জেমস্ আব্দুর রহিম রানা, যশোর :
ইসলামী ছাত্রী সংস্থার প্রত্যক্ষ কর্মী ও বিএনপি পরিবারের সন্তান মণিরামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানের বিরুদ্ধে মূখ খুলতে শুরু করেছে এলাকাবাসী। মণিরামপুরে চাকরী করাকালীন সময়ে কারনে অকারনে মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন কাজে ভূমিঅফিসে সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে অনবরত দূর্ব্যাবহার ছিলো তার নিত্য ব্যাপার।খোঁজ নিয়ে ও সোস্যাল মিডিয়ারমাধ্যমে জানা যায়, বগুড়ার একটিপ্রতিষ্ঠিত বিএনপি পরিবারে সন্তানসাইয়েমা হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাথে ওৎপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন। বিসিএস প্রস্তুতির সময় তিনি একই সংস্থার কর্মীদের সাথে গ্রুপ স্ট্যাডিওকরতেন। তার ব্যাচমেটরা জানান,রগচটা হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন তিনি। এমন একাধিক স্ট্যাটাস বগুড়া ও দেশের বিভিন্নস্থানে তার পরিচিতরা ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।মণিরামপুরে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর তিনিস্থানীয় একটি বিএনপি পরিবারের সাথে বেশ সখ্যতা গড়ে তোলেন।এমনকি ওই পরিবার তাকে ধর্ম মেয়ে পরিচয় দিতে থাকে। ওই পরিবারের এক বিএনপি নেতার যোগসাজসে তিনি নানা অপকর্ম চালাতেন।এমনকি কাউকে আওয়ামীলীগেরনেতা-কর্মী শুনলেই চটে যেতেন বলেএকাধিক মাধ্যম জানিয়েছেন।কারনে অকারনে তিনি যাকেতাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজাদিয়ে জেলে ঢোকানোর হুমকিদিতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।সম্প্রতি সামান্য অযুহাতে বেগারীতলা নামক এলাকার একযুবলীগ নেতাকে মোবাইল কোর্টেসাজা দিয়ে জেলে ঢোকানোর জন্যউদ্যত হলে বাজারের ব্যবসায়ী ও জনতা তার প্রতিবাদ করেন। পরে মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যানেরমধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।এসময় তিনি প্রকাশ্য দেখে নেওয়ারহুমকি দেন বলে এলাকাবাসী জানান।সম্প্রতি ভারত ফেরত এক ব্যাক্তিকেজরিমানা করেন সাইয়েমা হাসান।কিন্তু একই দিন ভারত ফেরত অপর এক বিএনপি নেতার সাথে সখ্যতা দেখে বিরুপ মন্তব্য করেন স্থানীয়রা।সহকারী কমিশনারকে ধর্ম মেয়ে পরিচয়দানকারী ওই বিএনপি নেতা ভারত ফেরত জানা সত্বেও কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সখ্যতা করায়বিতর্কিত হয় তার কর্মকান্ড।অভিযোগ রয়েছে, করোনা পরিস্থিতিমোকাবেলায় প্রশাসনের সকলকে স্ব-স্ব কর্মস্থলে থাকার সরকারী নির্দশনা থাকলেও তিনি সরকারী তেল খরচ করে প্রতিদিনের ন্যায় যশোর ক্যান্টমেন্টের বাসায় চলে যান বলে একাধিক সূত্র জানায়।শুক্রবার সারাদেশের ন্যায় মণিরামপুরেও করোনা রোধে মানুষকে ঘরে ফেরানোর দায়িত্ব পালনকালে মাস্ক না পরায় ষাটোর্দ্ধ এক ভ্যান চালকসহ অশীতপর চার বৃদ্ধকে জনসন্মূখে কান ধরিয়ে ওটবস করানো ছবি সোস্যাল মিডিয়াসহ সরকারী ওয়েভ সাইডের কভার ফটোতে প্রকাশ করেন তিনি। এঘটনার পর পরই নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় শুরু হয় সোস্যাল মিডিয়াতে। অনেকেই তার এ কর্মকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরদাবী জানান। এমনকি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারনসম্পাদক গোলাম রব্বানী তার ফেসবুক আইডিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে ধিক্কার জানিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে হ্যাস ট্যাগ দিয়ে অনুরোধ করছেন।স্থানীয় সূধীজনদের ধারনা, সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক কর্মী হিসেবে তিনি এমনটি করে থাকতে পারেন।মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরীফ দুঃখ প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।





Users Today : 20
Views Today : 23
Total views : 177985
