ব্লাড প্রেশার, ডায়াবিটিসের মতো হাঁটুর ব্যথা রোগও জাঁকিয়ে বসেছে আামদের অনেকেরেই। ষাটোর্ধ্বদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি দেখা দিলেও মধ্য চল্লিশেও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন হাঁটুর ব্যথায়। বয়সের সঙ্গে হাড়ের ক্ষয়ও বাড়তে থাকে। তবে একেবারে অল্প বয়সে হাঁটুতে ব্যথা হওয়ার সাধারণত কোনো কারণ নেই।
হাঁটুর ব্যথার কারণ
জন্মগত কারণে কারও কোনো ডিফর্মিটি থাকলে, কোনো সংক্রমণ হলে, চোট লাগলে, আর্থ্রাইটিস হলে বা কার্টিলেজে আঘাত লাগলেও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। আবার কিছু কিছু টিউমরের কারণেও নি-পেন হতে পারে।
আর্থ্রাইটিসের প্রকারভেদ
আর্থ্রাইটিসের প্রায় একশো ধরনের ভাগ থাকলেও, সাধারণত এই দুটিই দেখা যায়।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস : এতে শুধু জয়েন্ট নয়, অনেকের ক্ষেত্রে ত্বক, চোখ, হার্টও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উপসর্গ : জয়েন্ট স্টিফ হয়ে যাওয়া, বিশেষত কাজের পরে ব্যথা বেশি বাড়া, জ্বর, খিদে কমে যাওয়া, অবসাদ, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস প্রথমে ছোট জয়েন্টগুলির ক্ষতি করে। অর্থাৎ আঙুল আর হাতের জয়েন্ট বা পায়ের আঙুলের সঙ্গে পায়ের পাতার অস্থিসন্ধি।
রোগটা যত বাড়তে থাকে, কব্জি, হাঁটু, গোড়ালি, কনুই, কাঁধে ব্যথা বাড়তে থাকে। সাধারণত দেহের দু-দিকের একই জয়েন্ট এতে আক্রান্ত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে জয়েন্টে হয়ত কোনো উপসর্গ হয়ই না। তাঁদের ক্ষেত্রে ত্বক, চোখ, ফুসফুস, হার্ট, কিডনি অথবা স্যালাইভারি গø্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অস্টিয়ো আর্থ্রাইটিস : রিউমাটয়েড এবং অস্টিয়ো আর্থ্রাইটিসের উপসর্গগুলি মোটামুটি একই। তবে বয়স এ ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর। বয়সের সঙ্গে এর তীব্রতা বাড়তে থাকে। পাঁচটি পর্যায়ে এই রোগ বাড়তে পারে।
ফোলা বাড়লে : জয়েন্টের মধ্যে সাইনোভিয়াল ফ্লুয়িড বাড়তে পারে। সাধারণত হাঁটাহাঁটির সময়ে এই ফ্লুয়িড ঘর্ষণ কমায়। তবে এর পরিমাণ বাড়লে জয়েন্ট ফুলতে পারে। ভাঙা কার্টিলেজের অংশবিশেষও সাইনোভিয়াল ফ্লুয়িডে ভাসতে পারে। এর ফলে ব্যথা ও ফোলা দুই-ই বাড়বে।
ব্যথা বাড়লে : কাজ করলে ব্যথা বাড়াটাই স্বাভাবিক। তবে বিশ্রামের সময়েও ব্যথা হতে পারে। আর দিন যত বাড়বে, ব্যথাও তত বাড়বে।
দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত: জয়েন্টে ব্যথা, আড়ষ্টতার কারণে হয়ত হাঁটু ঘোরাতেও সমস্যা শুরু হবে। এতে নিয়মিত কাজেও ব্যাঘাত ঘটবে।
জয়েন্টের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া : অস্টিয়ো আর্থ্রাইটিসের তীব্রতা বাড়লে জয়েন্টের ভারসাম্যও বিঘিœত হয়। হঠাৎ জয়েন্ট লক হয়ে গেলে বা হাঁটু একেবারে জরাজীর্ণ হয়ে গেলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
অন্য উপসর্গ: পেশির দুর্বলতা, জয়েন্ট ডিফর্মিটিও হতে পারে।
অস্টিয়োপোরোসিস: হাড় যখন এতটাই ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যায় যে, হালকা ধাক্কাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়, সেই অবস্থাকে অস্টিয়োপোরোসিস বলে। সাধারণত মেরুদÐ, কব্জি ও নিতম্বে এই ক্ষয় বেশি হয়। মেনোপজের পরে মহিলাদের অস্টিয়োপোরোসিসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
অস্থি বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো ধরনের আর্থ্রাইটিসজনিত ব্যথা থেকে দূরে থাকতে বা এই রোগের গ্রোথকে স্তিমিত করতে ছোট বয়স থেকেই তিনটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে-সুষম ডায়েট, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। এখনকার সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে খুব অল্প বয়স থেকেই ওবেসিটিতে ভুগতে শুরু করেন অনেকে। পরবর্তী কালে তাঁদের হাঁটুর সমস্যার জন্য আগেভাগেই সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। হেলথ ডেস্ক।





Users Today : 99
Views Today : 108
Total views : 177359
