বিবর্তন ডেস্ক ● আর মাত্র দুই বছর পর গুরদেব কাউর ঢালিওয়ালের বয়স শতক স্পর্শ করবে। ভারতের পাঞ্জাবের মোগা এলাকার এই বৃদ্ধা নারীর বয়সের ভার আর এক চোখের ঝাপসা দৃষ্টিকেও করোনাভাইরাস দমিয়ে রাখতে পারেনি। প্রতিদিন সকালে প্রার্থনা করে দিন শুরুর পর তিনি বসে যান তাঁর পুরোনো সেলাই মেশিন নিয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে তিনি সেলাই করেন গরিবদের জন্য ফেস মাস্ক।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং বয়স্ক এ নারীর উদ্যোগকে সম্মান জানিয়েছেন। গুরদেব কাউর প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত গরিবদের জন্য তিনি এসব মাস্ক সেলাই করে দেন। পাঞ্জাবের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী করোনাকর্মী’ হিসেবে তাঁর কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী এক টুইটে বলেছেন, ‘পাঞ্জাবিদের এমন নিঃস্বার্থ প্রমাণ করে যে আমরা কতটা শক্তিশালী এবং আমরা যেকোনো চ্যালেঞ্জ উতরে যাব।’খবর এনডিটিভি, পিটিআই।
গুরদেব কাউর ঢালিওয়ালের তৈরি মাস্কের চাহিদা বাড়তে থাকায় এখন অনেকেই সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন। ফেস্ক মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ মনে করা হলেও এ দুটি জিনিসের এখন স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। অনেক গরিব মানুষ অর্থ খরচ করে ফেস মাস্ক কিনতে পারছে না বলে কাউর ঢালিওয়াল মাস্ক সেলাই শুরু করেন।
কাউর ঢালিওয়ালের পূত্রবধূ অমরজিত কাউর বলেছেন, ‘আমাদের এলাকার অনেক সবজি বিক্রেতা মাস্ক পরছিল না। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য তাদের মাস্ক পরতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা বলেছিল, এগুলো তারা কিনতে পারবে না। এরপর আমরা মাস্ক সেলাই করতে শুরু করি এবং তাদের বিনা পয়সায় এগুলো দিতে শুরু করি।’
উল্লেখ্য, ভারতে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজারের বেশি করোনা সংক্রমিত রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঞ্জাবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৬ জন।





Users Today : 82
Views Today : 90
Total views : 182239
