একটি মৃত্যু হলো একটি ট্রাজেডি। কিন্তু লাখো মৃত্যু হলো পরিসংখ্যান। বলেছেন জোসেফ স্ট্যালিন। আসলে মৃত্যু তো মৃত্যুই। যার যায়, শূন্যতা হয় সেখানেই। একটা একটা করে অনেক শূন্যতা হলে সেটা পরিসংখ্যান বা হিসেবের মধ্যে এসে যায়। করোনা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে জানিনা। কত স্বপ্ন দেখেছি ভ্যাকসিনের। আমরা করোনা মুক্ত হবোই হয়ত কোনদিন। কিন্তু সাবধানতা আর আমাদের পিছু ছাড়বে বলে তো মনে হয় না। ২০২০-২০২১ সালে করোনায় মৃত্যু আমাদের জন্য ট্রাজেডি নাকি পরিসংখান তা বুঝতে পারছি না।
এক বাবা তার ছেলেকে বলছেন তুমি যত বড়ো স্বপ্ন দেখবে ততই বড়ো সাফল্য পাবে। ছেলে বাবাকে বলছে আমি তো ওটাই দেখতে চাই বাবা কিন্তু তুমি আর মা আমাকে সকালে ঘুম থেকে উঠতে পিড়াপিড়ি করো এজন্যেই তো অতোবড়ো স¦প্ন দেখতে পারি না। তাই তো ছোটো ছোটো স¦প্নগুলোই দেখি। আর আমাকে তোমাদের কারণেই ছোটো ছোটো স¦প্নের মধ্যেই থাকতে হয়। আমরা এখন বাবার ভূমিকায় নাকি ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করছি বুঝছি না।
যাকোবের পত্রে লেখা আছে, ‘কেউসৎ কাজ করতে জানে অথচ করে না তার পাপ হয়’। সৎ কাজ, ভালো কথা, ভালো উপদেশ, আজ যেন কাগুজে শিক্ষা হয়ে গেছে। আবার কেউ যদি ঐ কথাগুলো বলতেই থাকে তবে কিছু মানুষ আছে তারা বলে এই লোকটা একটু বেশিই বোঝে। আর একটু ঘুমালেই তো আরো বড়ো স¦প্ন দেখতাম। আসলেই আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে অনেক বড়ো বড়োস¦প্নদেখতে অভ্যস্থ হয়ে গেছি। অনেক বড়ো কিছু হওয়া বা বড়ো কিছু সামাল দেওয়া বা বড়ো কিছু করা। ভালো কিছু তো করতেই চাই কিন্তু ব্যস্ততার ফাঁদ আমাদের যেভাবে আটকে দেয় তাতে মনে ও আত্মায় ধূলির আস্তরণ পড়ে যায়।
চিন্তাতে ভালো কাজ থাকলেও তার প্রতিফলন আমরা কেউই দেখতে পাই না। ছোটো ছোটো কাজ থেকেই তো শুরু করতে পারি ভালো কাজ করার।
গত কয়েক দিন আগে আমার স্কুল জীবনের বেশ কয়েকজন বন্ধু এসেছিল আমার বাড়িতে। ভালোই জমিয়ে আড্ডা দিলাম। কথায় কথায় এক বন্ধু বলল, তারা কয়েক জন মিলে করোনাকালীন সময়েছিন্নমূলদের মধ্যে অন্তত ৩ শ বুভুক্ষ মানুষকে রাতে এক মুঠো খাবার তুলে দিচ্ছে। যেদিন যা পারছে দিচ্ছে। ওরা বলছে কি করে এই কাজটা বন্ধ করি বুঝতে পারছি না। ঐ লোকগুলোর মধ্যে কিছু লোক আছে যারা আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে কখন আসবে ওরা খাবার নিয়ে। আর তাই তো পারছি না। আমাদের কতজনের মনের ময়লা কেটেছে জানি না। কতজনই বা এটাকে নিয়মিত ধরে রাখতে পেরেছি।
আমরা সবাই যেখানে ফসল কাটায় ব্যস্ত তখন এই শীতের রাতে ওরাখাবার রান্না করে নিযে, নিজেরা মিলে প্যাকেট করে নিজেদের বাইকে করে যার যার জায়গায় পৌঁছে দিতে, তারা কোন ফসল কাটছে জানি না। তবে শূন্য হয়তহবে না তাদের গোলা কখনো এই নিশ্চয়তা অবশ্যই আছে। কেননা সৎ কাজ,সৎ আদর্শ, সৎ কাজে অন্যকে উৎযোগী করা, নিজেকে সৎ কাজে উৎসর্গ করা, এগুলো তো ঈশ্বরের কাছেসব চেয়ে মূল্যবান। আসলে কী করতে হবে তাই নিয়েই যদি ভাবতে থাকি তবেকরব কখন। পজেটিভ কী করতে চাই সেটা নিয়েই মনোসংযোগ করলে, আর আনন্দের সাথে সেটা করলেই তো সফলতা আনা সম্ভব।
তাই তো আমাদের স¦পগুলো যেন শুধু সপ্নেই ডুবে না যায়। মনে ও মুখে এক হয়ে কোনো কিছু করলে সফলতা আসবেই। ইট বালি ও সুড়কির উন্নয়ন নয়, অন্তরে ঐশীরাজ্যে প্রতিষ্ঠার ইসতেহার ঘোষণার সময় এখনই। কেননা বাতাস ও বিদ্যুতের শক্তি আছে দেখেও যদি কেউ তা বিশ্বাস না করে, তবে তা তো বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। লেখা আছে প্রকাশিত বাক্য:১৪ : ১৩ তাদের পরিশ্রম থেকে তারা বিশ্রাম পাবে।
অলোক মজুমদার : চিকিৎসক ও লেখক।





Users Today : 184
Views Today : 230
Total views : 182078
