মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১০ প্রাণহানী
চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিকে কেন্দ্র করে গত ১৮ ডিসেম্বর সোমবার আয়োজিত মেজবানের একটি পয়েন্টে দুপুর ১.৪০ দিকে উপচেপড়া ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এদের মধ্যে সঙ্কটাপন্ন তিনজনসহ ৫ জন চমেকের নিউরো বিভাগে এবং ৬ জন ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসাধীন। সঙ্কটাপন্নসহ গুরুতর জখম হওয়াদের তাৎক্ষণিকভাবে নাম পাওয়া যায়নি। এরা সবাই সনাতন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠীর সদস্য। এই মর্মান্তিক ঘটনায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মহিউদ্দিনের মৃত্যুতে পুরো চট্টগ্রামে চলমান শোকের মাতমের মধ্যে চার দিনের মাথায় সোমবার তাঁর কুলখানিতে পদপিষ্ট হয়ে মানুষের প্রাণহানির মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এ নগরীতে নতুন করে ভিন্ন আঙ্গিকের আরেক বড় ধরনের শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি করল। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। কেননা, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার ও জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী মর্মন্তুদ এ ঘটনাকে মানুষের তাড়াহুড়ো ও ধাক্কাধাক্কির মাধ্যমে প্রবেশ করতে যাওয়ার জের হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও রীমা কনভেনশন সেন্টারে ব্যবস্থাপনায় জড়িতরাও একই দাবি করেছেন। পুলিশ কমিশনার দাবি করেছেন, মূল সড়ক থেকে রীমা কনভেশন সেন্টারটি কমপক্ষে ১০ ফুট নিচুতে অবস্থিত। ফলে ঢালু সড়কপথে মানুষের তাড়াহুড়ো ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় মর্মান্তিক এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, শৃঙ্খলা রক্ষায় কোন ঘাটতি ছিল না। শুধু রীমা কমিউনিটি কনভেনশন হল নয়, সব হলে মেজবান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। সঙ্গে ছিল বিপুল স্বেচ্ছাসেবক। কিন্তু চট্টগ্রামের জনপ্রিয় নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতেও মানুষের ঢল যেমন নামে তেমনি হুড়োহুড়ি করে কার আগে কে যাবে এ মানসিকতা নিয়ে আগোয়ান মানুষের ঢল ঢালুপথ দিয়ে হলে প্রবেশ করতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কির কারণে এ অনাকাক্সিক্ষত প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটে গেল।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, অর্ধশতাধিক আহতের মধ্যে ২২ জনকে চট্টগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর ৫ জনকে নিউরো বিভাগে এবং ৬ জনকে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। নিউরো বিভাগে ভর্তিদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
রীমা কনভেনশন সেন্টারে পদদলিত হয়ে প্রাণহানির এ ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সব স্থানে মেজবানির খাবার পরিবেশনা বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘটনাস্থান ছাড়াও হাসপাতালে ছুটে যান সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার, জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং দলের সর্বস্তরের নেতা ও কর্মী। সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা হারে প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া নিহতদের সৎকারের যাবতীয় ব্যবস্থা প্রশাসনের সহযোগিতায় সামাজিক পর্যায় থেকে সম্পন্নের কথা জানানো হয়।
উল্লেখ্য মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন চৌধুরী গত শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের একটি হসপিটালে ইন্তেকাল করেন। ঐদিন বিকেলে ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে তাঁর নামাজে জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামার যে দৃশ্য ছিল তা চট্টগ্রামের ইতিহাসে নতুন।



Users Today : 24
Views Today : 30
Total views : 184514
