বিবর্তন ডেস্ক
মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিধনের শিকার হেয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা আট লাখ রোহিঙ্গার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্প বানানো হবে। রোহিঙ্গাদের স্থান দেয়ার জন্য কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে এই রোহিঙ্গা ক্যাম্প করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
এর আগে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পের পাশেই আরও ২ হাজার একর জমিতে এই শরণার্থী শিবির গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু আগের ৩ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে বর্তমানে যোগ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা। তাই আরও ১ হাজার একর জমি নতুন আগত রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।
দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া গণমাধ্যমকে বলেন, সীমান্তের পাশে অবস্থিত এবং অস্থায়ী ২৩টি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়া হবে নতুন এলাকায়। যারা বিচ্ছিন্ন এলাকায় বসবাস করছে তাদের এক জায়গায় নিয়ে আনা হবে । তাই অনেক জমি দরকার, ধীরে ধীরে সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে আসা হবে।
দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আরও জানান, কিছু পরিবারকে এখনই নতুন এলাকা কুতুপালং ক্যাম্পের বর্ধিতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে দুটি রোহিঙ্গা জনবসতিপূর্ণ এলাকা বন্ধ করা হয়েছে ।
জাতি সংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে প্রতিদিন ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়েছে। এছাড়া আরও ১০ হাজার মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে। অবশ্য চলমান রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে তাদেরকে আশ্রয় দেওয়া এবং শরণার্থীদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে বাংলাদেশের অসাধারণ মহানুভবতার ভ‚য়সী প্রশংসা করে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ মনে করে, বিশ্বের সামনে মানবিকতার এক প্রেরণাদায়ক উদাহরণ রেখেছে বাংলাদেশ। এছাড়া গত ৭ সেপ্টেম্বরে নেওয়া প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় তিন লাখ রোহিঙ্গার জন্য ৭৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার ত্রাণ সহায়তা ঘোষণা করে জাতিসংঘ। ২৯ সেপ্টেম্বরে এই পরিকল্পনায় আরো যোগ হয় ৩৬.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে মানবিক সহায়তাকারীরা এখন তাদের পরিকল্পনায় অনেক পরিবর্তন আনছে। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জন্য নেই বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের ব্যবস্থা। তাই রোগ-বালাইসহ ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানিয়রা। যাতে রোহিঙ্গাদের সাথে আক্রান্ত হতে পারে বাংলাদেশের স্থানীয় বসবাস কারি বাসিন্দারা।
বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষগুলো চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের বসতি হিসেবে বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।





Users Today : 159
Views Today : 202
Total views : 182050
