কোভিড-১৯ আমাদের জীবনে অনেক উপলব্ধি নিয়ে এসেছে। অনলাইনে কেনাকাটা-খাবার অর্ডার ইত্যাদি বিষয়াদির সাথে পরিচিত ছিলাম কিন্তু এখন অনলাইনের পারিবারিক প্রার্থনা, প্রচার, গির্জা, প্রভুর ভোজ ইত্যাদি সবকিছুই সাবলীলভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রথমবারের মতো অনলাইনে প্রভুর ভোজ গ্রহণ করি, এটি শুধু আমার নয়, খ্রিষ্ট বিশ্বাসীদের জীবনের জন্য নতুন মাইলফলক। অসুস্থদের জন্যে আরোগ্যদায়ী প্রার্থনাও অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে এবং পিতা ঈশ্বর আশ্চর্যভাবে তাঁর অনুসারীদের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন। বিশ্বাসীদের জীবনে ধুম্রজাল, সন্দেহ, অসুস্থিকে পরিষ্কার করে পবিত্র বাইবেলের ব্যাখ্যা আমাদেরকে উজ্জীবিত করছে। হয়ত সময়ের সাথে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, পবিত্র বাইবেলের ব্যাখ্যাও যুগোপযোগী করে তোলা হচ্ছে। কারণ আমরা মানুষ বেঁচে থাকার মধ্যে দিয়েই পিতা ঈশ্বরের ভজনা করতে পারি। ভাববাদী যিশাইয় বাণীই গ্রাহ্যণীয় যে, ‘পাতাল তো তোমার স্তবগান করে না, মৃত্যু তোমার প্রশংসা করে না, গর্তগামীরা তোমার সত্যের অপেক্ষা করে না, জীবিত, জীবিত লোকই তোমার স্তবগান করিবে। আমি যেমন অদ্য করিতেছি …’ (যিশাইয় ৩৮:১৮-১৯)। খ্রিষ্ট বিশ্বাসীরা সময়ের সাথে সাথে স্রষ্টাকে ভজনা, প্রশংসা করার কৌশলও উদ্ভাবন করেছেন। আমরা যে কোনো পরিস্থিতিতে তাঁর গৌরব, মহিমাকে গৌরবোজ্জ্বল করতে বিকল্প পন্থায় ঐক্যবৌদ্ধ এবং একসঙ্গে মিলিত হচ্ছি; এটিও ঈশ্বরের গৌরবকে ঘোষণা করে। পিতা পরমেশ্বরের গৌরবার্থে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে; প্রতিদিন অনলাইনে সুসমাচার প্রচার, প্রার্থনা, বাইবেল স্টডি, বাইবেল প্রশিক্ষণ কোর্স দেশে-বিদেশ থেকে যুক্ত হয়ে ঈশ্বর গৌরবান্বিত হচ্ছেন। বিশ্বাস করি, আমরা যে যার অবস্থানে থেকে ঊর্ধ্বের পিতার কাছে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা, ঔষধ আবিষ্কারের বিনতী করে চলেছি; নিশ্চয়ই তাঁর সময়নুযায়ী আমাদেরকে জ্ঞান, বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে পথ বাতলে দিবেন। প্রভু যীশু স্বয়ং নিজে বলেছেন, ‘…কেননা আমা ভিন্ন তোমরা কিছুই করিতে পার না’ (যোহন ১৫:৫)।
অনেক সময়ই প্রশ্নে সম্মুখীন হয়েছি, খ্রিষ্টানরা কেন সমাজ সেবা বা মানব সেবা করে থাকে। কোরআনে সুন্দর বর্ণনা রয়েছে, ‘ঈসাকে আর তাহাকে দিয়াছিলাম ইঞ্জিল এবং তাহার অনুসারীদিগের অন্তরে দিয়াছিলাম করুণা ও দয়া…’ (৫৭ সূরা হাদীদ ২৭)। এই করুণা ও দয়া থেকেই প্রতিবেশীদের সেবায় নিবিষ্ট হয়েছে। আমার বাংলাদেশে কতগুলো খ্রিষ্টিয় সাহায্য সংস্থা রয়েছে, আমাদের কাছে অজানা, তবে অর্ধশতাধিকের কম হবে না। রয়েছে চার্চ ডিনোমিনেশন কর্তৃক পরিচালিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডিসপেনসারী। ইতোমধ্যেই সরকার আমাদের হাসপাতালগুলোতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার্থে সহযোগিতা কামনা করেছে। সরকারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে খ্রিষ্টিয়ান মিশন হাসপাতাল, রাজশাহী; ল্যাম্ব হাসপাতাল, দিনাজপুর; মেমোরিয়াল খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতাল, মালুমঘাট, কক্সবাজার। ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম নেওয়া খ্রিষ্টিয়ান মিশন হাসপাতাল, রাজশাহী স্কটল্যান্ডের ফ্রি চার্চ কর্তৃক অনুদিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সূচনালগ্নে বর্তমান হাসপাতাল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে জজ কোর্ট সংলগ্ন মিশন বালিকা বিদ্যালয়ের চত্বরে অস্থায়ীভাবে যাত্রা শুরু করে। ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নিয়মিতভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে স্কটল্যান্ডের নাগরিক ডা. ডোনাল্ড মরিসনের হাত ধরে ক্রমশই এগিয়ে যেতে থাকে। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান নিজস্ব ভবনটি নির্মিত হয়। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে শিশু বিভাগ ও ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রসূতি সদন সংযোজিত হয়। ইতোপূর্বে ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ১০০ শয্যার চিকিৎসা কেন্দ্রে উন্নীত করা হয়। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে শিশুদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড সংযোজন করা হয়। এই শতবর্ষী ঐতিহ্যময় হাসপাতালকে ‘চার্চ অফ বাংলাদেশ’ করোনা রোগীদের চিকিৎসা লক্ষ্যে দুযোর্গকালীন সময়ের জন্যে হস্তান্তর করেছে। বিগত ১৫ এপ্রিল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও খ্রিষ্টিয়ান মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চুক্তি সম্পাদন করেছেন আর রাজশাহীতে ১২ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরিতের পরই করোনা রাজশাহীতে গঠিত ১৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিমের চিকিৎসকগণ শনাক্ত রোগীদের চিকিৎসা ও সেবাদান করে চলেছেন।
কক্সবাজারের চকোরিয়াতে অবস্থিত মেমোরিয়াল খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতালটির নতুন ভবনের দ্বারোঘাটন করা হয়েছে এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী। আনুমানিক ২৮ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিতভাবে ৪ তলা ভবনে এখন হাসপাতালের কার্যক্রম নবউদ্যামে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকৌশলীরা বলেছেন, আগামী ২০০ বছরেও হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হবে না। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকান ডা. ভিগো অলসন (Dr. Viggo Olsen) ) ছোট্ট স্বপ্নটি বুনেছিলেন, সেটি আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগেই নয় সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদ চিকিৎসার স্বার্থে গমনাগমন করে থাকেন। প্রতি বছর প্রায় ১৮০০ শল্য চিকিৎসা করা হয়। করোনা মহামারী বিপদকালীন সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জনগণের চিকিৎসার্থে দরজা উম্মুক্ত করেছেন। করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য পলিমার চেইন রি-এ্যাকশন (পিসিআর) ল্যাব স্থাপন করা হয়। ল্যাব স্থাপনের লক্ষ্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার ১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও ত্রাণ কার্যক্রমে কক্সবাজার জেলার সমন্বয়কারী হেলালুদ্দীনকে অনুরোধ করলে তিনি কক্সবাজারের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ডুলাহাজরার মালুমঘাট খৃষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আমিও ব্যক্তিগতভাবে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেব। আরও অর্থের প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা নেওয়া হবে।’ তথ্য মতে, পিসিআর ল্যাব স্থাপনে প্রায় এক কোটি ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট জানিয়েছিলেন। মেমোরিয়াল খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতালটিতে ল্যাব স্থাপনের মধ্যে দিয়ে কক্সবাজারে তৃতীয়তম ল্যাব হিসেবে পরিগণিত হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন; জুন মাসের ২২/২৫ তারিখ থেকে পিসিআর মেশিন চালুর কথা ছিলো। হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ে করোনা রোগীদের আইসোলেশন সেণ্টার হিসেবে একটি ওয়ার্ড ব্যবহারের চিন্তা থাকলেও হাসপাতালের পুরাতন ভবনে মে ১২, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে করোনা রোগী চিকিৎসার্থে ১৩ বেড বরাদ্দ করা হয়। দেশি-বিদেশি ডাক্তারগণ নিরলসভাবে অত্র এলাকার করোনা রোগীদের সেবা দিয়ে সুস্থ করার অঘোষিত যুদ্ধে নেমেছেন। সত্যিই দেশমাতৃকার ডাকে নিজেদেরকে বিলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা দেশপ্রেমের একটি আপসহীন দৃষ্টান্ত।
উত্তরবঙ্গের আরেকটি হাসপাতাল ল্যাম্ব হাসপাতালটিও খ্রিষ্টিয় সেবা ও সাক্ষ্যর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দিয়ে চলেছে। ‘জীবন যেন পরিপূর্ণ হয়’ পবিত্র বাইবেলে এই অংশটিকে সেবাব্রতের মূলমন্ত্র হিসেবে বেছে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল ল্যাম্ব হাসপাতাল, সেটি আজ থেকে দীর্ঘ চল্লিশ বছর পূর্বে ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ৬ জানুয়ারি। উত্তরবঙ্গের এই স্বনামধন্য হাসপাতালটির ভ্রুণের জন্ম ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে। হাসপাতালের স্বপ্নদ্রষ্টা রেভারেন্ড জন অটেশন যখন আমেরিকান সান্তাল মিশন-র পক্ষে দিনাজপুরে কাজ করছিলেন। তিনি সেই সময়েই উপলব্ধি করেছিলেন যে, অত্র অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া আদিবাসীসহ অবহেলিতদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য স্বাস্থ্য সেবা খুবই প্রয়োজনীয় এবং দরকারী। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে বাইবেল ক্যাম্প চলাকালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিষয়টি উত্থাপন করেন। ওই রাত্রীতেই স্বর্গীয় ঈশ্বর রেভারেন্ড জন অটেশনকে আহ্বান জানালেন তাঁর নামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে। সেই সময় গঠিত কমিটি কর্তৃক ‘লুথারেন এইড টু মেডিসিন পাকিস্তান(ল্যাম্প)-এর স্বপ্ন যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতার পর হাসপাতালের নামকরণও পরিবর্তিত হয়, নতুন নামকরণ হয় ‘লুথারেন এইড টু মেডিসিন ইন বাংলাদেশ’ (ল্যাম্ব)। ১৯৬১-৬৫ সময়কালে একাধিকবার তারা একত্রিত হয়েছেন এবং বিল্ডি নির্মাণের জন্য তহবলি সংগ্রহ করেছেন। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ১১ নভেম্বর রেভারেন্ড জন অটেশন, জান ল্যান্ড (নরওয়েজিয়ান সান্তাল মিশন) এবং নিলস্ আন্তন ডাম (ড্যানিস বোর্ড অফ সান্তাল মিশন) পূর্ব পাকিস্তানে আগমন করে হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাব্য এলাকা পরিদর্শন করেন। দিনাজপুর জেলার পাবর্তীপুর উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের রাজাবাসর গ্রামে সেদিন বর্তমান ল্যাম্ব হাসপাতালের জায়গায় ওপর প্রার্থনা উৎসর্গ করা হয়। এই প্রার্থনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—রেভারেন্ড যোসেফ সরেন, আব্রাহাম মুরমু এবং লক্ষণ মুরমু। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে জায়গাটির পার্শ্বের ইট তৈরির জন্য কাজ শুরু হয়। এই বছরই রেভারেন্ড আর্থার ব্লিইস এবং তাঁর স্ত্রী ক্যাথি প্রথম ডাক্তার হিসেবে বাংলাদেশে হাজির হয়েছিলেন। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম পর্বের হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ইতিপূর্বে ‘আমেরিকান সান্তাল মিশন’ ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে ‘ওয়ার্ল্ড মিশন প্রেয়ার লীগ’র (ডব্লিউএমপি) সহযোগিতায় যুক্ত হলে প্রশাসনিক দায়িত্ব ভার ডব্লিউএমপি’র হাতেই প্রদান করা হয়। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হয়েই ‘ল্যাম্ব হাসপাতাল প্রজেক্ট’র পথযাত্রা শুরু হয়। এই বছরই হাসপাতালে বিদ্যুতের সংযোগ আসে এবং ক্রমান্বয়ে হাসপাতালের উন্নয়ন সাধিত হতে থাকে। দেশের ক্রান্তিলগ্নে সরকারের মার্চ মাস থেকেই হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আলাদা পরিচর্যা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যার মধ্যে দিয়ে খ্রিষ্টিয় ভালোবাসা প্রকাশিত হচ্ছে।
খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনা’ও সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কতকগুলো উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এই সময়ে যারা সর্দি, কাশি, জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে আসছে, তাদের সেবা দেবার জন্য তৈরি করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা ফ্লু কর্নার ও বিশেষ অবজারভেশন সেল। যেখানে আলাদাভাবে সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত জয়রামকুড়া মিশন হাসপাতাল-ময়মনসিংহ, ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত খ্রিষ্টিয়ান মেডিক্যাল সেন্টার (মিশন হাসপাতাল)—ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে মিশনারী ডা. ইভা ফেডিলিয়া গিলবার্ট কর্তৃক বগুড়া খ্রিষ্টিয়ান মিশন হাসপাতাল কার্যক্রমের সূচনা হয়। চার্চেস অফ গড মিশনের স্বপ্নচারী মিশনারীরা হাসপাতালের পূর্বে নির্মাণ করেছেন বগুড়ার প্রাণকেন্দ্রে গির্জা (১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে), ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে বগুড়া মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়। আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে মিশন কাজের লক্ষ্যে এসে পৌঁছিছিলেন ১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দে। ব্যাপ্টিস্ট মিড মিশন হাসপাতাল, নাটোর বিগত ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে সর্বস্তরের মানুষের সেবা দিয়ে আসছে। উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালীতে ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকান মিশনারী মি. এডকস্ট প্রতিষ্ঠা করেন লুথারেন হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ; স্বাধীনতার পরবর্তীতে নরওয়েজিয়ান মিশনারীরা ব্রাহ্মণবাজার খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতাল—মৌলভীবাজার, পূর্ণোদ্যমে চালু করেন। খুলনায় স্থাপিত হয় রেভা. আব্দুল ওয়াদুদ মুন্সি হাসপাতাল, গাজীপুরে কোরিয়ান মিশনারীরা স্থাপন করে করমতলা হাসপাতাল ।
আমাদের উন্নয়নসংস্থাগুলো বৈশ্বিক দুর্যোগে দেশবাসীর পার্শ্বে দাঁড়িয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের সাহাযার্থে হাত বাড়িয়েছে। কারিতাস, সিসিডিবি, কৈননীয়া, ব্যাপ্টিস্ট এইড, ন্যাজ্যারীন মিশন, আর্শিবাদ, হীড বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড কনর্সান, সিএসএস, এ্যাডরা, বিওয়াইএফসি, ওয়াইডব্লিউসিএ, শেডবোর্ড, পিদিম, ওয়ার্ল্ড রিনিউ, কম্পেশন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল, ওয়ার্ল্ড ভিশন, টিয়ার ফান্ড, বাংলাদেশ ফেলোশীপ ফাউন্ডেশন, লেপ্রোসি মিশন, তাবিথা ফাউন্ডেশন, ট্রান্সফরম এইড, ফেইথ ইন এ্যাকশন, সুপথ, নূরমিজন বাংলাদেশ, উত্তরা ডেভেলপমেণ্ট ফাউন্ডেশন, অন্বেষা ফাউন্ডেশন, ঈশায়ী চার্চসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। করোনা দুর্যোগে আমাদের ফেইথ বেইস্ড প্রতিষ্ঠানগুলো কেউই কার্যসূচি ব্যতীত ছিল না। কম্পেশন বাংলাদেশ স্পন্সরশিপ হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের পরিবারকে খাদ্য ও সুস্থ থাকার ব্যবহারিক দ্রব্য ও সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে উদ্যোগ নিয়েছে। ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ দেশের ২৬টি জেলার ৫৭টি উপজেলায় ১৮ হাজার ২৫৬ জন দরিদ্র পরিবারকে অর্থ সহায়তা, ৩৫ হাজার ২৯৫ জন পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী সহায়তা দিয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারকে প্রায় ২৩০৭ পিপিই এবং প্রায় ৪৯৬৮৩০টি মাস্ক ও গ্লাভস্ সরবরাহ করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যর্থাথই মূল্যায়ন করে বলেছিলেন, এদেশের খ্রিষ্ট বিশ্বাসীরা মাইক্রোস্কোপিক মাইনোরিটি নন, সিগনেফিকেন্ট মাইনোরিটি।
● মিথুশিলাক মুরমু : গবেষক ও লেখক।





Users Today : 22
Views Today : 26
Total views : 184548
