• প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
No Result
View All Result
মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
Somoyer Bibortan
No Result
View All Result

নিকোলা টেসলা-বিজ্ঞানের জগতের ‘দ্যা ডার্ক নাইট’

Admin by Admin
আগস্ট ৮, ২০১৯
in জীবনযাপন
0 0
0
নিকোলা টেসলা-বিজ্ঞানের জগতের ‘দ্যা ডার্ক নাইট’
9
SHARES
46
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

RelatedPosts

খাদ্য ও পুষ্টি পরামর্শ ● খাদ্যমূল্য ও গুণাগুণ বজায় রেখে রান্না

জীবনযাপন ● নতুন সংসারের যেভাবে খরচ বাঁচাবেন

ঘর-গৃহস্থালি ● রেফ্রিজারেটরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মাংস সংরক্ষণ

আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ নিশ্চয়ই মনে মনে ভাবছেন-কে এই নিকোলা টেসলা? যারা বিজ্ঞানকে প্রকৃত ভালোবাসেন, নিকোলা টেসলা তাদের অনেকের কাছে মোটামুটি সুপারহিরো।

ম্যাড সায়েন্টিস্ট
নিকোলা টেসলার জন্ম ১৮৫৬ সালে সার্বিয়ায়। কিন্তু পুরো শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ায়। সেই সময় দুটো এলাকাই অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যা পরে ভেঙে সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া ইত্যাদি অঞ্চলে পরিণত হয়। তাঁর পিতা ছিলেন একজন যাজক।
১৮৮০ সালে টেসলা পকেটে করে মাত্র চার পেনি, একটা কাগজে লেখা কয়েক গুচ্ছ কবিতা, আর একটা বিমান বানানোর ব্লু-প্রিন্ট (যা আর কখনো বানানো হয়ে ওঠেনি) নিয়ে আমেরিকায় পা রাখেন। এর ঠিক ২০ বছরের মধ্যে টেসলা বলতে গেলে প্রায় একাই বৈদ্যুতিক নানাবিধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটান। তার হাত ধরেই আসে-
*বৈদ্যুতিক জেনারেটর (মূলনীতি মাইকেল ফ্যারাডের হলেও ব্যবহারিক আবিষ্কার টেসলার) *রেডিও *রিমোট কন্ট্রোল *স্পার্ক প্লাগ *রোবট *ফ্লুরোসেন্ট বাতি *টেসলা কয়েল (যা টিভি, রেডিও দুটোরই অপরিহার্য অংশ)। এবং আরও অনেক কিছু যা এই বিংশ শতাব্দীর মানুষের জীবনকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
যারা ‘কমান্ড এন্ড কংকার-রেড এলার্ট’ ভিডিও গেইমের ভক্ত তারা ভালোমতোই জানেন টেসলা কয়েল কী! বিভিন্ন সায়েন্স ফিকশন গল্পে বা মুভিতে ‘ম্যাড সায়েন্টিস্ট’ বলতে যা বোঝায়, ঠিক তাই ছিলেন নিকোলা টেসলা। তিনি ছিলেন চিরকুমার। জ্যামিতিকভাবে নিখুঁত গোলাকার বস্তুর প্রতি অদ্ভুত এক আতঙ্ক ছিল তার! কোনো সংখ্যা, বা বস্তু যা সুষমভাবে তিন ভাগ করা যায় না সেগুলোর প্রতিও আজব এক ভীতি ছিল তার।
তিনি একদা মিডিয়ার সামনে জোর গলায় দাবি করেছিলেন তিনি ‘ভয়ংকর মৃত্যু রশ্মি’ আবিষ্কার করেছেন। কেউ তার কথা বিশ্বাস করেনি। হাসাহাসি করেছিল।
টেসলা তার সারা জীবনে কোনো আবিষ্কারের জন্যই কৃতিত্ব পাননি। বরং তার মৌলিক আবিষ্কার চুরি করে-ডিজাইন একটু এদিক সেদিক করে কিংবা সামান্য উন্নত সংস্করণ তৈরি করে অনেকেই ইতিহাসের পাতায় নাম কামিয়েছেন। টেসলার বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার বাইরে বাকি সারা জীবন ব্যয় হয়েছে এইসব চুরি হওয়া আবিষ্কারের পেটেন্ট নিয়ে কোর্টে লড়াই করতে কিংবা তার বেঁচে থাকার খরচ জোগাতে। কিন্তু ১৯৪৩ সালে যখন টেসলা সম্পূর্ণ নিঃস্ব-হত-দরিদ্র অবস্থায় মারা যান, তখন ঠিকই তৎকালীন এফবিআই চিফ ‘জে. এডগার হুভার’ আরও কিছু এফবিআই সদস্য নিয়ে টেসলার হোটেল রুমে হামলা চালিয়ে তার সুটকেস এবং সমস্ত কাগজ-পত্র লুটপাট করে। সেইসব কাগজ-পত্রের হদিস আজও পাওয়া যায়নি। এগুলো এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমেরিকা সরকার অত্যন্ত সুরক্ষিত ভল্টে জব্দ করে রেখেছে। ষড়যন্ত্র তত্ত্ববিদেরা অভিযোগ করেন টেসলার অনেক আইডিয়া মানব কল্যাণে না লাগিয়ে তারা গোপন বিধ্বংসী গবেষণায় কাজে লাগাচ্ছে। টেসলার অনেক আবিষ্কার এখন আমাদের কাছে ডাল-ভাত ব্যাপার। তবু কেন এত নিরাপত্তা? তাহলে কি টেসলার বৈজ্ঞানিক গবেষণার সেসব কাগজ-পত্রে আরও কিছু আইডিয়া আছে যা আমরা এই একবিংশ শতাব্দীর মানুষ এখনো পাইনি?

বৈদ্যুতিক যুদ্ধ
১৮৮৪ সালে নিকোলা টেসলা টমাস আলভা এডিসনের কোম্পানিতে চাকুরি নেন। সেইসময় তিনি এডিসনকে বলেন যে এডিসনের ফ্লুরোসেন্ট বাতি নিয়ে বৈদ্যুতিক গবেষণার কাজ অনেক তাড়াতাড়ি এবং আরও কম খরচে তিনি শেষ করতে পারবেন। এডিসন প্রস্তাব দেন যদি টেসলা এটা করতে পারে তবে তাকে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেয়া হবে।
এখানে টমাস আলভা এডিসন সম্পর্কে একটু বলা প্রাসঙ্গিক। এডিসন ছিলেন বিত্তশালী এবং একটা কর্পোরেশনের মালিক। ইতিহাস এডিসনকে কতটা ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে তা বুঝবেন যদি জানেন যে এডিসনের মানসিকতা ছিল বর্তমানে পুঁজিবাদ সমাজের বড়ো বড়ো মুনাফা-লোভী কর্পোরেশনের মালিকদের মতো। তিনি দরিদ্র-অসহায় কিন্তু মেধাবী বিজ্ঞানীদের দুঃস্থতাকে কাজে লাগিয়ে টুপাইস কামানোর সাথে সাথে বিজ্ঞানের জগতেও নিজেকে একজন কেউকেটা হিসেবে স্থাপন করেছিলেন। এরা সবাই তার হয়ে কাজ করত। যখন ভালো কোনো আইডিয়া তার নজরে আসত সেটার স্বত্ব তিনি কিনে নিতেন। তারপর নিজের নামে চালিয়ে দিতেন।
অবশ্য বৈদ্যুতিক বাতি সংক্রান্ত কিছু গবেষণা এডিসনের আসলেই ছিল। কিন্তু সেটা কার্যকরী ছিল না। প্রথম কার্যকরী এবং সাশ্রয়ী ফ্লুরোসেন্ট বাতি ছিল নিকোলা টেসলার। পেটেন্ট অফিসের তথ্য অনুযায়ী এডিসনের নামে প্রায় ১০০০ আবিষ্কারের তালিকার প্রায় সবকটাই হয় অন্যের কাছ থেকে টাকা দিয়ে কেনা।
ওপরোক্ত প্রতিশ্রুতি প্রদানের পর টেসলা মাস কয়েক ক্রীতদাসের মত খেটে তার প্রজেক্ট শেষ করলেন এবং ফ্লুরোসেন্ট বাতিকে আমরা বর্তমানে যেভাবে চিনি সেভাবে রূপদান করলেন। তারপর যখন এডিসনের কাছে তার প্রাপ্য পুরষ্কার চাইতে গেলেন এডিসন তখন বেশ একচোট হেসে পাক্কা ভিলেনের মতো বললেন, “লুলজ! আপনি তো দেখি আমেরিকান রসিকতাও বুঝেন না।”
টেসলা তখন ক্ষেপে গিয়ে এডিসন কোম্পানির চাকুরি ছেড়ে দেন। এই সুযোগে তাকে লুফে নেয় এডিসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ওয়েস্টিংহাউজ ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি’। কিছুদিনের ভেতরেই শুরু হয়ে যায় বৈদ্যুতিক যুদ্ধ। একদিকে এডিসনের স্থির বিদ্যুৎ (ডিসি কারেন্ট) বনাম অন্যদিকে ওয়েস্টিংহাউজের সাথে মিলে টেসলার চলবিদ্যুৎ (এসি কারেন্ট)। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটা ‘বৈদ্যুতিক যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত টেসলার তত্ত্বই ঠিক হলো। তার চলবিদ্যুৎ এডিসনের স্থির বিদ্যুতের চেয়ে বেশি কার্যকরী প্রমাণিত হলো। টেসলার চলবিদ্যুৎ আবিষ্কার না হলে আমাদের হয়ত আজকে এডিসনের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হতো যেখানে প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হলে আলাদা আলাদা জেনারেটর বসানো লাগত। কিন্তু টেসলার প্রযুক্তি অনুযায়ী এখন বহু মাইল দূরে একটা পাওয়ার স্টেশনে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় এবং সেখান থেকে তার দিয়ে টেনে বাসা-বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
টেসলাকে অনেকে চেনে একটা কাল্পনিক চরিত্র হিসেবে। ক্রিস্টোফার প্রিস্টের লেখা সায়েন্স ফিকশন ঞযব চৎবংঃরমব এর মধ্যে টেসলা আর এডিসনকে নিয়ে আসা হয়েছিল। বইটিকে কেন্দ্র করে একটা চলচ্চিত্রও (দ্যা প্রেস্টিজ ২০০৬ এর চলচ্চিত্র) বানিয়েছেন ক্রিস্টোফার নোলান। কাহিনীর নায়ক রবার্ট এনজিয়ার এমন একটা ক্ষমতা খুঁজছিল, যা বাস্তবে নেই। আর পৌরাণিক কোনো ক্ষমতাকে বাস্তব করে তোলার ক্ষমতা ইতিহাসে খুব বিজ্ঞানীর কাছে ছিল না। যাদের ছিল, তাদের মধ্যে একজন নিকোলা টেসলা। যদিও সিনেমাতে দেখানো সেই আবিষ্কারটা হয়ত টেসলা করেননি; তবুও আমরা ক্রিস্টোফার প্রিস্ট আর ক্রিস্টোফার নোলানের কাছে কৃতজ্ঞ এডিসনকে সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য।

টেসলারের যা কিছু অবদান
টেসলার নামে ২৬টা দেশে প্রায় ৩০০ আবিষ্কারের পেটেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে কিছু তো ওপরেই উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কিছু আবিষ্কারের মধ্যে আছেÑবৈদ্যুতিক ঝাড়বাতি, এক্স-রে মেশিনের যন্ত্রপাতি, বাইফিলার কয়েল, ব্লেড বিহীন টারবাইন।
বিজ্ঞানের জগতে বৈদ্যুতিক বাতির পাশাপাশি আরেকটা আবিষ্কার হচ্ছে ‘রেডিও’ যেটা নিয়ে তৎকালীন বিজ্ঞানী সমাজে ব্যাপক বিবাদ শুরু হয়েছিল। জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল, আলেক্সান্ডার পোপভ, স্যার অলিভার লজ, হাইনরিখ হার্জ, জগদীশ চন্দ্র বসু সহ অনেকেই এই রেডিও আবিষ্কার নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রেডিওর আবিষ্কারের পেছনে মার্কনি’র নাম টিকে গেলো। কীভাবে? সেই গল্পেই যাচ্ছি।
মার্কনি প্রথম রেডিও সিগন্যাল সম্পর্কে জানেন যখন তিনি ১৮৯৪ সালে ছুটি কাটানোর সময় বিজ্ঞানী হার্জের লেখা গবেষণাপত্রগুলো পড়েন। অথচ তার আরও ৭-৮ বছর আগে হতেই জগদীশ চন্দ্র বসু এবং নিকোলা টেসলা এই রেডিও সিগন্যাল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছিলেন। মার্কনি প্রথম যে রেডিও সিগন্যাল আবিষ্কার করেছিলেন সেটা তার বাড়ির চিলেকোঠা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। পক্ষান্তরে ১৮৯১ সালেই টেসলার আবিষ্কৃত রেডিও সিগন্যাল সেকেন্ডে ১৫,০০০ সাইকেল বা চক্র সম্পন্ন করতে পারতো। কারণ এই কাজে তিনি ব্যবহার করেছিলেন তাঁর নিজেরই আবিষ্কৃত টেসলা কয়েল।
মার্কনি যখন ১৯০০ সালে তার রেডিওর মডেল নিয়ে যান পেটেন্ট অফিসে, তখন তাকে সোজা রাস্তা মাপতে বলা হয়েছিল। কারণ পেটেন্ট অফিসের অভিযোগ ছিল মার্কনি মূলত টেসলার রেডিওর মডেল এবং যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সেটাকে নিজের মত সাজিয়ে নিয়ে এসেছেন। এরপরে ১৯০৪ সালে মার্কনি তার মডেল নিয়ে আবার পেটেন্ট অফিসে গেলে তারা কোন এক বিচিত্র কারণে টেসলার নাম কেটে দিয়ে মার্কনির নামে রেডিও পেটেন্ট ইস্যু করেন। তৎকালীন অনেক প্রত্যক্ষদর্শীদের লেখা থেকে জানা যায় মার্কনি এই সময়ে ক্ষমতাধর কিছু মানুষের সাথে উঠাবসার ফলে তাদের সংস্পর্শে চলে এসেছিলেন।
অন্যদিকে ঠিক একই সময়ে টেসলার ওয়েস্টিংহাউজ কোম্পানির সাথে মিলে চল বিদ্যুতের সাশ্রয়ী উৎপাদন কীভাবে সম্ভব সেটা আবিষ্কার করেন। তিনিই সর্বপ্রথম নায়াগ্রা জলপ্রপাতের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাসা-বাড়িতে ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হন। তার হাত ধরেই বিশ্ব পরিচিত হয় ‘আধুনিক জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র’ এর ধারণার সাথে। কিন্তু আমরা তো জানি ‘জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র’ এর আবিষ্কারক জর্জ ওয়েস্টিংহাউজ। টেসলা এডিসনের কোম্পানি ছেড়ে ওয়েস্টিংহাউজ কোম্পানিতে চলবিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে গবেষণার কাজ নিয়েছিলেন। এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কার মেধা বিক্রি করে ওয়েস্টিংহাউজ এই নাম কামিয়েছেন।
এডিসন দেখলেন তার ‘ডিসি কারেন্ট’ টেসলার ‘এসি কারেন্টে’র কাছে ভোক্তাবাজারে বড় ধরণের মার খাবে। তাই তিনি প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগলেন যে– টেসলার তৈরি বিদ্যুৎ নিরাপদ নয়। বরং এতে জীবনহানি ঘটা সম্ভব। সেটা প্রমাণে তিনি জনসম্মুখে একটা সার্কাসের হাতিকে এসি কারেন্ট ব্যবহার করে শক দিয়ে মারেন। একইসাথে সবার সামনে প্রমাণ করেন টেসলার চলবিদ্যুৎ কতটা ভয়ংকর।
১৯৪৩ সালেই আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট রেডিওর পেটেন্টে ইতালিয়ান বিজ্ঞানী মার্কনি’র নাম বাতিল করে দিয়ে নিকোলা টেসলার নাম ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ততদিনে নিকোলা টেসলা মৃত।
টেসলার ময়লা, ব্যাকটেরিয়া, জীবাণুর বিরুদ্ধে বাতিক ছিল। এই বাতিক থেকে টেসলা এমনকি একবার মানুষের শরীরের ময়লা-জীবাণু পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে বাথটাবও আবিষ্কার করেছিলেন, যাতে মানুষ গোসল করতে পানির বদলে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে!
তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা হলো তিনি একবার বিশাল সাইজের টেসলা কয়েল দিয়ে ১৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের বৈদ্যুতিক রশ্মি তৈরি করেছিলেন! এটা এখন পর্যন্ত বিশ্ব রেকর্ড হয়ে আছে। একবার নিউ ইয়র্কে রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির জন্য দায়ী ছিলেন তিনি। এই ভূমিকম্পে নিউ ইয়র্কের ফিফথ এভিনিউ পুরোপুরি ধসে গিয়েছিল!
উইলহেলম রন্টজেন প্রথম এক্স-রে রশ্মি আবিষ্কার করলেও সেটা দিয়ে যে ফটো তোলা সম্ভব সেটা দেখিয়েছেন নিকোলা টেসলা। ১৮৯৪ সালের দিকে তাঁর ল্যাবরেটরিতে বেড়াতে আসেন লেখক ‘মার্ক টোয়েন’। টেসলা তাঁর এই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর আগমন উপলক্ষে ভ্যাকুয়াম টিউবে কিছু ফটো তোলেন। কিন্তু পরে দেখা যায় ছবিতে মার্ক টোয়েনের চেহারার বদলে ভ্যাকুয়াম টিউবের লেন্স অ্যাডজাস্ট করার স্ক্রুগুলো দেখা যাচ্ছে। সেখান হতেই তাঁর এক্স-রে ইমেজ নিয়ে গবেষণার শুরু। অন্যান্য সব ক্ষেত্রের বিপরীতে এই ক্ষেত্রে অবশ্য রন্টজেন টেসলাকে কৃতিত্ব দিয়েছিলেন তাঁর আবিষ্কৃত এক্স-রে রশ্মির এমন একটা ভালো উপযোগিতা খুঁজে বের করার জন্যে।
টেসলার আবিষ্কারের মধ্যে আরও আছে ভ্যাকুয়াম টিউব, রোটারি ইঞ্জিন, লাউডস্পিকার, ওয়ারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাডার প্রযুক্তি ইত্যাদি।
নিকোলা টেসলা বলতে গেলে একাই বিংশ শতাব্দীর পরিচিত সব প্রযুক্তি আবিষ্কার করে গেছেন। পরবর্তীতে ইতিহাসের পরিচিত বিজ্ঞানীরা এগুলোকে সংস্কার করে আরেকটু উন্নত করেন এই আর কি। কিন্তু নিকোলা টেসলার মতো সম্পূর্ণ মৌলিক চিন্তাধারা এবং প্রায় শূন্য হতে ম্যাজিকের মতো কোনো আইডিয়া নিয়ে আসা কারো পক্ষেই সম্ভব হয়নি।
যদি টেসলা এতই জিনিয়াস হয় তাহলে বিশ্ববাসী তার সম্পর্কে এত কম জানে কেন? কেন স্কুলে এডিসন, মার্কনি, কিংবা আইনস্টাইনের নামের সাথে সাথে তার নাম জানলাম না?
এর কারণ-টেসলা সম্পর্কে আমাদের কখনো জানতে দেয়া হয়নি। তার সমসাময়িক সকল বিজ্ঞানীরা তার অনন্য মেধাকে হিংসা ও ঘৃণা করতেন। কিন্তু তার কাছ থেকে আইডিয়া চুরি করতে কারো তেমন খারাপ বোধ হতো না। কিন্তু টেসলা প্রশংসা দূরে থাক, বেঁচে থাকার জন্য ভালোমতো খাবারের পয়সাই জোটাতে পারেননি। তিনি এমনকি আক্ষেপ করে বলেছিলেন- কিছু টাকাপয়সার মালিক হলে তিনি আরও নতুন নতুন কিছু আইডিয়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারতেন। এবার কল্পনা করুন বিদ্যুৎ, রেডিও, টিভি, ওয়ারলেস ফোন, রাডার, এক্স-রে মেশিন, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, ১৩০ ফুট লম্বা বৈদ্যুতিক রশ্মির বাইরেও আর কি আবিষ্কার তিনি আমাদের উপহার দিতে পারতেন? আমরা একটু বেশি কল্পনাবিলাসী বিধায় ধরে নিচ্ছি উত্তরটা হচ্ছে-টাইম মেশিন!

Previous Post

কোরবানির উপযুক্ত সুস্থ গরু কীভাবে চিনবেন?

Next Post

আমাদের কালের ট্র্যাজিডির মহানায়ক

Admin

Admin

Next Post
আমাদের কালের ট্র্যাজিডির মহানায়ক

আমাদের কালের ট্র্যাজিডির মহানায়ক

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ADVERTISEMENT

সময়ের বিবর্তন

সম্পাদকঃ
আবদুল মাবুদ চৌধুরী

বিভাগীয় সম্পাদকঃ
নায়েম লিটু

ফোনঃ ০২-৯০১১১৫৬ বাসাঃ -০৪, রোডঃ ০৪, ব্লক- এ, সেকশনঃ ০৬, ঢাকা -১২১৬

Our Visitor

0 4 1 5 0 3
Users Today : 41
Views Today : 47
Total views : 184047
Powered By WPS Visitor Counter

  • Setup menu at Appearance » Menus and assign menu to Footer Navigation

Developer Lighthouse.

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা

Developer Lighthouse.

Login to your account below

Forgotten Password?

Fill the forms bellow to register

All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In