ক। সমস্ত সৃষ্টির নাজাত সম্বন্ধে
“আমি জানি, আমরা যে মহিমা পরে পাব তার তুলনায় আমাদের এ জীবনের কষ্টভোগ কিছুই নয়। খোদার পুত্রেরা কখন সেই মহিমায় প্রকাশিত হবেন তার জন্য সমস্ত সৃষ্টি আগ্রহের সহিত অপেক্ষা করে আছে, কারণ সৃষ্টির উদ্দেশ্যটাই বিফল হয়ে গেছে। অবশ্য নিজের ইচ্ছায় তা হযনি, খোদা-ই তাকে বিফলতার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তার সংগে সংগে এ আশ্বাসও দিয়েছেন যে, ধ্বংসের বাঁধন হতে মুক্ত হয়ে এই সৃষ্টি একদিন খোদার সন্তানদের গৌরবময় স্বাধীনতার ভাগী হতে পারবে” ( ইঞ্জিল শরীফ; রোমীয় ৮ ঃ ১৮ – ২১ আয়াত)।
১. সমস্ত সৃষ্টির নাজাত হবে ( ২১ আয়াত)ঃ সমস্ত সৃষ্টির কাছে সুসমাচার জানানো হবে। আমরা চিন্তা করে থাকি শুধু মানুষের জন্য নাজাত। এটা সত্য যে, প্রধানত মানুষের জন্য নাজাত। কিন্তু মানুষের পাপ সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছে। তাই হযরত ঈসা মসীহের দ্বিতীয় আগমনের পরে যখন সমস্ত মানুষের মুক্তি হবে, তখন সমস্ত সৃষ্টিরও মুক্তি হবে। সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে পাপের লেশমাত্রও থাকবে না। তার মানে এ নয় যে গাছ, পশু, পাখি ইত্যাদি পাপ করেছে।
২. যখন হযরত ঈসা মসীহ আসবেন তখন নুতন পৃথিবী হবে (২২ আয়াত)ঃ “আমরা জানি যে, গোটা সৃষ্টিটাই যেন এক ভীষণ প্রসব- বেদনায় কাতরাচ্ছে”। বর্তমান জগত কাতরাচ্ছে বা আর্তনাদ করছে, কারণ এখনও এই সৃষ্টি নুতনভাবে সৃষ্টি হয়নি। আর আমাদের পাপের জন্যই আজ সমস্ত সৃষ্টি আর্তনাদ করছে। যেমন বাংলাদেশে ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালের বন্যা পরিস্থিতি। সে সময় হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়েছিল। শুধু তা নয়; অনেক পশু-পাখি, গাছ-পালা ধ্বংস হয়েছিল। সেই বন্যার কারণে যেন এক নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে বাংলাদেশের সব কিছু একসাথে আর্তনাদ করেছিল। আর ইঞ্জিল শরীফে আমরা দেখতে পাই যে, সমস্ত সৃষ্টি মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছে। সেই সময় অবশ্যই এরকম বন্যা হবে না। এ পৃথিবী এখনও মুক্তি পায়নি। কিন্তু মুক্তি পাবার জন্য আর্তনাদ করছে।
৩. নাজাত কখনও শেষ হয় না ঃ এটা হলো ইঞ্জিল শরীফের একটি মূল শিক্ষা যে, মানুষের এখনও পরিপূর্ণ নাজাত লাভ হয়নি। সমস্ত সৃষ্টির দিকে লক্ষ্য করলে আমরা তা দেখতে পাই। তবে রোমীয় খন্ডে যে বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে তা হলো- আমাদের নিজেদের নাজাত অর্থাৎ আমাদের ব্যক্তিগত যে নাজাত তা এখনও শেষ হয়নি।
আমাদের ব্যক্তিগত নাজাত প্রাপ্তি এখনও শেষ হয়নিঃ
আমরা অনেক সময় অন্যের কাছে বলতে পারি যে, নিশ্চয় আমাদের পাপের ক্ষমা হয়েছে এবং আমরা নাজাত পেয়েছি। এটা মিথ্যা নয় বরং সত্য। কিতাব অনুৃসারে আমরা নাজাত পেয়েছি কিন্তু সেই নাজাতের পরিপূর্ণ আনন্দে এখনও প্রবেশ করতে পারিনি। তাইÑ
১. আমরাও আর্তনাদ করছিঃ
“ কেবল তা-ই নয়, কিন্তু যে মহিমা আমরা পরে পাব তার প্রথম ফল হিসাবে পাক-রূহকে পেয়ে আমরা নিজেরাও অন্তরে কাতরাচ্ছি। আর সেই সংগে সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করে আছি যখন খোদার পুত্র হিসাবে আমাদের প্রকাশ করা হবে” ( রোমীয় ৮ ঃ ২৩ আয়াত)। এ অংশে হযরত পৌল বলেছেন, আমরা নিজেরাও অন্তরে আর্তনাদ করছি বা কাতরাচ্ছি। তিনি এখানে আসলে কি বিষয়ে বলতে চেয়েছেন? এখানে কি তিনি নুতন ঈমানদারদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছেন যে, তারাই শুধু আর্তনাদ করবে? অথবা তিনি কি তাদের কথা বলতে চান, যারা আগে ঈসায়ী ছিল কিন্তু এখন সেই পথ থেকে দূরে সরে গেছে? সত্যিকার অর্থে এখানে তিনি সেরকম কাউকে উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেননি। কিন্তু তাদের কথাই তিনি বলেছেন যারা আবার দত্তক পুত্রের অগ্রিমাংশ পেয়েছে। আর আমরাই মসীহের দত্তক পুত্রের অগ্রিমাংশ ও তাঁর রাজ্যের অধিকার প্রাপ্ত। আবার অগ্রিমাংশ অর্থ কি? এর অর্থ হলো, আমরা খোদার রাজ্যের অধিকারী হব। সেটা বায়নার মত অর্থাৎ যা এখনো আমরা পাইনি কিন্তু ভবিষ্যতে তা পরিপূর্নভাবে পাব। আমরা বায়না সুত্রে কোন একটা জিনিস যখন পাই তা আমাদের ভবিষ্যতের পরিপূর্ণতার ইঙ্গিত দেয়। এটাই আমাদের নিশ্চয়তা দেয় যে, আমরা খুব শীঘ্রই বা নিরূপিত সময়ে তা পাব। এ বিষয়ে তৌরাত, জবুর ও নবীদের কিতাবে অনেকবার উল্লেখ করা হয়েছে। তখনকার সময়ে যারা ক্ষেত্রে ফসল উৎপন্ন করত তারা সেই উৎপন্ন ফসল থেকে প্রথমেই কিছু ফসল খোদাকে দিত। আর সেই অগ্রিমাংশ খোদার কাছে দেয়ার মধ্য দিয়ে পরোক্ষভাবে বুঝানো হতো যে, ফসল বা আয়ের সমস্ত কিছুই খোদার।
“মসীহকে কিন্তু সত্য সত্যই মৃত্যু হতে জীবিত করে তোলা হয়েছে। তিনি প্রথম ফল, অর্থাৎ মৃত্যু হতে যাদের জীবিত করা হবে তাদের মধ্যে তিনিই প্রথমে জীবিত হয়েছেন” ( ১ করিন্থীয় ১৫ ঃ ২০ আয়াত)। এ অংশে আমরা দেখতে পাই মসীহই আমাদের জন্য অগ্রিমাংশ ও প্রথম ফল। আমরা যে একদিন পুনরুথীত হব এবং আমরাই যে এর অগ্রিমাংশ হব এখানে সেই ছবি আমরা দেখি। প্রথমে পুনরুথীন হয়েছেন মসীহ। তিনি মৃত্যুর পরে তৃতীয় দিনে পুনরুথীত হলেন, ঠিক আমরাও একদিন সেভাবেই পুনরুথীত হব। পুনরুথানের প্রথম ফল হলেন মসীহ। তাই অধিকাংশ অর্থ হলো আমাদের অল্প আছে কিন্তু একদিন আমরা মসীহেতে পরিপূর্ণ হব। ইহজগতে ও পরজগতে সেই স্বাদ আমরা উপলব্ধি করতে পারব। হযরত পৌল সেই বিষয়টি রোমীয় খন্ডের মধ্য দিয়ে আমাদের বুঝাতে চেয়েছেন। বেহেস্ত কেমন হবে তার সামান্য অনুভূতি কিতাবের মাধ্যমে খোদা আমাদের মধ্যে দিয়েছেন। আমরা ভবিষ্যতে খোদার প্রতাপের পরিপূর্ণতা পাব যা এখনও পাইনি। তবে তার সামান্য কিছু আমাদেরকে দেয়া হয়েছে। আমরা যারা যতটুকু বেহেস্তের আনন্দ এই পৃথিবীতে পেয়েছি বা পাচ্ছি তাদের উদ্দেশ্যে হযরত পৌল বলেছেন, যারা আমরা অগ্রিমাংশ পেয়েছি অর্থাৎ মসীহের মাধ্যমে বেহেস্তে যাবার নিশ্চয়তার যে আনন্দ আমাদের জীবনে সামান্য আছে সেজন্য আমরা আর্তনাদ করছি বা অন্তরে কাতরাচ্ছি। আর তাই ঈসায়ী জীবনকে উপলব্ধি করার জন্য রোমীয় খন্ডের ৮ ঃ ২৩ আয়াত আমাদের বুঝা উচিত। এ অংশ আমাদের দেখায় যে, সত্যিকার অর্থে খোদার সাথে আমাদের সহভাগিতা আছে। এখানে শুধু অগ্রিমাংশের বিষয় বলে তা নয়, এই জগতের দুঃখ-কষ্টের বিষয়েও আমাদেরকে বলেছে। এ অংশটি আমাদের ঈমানদারদের জীবনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানে প্রথমে বলা হয়েছে, আমরা রূহানিক বিষয়ের অগ্রিমাংশ এবং একই সাথে বলা হয়েছে আমরা অন্তরে কাতরাচ্ছি। এখানে একটা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তা হলো- “আমরা”। ‘আমরা’ শব্দটি যে ব্যবহার করা হয়েছে তা আমাদের জন্য একটা গোপন রহস্য। গ্রীক ভাষায় এ আয়াত এভাবে লেখা আছে- “কিন্তু আমরা যারা আবার অগ্রিমাংশ পেয়েছি, আমরা আমাদের মধ্যে আর্তনাদ করছি বা অন্তরে কাতরাচ্ছি।” এখানে বলা হয়েছে, আমরা আমাদের মধ্যে আর্তনাদ করছি। এটাও আমাদের জন্য এক নিগূঢ়তত্ত্ব। আমরা যারা বুঝি না যে, আমরা আবার অগ্রিমাংশ ও খোদার দত্তক পুত্রের অধিকার পেয়েছি, তারাই অন্তরে কাতরাচ্ছি।
এ পৃথিবীতে আমরা দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত। আমরা যারা এ পৃথিবীতে জীবন-যাপন করছি, আমরা কখনও সমস্যা বা দুঃখ-কষ্ট এড়িয়ে যেতে পারব না। আর যে ঈমানদার ঈসায়ী হিসেবে আরি¦ক দুঃখ- কষ্ট থেকে পালিয়ে যেতে চায়, সে ব্যাক্তি কখনো ঈসায়ী জীবন যাপন করতে পারে না। তাই আমরা এ অংশে দেখতে পাই যে, আমাদের নিজেদের যে ব্যক্তিগত নাজাত তা এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি বাপরিপূর্ণতায় পৌঁছে যায়নি। কিন্তু আমরা অন্তরে কাতরাচ্ছি কারণ আমাদের দেহ এখনও সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়নি। সেজন্য, আমরা আপন আপন দেহের মুক্তির অপেক্ষ করতে করতে অন্তরে কাতরাচ্ছি। আমাদের এ দেহ একদিন শেষ হয়ে যাবে এবং যতদিন পর্যন্ত এ দেহ পুনরুথীত না হয়, ততদিন পর্যন্ত পরিপূর্ণ নাজাতের যে দেহ, তা পাব না।
২. প্রত্যাশায় নাজাত পেয়েছি ( রোমীয় ৮ ঃ ২৪ আয়াত) ঃ
এখানে আমরা নাজাতের বিসয়ে আরো একটা শিক্ষা পাই। আমরা নিশ্চিত যে, নাজাত আমরা পেয়েছি। আর তা বুঝবার জন্য খোদা আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়েছেন। তাই আমরা অন্তরে তা বুঝতে পারি। সেজন্য আমরা বলতে পারি, নাজাতের যে অভিজ্ঞতা তা আমাদের হয়েছে। কারণ মসীহ আমাদের জন্য বাস্তবে ক্রুশে সাধন করেছেন। আর আমাদের পাপ সেই ক্রুশের মাধ্যমে ক্ষমা হয়ে গেছে। আমাদের আর বিচার করা হবে না। আমরা দত্তক পুত্রের অধিকার পেয়েছি। আমরা খোদার সন্তান হবার অধিকার পেয়েছি কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, যদিও তা আমাদের জীবনে হয়ে গেছে তবুও এর অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনে চলমান। আমরা যারা মসীহের ক্রুশের মাধ্যমে নাজাত পেয়েছি, আমাদের নতুন জন্মের অভিজ্ঞতা আছে। বিশেষ করে হযরত ইউহোন্নার লিখিত সুসমাচার ও পত্রগুলোতে লেখা আছে, আমরা অনন্ত জীবন পেয়েছি। এ বিষয়ে হযরত পৌল বলেছেন, “আমরা প্রত্যাশায় নাজাত পেয়েছি”। এ অংশ থেকে আমরা কি শিখতে পারি? প্রত্যাশা বলতে ভবিষ্যতকে বুঝায়। আমি একটা কিছু আশা করছি অর্থাৎ তা ভবিষ্যতের জন্য, বর্তমানের জন্য নয়। আর এ অংশে বলা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে আমরা চুড়ান্ত ও পরিপূর্ণ নাজাত পাব। তাই একদিকে আমরা বলতে পারি যে, আমরা নাজাত পেয়েছি; এবং অন্যদিকে আমাদের বলতে হবে, আমরা এখনও পরিপূর্ণ নাজাত পাইনি। যদি আপনাকে কেউ জিজ্ঞাসা করে, আপনি কি নাজাত পেয়েছেন? উত্তরে আপনি যদি বলেন ‘না’ আমি এখনও নাজাত পাই নি। সেই উত্তরও একদিকে ঠিক হবে, কারণ এখনও আমরা সম্পূর্ণভাবে বেহেস্তের আনন্দে যেতে পারিনি। অন্যদিকে আমরা বলতে পারি যে, নিশ্চয়ই আমি নাজাত পেয়েছি এবং আমার পাপের ক্ষমা হয়েছে। প্রত্যাশায় নাজাত হলো, যখন আমরা মসীহের সংগে থাকব সেই জীবন। সাথে সাথে এটাও ঠিক যে, প্রত্যাশা আমাদের নিশ্চয়তা দেয়। সেজন্য কিতাবে যে কোন বিষয়ে যদি প্রত্যাশা পেয়ে থাকেন, তাহলে এটা স্থির নিশ্চিত যে তা আমরা পাবই। আমাদের মাংসিক যে প্রত্যাশা তা সফল হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। কিন্তু কিতাবে যে প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে তা সেই ধরনের নয়। আমরা জানি যা নিশ্চিত যে হবে কিন্তু এখনও হয়নি তা-ই হলো প্রত্যাশা। তাই আমাদের দুটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, আমরা নাজাত পেয়েছি এবং এর নিশ্চয়তাও আছে। আর অন্যটি হলো, প্রত্যাশার যে নাজাত তা এখনও আমরা সম্পূর্ণভাবে পাইনি।
৩. প্রত্যাশার সাথে আমাদের ধৈর্য থাকতে হবে ঃ
“কিন্তু যা পাওয়া হয়নি তার জন্য যদি আমাদের আশা থাকে, তবে তার জন্য আমরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষাও করি” ( রোমীয় ৮ ঃ ২৫ আয়াত)। ধৈর্য কি? সে সম্পর্কে দু‘টি বিষয় বলা হয়েছে। এখানে দুটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে- ‘ধৈর্য ও অপেক্ষা’।
হযরত পৌল এখানে বলতে চেয়েছেন, যেন আমরা ধৈর্য ধারণ করি ও অপেক্ষায় থাকি। যদিও বা ধৈর্য শব্দের অর্থও অপেক্ষা করা বুঝায়। তবে ধের্য ধরে অপেক্ষায় বসে থাকা শুধু নয়, কিন্তু খোদা আমাদের যে কাজ দিয়েছেন বিশ্বস্ততায় সেই কাজ করতে করতে যেন আমরা অপেক্ষায় থাকি। ধৈর্য হলো এমন কিছু তা সব সময় চলতে থাকে। যার ধৈর্য আছে সে কাজের মধ্য দিয়ে তার জীবনকে চালাচ্ছে। অনেকে আছে শুধু বসে থেকে অপেক্ষা করে। কিন্তু ঈসায়ী হিসেবে আমাদের যে অপেক্ষা করা তা হলো- কাজ করতে করতে সামনের দিকে অপেক্ষায় অগ্রসর হওয়া। সেজন্য আমাদের ধৈর্য আধ্যারিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়। আমাদের জীবনে দুঃখ-কষ্ট আসবে। কিন্তু ঐসব সমস্যার মধ্য দিয়ে আমরা সামনের দিকে ধৈর্য সহকারে দৌঁড়াই। আর সেই প্রত্যাশার নাজাতের জন্য আমরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে থাকি। আমাদের নিজের জন্যও ধৈর্য ধরতে হবে যেন আমরা নিরুৎসাহিত হয়ে না পড়ি।
আমাদের মধ্যে যারা নিজেদের খোদার জন্য সিদ্ধ হয়ে ধার্মিক হতে চায় তাদের জীবনে আরও বেশি সমস্যা আসবে। কারণ যে ব্যক্তি এই পাপেপূর্ণ পৃথিবীতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ রাখতে চায় সে আরো বেশি সমস্যায় পড়বে। তাই যতদিন পর্যন্ত আমরা বেহেস্ত না যাব ততদিন পর্যন্ত আমরা নিজেদেরকে সম্পূর্ণ সিদ্ধ বা খাঁটি করতে পারব না। সেজন্য পরস্পরের প্রতি ধৈর্য থাকা আমাদের একান্ত দরকার। অনেক সময় আমাদের মনে এরকম চিন্তা আসে যে, আমাদের জামাতের নেতা বা ইমামকে আরো সিদ্ধ বা খাঁটি হওয়া দরকার। কিন্তু এ পৃথিবীতে কেউ সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ বা খাঁটি হতে পারে না। সে জন্য আমাদেরকে তাদের প্রতি ধৈর্য ধরতে হয়। সত্যিকারের ঈসায়ী জীবনের ধৈর্য অভিযোগ করে না। কিন্তু তা দিন দিন কজের মধ্য দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। তাই বাস্তব জগতের বিষয়ে কিতাব যেভাবে আমাদেরকে বলে, ঠিক সেভাবে নিজেদেরকে চালানো উচিত।




Users Today : 59
Views Today : 62
Total views : 177313
