ধর্ষণের পর কান্নাকাটি করায় শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় পঞ্চগড়ের মাদ্রাসাছাত্রী আসমাকে। গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ওয়াশ ফিল্ডে পরিত্যক্ত একটি বগিতে মাদ্রাসাছাত্রীর ধর্ষিত লাশ উদ্ধার হয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশেষে আসমা খাতুনের (১৭) হত্যা এবং ধর্ষণের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ। উপর্যুপরি ধর্ষণের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল মেয়েটি। তার কান্না থামাতেই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছিল বাঁধন।
মামলার প্রধান আসামি এবং আসমার প্রেমিক মারুফ হাসান বাধন (১৭) আসমাকে ঢাকায় নিয়ে আসার কথা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল তারও বর্ণনা দিয়েছে পুলিশের কাছে। এর আগে গত ২২ আগস্ট রাতে বাঁধনকে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। পরদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাঁধনকে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশকে জানায়, গত ১৮ আগস্ট আসমাকে নিয়ে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে করে রাতে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছায়। সেখানে রাতের খাবার খাওয়ার পর স্টেশনের আশেপাশের আবাসিক হোটেলগুলোতে থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু পরিচয়পত্র না থাকায় কেউ তাদের কাছে হোটেল রুম ভাড়া দিতে রাজি হয়নি। নিজেকে বাঁচাতে সেসময় বাঁধন জানায়, তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে অপরিচিত চারজন যুবক। পরে তাকে পাশের বগিতে বেঁধে রেখে আসমাকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায় তারা। ঢাকায় আনার পর রেলওয়ে থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাঁধন স্বীকার করে, বাঁচার জন্য সে অপরিচিত চার যুবকের কথা বলেছিল। আসলে সে নিজেই ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে।
রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ওমর ফারুক এ প্রতিবেদককে জানান, ঢাকায় আনার পরদিনই বাঁধন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। যখন তার সামনে ঘটনাস্থলের আশপাশের ভিডিও ফুটেজ উপস্থাপন করা হয়, তখন সে আসল ঘটনা খুলে বলে। যদি সেখানে চার যুবক যেত তাহলে সিসিটিভির ক্যামেরায় তাদের দেখা যেত। জিজ্ঞাসাবাদে বাঁধন স্বীকার করে, উভয়ের সম্মতিতে তারা ট্রেনের বগিতে গিয়েছিল। এরপর মেয়েটিকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। অনেকবার মেয়েটি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু তা সে শোনেনি। এতে প্রচন্ড যন্ত্রণায় মেয়েটি কান্নাকাটি শুরু করে। কান্নার শব্দ কেউ শুনে ফেলার ভয়ে তাকে বারবার থামতে বলছিল বাঁধন। এ সময় ভয়ে তার শরীর থেকে ঘাম ঝরছিল। ওড়না তার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ওই বগি থেকে পালিয়ে আসে। এরপর ওভারব্রিজ দিয়ে স্টেশন পার হয়ে মুগদা থেকে লাব্বাইক বাসে উঠে গাবতলী হয়ে পঞ্চগড়ে ভাইয়ের বাসায় আত্মগোপন করে। এ ঘটনার পরই গত ২০ আগস্ট আসমার চাচা রাজু ইসলাম তাকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে আসমার লাশ ময়নাতদন্তেও প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পায় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।





Users Today : 27
Views Today : 29
Total views : 180728
