হাজাম
ফুয়াদ হাসান
দুঃস্বপ্নের ভেতর দেখতে পাচ্ছি কে আমার গলা কেটে নিচ্ছে! মরাকালো রক্তে ভিজে যাচ্ছে পুরানো কাপড়, ছাইভস্ম কী-সব যতসব মেখে লাগানোর পরও জবাই শেষের মুরগির আদলে ফিনকি দেয়া রঙ অজ্ঞাতের মুখে, ভিজে উঠছে তাঁর সাদা কোর্তা লালচে ঘামে, নিস্তেজ ধড়কে রেখে তিনি দিগ্বিদিক দৌঁড়াচ্ছেন, সঙ্গে শুধু টিকটিকির ছিন্ন লেজ হয়ে ছটফট করা ঐ মাথা…
দলবেঁধে ডাকা হয়েছিল তাদের। এমনিতে একসাথে থাকার অভ্যাস রয়েছে—মক্তব, স্কুলঘর-মাঠ, আইসক্রিমের কাঠি কুড়ানো, সিগারেটের প্যাকেট দিয়ে বানানো তাসের সংগ্রহশালা, মার্বেল টুর্নামেন্ট শেষে সন্ধ্যার বাড়ি ফেরা; কিংবা টিকা দেয়ার খবর পেয়ে যেমনটি পালিয়ে যেত ভাঙা দেয়াল টপকে, ছিলনবিল পেরিয়ে… নাড়ায় কেটে যাওয়া পা বা রক্তাভ বন্ধুকে বনলতাচিকিৎসা।
ঘুমঘুম ভোরবেলা কী-হবে এদেরকে নিয়ে তা ভাবার আগেই কোরবানের গরুর মতো বিশেষ কায়দায় ধরে-বেঁধে জবাই করা হচ্ছিল। বীভৎস চিৎকার, গালিগালাজ, অসহায় হাত-পা ছোড়াছুড়ি ; কিছু করতে না পেরে একজন লালপ্রস্রাব ছড়িয়ে দিয়েছিল নুরানি চেহারায়!
কঞ্চি-খুর-ছুরি-কাচি-দা-বটি-চাপাতি-খড়গ-তলোয়ার… সবই আছে কোষাগারে, নিয়মিত রক্তছোঁয়া পায় বলে মরিচা ধরে না, সান দেয়া ছাড়া কী-দারুণ ধার; প্রয়োজন হতে হাজির—খেপাটে পরশুরাম!
ভদ্রলোকজন তাঁকে কি ভয় পায় নাকি সম্মান করে তা ঠিক বোঝা গেলো না।
সেলাই
চাণক্য বাড়ৈ
টেবিলে টেবিলে রোগী—অষ্টপ্রহর জ্বলে অপারেশন থিয়েটারের আলো—কারও বাইপাস—কারও ওপেন হার্ট—এইভাবে জেনে যাবে, হৃদবিশেষজ্ঞের কাঁচি কতটা ধারালো—অলিন্দে অলিন্দে ক্ষত—ধমনীতে দিনরাত রক্তের তীব্র অবরোধ—নিলয়ে গোপন ব্যথা—বাম বুকে মাঝে মাঝে সার্কাসের হাতি দেয় পাড়া—এ এক এমন অসুখ—একবার হয়েছে যার, সে দেখে যমের চেহারা—
ডাক্তার প্রস্তুত আছে, ওষুধ ব্যর্থ যখন, এবার চলবে শুধু ছুরি আর কাঁচির লড়াই—কাটা-ছেঁড়া শেষ হয়—সময়ের সাথে সাথে ক্ষতরাও শুকোয় অবশেষে—তারপর, রোগীরাও বাড়ি ফেরে—মহান চিকিৎসক অনেক যত্ন করে দিয়েছে যে মিহিন সেলাই!
হৃদয়ের অসুখ নিয়ে ঘোরে, দিন কাটে এ-রকম অসংখ্য মানুষের গল্প শুনে শুনে—সবার হৃদয় আজ বেঁচে আছে কারও-না-কারও আশ্চর্য সেলাইয়ের গুণে…
হাতে ধরা হাত
নায়েম লিটু
কাদায়, ধূলিতে, গনগনে কালো পিচে
বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কখনও বা
সবুজ ঘাসে হাঁটতে হাঁটতে
হাতে ধরা হাতগুলো আসে কাছে
প্রকৃতির অবসাদে সময় একদিন
হয়ে ওঠে নির্জলা পাথর
শিথিল হয়ে যায় হাতে ধরা হাত
টেরটিও পাও না তুমি
বহুদূর চলে এলে আচমকা জেনে যাও
ধুধু প্রান্তরে দাঁড়িয়ে তুমি একাকী হিজল গাছ…
গোধূলি ডিঙিয়ে নামছে সন্ধ্যা
সামনে অতল অন্ধকার রাত
সকালের আলোর স্পর্শ পেতে হয়ত পেরতে হবে
কত দীর্ঘ জীবন…





Users Today : 13
Views Today : 14
Total views : 184613
