বিবর্তন ডেস্ক (বি. স.) ● গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস শনাক্তে ‘জি র্যাপিড ডট ব্লট’ কিটের ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) গণস্বাস্থ্যের কিট পরীক্ষা করা হবে। আর এই হাসপাতালে পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ওষুধ প্রশাসন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজ ওষুধ প্রশাসন থেকে আমাদের চিঠি দিয়ে বিএসএমএমইউতে কিট পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। আমরা এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’
অন্যদিকে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ইতিমধ্যে বিএসএমএমইউর উপাচার্যকেও চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে বলে জানান ডা. জাফরুল্লাহ। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী শনিবার (২ মে) কিটের ট্রায়াল চালানোর বিষয়ে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ বসবে। আশা করি, আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে এবং আগামী মাসের মধ্যে আমরা দেশবাসীকে সুখবর দিতে পারব।’
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কিট পরীক্ষার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) ৫০ হাজার টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ইতোমধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়েছে।
ট্রায়ালের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘বিএসএমএমইউ বা আইসিডিডিআর,বিতে অথবা দুই জায়গাতেই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের ট্রায়াল কার্যক্রম (কার্যকারিতা পরীক্ষা বা পারফরমেন্স ট্রায়াল) চালানো হবে। তারা এ দুই জায়গাতে করতে চেয়েছেন, আমরা তাদের ট্রায়ালের জন্য অনুমতি দিয়েছি।’’
তিনি আরও বলেন, পারফরমেন্স ট্রায়ালের পর তার ফলাফল আমাদের দিলে আমরা তা মূল্যায়ন করবো, এরপরের ধাপে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া।
বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদন বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এর তো এখনও রেজিস্ট্রেশনই হয়নি, বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদন তো তার আগে দেওয়া যায় না। তার আগে ট্রায়াল করে দেখতে হবে সেটা কার্যকর, নাকি নয়, ভালো নাকি খারাপ।
যদি ভালো হয় তাহলে রেজিস্ট্রেশন হবে, আর যদি কার্যকর না হয় তাহলে রেজিস্ট্রেশনই হবে না। কিট ভালো কাজ করে কিনা সেটা দেখতে হবে আগে, সেটা দেখার জন্যই পারফরমেন্স ট্রায়াল। এ বিষয়ে ভালো রিপোর্ট আসলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াতে যাব।’
গত ২৫ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের কাছে করোনা টেস্টের কিট হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে ওষুধ প্রশাসনের কাছে কিটের ট্রায়াল চালানোর অনুমতির জন্য ধর্না দিয়ে আসছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ শুরু করে। গণস্বাস্থ্য অভিযোগ তোলে ওষুধ প্রশাসন কিটের ট্রায়ালের বিষয়ে সহায়তা করছে না। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। এর আগে ১৭ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের পরীক্ষার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় কিট উৎপাদনের কথা জানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। পরে ১৯ মার্চ কিট উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের ‘জিআর র্যাপিড ডট ব্লট ইমিউনোঅ্যাসি’ কিট তৈরি করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল। দলের অন্য সদস্যরা হলেন ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন, ড. ফিরোজ আহমেদ।





Users Today : 191
Views Today : 207
Total views : 177610
