২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ভরাডোবা, ভালুকা, ময়মনসিংহ-একটি সংগঠনকে দেখলাম স্থানীয় কিছু শীতার্থ মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করছেন। তাদের সাথে আলোচনা করে ভালুকার একাধিক সামাজিক সংগঠনের ওপর তথ্য সংগ্রহ করলাম। প্রথম শ্রেণির একাধিক সাপ্তাহিক পত্রিকায় ময়মনসিংহ ও ভালুকার ওপর প্রতিবেদন লিখেছি। ভালুকাবাসীর সাথে গড়ে উঠেছে আত্মার সম্পর্ক। প্রকৃতি নিজের হাতে মনে হয় এই ভালুকাকে সাজিয়েছে। যে কারণে এই সবুজ বাগিচায় যখন পৌঁছে যাই তখন মনে হয় কোনো এক স্বর্গের বাগিচায় পৌঁছে গেছি। ভালুকায় দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষ যখন কাউকে খুঁজে পায় না তখন ভালুকার কিছু সেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজেদের অর্থায়নে ঐ সকল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যায়। নিজেদের যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়েই তারা এই মানবিক কাজগুলি করে যাচ্ছেন। সামাজিক সংগঠনের বিরুদ্ধে অনেক ধরনের অভিযোগ থাকলেও একাধিকবার ভালুকায় গিয়ে স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাইনি। ভালুকার মানুষের জন্য যারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন এরকম কয়েকটি সংগঠন হলোÑভালুকা ক্লাব, হ্যালো ভালুকা, ভালুকা হেল্পলাইন, উথুরা ইউনিট ভালুকা, ভালুকা এ্যাফেয়ার্স্ ও ভালুকা সিটি। এই সংগঠনগুলোর নিজেদের ফেসবুক পেজ আছে। বিস্তারিত সেখানে দেখতে পাবেন।
সারাদেশে আমরা এমন কিছু উপকরণ দেখতে পাই যা আমাদের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই রকম বেশ কিছু পণ্য এই ভালুকায় তৈরি হয়, এর কয়েকটি হলো কোমল পানীয়, স্প্রাইট ও কোকাকোলা, এসএমসির তৈরি ওর স্যালাইন এন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার হ্যাক্সিসল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার জার্মকিল, শিশুদের নিরাপদ খাদ্য সহায়ক মনিমিক্স, বিশ্বখ্যাত ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেনেটার তৈরি ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ক্যালসিন ডি, স্যাভলন এছাড়াও একাধিক প্রতিষ্ঠানে জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন সামগ্রী এই ভালুকাতে তৈরি হয়।
মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি, ভালুকার সামাজিক সংগঠনগুলো বেশিভাগ ক্ষেত্রে নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে সামাজিক কর্মকাÐ চালান। এই সংগঠনগুলো নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, সড়ক দুর্ঘটনাসহ সব রকম দুর্যোগময় মুহূর্তে বলিষ্ঠ ভ‚মিকা পালন করছে, সারাদেশে মহামারির মতো ধর্ষণ শুরু হয়েছে তার বিরুদ্ধে ভালুকার ক্লাবগুলো কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। যাদের অনেক অর্থ রয়েছে, তাদেরকে দুঃখজনক হলেও সত্যি মানবিক কর্মাকাণ্ডে খুব কমই দেখা যায়। আর রাজনীতিবিদ যারা ভালুকাকে স্বর্গ বানিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি গত বিশ বছর থেকে দিয়ে আসছেন, তারা কেউই খুব একটা মানবিক কাজে নিজেদের জরান না। তাদেরকে শুধু মাত্র জাতীয় নির্বাচনের আগে তৎপর দেখা যায়। আমি নিজেও ভালুকার রাজনীতিবিদদের বক্তব্য শোনার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু যেটা দেখেছি তা হলো ঐ মহান রাজনীতিবিদরা যা বলেন বাস্তবে তার কিছুই করেন না। তারা জানেন কোনো জায়গাতেই তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না। ভালুকাকে শিল্পনগরী বলা হলেও সড়কের যে অবস্থা তা কোনোভাবেই শিল্পাঞ্চলের সাথে মিলে না। ভালুকায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো চিকিৎসা দেবার নাম করে মূলত ডাকাতি করছে এখানেও কোনো জবাবদিহিতা নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ভালুকার কিছু প্রকৃতির সন্তান আগামী দিনগুলোতে যারা শুধু ভালুকাকে নয় এই বাংলাদেশকেও আলোকিত করবেন যা করার তারাই করছেন।
ভালুকার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে যেটুকু সময়ের প্রয়োজন হয় তার চেয়ে দ্বিগুণ সময় লেগে যায় ভাঙা সড়কের কারণে। কোনোভাবেই ঐ সড়কগুলো আর চলাচল উপযোগী হচ্ছে না। ভালুকায় যেখানে সেখানে দোকান বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। একদল চাঁদাবাজ এভাবেই নিজেদের পেট চালাচ্ছেন। ভালুকা থেকে আপনি যখন টাঙ্গাইলের সখিপুর যাবেন তখন নিজের জীবন হাতে নিয়েই যেতে হবে। কারণ সড়কের যে অবস্থা যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভালুকা টু ময়মনসিংহ যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু প্রতিদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মের বাইরে পদ্ধতি অবলম্বন করে যানবাহনকে ইউটার্ন নিতে হয় আর ঠিক তখনই দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনোভাবেই অসহায় মানুষের প্রাণ বাঁচানো যাচ্ছে না। কারণ পরিকল্পনাটাই ছিল ভুল। যার জন্য ভালুকাবাসীকে জীবন দিতে হচ্ছে।
তারপরও আসার আলো দেখতে পাই যখন কিছু আলোকিত মানুষকে দেখতে পাই। এদের একজন হলেন ভালুকার সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) রোমেন শর্মা। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মিশুক প্রকৃতির মানুষ তাই খুব সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যান। করোনা ভাইরাসের দুর্যোগময় মুহূর্তে তিনি যথেষ্ট কঠোরতার সাথে ভালুকাবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে উৎসাহিত করেছেন। এই ভালুকাবাসীর কাছে তিনি একজন প্রিয় মানুষ হিসাবে সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। সাদা মনের মানুষ, প্রকৃতিপ্রেমী এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার) রোমেন শর্মা একাধিক মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এই লেখা কোনোদিনই লিখতাম না যদি, ভালুকার জনপ্রিয় ভ্রমণ ভিডিও ও ডকুমেন্টারি নির্মাতা অভি মিরাজ এর সাথে যদি পরিচিত না হতাম। তাদের প্রতি রইল অনেক শুভেচ্ছা।
সৈয়দ রশিদ আলম : গবেষক ও প্রাবন্ধিক।
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভালুকা ক্লাবের প্রতিবাদ সমাবেশ
জনপ্রিয় ভ্রমণ ভিডিও ও ডকুমেন্টারি নির্মাতা অভি মিরাজ





Users Today : 12
Views Today : 18
Total views : 180879
