একাধিক নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান বলছে, ২৫-৩৫ বছর বয়সিদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই রাতে শুতে যাওয়ার সময় বালিশের পাশে মোবাইল ফোন রাখেন। আর ঘুম যতক্ষণ না আসছে, ততক্ষণ ইন্টারনেটে চলতে থাকে দাপাদাপি। আপনিও কি এমনটা করে থাকেন নাকি? তাহলে আজ থেকেই বন্ধ করুন এই অভ্যাস। না হলে শরীরের যে কী কী ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই অনেকের! অন্ধকারে মোবাইলের নীল আলো চোখের মারাত্মক ক্ষতি তো করেই। সেই সঙ্গে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে ঘুম আসতে চায় না। আর দিনের পর দিন রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীরে একে একে বাসা বাঁধতে শুরু করে একাধিক জটিল রোগ।
মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হয়
ঠিক মতো ঘুম না হলে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ফলে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। শুধু তাই নয় ব্রেণে রক্ত প্রবাহে নানা বাঁধা আসতে শুরু করে। ফলে মস্তিষ্ক সম্পর্কিত নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।
ঘুম কমে যায়
মোবাইল ফোনের আলো নানা ভাবে শরীরে মেলাটনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে সহজে ঘুম আসতে চায়। কারণ আমাদের ঘুম কতটা ভালো হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণের উপর।
দৃষ্টিশক্তি কমে যায়
অন্ধকারে অনেক সময় ধরে মোবাইল ঘাটলে তার নীল আলো সরাসরি চোখের উপর পরতে থাকে। যে কারণে চোখে যন্ত্রণা হতে পারে। আর দীর্ঘদিন ধরে যদি এমনটা হতে থাকে, তাহলে এক সময়ে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে!
রেটিনা খারাপ হতে শুরু করে
অন্ধকারে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে তার নীল আলো রেটিনার কার্মক্ষমতা কমাতে শুরু করে। দীর্ঘ দিন ধরে যদি এমনটা চলতে থাকে তাহলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। কম বয়েস অন্ধ হতে না চাইলে আজ থেকেই ফোনটা নিজের থেকে দূরে রেখে শুতে যাওয়ার অভ্যাস করুন।
ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়
মোবাইলের নীল আলোর কারণে শুধু মেলাটোনিন হরমোন নয়, সেই সঙ্গে আরও সব হরমোনের ক্ষরণে বাঁধা আসতে শুরু করে, ফলে শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করে। যা ক্যান্সার রোগে, বিশেষত ব্রেস্ট এবং প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়।
মোবাইলের নীল আলোর কারণে চোখের ক্ষতি এড়াতে যে যে নিয়মগুলি মেনে চলতে পারেন—
বারবার চোখ খুলুন আর বন্ধ করুন
একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে বারে বারে চোখ পিটপিট করলে চোখের অন্দরে জলের মাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। আর চোখ আদ্র থাকলে নীল আলোর কারণে চোখের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কমে! তাই অনেকক্ষণ মোবাইল ফোন যদি ব্যবহার করতে হয়, তাহলে চোখকে বাঁচাতে বারেবারে চোখ পিটপিট করতে ভুলবেন না যেন!
মোবাইলের ব্রাইটনেস
ব্যাটারি লাইফকে বাড়াতে ভুলেও মোবাইল স্ক্রিনের ব্রাইটনেস একেবারে কমাবেন না। অতিরিক্ত ব্রাইটনেস যেমন চোখের পক্ষে ভালো নয়, তেমনি কম আলোও মারাত্মকভাবে রেটিনার ক্ষতি করে থাকে। যেখানে রয়েছেন, সেখানকার আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোবাইল স্ক্রিনের ব্রাইটনেস ঠিক করে নেবেন!
মোবাইল স্ক্রিন পরিষ্কার রাখবেন
মোবাইল স্ক্রিনের উপর জমতে থাকা ধুলো পরিষ্কার করে না নিলে স্ক্রিন দেখার সময় চোখের উপর মারাত্মক চাপ পরে। ফলে রেটিনার ক্ষতি হয়। এজন্য কিছু সময় অন্তর একটা ড্রাই কাপড় দিয়ে স্ক্রিনটা পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। ফিচার ডেস্ক





Users Today : 109
Views Today : 144
Total views : 181992
