নারী নামের দুই অক্ষরের ছোট্ট শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে আছে এক সম্ভাবনাময় পৃথিবী। এক সময় নারী ধর্মবুদ্ধি, বিক্রম এবং কলাকৌশলে জগতের শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল। নারীর ফুলের চেয়ে কোমল কিন্তু প্রয়োজনে বজ্রের চেয়েও কঠোর হওয়ার মতো জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত প্রচুর আছে। প্রাচীনকালের বিভিন্ন নারীর শ্রেষ্ঠ অবদানের কথা বাদ দিলেও ঐতিহাসিক এবং আধুনিক যুগে রাজনীতি, যুদ্ধ বিগ্রহ ইত্যাদি বিষয়ে এ অঞ্চলের নারীদের প্রতিভার মহৎ উদাহরণ পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সমাজে একটি কথা আছে যে, নারীর কোনো স্ব^তন্ত্র অধিকার নেই। নারীকে পুরুষের ওপর নির্ভর করেই জীবন ধারণ করতে হয়। শুধু বাংলাদেশেই নয়, উপমহাদেশের সর্বত্রই নারীকে পুরুষের অধীন বলে বিবেচনা করা হয়। নারীকে শিশুকালে মা বাবার ওপর, যৌবনে স্ব^ামীর ওপর এবং বৃদ্ধাবস্থায় পুত্রের ওপর ভরসা করেই থাকতে হয়।
সকলকেই জীবন গ্রহণ এবং জীবনের সূচনা এমনকি জীবন ধারনের জন্য নারীর ওপরেই ভরসা করতে হয়। একজন নারীকে শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যৌবন এবং প্রৌঢ় ও বৃদ্ধাবস্থায় পরিণত হতে হয় চিরন্তন নিয়মে। নারী জীবনের শৈশব অতিক্রম করে যৌবনের মধ্য দিয়ে যখন বৃদ্ধাবস্থায় পরিণত হয় তখন বিভিন্ন ধরনের সামাজিক পরিবেশে তার ভূমিকাও ভিন্ন হতে থাকে। পরিবারের প্রতিটি কাজ কর্মে তথা সুবিধা-অসুবিধা ইত্যাদির বিষয়ে বৃদ্ধা নারীর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ্য।
আমাদের সমাজের প্রত্যেক পরিবারে বৃদ্ধা নারীর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। লক্ষ রাখতে হবে, প্রত্যেক বৃদ্ধা মহিলা পরিবার থেকে প্রকৃত মর্যাদা পাচ্ছেন কিনা। এমন বহু ঘটনা আছে, বৃদ্ধা নারীর দায়িত্ব নেয়া ও সম্মান দেয়া দূরের কথা তাদের অসম্মানিত করে উড়িয়ে দিচ্ছে পরবর্তী প্রজন্ম। একটি কথা মনে রাখা উচিত, বৃদ্ধ পুরুষের তুলনায় বৃদ্ধা নারীরাই আর্থিক চিন্তা, সন্তান-সন্তুতির ভবিষ্যৎ ইত্যাদির চিন্তায় বেশি অস্থির হয়ে পড়েন এবং তখনই বৃদ্ধাদের জীবন থেকে সজীবতা হারিয়ে যায়। এ সময় তারা অনুভব করেন সাংসারিক ঘাত-প্রতিঘাত, জীবন যন্ত্রণা।
পরিবর্তিত জীবনযাত্রায় মানুষের মানসিক মূল্য এবং চিন্তা ধাবার পরিসর সঙ্কুচিত হচ্ছে। তাই যৌথ পরিবারের ধারণা আজকের জীবনযাত্রার এক অবাস্তব কল্পনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে পরিবার বলতে অনুমিত হয় মা-বাবা আর তাদের এক জোড়া সন্তান। সাধারণত দেখা যায়, যৌবন প্রাপ্তির পর সন্তান-সন্ততিরা এক নিজস্ব^ মনোজগত সৃষ্টি করে নেয়। অন্যদিকে আর্থিক স্বাবলম্বিতার স্বার্থেই সন্তানেরা বৃদ্ধা মায়ের থেকে দূর থাকার ফলে চিন্তা, চর্চা তথা সংস্কারের রূপে এক বংশগত ব্যবধানের সৃষ্টি হচ্ছে। জীবনের দুঃসহ বোঝা একই শহরে থাকা সন্তানকে বৃদ্ধা মায়ের থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। সুতরাং এমন অবস্থায় বৃদ্ধা নারীদের অভিমান না করে উত্তর পুরুষের সমস্যাগুলোকে সহানুভূতিসুলভ দৃষ্টিভঙ্গিতে হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টা করা উচিত। কেননা প্রত্যেক মানুষের জীবনের এক নিজস্ব^ বৃত্ত আছে। সে নিজস্ব^ বৃত্তের মধ্যে থেকেও প্রত্যেক প্রত্যেকের হƒদয়কে অনুভব করার চেষ্টা করলে নিঃসঙ্গতা জীবনকে গিলে ফেলতে পারে না। আজকের যান্ত্রিক সময়ে মানবিক সম্পর্ক এক গতানুগতিক সৌজন্যতায় পরিণত হয়েছে। এমন সময় সমাজের অনেক ব্যক্তির জন্য বৃদ্ধাবস্থা হয়ে পড়েছে এক অভিশাপ। বিশেষ করে পুরুষদের থেকে নারীরাই বৃদ্ধাবস্থায় কোনো কোনো পরিবারে বোঝাস্বরূপ হয়ে পড়েছেন বলে মনে হয়। এটা হওয়া উচিত নয় বরং হয়ে থাকলে তার পরিবর্তন হওয়া বাঞ্চনীয়। কারণ সবাইকে মনে রাখতে হবে, বউ হয়ে শাশুড়ী হতে হয়, ছেলে হয়ে বাবা হতে হয়। বেঁচে থাকলে এর ব্যতিক্রম হয় না বা হওয়ার কথাও নয়। মা-বাবার অনাবিল স্নেহ-মমতায় আমরা বড় হলাম, একটি সময়ে জীবনে প্রতিষ্ঠা পেলাম কিন্তু তারপর স্বার্থপরের মতো ভুলে গেলাম তাদের কথা যারা আমাদের পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখালেন, নিজে না খেয়ে আমাদের খাওয়ালেন, আমাদের মানুষ করার জন্য যারা নিজেদের আরাম-আয়েশকে পায়ে ঠেলে দিলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাদের শুভ চিন্তায় উদগ্রীব থাকলেন। এতকিছুর পর রিক্ত হাতে চলে যাওয়া মা-বাবাকে ন্যূনতম একটু প্রীতি ভালবাসা কি দিতে পারি না আমরা? এ থেকে বড়ো স্বার্থপরতা আর কি হতে পারে?
লক্ষণীয় তুলনামূলকভাবে শিক্ষিত সন্তানের দ্বারা মা-বাবারা বেশি অবহেলিত। ব্যক্তিগতভাবে আমি দেখেছি, বহু সন্তান রয়েছেন যারা জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়ে নিজের স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নিয়ে বিদেশ বিভুইয়ে বছরের পর বছর মা-বাবা ছেড়ে দিব্যি রয়েছেন। একবারও মা-বাবাকে দেখার তাগিদ অনুভব করেন না। অসংখ্য অশীতিপর মা-বাবা রয়েছেন যারা নিজ সন্তানকে মানুষ করে শেষ জীবনে সন্তানের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে অনেক শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত এবং অশিক্ষিত মানুষ আছেন যারা মা-বাবাকে দেখভালের দায়িত্ব নিতে চান না। আশ্চর্যের বিষয়, হাজারো অবহেলা, নিপীড়ন-নির্যাতন সত্ত্বেও মা-বাবা বলেন, আমার সন্তান ভালো থাকুক!
নৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন ধর্মীয় শিক্ষা। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সে শিক্ষা আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেয়া প্রায় হচ্ছেই না। আমাদের বুঝতে হবে, ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া নৈতিক চরিত্রের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
প্রতিটি মানব সন্তানের জীবনে মা-বাবার অবদান অপরিসীম। মা অসহনীয় যন্ত্রনা সহ্য করে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে সন্তান প্রসব করেন। সীমাহীন ধৈর্র্য ও অতুলনীয় মমতায় লালন পালন করে সন্তানকে ধীরে ধীরে বড়ো করে গড়ে তোলেন। পিতা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সন্তানের ভরণপোষণের সংস্থান করেন। সহায়-সম্বল নিঃশেষ করে দিয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন। সে পিতা-মাতা বৃদ্ধ বয়সে সব অর্থ ও সম্পদ সন্তানের পেছনে বিনিয়োগ করে নিজেরা অসহায় হয়ে সন্তানের করুণার মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েন। নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে বৃদ্ধ বয়সে অসহায় মা-বাবাকে সন্তানের চরম অবজ্ঞা অবহেলায় নিদারুণ দুঃখ কষ্টে মানবেতর দিন যাপন করতে হয়। অনেককে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিয়ে অপমানের গ্লানি নিয়ে শেষ জীবন কাটিয়ে দিতে হয়। পৃথিবীর সকল ধর্ম গ্রন্থে পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ও বাধ্যকারী নির্দেশনা আছে। ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন ও নবীজির হাদিসে বিভিন্ন জায়গায় বহুবার বহুভাবে মাতা-পিতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে। মাতাপিতাকে কাছে পেয়ে যথাযথ সেবা শুশ্রƒষা, আদর যত্ন, সদ্ব্যবহার ও প্রশ্নাতীত আনুগত্য দিয়ে যারা জান্নাতে যাবার সুযোগ করে নিতে পারেনি তাদেরকে চরম দুর্ভাগা হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পিতা-মাতার প্রতি অবাধ্য ও রুঢ় আচরণ কবিরা গুনাহ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পিতা মাতার প্রতি সর্বোত্তম আচরণ করা, বিনয়, দরদ, মায়া-মমতার সাথে কথা বলতে নির্দেশ আছে। তাদের সাথে কখনো অসম্মান ও অব্যক্তিসূচক আচরণ করা যাবে না। বিভিন্ন মনীষীর জীবনী পর্যালোচনা করলে আমরা মাতৃভক্তির চরম পরাকাষ্ট প্রদর্শনের অনন্য নজির দেখতে পাই।
মা-বাবার প্রতি সন্তানের অগ্রহণযোগ্য আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। সন্তানের অনাদর অবহেলায় নির্যাতিত মা বাবার সীমাহীন দুঃখ কষ্ট লাগব করার জন্যে সন্তানের কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দিয়ে সরকার ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে ‘মাতা-পিতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩’ প্রণয়ন করে। আইনটি ২৭ অক্টোবর ২০১৩ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সম্মতি লাভ করে। পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রণিত আইনটি বর্তমানে কার্যকর। এই আইনের বিস্তারিত বর্ণনায় যাওয়ার পূর্বে তার কিছু টার্ম সংজ্ঞায়িত করা দরকার। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকলে এই আইনে ‘পিতা’ অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি সন্তাননের জনক। ‘ভরণপোষণ’ অর্থ খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বসবাসের সুবিধা এবং সঙ্গ প্রদান। ‘মাতা’ অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি সন্তানের গর্ভধারিণী। ‘সন্তান’ অর্থ পিতার ঔরসে এবং মাতার গর্ভে জন্ম নেওয়া সক্ষম ও সামর্থবান পুত্র বা কন্যা। এই আইনের ৩(১) ধারা মতে, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতামাতার ভরনপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। ৩(২) ধারা মতে, কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে সেইক্ষেত্রে সন্তানগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে তাদের পিতা-মাতার ভরণপোষন নিশ্চিত করবে। ৩(৩) ধারা মতে, পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার একই সঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। ৩(৪) ধারা মতে, কোনো সন্তান তার পিতা বা মাতাকে বা উভয়কে তার বা ক্ষেত্রমত, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, কোনো বৃদ্ধ নিবাস কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করবে না। ৩(৫) ধারা মতে, প্রত্যেক সন্তান তার পিতা এবং মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরিচর্যা করবে। ৩(৬) ধারা মতে, পিতা বা মাতা কিংবা উভয়, সন্তান হতে পৃথকভাবে বসবাস করলে সেক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে নিয়মিতভাবে তাদের বা ক্ষেত্রমত, তাদের সহিত সাক্ষাৎ করতে হবে। ৩(৭) ধারা মতে, কোনো পিতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সঙ্গে বসবাস না করে পৃথকভাবে বসবাস করলে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তাদের দৈনন্দিন আয়-রোজগার বা ক্ষেত্রমত, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হতে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা বা ক্ষেত্রমত উভয়কে নিয়মিত প্রদান করবে।
৪(ক) ধারা মতে, প্রত্যেক সন্তান তাদের পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে এবং ৪(খ) মতে, মাতার অকর্তমানে নানা-নানীকে ধারা ৩ অনুযায়ী ভরণপোষণ প্রদানে বাধ্য থাকবে এই ভরণপোষণ পিতা-মাতার ভরণপোষণ হিসাবে গণ্য হবে। ৫ ধারায় পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করার দ- সম্পর্কে বর্ণনা আছে। ৫(১) ধারা মতে, কোনো সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোনো উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ৩ মান কারাদ-ে দ-িত হবে। ৫(২) ধারা মতে, কোনো সন্তানের স্ত্রী বা ক্ষেত্রমত স্বামী কিংবা পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকট আত্মীয় ব্যক্তি ৫ (২ক) মতে, পিতা-মাতা বা দাদা-দাদীর ভরণপোষণ প্রদানে বাধা প্রদান করলে বা ৫(২খ) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানী ভরণপোষণ প্রদানে অসহযোগিতা করলে তিনি উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করলে গণ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দ-ে দ-িত হবে। ৬ ধারা মতে, এ ধারার অধীন অপরাধ আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপোশযোগ্য হবে। ৭(১) ধারায় এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ ১ম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারযোগ্য হবে। ৭(২) ধারা মতে, কোনো আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত আমলে গ্রহণ করবে না। ৮(১) ধারায় আদালত এই আইনের অধীন প্রাপ্ত অভিযোগ আপোষ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার, কিংবা ক্ষেত্রমত, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভায় মেয়র বা কাউন্সিলর, কিংবা অন্য যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট প্রেরণ করতে পারবে। ৮(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন অভিযোগ আপোশ নিষ্পত্তির জন্য প্রেরিত হলে, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, মেয়র, মেম্বার বা কাউন্সিলর উভয় পক্ষকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করে, তা নিষ্পত্তি করে এবং এইরূপে নিষ্পত্তিকৃত অভিযোগ উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত বলে গণ্য হবে।
পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিষয়টি পারিবারিক ও মানবিক ইস্যু। তাই শুধুমাত্র আইন দিয়ে মা-বাবার প্রতি অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার অপরাধ বোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন উচ্চ মাত্রার নৈতিকতা বোধ, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস এবং তা যথাযথ পালন। প্রয়োজন পারিবারিক, মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করা। যারা মা-বাবার প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করে না তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে হবে। যে ছেলে বা মেয়ে তার মা-বাবার প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালন করে না সেও তো তার ছেলে বা মেয়ের নিকট হতে ভাল ব্যবহার পাবে না এটা পরীক্ষিত সত্য। আমরা নিজ নিজ মাতাপিতা ও তাদের অবর্তমানে নিকট আত্মীয়দের প্রতি সম্ভব সকল প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা, ভালবাসা ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সুন্দর পারিবারিক জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অবদান রাখতে পারি।
জেমস আব্দুর রহিম রানা : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।





Users Today : 181
Views Today : 227
Total views : 182075
