ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ এলাকায় আজ মঙ্গলবার ভোর রাত সাড়ে ৩ টায় দুইটি ট্রেনের সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৫ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
এ পর্যন্ত ১৫ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ৯ জনের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, বাকি ৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে মারা যায়। আহত এ পর্যন্ত ৭৪ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জানা গেছে, ভোর রাত সাড়ে ৩ টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী তুর্ণানিশীথা আন্তঃনগর ট্রেনের সাথে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের সাথে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগির নিচে আরও মরদেহ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হতাহতদের উদ্ধার কাজ চলছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্টেশন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের চালক সিগন্যাল (সংকেত) অমান্য করায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মন্দবাগ রেল স্টেশনে দাঁড়ানোর জন্য এই সিগন্যাল দেওয়া হয়। ওই সিগন্যালে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস প্রধান লেন থেকে ১ নম্বর লাইনে যেতে শুরু করে। ট্রেনটির ছয়টি বগি ১ নম্বর লাইনে উঠতে পেরেছিল। অন্য বগিগুলো প্রধান লেনে থাকা অবস্থায় তূর্ণা নিশীথা সিগন্যাল অমান্য করে। এতে তূর্ণা নিশীথার একাধিক বগি ওই ট্রেনের কয়েকটি বগির ওপর উঠে যায়। এতে উদয়নের তিনটি বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়। নিহত ১৫ জন সবাই উদয়নের যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছে বায়েক শিক্ষা সদন উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প খোলা হয়েছে। সেখানে নয়টি লাশ রয়েছে। কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি লাশ রয়েছে। এর মধ্যে একজন পুরুষ, একজন নারী ও একটি শিশু। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নারী ও পুরুষের দুটি লাশ রয়েছে। আর কুমিল্লা জেলা সদর হাসপাতালে একজন পুরুষের লাশ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত কারও পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেলযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে





Users Today : 59
Views Today : 62
Total views : 177313
