বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে ৬ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। এর সিংহ ভাগই পাওয়া যায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া যায় বলে পেশাদার রক্তদাতাদের দৌরাত্ম অনেকটাই কমে গেছে। পেশাদার রক্তদাতাদের অনেকেই রক্ত দেয়ার অনুপযোগী। যাদের বড়ো অংশই ছিলেন মাদকাসক্ত। ফলে তাদের মাধ্যমে অনেক জটিল এবং কঠিন রোগ ছড়াতো।
মানুষ সচেতন হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ভিন্ন সংগঠন থেকে রক্ত পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এই রক্তদানের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের রক্তদানের সংগঠনগুলোই এগিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে। সন্ধানী, বাঁধন, লায়ন ও রোটারি ক্লাব, রেডক্রিসেন্ট, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনসহ আরো বেশ কয়েকটি সংগঠন স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচিতে বেশ সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। সরকার ‘নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন কর্মসূচি’ প্রকল্পের মাধ্যমে এইসব সংগঠনকে সহায়তা করে।
রক্তদান করতে চাইলে জেনে নিন-
যাঁরা রক্ত দিতে পারেন
১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি কোনো মানুষের ওজন অন্তত ৪৫ কেজি হলেই তিন মাস পরপর তিনি রক্ত রক্ত দিতে পারেন। রক্তদানের জন্য ব্যক্তিকে সুস্থ থাকতে হবে। দাতার রক্তের স্ক্রিনিং টেস্ট বা রক্ত নিরাপদ কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিতে হবে। ভরপেট খাওয়ার চার ঘণ্টা পর রক্ত দেওয়া শ্রেয়। যাঁদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাঁরাও চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তদান করতে পারেন।
যাঁদের রক্ত দেয়া নিষেধ
ক্যান্সার, হিমোফিলিয়া, ম্যালেরিয়াসহ জীবাণুঘটিত কোনো রোগ, এইচআইভি বা এইডসে আক্রান্ত, মাদক সেবনকারী, হেপাটাইটিস-বি ও সি আক্রান্ত ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীরা রক্ত দিতে পারবেন না। যাঁদের অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট আছে এবং যাঁদের শরীরের কোনো স্থানের গ্ল্যান্ড (লিম্ফনোড) ফুলে গেছে, তাঁদেরও রক্ত দেওয়া নিষেধ।
রক্ত যাঁদের প্রয়োজন
দুর্ঘটনায় আহত, ক্যান্সার বা অন্য কোনো জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য, অস্ত্রোপচার কিংবা সন্তান প্রসব অথবা থ্যালাসেমিয়ার মতো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় রক্তের প্রয়োজন হয়।
কে কাকে রক্ত দিতে পারেন
সাধারণত নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি নির্দিষ্ট গ্রুপকে রক্ত দিয়ে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক গ্রুপ থেকে অন্যগ্রুপেও রক্ত সঞ্চালন করা যায়। এক্ষেত্রে ‘ও-নেগেটিভ’ হলো সর্বজনদাতা এবং ‘এবি-পজেটিভ’ হলো সর্বজনগ্রহীতা।
কোন রক্ত লাগে বেশি
যদিও ৮টিগ্রুপের রক্তেরই প্রয়োজন পড়ে, তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি লাগে ‘ও পজিটিভ’ রক্ত। বিশ্বের ৩৫ শতাংশ মানুষের এই রক্ত রয়েছে। এর পরের অবস্থান ‘এ পজিটিভ’র শতকরা ৩০ভাগ। সবচেয়ে বিরল রক্তের গ্রুপ ‘ও নেগেটিভ’।
রক্তদানের পর যা করবেন
রক্ত দেওয়ার পর একটু মাথা ঘোরানোটা স্বাভাবিক। কারণ, এ সময় শরীর থেকে রক্তের পাশাপাশি ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম আয়রনও কমে যায়। এ কারণে আয়রন ও প্রোটিনযুক্ত খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। এ সময় হাঁটাহাঁটি না করে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা বিশ্রাম নিতে হবে। রক্তদাতা যদি ঘামতে থাকেন এবং অস্থিরতা হয়, তবে তাঁকে স্যালাইন খেতে হবে।
রক্তদানের উপকারিতা
রক্তদানে যে কেবল মানুষের জীবন বাঁচে, তা নয়, এর মাধ্যমে রক্তদাতাও বিভিন্নভাবে উপকৃত হন। নিয়মিত রক্তদানে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে, বছরে তিনবার রক্ত দিলে শরীরে নতুন লোহিত কণিকা তৈরির হার বেড়ে যায়, অস্থি-মজ্জা সক্রিয় থাকে ও দ্রæত রক্ত স্বল্পতা পূরণ হয়।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে
রক্ত দিলে রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা কমে যায়, এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি মাসে পিরিয়ড হওয়ার কারণে নারীর হৃদরোগ তুলনামূলকভাবে কম হয়। এ কারণে পুরুষদের প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর পর রক্তদানের পরামর্শ দেন তাঁরা।
রক্তদান করলে ফ্রি পরীক্ষা
বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) পাঁচটি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনা খরচে সম্পন্ন হয়ে যায়।
হেলথ ডেস্ক / সাপ্তাহিক সময়ের বিবর্তন





Users Today : 42
Views Today : 45
Total views : 182404
