ক্রিং ক্রিং ক্রিং…অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙল নাফিসের। নাফিস ৭টায় উঠে। কিন্তু আজ নাফিস অনেক উৎসাহিত। তাই সাধারণ সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টা আগে ঘুম থেকে উঠল।
নাফিস সবসময় রহস্যের, নতুন তথ্যের সন্ধানে থাকে। আর যখন স্কুলের রসায়ন শিক্ষক অ্যানি ম্যাম একটা রহস্যের কথা বলবে তখন নাফিসের খুশির আর ঠিকানা রইল না। কিন্তু নাফিসের ক্লাস আর পরের সপ্তাহে। আজ সে সেটা জানবে। এটা ভেবেই নাফিসের মুখে হাসি ফুটল।
নাফিস রহমান ক্লাস নাইন পড়ুয়া ছাত্র। সময় পেলেই গোয়েন্দাভিত্তিক বই পড়ে। আর এই নিয়ে সারাদিন তার দুই বেস্ট ফ্রেন্ড তাহসিন লিয়া ও শাওন চৌধুরীকে জ্বালায়। কিন্তু বন্ধু বলে লিয়া ও শাওন নাফিসের এই পাগলামি সহ্য করে। নাফিসের অনেক দিনের ইচ্ছে সে, লিয়া ও শাওন মিলে গোয়েন্দা দল গঠন করবে অনেকটা রকিব হাসানের ‘তিন গোয়েন্দা’র মতো।
সবার আগে স্কুলে পৌঁছাল নাফিস। তার অনুরোধে লিয়া ও শাওনকেও স্কুলে আগে আগে আসতে হলো। অ্যাসেম্বলিতে নাফিসের দুটো চোখ শুধু অ্যানি ম্যামকে খুঁজছিল। কিন্তু অ্যানি ম্যাম আজ স্কুলে আসেনি।
আর থাকতে না পেরে স্কুল ছুটি হওয়ার পর নাফিস অ্যানি ম্যামের বাসার দিকে ছুটল।
২
কান্নার শব্দ। নাফিস কিছু বুঝতে পারছে না। ম্যামের বাসার বাইরে পুলিশের গাড়ি। বাড়ির ভেতর ঢুকে নাফিসের চোখ পড়ল ফ্লোরে পড়ে থাকা একটি মরদেহের ওপর। নাফিস কাছে গিয়ে দেখে সে মানুষটা আর কেউ না তাদের প্রিয় টিচার ফারহানা অ্যানির! নাফিসের অজান্তে তার চোখ থেকে পানি পড়তে শুরু করল। আর অ্যানি ম্যামকে এভাবে নির্জীব দেখতে সে পারছে না। তাই দৌড়াতে দৌড়াতে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। কিন্তু হঠাৎ পায়ের নিচে কিছু লাগায় নাফিস মাটিতে পড়ে গেল। আসলেই পায়ের নিচে কাগজের টুকরো লেগে থাকায় নাফিস পিছলে পড়ে। নাফিস কাগজের টুকরোটি হাতে নিল, কাগজটিতে সংখ্যা লেখা ছিল। কী করবে নাফিস বুঝতে পারছে না। কাগজটা ডাস্টবিনে ফেলবে, না কাউকে দিয়ে দিবে, না নিজের কাছে রেখে দিবে। কিন্তু নাফিস পরে কাগজটি নিয়ে বাসায় চলে গেল।
৩
বাসায় এসেই নাফিস সোজা তার রুমে চলে গেল। স্কুলের ব্যাগ থেকে কাগজটি বের করল। কাগজটিতে কিছু লেখা হয়েছিল। কিন্তু কাগজটি মাটিতে পড়ে থাকায় কোনো লেখাই বুঝা যাচ্ছে না। শুধু বুঝা যাচ্ছে ৬ টি অঙ্ক 57-53-57.
নাফিস পুলিশের কথা শুনে বুঝতে পেরেছিল অ্যানি ম্যামের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, তাঁকে কেউ খুন করেছে।
কাগজের টুকরোয় হাতের লেখা অ্যানি ম্যামের। তাহলে কি এর সাথে ম্যামের খুনির কোনো সম্পর্ক আছে, নাকি নেই? থাকলে কীভাবে এই ৬ টা ডিজিট দিয়ে খুনিকে ধরা যাবে? এসব প্রশ্নে উত্তর ভাবতে ভাবতে নাফিস পড়ার টেবিলে ঘুমিয়ে পড়ল।
পরেরদিন নাফিস স্কুলে গেল। সেখানে তাদের অ্যাসেম্বলিতে স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল স্যার সবাইকে অ্যানি ম্যামের মৃত্যুর কথা জানালেন। এবং তিনি বললেন যে, এখন থেকে ক্লাস নাইন ও টেনের রসায়ন ক্লাস নিবেন লায়লা ম্যাম।
সেদিন ৩য় পিরিয়ডে লায়লা ম্যাম নাফিসদের ক্লাসে রসায়ন পড়াতে আসেন। পড়ানোর মাঝখানে তিনি বললেন, অ্যানি আমার কলিজা ছিল, সে অনেক ভালো ছিল। সে মারা যাওয়ায় আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি।
সেদিন স্কুল ছুটির পর নাফিস শাওন ও লিয়াকে গতকালের ঘটনা ও কাগজটির কথা বলল। এবার তারা নাফিসের পাশে দাঁড়াল। কারণ তারা জানতে চায় তাদের প্রিয় শিক্ষক অ্যানি ম্যামের মৃত্যুর পেছনের আসল কাহিনি।
৪
শাওন ও লিয়া বিকেলে নাফিসের বাসায় এসে উপস্থিত। অনেকক্ষণ ধরে চিন্তা করার পর তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাল। তারা এখন অ্যানি ম্যামের বাসায় যাবে।
অ্যানি ম্যামের বাসায় পৌঁছে তারা দেখল ম্যামের বাসা খোলা। তাই তারা নিঃশব্দে অ্যানি ম্যামের বেডরুমে ঢুকে পড়ল। তাদের সবার নজর পড়ল একটা নতুন ডায়রির ওপর। ডায়রির ওপরে লেখা ‘ফারহানা অ্যানি’। নাফিস ডায়রিটা খুলে পড়তে চায়নি। কারণ সে জানে কারো পার্সোনাল ডায়রি পড়া উচিত না। এ দেখে শাওন বলল, ‘নাফিস একজন মৃত ব্যক্তির ডায়রি পড়লে কোনো বড়ো অন্যায় হয় না। তাছাড়া তুই অ্যানা ফ্রাঙ্কের ডায়রি তো পড়েছিস। সেটা পড়তে পারলে এটা পড়তে কি সমস্যা?’
শাওনকে সমর্থন করে লিয়া বলল, ‘এছাড়া এখান থেকে আমরা কিছু তথ্যও পেতে পারি।’
শাওন ও লিয়ার কথা মুনে নাফিস দ্বিধা নিয়ে ডায়রিটা খুলল। কয়েকট পৃষ্ঠায় তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা ছিল না। ডায়রিটা নতুন। পুরোনো ডায়রিটা হারিয়ে গেছে এই তথ্যটি সেখানে উল্লেখ্য ছিল। এরমধ্যে একটা নম্বর ছিল
+880 **** 575857 জিসান আহমেদ
এই নম্বরটা তাহলে নাফিসদের পিটি টিচারের। হঠাৎ করে লিয়া চিৎকার করে বলল, ‘ইউরেকা!’
‘আস্তে লিয়া, কী হয়েছে? কেউ আমাদের কথা শুনলে আমরা অনেক বিপদে পড়ব’, আশেপাশে তাকিয়ে বলল নাফিস। তখন লিয়া বলল, ‘আমি বুঝে ফেলেছি, প্রকৃত খুনি কে?’
এ কথা শুনে শাওন ও নাফিস একত্রে বলল, ‘তাড়াতাড়ি বল আর সাসপেন্স তৈরি করিস না।’
‘ম্যামের খুনি হচ্ছে জিসান স্যার। কারণ তার নাম্বারের লাস্ট ৬ ডিজিট অ্যানি ম্যামের নোটে লেখা ৬ ডিজিটের সাথে প্রায় মিলে গেছে। কিন্তু ৪ নম্বর ডিজিট আলাদা। জিসান স্যারের নাম্বারে তা ৮ আর ম্যামেরটাতে ৩। হয়ত যেকোনো একজায়গায় ম্যাম ভুল করেছেন। অথবা ‘8’ কে ‘O’ মতো লাগছে’ এক নিশ্বাসে বলল লিয়া।
এ কথা শুনে নাফিসের মনে পড়ল ওদেরই আরেক ফ্রেন্ড রাকিব, ওর বাবা পুলিশ অফিসার। তখন নাফিস বলল, চল আমরা এ কথা পুলিশ অফিসার জহির আঙ্কেলকে জানাই।
তারপর তারা দ্রুত থানায় যেয়ে পুলিশ আঙ্কেলকে সব কথা খুলে বলল। এতে তিনি তাদেরকে অনেক বকা দিলেন, কারণ তারা বিপদেও পড়তে পারত। যদিও তারপর তাদের অনেক প্রশংসা করেন তিনি।
৫
পুলিশ অন্যান্য প্রমাণ নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছে জিসান আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ স্টেশনে উপস্থিত করে। তাদের কথোপকথন ছিল অনেকটা এমন—
‘ফারহানা অ্যানি খুন হয়েছে এটা আপনি জানেন?’—জিসান স্যারকে জিজ্ঞাসা করল পুলিশ।
জিসান—‘হ্যা, কিন্তু এর সাথে আমাকে এখানে ডেকে আনার মধ্যে সম্পর্ক কী?’
‘আমরা ফারহানা অ্যানির বাসার অনেক জায়গায় আপনার ফিঙ্গার প্রিন্ট পেয়েছি। এমনকি সেই ছুরিতে যা দিয়ে মিস অ্যানিকে খুন করা হয়েছে।’
‘কখনো না, আপনারা আমাকে ফাঁসচ্ছেন।’
জিসান স্যারের কথা শুনে পুলিশ বুঝতে পারল যে সে মিথ্যা বলছে। তাই সত্যিটা বের করার জন্য জিসান স্যারকে জোরে একটা ধমক দিলেন।
‘হ্যা আমি অ্যানির বাসায় গিয়েছিলাম। কিন্তু শুধু তাকে বুঝাতে যে সে যেন আমার সত্যিটা কাউকে না বলে। আমি আসায় অ্যানি আমাকে ফল কেটে দেওয়ায় তাকে বলেছিলাম ফল কাটা লাগবে না। তার হাত থেকে আমি ছুরিটা নিয়ে টেবিলে রেখে দিই। এজন্য ছুরিতে আমার হাতের ছাপ রয়েছে।’
‘আর আপনার সত্যটা কী?’
‘আমি আসলে একটা ড্রাগ ডিলার কোম্পানির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কিন্তু এখন তা আমি ছেড়ে দিয়েছি।’
‘আর আপনার ফোন নাম্বারের ৬ টি ডিজিট কেন অ্যানি খুনের আগে লিখে যাবে?’
‘আমি কি জানি, আচ্ছা ডিজিট ৬ টা বলেন তো’
‘57 53 57’
‘না না আমার নাম্বারের শেষ ৬ টা ডিজিট ‘575857 ’। এখন আমাকে যেতে দিন। এখন তো আপনি বুঝেছেন আমি নির্দোষ।’
‘তা তো সম্পূর্ণ তদন্তের পর বোঝা যাবে। কিন্তু আপনি আপাতত আমাদের অবজারবেশনে থাকবেন।’
এরপর পুলিশ আঙ্কেল বের হয়ে অন্য রুমে এসে তিনি নাফিস, শাওন ও লিয়াকে বললেন,
‘জিসানের সাথে জিজ্ঞাসাবাদ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু এখনও তাকে সম্পূর্ণরূপে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। তাই তাকে আমরা অবজারভেশনে রাখব। এখন তোমরা সাবধানে নিজ নিজ বাসায় যাও।’
‘আচ্ছা আঙ্কেল।’
৬
বিকেলে হঠাৎ শাওন ও লিয়া নাফিসের বাসায় এসে উপস্থিত। তাদেরকে দেখে নাফিস বলল, ‘তোরা এখানে?’
‘বাবা-মাকে গ্রুপ স্ট্যাডির কথা বলে এখানে এসেছি। কালকে তোকে একটা কথা বলতে ভুলে গেছি’, বলল শাওন।
‘কী?’, বলল নাফিস।
সেই মুহূর্তে শাওন পেছন থেকে অ্যানি ম্যামের ডায়রিটা বের করল। ‘তুই এটা কেন নিয়ে এসেছিস? বলল নাফিস।
ভুল করে হাতে ছিল। ম্যামের বাসা থেকে বের হওয়ার পর খেয়াল করি। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ’—বলল শাওন।
‘আর আমি যখন ডায়রিটা আবার দেখি তখন খেয়াল করি যে ২৪ নম্বর পেজের পর ২৬ না হয়ে ২৭। তারমানে ডায়রির পেজটা কেউ ছিঁড়েছে। তাছাড়া ২৭ নম্বর পেজে কিছু লেখা নেই। তারমানে ২৫ নম্বর পেজেই শেষবার অ্যানি ম্যাম লিখেছিলেন।’—বলল লিয়া।
‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে ম্যাম কী লিখেছেন কীভাবে বুঝব?’
‘আমি জানি কীভাবে।’ এক কথা বলে নাফিস মনে করল তার এক ছোটো কাজিন তার খাতার জরুরি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলায় তার মামা তাকে পরামর্শ দিলেন যে, ‘শোন নাফিস, আগের পৃষ্ঠার লেখার ছাপ পরের পৃষ্ঠায় পড়ে। তাই তুই যদি সেই পৃষ্ঠায় হালকা করে পেন্সিল দিয়ে ঘষিস, তাহলে লেখাগুলো ভেসে উঠবে।’
নাফিসকে শাওন বারবার ডাকছিল, কিন্তু নাফিস তো ফ্ল্যাশব্যাকে চলে গেছে। তাই শাওন নাফিসের কানের কাছে চিৎকার করে উঠলে নাফিস বিরক্তি প্রকাশ করল। ‘তারপর’ পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলল। কথামতো কাজ করল তারা। ফলে সেখানে তারা একটা চিঠির মতো কিছু খেয়াল করে। সেখানে লেখা ছিল—
‘Dear Daisy,
আমি আমার সব কথা তোমার সাথে শেয়ার করি, তুমি তো জানো যে লায়লা আমার অনেক ভালো বন্ধু ছিল, সে কখনো কিছু আমার থেকে লুকাত না। কিন্তু আমি তার স্কুলে জয়েন করার পর থেকে আমার সাথে ওর একটি বড়ো দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে গেছে। তাই মাঝেমধ্যে মনে হয় যে, সে আর আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নেই, বরং অপরিচিত হয়ে গেছে। আজ আর নয়।
ইতি অ্যানি’
চিঠিটা লিয়া, শাওন ও নাফিসকে পড়ে শুনাল। তারপর শাওন বলল, আমি এতদিন শুধু জানতাম তারা দুইজন শুধু কাজিন।’
‘আমিও জানতাম। অ্যানি ম্যাডাম আসার পর থেকে আমরা তো লায়লা ম্যামকে ভুলে গেছি। এজন্যই মনে হয় লায়লা ম্যাম অনেক ডিস্টার্ব থাকতেন’, বলল নাফিস।
‘ঠিক আছে, তা পরে দেখা যাবে। এখন আমাদের লায়লা ম্যামের দেওয়া প্রজেক্ট করতে হবে। না হলে পরে দেখা যাবে উনি আমাদের খুন করে বসেছেন।’
লিয়ার কথা শুনে নাফিস ও শাওন হাসতে শুরু করল।
৭
সব জিনিসপত্র একত্র করে তারা তিনজন মিলে পিরিয়ডিক টেবিল করতে বসেছে। সেখানে ১১৮ টি মৌলিক পদার্থের আধুনিক পর্যায় সারণী লিখতে হবে। সেই চার্ট করতে করতে তারা হঠাৎ একটা জিনিস লক্ষ করল
৫৭ তম মৌল হচ্ছে lanthanum ও 53 তম মৌলটি হচ্ছে Iodine তাকে যদি মৌলের প্রতিক অনুযায়ী সাজানো হয় তাহলে 57 -53 -57 এর অর্থ দাঁড়ায়
l a j la অর্থাৎ laila
ব্যাপারটা খেয়াল করতে তারা তিনজনই চমকে উঠে। দ্রুত তারা পুলিশ আঙ্কেলকে ব্যাপারটা জানাল। পুলিশ আঙ্কেল তাদের কথায় বিশ্বাস করলেন কারণ তিনি জানেন অ্যানি ম্যাম রসায়ন নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। তাই নিশ্চয়ই তার পুরো মৌলের পর্যায় সারণী মুখস্ত ছিল। সেজন্য শাওন নাফিস ও লিয়াকে নিয়ে লায়লা ম্যামের বাসায় উপস্থিত হলেন।
লায়লা ম্যাম পুলিশ ও তাদের তিনজনকে একসাথে দেখে অবাক হলেন। তখন তিনি বললেন,
‘নাফিস, শাওন, লিয়া তোমরা হঠাৎ এখানে এসেছো কেন?’
কিন্তু তারা তিনজনই কোনো কথা বলেনি। তখন পুলিশ আঙ্কেল বললেন, ‘আমি উত্তর দিচ্ছি, আমরা এখানে এসেছি কারণ আমরা জানি মিস অ্যানির খুনি কে?
লায়লা ম্যাম থর থর কেঁপে বললেন, কে?
‘সেটা না-হয় পরে বলা যাবে। আগে বলেন এত ঠান্ডায় আপনি ঘামছেন কেন?
‘না, কোথায়। এখন বলেন কে খুনি?’
‘জিসান আহমেদ, আপনি নিশ্চয়ই চনেন, চিনবেন না বা কেন? আপনি তো…’
‘আপনি তো মানে কী?’
‘আপনি তো খুন করার সময় তার সাথে ছিলেন।’
‘আপনাকে কে এটা বলেছে?’
‘অবশ্যই জিসান’
‘কী! ও কীভাবে জানল? আমি যখন অ্যানিকে খুন করেছি তখন তো ও সেখানে ছিল না… ওফফ…’
‘এই তো স্বীকার করে ফেললেন, এখন খুন করার কারণটা বলে ফেলেন।’
‘আমি আর অ্যানি ছোটোবেলা থেকে একই স্কুলে, একই কলেজে এমনকি একই ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করেছি। আমি সবসময় ওর চেয়ে পড়ালেখায় ভালো ছিলাম। কিন্তু তাও সবাই অ্যানিকে পছন্দ করত। উচ্চশিক্ষার জন্য আমরা দুইজনই আমেরিকায় একই ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করি। তার মার্ক অ্যানির চেয়ে বেশি থাকা সত্ত্বেও অ্যানির এক্সট্রা কারিকুলামে অনেক পুরস্কার আছে। তাই সে আমেরিকা যাওয়ার সুযোগ পায়। পার্টটাইমে আমি যে স্কুলে পড়াচ্ছি সেও সেখানে জয়েন করল। তাই আমার ক্লাসগুলো আমার পরিবর্তে তাকে দেওয়া শুরু করে। স্কুলে সবাই আমার চেয়ে তাকে বেশি পছন্দ করত।
একদিন আমি জিসানকে তার বাসায় যেতে দেখে তার পিছে পিছে অ্যানির বাসায় গেলাম। তারপর জিসান বাসা থেকে বের হওয়ার পর আমি অ্যানির বাসায় ঢুকি। আমাদের মাঝে অনেক ঝগড়া হয়। আর সহ্য করতে না পেরে আমি তাকে টেবিলে পড়ে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করি। এ সময় একটা কাগজে ও কিছু লিখছিল। কিন্তু ওর মারা যাওয়ার পর আমি বুঝতে পারলাম এটা আমার ঠিক হয়নি।’
‘ওট অ্যা স্যাড স্টোরি। কিন্তু আপনি একজনকে খুন করেছেন, তাই মিস লায়লা ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট।’
৮
শাওন নাফিস ও লিয়া অ্যানি ম্যামের খুনিকে খুঁজে করতে পেরেছে। লালয়লা ম্যামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তাদের স্কুলে নতুন রসায়ন টিচার এসেছে। জিসান স্যারকে পুলিশ তাদের কাস্টডি থেকে ছেড়ে দেয়।
অ্যানি ম্যামের খুনিকে এত অল্প বয়সে খুঁজে বের করার কারণে নাফিস, শাওন ও লিয়ার অনেক নাম হয়। তাদের শহরে তারা অনেক জনপ্রিয় হয়ে গেছে। এখন সবার মুখে শুধু তিনটি নাম
‘নাফিস, শাওন, রিয়া’।





Users Today : 133
Views Today : 171
Total views : 182019
