অফিসের কাজেকর্মেও ভুল হতেই পারে, মানুষ তো ভুল করেই শেখে। অফিসের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ই-মেইল পাঠাচ্ছেন। অথচ অ্যাটাচমেন্টে অতি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ফাইল যোগ না করেই ‘সেন্ড’ করে দিলেন। এর পরের অবস্থা কল্পনা করা কঠিন কিছু নয়। তবে কোনো কাজে বারবার ভুল হলে তা নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। এমনকি চাকরি নিয়েও টানাটানি হতে পারে। তাই কাজে ভুল হওয়ার পর আপনি কীভাবে তা সামাল দেবেন, তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আপনার কোনো একটা ছোট্ট ভুলের জন্য নিজ কর্মস্থানে আপনার সম্মান ও কাজ উভয়ই হারাতে পারেন। কাজে ভুল হওয়ার প্রবণতা কমাতে অনুসরণ করতে পারেন কিছু সহজ উপায়।
যা যা করবেন
যেখানেই কাজ করুন না কেন, প্রথমে নিজের কাজের দায়িত্বগুলো বুঝে নিন। কাজে কখনো তাড়াহুড়া করবেন না। ‘কোনোরকমে কাজ শেষ করলেই হবে’ এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন।
একদিনের কাজ অন্য আরেকদিনের জন্য রেখে দেয়া ঠিক না। এতে আপনারই কাজের চাপ বাড়বে এবং কোনো কাজই আপনি ঠিকমত শেষ করতে পারবেন না। শুরুর আগেই কাজের তালিকা করুন এবং ধাপে ধাপে বুঝে কাজ শেষ করুন।
কোনো কাজ করার পর তা বারবার চেক করুন যে ঠিক আছে কিনা। আপনার নিজের কোনো সন্দেহ থাকলে সিনিয়র কাউকে দিয়ে চেক করাতে পারেন।
কাজে ভুল হতেই পারে। কিন্তু কোনো কাজ যা আপনি খুব বেশি মাত্রায় ভুল করেছেন এবং সমাধানও করতে পারছেন না, তখন সরাসরি আপনার বসকে বলুন। কারণ এই কাজের জন্য পরবর্তীতে আপনার সমস্যা হতেই পারে, তাই আগে থেকে উপরের লেভেলে জানা থাকাটা আপনার জন্য ভালো।
আপনার কোনো কলিগ আপনার থেকে কাজে খুব ভালো এবং অফিসে তার ভালো কাজের জন্য সুনাম অনেক, এই ধরনের ব্যাপারগুলো নিয়ে কখনো ঈর্ষা করবেন না।
নিজের কাজের ভুলগুলো কখনোই অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। এই ধরনের কাজ কখনোই আপনার জন্য ভালো হবে না।
ভুল হলে তা নিজ থেকেই শোধরানোর চেষ্টা করুন এবং আফসোস করবেন না। কারণ ভুল আপনি করেছেন, এর সমাধান আপনাকেই করতে হবে।
ভুলের পর মানসিক যাতনা হতেই পারে। ওই আফসোস বা আক্ষেপ অনুভবে বাধা দেওয়ার দরকার নেই। স্বাভাবিকভাবেই কাজে ভুল হলে হতাশা আসবে, লজ্জাবোধও হবে। তবে এ নিয়ে মাথা কুটে মরার অর্থ নেই। সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড অনুতাপে ভুগতে পারেন। এরপর সেই নেতিবাচক ভাবনা মন থেকে বের করে দিন। বেশি নেতিবাচক হলে আর ভুল শোধরানো হবে না। তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে, ইতিবাচকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।
শরীর-মন সুস্থ ও প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা করুন। পেশাগত হতাশাকে ব্যক্তিজীবনে ঢুকতে দেবেন না। এভাবে শরীর-মন সুস্থ রাখতে পারলে কাজে ভুলের পরিমাণও কমে আসবে।
ফিচার ডেস্ক





Users Today : 84
Views Today : 93
Total views : 177344
