেদ্যর দুটি বৃক্ক এবং যে চর্বি কটিদেশের নিচে তাদের ঢেকে রাখে তা উৎসর্গ করবে, যকৃতের মেদ অংশও নৈবেদ্য হিসাবে দেবে। মূত্রগ্রন্থিগুলির সঙ্গে সে তা ছাড়িযে আনবে। ঐ সমস্ত জিনিস যাজক বেদীর ওপর পোড়াবে। এ হবে প্রভুর প্রতি আগুনে প্রস্তুত এক নৈবেদ্য। এটা হল এক দোষ মোচনের নৈবেদ্য। “ইস্রারাইল যাজকের পরিবারের যেকোনো পুরুষ দোষ মোচনের বলী ভক্ষণ করতে পারে। এ নৈবেদ্য খুবই পবিত্র, তাই এটা অবশ্যই কোনো পবিত্র স্থানে খেতে হবে। দোষ মোচনের নৈবেদ্য পাপ মোচনের নৈবেদ্যরই মতো। এই দুই নৈবেদ্যর জন্য এক নিয়ম। যে যাজক বলীর ব্যবস্থা করবে সে খাদ্য হিসেবে মাংস পাবে। যে যাজক বলীর ব্যবস্থা করবে সে দগ্ধ নৈবেদ্য থেকে চামড়াও পাবে। প্রদত্ত প্রত্যেক শস্য নৈবেদ্য সেই ইস্রায়েল যাজকের অধিকারে আসবে, যে যাজক তা উৎসর্গ করবার ভার নেবে। যাজক পাবে শস্য নৈবেদ্যসমূহ ইস্রায়েলে উনুনে সেঁকা বা ভাজবার পাত্রে অথবা সেঁকার থালায রান্না করা। পুত্রদের অধিকারে থাকবে শস্য নৈবেদ্যসমূহ, সেগুলি শুকনো বা তেল মেশানো হতে পারে। হারোণের পুত্ররা সকলে এই খাদ্যের অংশ নেবে। (লেবীয় ৭: ১-১০)
এ সকল নিয়ম দেওয়া হয়েছিল মানুষকে বোঝানোর জন্য পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রক্তের প্রায়োজন। বিবাদ বাঁধল সেখানে যখন মানুষ দেখল তার পাপের রক্ত পবিত্র করার জন্য ছঠাগলের কিংবা বিশেষ রক্তের প্রয়োজন। এজন্য আমরা কুরবানী দেই। নিজের রক্ত পবিত্র করার জন্যÑকিন্তু ভাবনার বিষয় এই যে মানুষের রক্তের চেয়ে পশুর রক্ত বেশি পবিত্র হতে পারে না। তাই মানুষের রক্ত পবিত্র করার জন্য একান্ত পবিত্র রক্ত ঈশ্বর ছাড়া কেউই যোগান দিতে পারে না। আর এজন্য যিশুর জন্ম। ঈশ্বরের আত্মা থেকে যিশুর জন্ম [সুরা আল মরিয়াম] আল্লাহ তালা তার নিজ রুহুকে মাতা মরিয়মের গর্ভে পাঠিযেছিলেন। এজন্য ঈসার জন্ম তাই তাঁকে রুহুল্লাহ বলা হয়। খ্রীষ্ট ধর্মমতে আল্লাহতালা রুহের অংশ হিসাবে খ্রীষ্টানেরা মনে করেন। বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থও এই বিষয়ে বোঝাতে গিয়ে ত্রিত্বের সাহায্যে নিয়েছেন। কথিত আছে যে, কাবা গৃহে রক্ষিত পবিত্র তিন নারী মূতির নাম আলিফ, লাম, মীম। এই তিন নামের সমাহারে আল্লাহ নামের উৎপত্তি। একইভাবে হিন্দুমতে শিব, ব্রহ্ম ও বিষ্ণু তিন ভগবানের মিলনে এক ভগবান। তিনে এক। অনুরূপভাবে খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীরা ঈশ্বর থেকে ঈসার জন্ম বলে ঈসাকে আল্লাহর অংশ বলে বিশ^াস করেন। তাই খোদা তালা ঈসা নবী ও পাক রুহু মিলে খ্রীষ্টান ধর্মে ত্রিত্ব’র জন্ম হয়।
খ্রীষ্ট ধর্ম প্রচারিত হয়েছিল হেলেনীক কালচারে। রোমীয়দের শাসন ও গ্রীকদের দর্শন সংস্কৃতি মিলে হেলেনিক সংস্কৃতির জন্ম হয়। এই সংস্কৃতিতেই খ্রীষ্ট ধর্ম বিকাশ লাভ করেছে। গ্রীকরা বিশ্বাস করত জ্ঞান ও দর্শনে যিহুদী ভাষায় দর্শন অথবা জ্ঞান শব্দটি ব্যবহার হয়েছে কালাম রূপে। তাই সাধু যোহন লিখিত সুসমাচার যা গ্রীকদের উদ্দেশ্য লেখা হয়েছিল, যিশুকে প্রচার করতে গিয়ে সাধু যোহন বললেন ,আল্লাহ তার রব দিয়ে এই পৃথিবী সৃষ্টি করছেন। তিনি দেখাতে চাইলেন আল্লাহ তার কালাম দিয়ে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তাই কিতাবে আদিতে বাক্য ছিলেন, বাক্য ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন আর সেই বাক্যই ঈশ্বর ছিলেন। (যোহন ১ : ১২) সেই বাক্য আদিতে ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন তাঁর মাধ্যমেই সব কিছুর সৃষ্টি হয়েছিল এবং এর মধ্যে তাঁকে ছাড়া কোনো কিছুরই সৃষ্টি হয়নি। তাঁর মধ্যে জীবন ছিল; আর সেই জীবন জগতের মানুষের কাছে আলো নিয়ে এল। সেই আলো অন্ধকারের মাঝে উজ্জ্বল হয়ে উঠল; আর অন্ধকার সেই আলোকে জয় করতে পারেনি। একজন লোক এলেন তাঁর নাম যোহন ঈশ্বর তাঁকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি সেই আলোর বিষয়ে সাক্ষ্য দেবার জন্য সাক্ষী রূপে এলেন; যাতে তাঁর মাধ্যমে সকল লোক সেই আলোর কথা শুনে বিশ্বাস করতে পারে। যোহন নিজে সেই আলো ছিলেন না; কিন্তু তিনি এসেছিলেন যাতে লোকদের কাছে সেই আলোর বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারেন। প্রকৃত যে আলো, তা সকল মানুষকে আলোকিত করতে পৃথিবীতে আসছিলেন। সেই বাক্য জগতে ছিল এবং এই জগত তাঁর দ্বারাই সৃষ্ট হয়েছিল; কিন্তু জগত তাঁকে চিনতে পারেনি। যে জগত তাঁর নিজস্ব সেখানে তিনি এলেন, কিন্তু তাঁর নিজের লোকেরাই তাঁকে গ্রহণ করল না। কিন্তু কিছু লোক তাঁকে গ্রহণ করল এবং তাঁকে বিশ্বাস করল। যাঁরা বিশ্বাস করল তাদের সকলকে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হবার অধিকার দান করলেন। ঈশ্বরের এই সন্তানরা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে কোনো শিশুর মতো জন্ম গ্রহণ করেনি। মা-বাবার দৈহিক কামনা-বাসনা অনুসারেও নয়, ঈশ্বরের কাছ থেকেই তাদের এই জন্ম। বাক্য মানুষের রূপ ধারণ করলেন এবং আমাদের মধ্যে বসবাস করতে লাগলেন। পিতা ঈশ্বরের একমাত্র পুত্র হিসাবে তাঁর যে মহিমা, সেই মহিমা আমরা দেখেছি। সে বাক্য অনুগ্রহ ও সত্যে পরিপূর্ণ ছিলেন। (যোহন ১;১-১৪)
তখন যিহুদী সমাজ ছিল খুবই গোরা । ধর্মীয় অনুশাসনকে তারা শক্তভাবে পালন করতে চাইত। এ ইচ্ছা পালনের জন্য তাদের মধ্যে একটি গোষ্ঠি জম¥ নিয়েছিল তারা নিজেদেরকে ফরিশী বলে পরিচয় দিত। ফরিশী অর্থ সমাজ থেকে পৃথিকীকরণ। তারা সমাজের মধ্যে থেকেও ধর্মীয় গুরুর আসনে বসে। ধর্মকে কীভাবে পালন করতে হয় সে বিষয়ে অন্যদের দেখাতে সচেষ্ট থাকত। আর সদ্দুকীদের ব্যবসা বাণিজ্যই ছিল তাদের মূল পেশা। নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা ফরিশীদের মেনে চলত। তারা পুনরুত্থানে বিশ্বাসী ছিল না। আর একটি দল হচ্ছে জন-সাধরণ। সামজপতিদের অনুশাসন মেনে তাদের চলতে হত। এ হেন সমাজ ব্যবস্থা যিশুর জন্ম বেড়ে উঠা মৃত্য ও পুনরুত্থান এর মত ঘটনা হয়েছিল। তা যিহুদীরা সহজে মেনে নিতে পারেনি। যখন যিশু নিজের দেশে আসলেন তখন তার নিজের লোকেরা তাকে গ্রহণ করল না। তবে যতজন তাকে বিশ্বাস করে গ্রহণ করেছিলেন তাদের প্রত্যেকে তিনি তাঁর সন্তান হবার অধিকার দিয়েছিলেন। এদের জন্ম রক্ত থেকে নয় বরং ঈশ্বর থেকে হয়েছে [যোহন ১ঃ ১১-১৩]
যিশুর জন্ম , মৃত্যু আশ্চর্য কাজ ও পুনরুত্থান আমাদের কাছে এক আশ্চর্য বিষয় জাগতিক কোনো নিয়ম নীতির সাথে তার কোনো মিল নেই। তিনি এসেছিলেন সৃষ্টিকর্তার এক বিশেষ লক্ষপূরণে জন্য। ঈশ্বরের চাইলেন তিনি মানুষের সাথে আবার যোগাযোগ করবেন। তখনই একটা বিভ্রাট বাঁধল। তিনি যতই মানুষের সাথে এক হতে চাইলেন মানুষ ততই দূরে যেতে চাইলেন। মানুষকে তার নিজের কাছে পেতে চাইলে প্রথমে তাকে পবিত্র হতে হবে। এটা তিনি একবারেই শেষ করতে পারতেন কিন্তু তিনি সেটা করেননি। বরং তিনি মানুষককে বোঝানের জন্য এমনটি করেছেন। প্রথম কাজটি হলো মিশরে বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য নবী মুসার মধ্যে দিয়ে কনান দেশে নিয়ে আসলেন। এটা ছিল একটা প্রতিকী বিষয় ও নাজাতের জন্য প্রথম পদক্ষেপ। পরবর্তীতে তিনি নবী ইব্রাহিমের সময় কুরবাণী প্রথা শুরু করলেন। এটাও একটা প্রতীক স্বরূপ। পাপ মোচনার জন্য রক্ত সেচনের প্রয়োজন। কিন্তু যে রক্ত মানুষকে উদ্ধার করবে সে রক্ত আগেই পবিত্র হতে হবে। তাই ইব্রাহিম নবীর প্রতীক স্বরূপ তিনি নিজের অংশ বিশেষ তিনি ঈসা নবীকে ( যিশু) পাঠালেন। মানুষের পাপের উদ্ধারের জন্য। তার কৃত কুরবানি যে সৃষ্টিকর্তা গ্রহণ করেছিলেন, তার প্রমাণ স্বরূপ ঈসা মসীহ পুনরুত্থান করেছিলেন। যিশুর কৃত, প্রায়শ্চিত্ত মঞ্জুর করলেন। তার এই প্রায়শ্চিত্তের মঞ্জুুরী হিসাবে তিনি যিশুকে পুনরুত্থান করালেন। এজন্য বলা হয় প্রথম আদমের মধ্যে মানুষের পতন হয়েছিল একইভাবে ঈসা মসীহ দ্বিতীয় আদম হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেলেন।
প্রভু ঈসা মসীহ নিজের সম্পর্কে বলেছিলেন যে তিনি শরীয়ত ভাঙতে নয় বরং পরিপূর্ণতা দেওয়ার জন্য এসেছেন। তার কোনো ঘর-বাড়ি ছিল নাÑসাহাবিদের নিয়ে তিনি বিভিন্ন বাগানে রাত কাটাতেনর। সারা দিনব্যাপী তিনি মানুষের সেবা ও ঈশ্বরের বাক্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এজন্য খারাপ লোকেরা তারা সহ্য করতে পারেননি । তারা তাদের আসন পোক্ত করার জন্য ষড়যন্ত্র করে জনতাকে খেপিয়ে তাকে ক্রুশে দিয়ে মারার ব্যবস্থা করেছিলেন। যিহুদিরা তাকে মেরেছেন কিন্তু তা নয় বরং এটা ঈশ্বরে ইচ্ছা, তার ক্ষমার বাণী অন্যান্য, তিনি আল্লাহার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এই যে, ‘‘পিত ইহাদিগকে ক্ষমা কর যে ইহারা কী করতেছে ইহারা নিজেরাই তা জানে না’’। (লুক ২৩;৩৪)
ক্রুশে প্রভু যিশুর মৃত্যুর পর ‘‘এরপর অরিমাথিযার যোষেফ যিনি যিশুর শিষ্য ছিলেন, কিন্তু ইহুদীদের ভয়ে তা গোপনে রাখতেন, তিনি যিশুর দেহটি নিয়ে যাবার জন্য পীলাতের কাছে অনুমতি চাইলেন। পীলাত তাঁকে অনুমতি দিলে তিনি এসে যিশুর দেহটি নামিয়ে নিয়ে গেলেন। নীকদীমও এসেছিলেন (যোষেফের সঙ্গে)। এই সেই ব্যক্তি যিনি যিশুর কাছে আগে একরাতের অন্ধকারে দেখা করতে এসেছিলেন। নীকদীম আনুমানিক ত্রিশ কিলোগ্রাম গন্ধ-নির্যাস মেশানো অগুর প্রলেপ নিয়ে এলেন। এরপর ইহুদীদের কবর দেওযার রীতি অনুসারে যিশুর দেহে সেই প্রলেপ মাখিয়ে তাঁরা তা মসীনার কাপড় দিয়ে জড়ালেন। যিশু সেখানে ক্রুশ বিদ্ধ হয়েছিলেন, তার কাছে একটি বাগান ছিল, সেই বাগানে একটি নতুন কবর ছিল সেখানে আগে কাউকে কখনও কবর দেওযা হয়নি। এই কবরটি নিকটেই ছিল, যিশুর দেহ তাঁরা সেই কবরেব মধ্যে রাখলেন, কারণ ইহুদীদের বিশ্রামের দিনটি শুরু হতে চলেছিল (যোহন ১৯;৩৮-৪২ )
সপ্তাহের প্রথম দিনে সেই স্ত্রীলোকেরা খুব ভোরে ঐ সমাধিস্থলে এলেন। তাঁরা গন্ধদ্রব্য ও মশলা তৈরি করেছিলেন তা সঙ্গে আনলেন। তাঁরা দেখলেন সমাধিগুহার মুখ থেকে পাথরখানা একপাশে গড়িয়ে দেওযা আছে; কিন্তু ভেতরে ঢুকে সেখানে প্রভু যিশুর দেহ দেখতে পেলেন না। তাঁরা যখন অবাক বিস্ময়ে সেই কথা ভাবছেন, সেই সময় উজ্জ্বল পোশাক পরে দুজন ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাঁদের পাশে দাঁড়লেন। ভয়ে তাঁরা মুখ নিচু করে নতজানু হয়ে রইলেন। ঐ দুজন তাঁদের বললেন, ‘যিনি জীবিত, তোমরা তাঁকে মৃতদের মাঝে খুঁজছ কেন? তিনি এখানে নেই, তিনি পুনরুত্থিত হয়েছন। তিনি যখন গালীলে ছিলেন তখন তোমাদের কি বলেছিলেন মনে করে দেখ। তিনি বলেছিলেন, মানবপুত্রকে অবশ্যই পাপী মানুষদের হাতে ধরিয়ে দেওযা হবে, তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হতে হবে; আর তিন দিনের দিন তিনি আবার মৃত্যুর মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন।’ (লুক ২৪; ১-৭) এভাবে যিশুর কুরবানীর মধ্যে দিয়ে সৃষ্টিকর্তা মানুষকে পবিত্রকরণের ব্যবস্থা সৃষ্টি করলেন, আল্লাহ মানুষকে এত ভালোবাসলেন যে , তার প্রিয় পুত্রকে দান করলেন যে কেউ সেই পুত্রর উপর ঈমান আনে সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায় (যোহন ৩;১৬)
এই মহাপুনরুত্থান দিবসে যিশু খ্রীষ্টের পুনরুত্থানের মধ্যে পাপ মোচনের ব্যবস্থা করলেন। পবিত্র ও অপবিত্রতার মাঝে যে ব্যবধান ছিল সে ব্যবধান ঘুচে গেল। ফলে তার কৃত কোরবানীর রক্তে যে কেউ বিশ্বাস করে । মাবুদ তাকেই পবিত্র বলে গ্রহণ করেন এবং সেও একজন মাবুদের সন্তান হয়ে উঠে। তাই খ্রীষ্টের কোরবানীতে বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে মানুষ যে কেবল নাজাত পায় তাই নয় সে ও ঈসা নবীর মত মাবুদের পুত্রত্ব লাভ করে আর এটাই পুনরুত্থান দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ হয়ত এ বিষয়ে বলেছিলেনÑ
তাই তোমার আনন্দ আমার ’পর
তুমি তাই এসেছ নীচে।
আমায় নইলে ত্রিভুবনেশ্বর,
তোমার প্রেম হত যে মিছে।
এভাবে সৃষ্টিকর্তা তার প্রেম প্রকাশ করেছিলেন এটাই পুনরুত্থানের একমাত্র তাৎপর্য। সবাইকে পুনরুত্থানের শুভেচ্ছা জানাই।

Previous Post

ইস্টার সানডে : নাহিদ বাবু

Next Post

পদ্মা সেতু : দৃশ্যমান হলো ১৬৫০ মিটার

Admin

Admin

Next Post
পদ্মা সেতু : দৃশ্যমান হলো ১৬৫০ মিটার

পদ্মা সেতু : দৃশ্যমান হলো ১৬৫০ মিটার

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ADVERTISEMENT

সময়ের বিবর্তন

সম্পাদকঃ
আবদুল মাবুদ চৌধুরী

বিভাগীয় সম্পাদকঃ
নায়েম লিটু

ফোনঃ ০২-৯০১১১৫৬ বাসাঃ -০৪, রোডঃ ০৪, ব্লক- এ, সেকশনঃ ০৬, ঢাকা -১২১৬

Our Visitor

0 3 5 7 1 1
Users Today : 4
Views Today : 4
Total views : 177407
Powered By WPS Visitor Counter

  • Setup menu at Appearance » Menus and assign menu to Footer Navigation

Developer Lighthouse.

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা

Developer Lighthouse.

Login to your account below

Forgotten Password?

Fill the forms bellow to register

All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In