বিবর্তন ডেস্ক (বি. স.) ● দীর্ঘ ছুটি পুষিয়ে নিতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বৃহস্পতিবার বিকালে এক ভ্যার্চুয়াল বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে ডা. দীপু মনির সঙ্গে যুক্ত হন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্বব্যিালয়ের উপচার্য অ্যাধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানসহ বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে ক্লাস, সেমিস্টার ফাইনাল ও অন্যান্য পরীক্ষা এবং ভর্তি কার্যক্রম কীভাবে চালাতে পারবে সে বিষয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গাইডলাইন ঠিক করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
এ প্রসঙ্গে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ জানান, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে পারি, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি গাইডলাইন তৈরি করা হবে, কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া যায়।’
ইউজিসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমরা যখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গাইড লাইন দিয়েছিলাম, তখন কিন্তু আমাদের ধারণা ছিল না, যে ছুটি এত দীর্ঘ হবে। যেহেতু ছুটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে, সে কারণে আমাদের ভিন্ন বিবেচনায় যেতে হচ্ছে। মূলত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এটি করা হচ্ছে। কারণ মাত্র কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ইলভলবড না। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম নিয়ে ভাবা হচ্ছে। আমরা আগেই বলেছিলাম, মে মাসের দিকে আরেকটি নির্দেশনা দেবো। আজকের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইউজিসিকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে নির্দেশনা দিতে হবে, কীভাবে মূল্যায়ন করবে ও কীভাবে আগাবে, সে বিষয়ে।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন জানান, ‘শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, পুরো শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে চলবে। এ বিষয়ে যা কিছু করতে হয়, তা ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করতে বলা হয়েছে।’
বৈঠকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তাবনা ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডি করছি। দিন শেষে শিক্ষার্থীর সমতা ও সমানভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ডিনরা সেই সার্ভে করছেন। সার্ভে শেষ হলে বুঝতে পারবো ছুটির সময় কোন কোন উপায়ে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখতে পারবো। ’
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে ক্লাস ছাড়াও সেমিস্টার ফাইনাল ও অন্যান্য পরীক্ষা এবং ভর্তি কার্যক্রম চালাতে উপায় খুঁজতে বলা হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন, পরীক্ষা ও কখন কীভাবে ভর্তি পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে বলা হয়। একই সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় একটি গাইডলাইন তৈরি করে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।
গত ২৩ মার্চ অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উৎসাহিত করে ইউজিসি। গত ২১ এপ্রিল সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চিঠি দিয়ে তথ্য চায় সংস্থাটি। চিঠিতে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে কিনা, কতগুলো বিভাগে নেওয়া হচ্ছে এবং ক্লাসে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কত এসব বিষয় জানতে চায় ইউজিসি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠানো প্রতিবেদন উল্লেখ করে ইউজিসি মন্ত্রণালয়কে জানায় দেশের ৬৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। আর সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশ নিচ্ছে।





Users Today : 157
Views Today : 173
Total views : 182322
