চেতনা আমাদের ভেতরের বস্তু। চেতন থেকেই আসে সচেতনতা। আত্ম চেতন নিতান্তই নিজের জন্যে। এটা দিয়ে সমাজ বা রাষ্ট্রের কোনো উপকার হয় কিনা তা জানি না, তবে সমাজ চেতন, স্বদেশ চেতন, প্রগতি চেতন রাষ্ট্রের কিছুটা হলেও উপকার করে। শুধু চেতন দিয়ে কি সফলতার মুখ দেখা যায়? হয়ত না, কেননা চেতনের সাথে দরকার কার্যকরী পদক্ষেপ। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই এটাতে ব্যর্থতা প্রকাশ করে থাকি। কানাডিয় অনুপ্রেরণাদায়ী লেখক ও বক্তা ব্রায়ান ট্রেসি বলেছেন, চেতনের সাথে সফলতার জন্যে আমাদের ফোর ডি একটা অপরিহার্য বিষয়।
প্রথম ডি হলো ডিজায়ার বা আকাক্সক্ষা। আমি জীবনে কী করতে চাই বা কী হতে চাই তার তো একটা আকাক্সক্ষা আমার থাকতেই হবে। আবার সেটা কি শুধু আত্মকেন্দ্রীক না কি সার্বজনিন সেটাও লক্ষ করতে হবে। যদি আমার লক্ষ্যকে স্থির করে ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেই আর তখনই আসবে দ্বিতীয় ডি বা ডিসাইসিভনেস বা দ্রুত ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেওয়া। আমরা অনেক সময় এই ক্ষেত্রে অনেক বাধার সম্মুখীন হয়ে থাকি। অর্থনৈতিক, সামাজিক বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা আমাদের কাজের ক্ষেত্রে আসবেই। আর হয়ত তখন আমাকে সেই কাজ থেকে পিছিয়ে আসতে হয়। যদি আমি সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে যেতে পারি তবেই তো তৃতীয় ডি, আর তা হলো ডিটারমিনেশন বা স্থির সিদ্ধান্ত। হয়ত প্রথম দুটো শেষ করে যখন এটাতে আসতে পেরেছি তখন আমার কাজের বা ইচ্ছার একটা কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব হয়।
আমি যে একটা কিছু করতে যাচ্ছি সেটা নিজে জন্যে হোক বা সমাজের জন্যে তার একটা নিশ্চিত কাঠামো আমার সামনে এসেই যায়। আর এখন আসে সেই ফোর ডি যা আমাদের সারাজীবন চলতে এবং আমার সেই কাঠামোকে টিকিয়ে রাখতে একটা মূল্যবান বিষয়। আর সেটা হলো ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা। কাজ বা ইচ্ছা কারোই ছোটো নয়। যার যার সামর্থানুযায়ী তার তার কাজ মহা-মূল্যবান। একজন ভিক্ষুক যদি মনে করে যে, সে শৃঙ্খলার মধ্যে ভিক্ষা করবে, তবে সেটাতেই তার উন্নতি সম্ভব। সফলতা আনতে অনেক কিছুর দরকার হয়ত নেই। যেটুকু আছে সেটুকু দিয়েই আর যেখানে আছেন সেখান থেকেই তা অর্জন করা সম্ভব। আসলে নিজেকে নিয়ে ভাবনাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ভাবনা এক সময় আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
আর আত্মবিশ্বাস হলো আত্মমর্যদার জনক। নিজের আত্মবিশ্বাস নিজেকে অনেক আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো নিজে নিজেকে কখনো প্রশ্ন করে দেখেছি কি যে আমি যা করতে যাচ্ছি বা করছি তা কেন করতে যাচ্ছি বা কেনইবা করছি। শুধু কি নিজের জীবনে খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে না কি সমাজের কোনো উপকারের জন্য না কি অন্য কোনো উদ্দ্যেশ্য আছে আমার এই কাজের সংকল্পের মধ্যে। জীবনের অনেক উদ্দ্যেশ্য তো সফলতার মুখ নাও দেখতে পারে। তখন কী করবেন। আসলে জীবনটা যে কেমন তাই কোনোদিন অনুভব করতে পারিনি, কেননা বাবার রেখে যাওয়া অনেক কিছু ছিল তো তাই। নইলে আর সবার মতো জীবনের সংজ্ঞাটা বুঝতে পারতাম। হেলেন কেলার যেমন জীবনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, জীবন হলো একটা বিস্মকর অভিজ্ঞতা, আর সেটা উত্থান আর পতনে ভরপুর। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এটা একটা দুঃসাহসিক অভিযান।
যখনই কোনো কষ্টে পড়ি তখনই নিজকে জীবন নিয়ে প্রশ্ন করি আর বলি কত কঠিন এই জীবন। কিন্তু কিসের তুলনায় সে কঠিন তা তো কখনো তুলনা করে দেখিনি। সবকিছু স্বাভিক মেনে নেওয়া জীবনের অন্য রকম এক শান্তির অনুভূতি। আর জীবনটা স্ন্দুর তখনই যখন নিজেই নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটা নিতে পারব। আর তাতে স্থির থাকব। আর তাই আমাদের জীবনের স্থিরতা দরকার। গালাতীয় পত্রে ৫ : ১ এজন্য তোমরা স্থির থাকো, কেউ যেন তোমাদের আর দাস বানাতে না পারে।
অলোক মজুমদার : চিকিৎসক ও লেখক।




Users Today : 13
Views Today : 15
Total views : 186720
