জন্ম নিলেই যেতে হয় নিজ আবাসে এটাই নীতি চিরন্তন। থাকে না আর আবেগ ও আবেশের কোনো বালাই। সবজান্তা শমশের। এটা যদিও কথার কথা, তবুও শমশের নামে নাকি এক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কারো প্রশ্নের উত্তর তৎক্ষণাৎ দিয়ে দিতেন। সেটা সত্য বা মিথ্যা অথবা ইনিয়ে বা বিনিয়ে বলা হোক না কেন তিনি বলে ফেলতেন। সেটা তখন ভুল বা ঠিক প্রমাণ করবে কার এত বড়ো সাধ্য আছে। সেই সুযোগ তাকে দিলে তো। হয়ত সেটা ভুল প্রমাণ করার ক্ষমতা অনেকেরই আছে। গল্প শুনেছি সেই সময়, আর এখন তা বাস্তবেই দেখছি। ভুলের মাঝেই তো বাস করছি মনে হয়। যা বুঝতে পারি তা তো বলিই আবার যা বুঝি না সেটা বলে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে যা করা লাগে তাই যেন করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি আমরা। সৃষ্টিশীল হতে পারলাম না জীবনে। এত বিশেষজ্ঞ মতের মধ্যে আমাদের মতো নগণ্য ক্ষুদ্র মানুষদের যেকোনো সৃষ্টিশীল মতামত একেবারেই মূল্যহীন।
আমাদের দেশেই শুধু নয়, করোনা সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা পৃথিবীর লক ডাউন আর আমাদের দেশের লকডাউনের মধ্যে কতই না সৃষ্টিশীল পার্থক্য চোখে পড়েছে। জানি না এটা আমার চোখ ভুল দেখে কিনা। দূরপাল্লার গাড়িগুলো বা শহরে লোকাল সার্ভিস বন্দ অথচ অফিস, কলকারখানা সবই খোলা ছিল। ইশ, আমাদের সব শ্রমিকদের যদি একটা করে নিজস্ব গাড়ি থাকত তবে ফ্যাকটরিতে যাওয়ার জন্য অসুবিধা হতো না, আর করোনাও আমাদের নাগাল পেত না। দোকানগুলো বন্ধ আমাদের তো অনেক টাকা নেই যে সাত বা দশ দিনের খাবার একসাথে কিনে রাখব বা বড়ো ফ্রিজও নেই যে অনেক কিছু একসাথে সংগ্রহে রাখবো। আবার যাদের ঐ দোকানের ওপরেই ভরসা তারাই বা কি করবে। ভাড়া কোথা থেকে দেবে বা বিদ্যুৎ বিল বা অনান্য খরচ কীভাবে করবে বা কী দিয়েই খাবে বা করোনা যদি ধরেই ফেলে তবে চিকিৎসা কি দিয়ে করবে। আবার কাউকে বলতে শুনছি না খেয়ে কষ্ট করে মরার চেয়ে নাকি করোনাতে মৃত্যু অনেক শান্তির।
যাদের গাড়ির চাকা ঘুরলেই সন্তানের মুখে খাবার জোটে তাদেরই অবস্থাই-বা কী-এই বিষয়ে ভাবব কখন। করোনাতে মৃত্যু তো এখন পর্যন্ত যাদের হয়েছে তারা তো সবাই অনেক বড়ো মাপের মানুষ। এসিতে থাকে, এসি গাড়িতে ঘুরে, ভালো ভালো খাবার খায়। তাদের সাথে দেখা করতে হলে আমাদের সিরিয়াল দিয়ে বসে থাকতে হয় অথবা প্রটোকল মেনটেইন করে ভেতর থেকে সময় আসলে দুয়েক মিনিট হয়ত কথা বলার সুযোগ পাওয়া যায়। কতটা গায়ে খাটা শ্রমিক করোনায় মরেছে তার পারিসংখ্যানটা যদি পেতাম তবে হয়ত সবার মাঝে সমতার একটা চিহ্ন বুঝতে পারতাম। পরিস্থিতি নতুন করে আমাদের সৃষ্টিশীলতা তৈরি করে।
মহাত্মা গান্ধী বলেছেন সফলতা, ব্যর্থতা, সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য সবকিছুই ব্যক্তি কার্য ও ব্যক্তি প্রচেষ্টার ওপর নির্ভরশীল। আর কঠিনতম আইন অনেক সময় আমাদের কঠিন ভুলের জন্ম দেয়, যার পরবর্তী প্রতিফল গ্রহণের জন্য তো আমাদের প্রস্তুত থাকতেই হয়। আর শিক্ষা নিতে হয় অতীত ইতিহাস থেকে। আমরা তার কতটুকু নিতে পারছি বা নিয়েছি। আমাদের ভুলের খেসারত যে আমাদের ছেলে-মেয়েদের ওপর পড়বে না তার জন্য কি কোনো আইন আমরা করে যেতে পারছি। ভাবার সময় শেষ হতে চলেছে। সিদ্ধান্ত নিন ভালো অথবা মন্দ।
অলোক মজুমদার : চিকিৎসক ও লেখক।





Users Today : 236
Views Today : 283
Total views : 182131
