“মণ্ডলী কেবল সাপ্তাহিক একটি অনুষ্ঠান নয়।”―যদি ঈশ্বরের লোকদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেবল রবিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে মণ্ডলী আসলে কী হওয়ার জন্য স্থাপিত হয়েছিল, তার একটি বড়ো অংশ আপনি হারাচ্ছেন। মণ্ডলী এমন কোনো সাপ্তাহিক সময়সূচি নয়, যেটি কাজ, পড়াশোনা, ব্যস্ততা, শখ, আর বিনোদনের ফাঁকে কষ্ট করে গুঁজে দিতে হয়। মণ্ডলী হলো যীশু খ্রীষ্টকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ এক পরিবার। একটি মণ্ডলী-পরিবার শেষ প্রার্থনার পর অদৃশ্য হয়ে যায় না। একটি মণ্ডলী-পরিবার একে অপরের জন্য প্রার্থনা করে। একে অপরের ভার বহন করে। একসঙ্গে আনন্দ করে। একসঙ্গে কাঁদে। একসঙ্গে উপাসনা করে।
একসঙ্গে ঈশ্বরের বাক্য শোনে। একসঙ্গে বাইবেল খোলে। একসঙ্গে শাস্ত্র শেখে। একসঙ্গে প্রভুতে বৃদ্ধি পায়। জীবন কঠিন হয়ে গেলেও একসঙ্গে থাকে।
বাইবেল গালাতীয় ৬:২ পদে বলে: “তোমরা পরস্পরের ভার বহন কর, এবং এইরূপে খ্রীষ্টের ব্যবস্থা পূর্ণ কর।”
অনেকে একটি “নিখুঁত মণ্ডলী” খোঁজেন। তারা নিখুঁত গান, নিখুঁত প্রচার, নিখুঁত কার্যক্রম, আর নিখুঁত মানুষ চান। কিন্তু মণ্ডলী কোনোদিনই নিখুঁত লোকদের সমাবেশ ছিল না। ম্ডলী সবসময়ই ছিল―অপূর্ণ মানুষদের একটি পরিবার, যারা এক পরিপূর্ণ ত্রাণকর্তাকে কেন্দ্র করে সমবেত।
বাইবেল যোহন ১৩:৩৫ পদে বলে: “তোমাদের মধ্যে যদি পরস্পর প্রেম থাকে, তবে তদ্দ্বারাই সকলে জানিবে যে, তোমরা আমার শিষ্য।”
মণ্ডলীর শক্তি তার ভবনের আকারে মাপা যায় না। মণ্ডলীর শক্তি কেবল উপস্থিত মানুষের সংখ্যা দিয়ে মাপা যায় না। মণ্ডলীর শক্তি তার কর্মসূচির জনপ্রিয়তায়ও মাপা যায় না। মণ্ডলীর শক্তি মাপা হয়―খ্রীষ্টের প্রতি তার প্রেমে, শাস্ত্রের প্রতি তার নিবিষ্টতায়,এবং একে অপরের প্রতি তার বাস্তব ভালোবাসায়। একটি বড়ো গির্জা-ভবন দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, অথচ ভিতরের লোকেরা একে অপরের কাছে অপরিচিতই থেকে যেতে পারে। কিন্তু একটি ছোট মণ্ডলীও প্রবল শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যখন তার লোকেরা সত্যিকার অর্থে পরিবার হয়ে বাঁচে।
প্রেরিত ২:৪৪ পদে লেখা আছে: “আর যত বিশ্বাস করল, তারা সকলে একত্র ছিল।”
এটাই মণ্ডলীর ছবি। দর্শক নয়। গ্রাহক নয়। ধর্মীয় ভোক্তা নয়। একটি পরিবার। যীশু খ্রীষ্টকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ এক পরিবার।
যখন একজন কষ্ট পায়, সকলেই তার কষ্ট অনুভব করে। যখন একজন আনন্দ করে, সকলেই আনন্দ করে। যখন একজন পড়ে যায়, অন্যরা তাকে উঠিয়ে দাঁড় করায়। যখন একজন দুর্বল হয়, অন্যরা তাকে শক্তি দেয়।
রোমীয় ১২:৫ পদে লেখা আছে: “সেরূপ আমরা অনেক হয়েও খ্রীষ্টে এক শরীর, এবং প্রত্যেকে পরস্পরের অঙ্গ।”
পৃথিবী ক্রমে শীতল হয়ে যাচ্ছে। মানুষ আরো একাকী হচ্ছে। সম্পর্কগুলো আরো উপর-উপর হয়ে যাচ্ছে। অনলাইনে হাজার ফলোয়ার আছে, অথচ হৃদয় ভেঙে গেলে ফোন করার মতো একজনও নেই। কিন্তু মন্ডলীকে আলাদা হওয়া উচিত।
মণ্ডলী এমন একটি স্থান হওয়া উচিত, যেখানে মানুষ পরিচিত, ভালোবাসাপ্রাপ্ত, উৎসাহিত, শক্তিশালী, এবং ঈশ্বরের বাক্যে দৃঢ়মূল হয়।
মণ্ডলী এমন স্থান হওয়া উচিত, যেখানে বিশ্বাসীরা যীশু খ্রীষ্টের চারপাশে এবং শাস্ত্রের চারপাশে একত্রিত হয়। মণ্ডলী এমন স্থান হওয়া উচিত, যেখানে মানুষ শুধু পাশাপাশি বসে না―একসঙ্গে বৃদ্ধি পায়। সবচেয়ে স্পষ্ট সত্য এই: মণ্ডলী এমন কোনো ভবন নয়, যেখানে আপনি শুধু যান। মণ্ডলী এমন কোনো অনুষ্ঠান নয়, যেখানে আপনি শুধু উপস্থিত থাকেন। মণ্ডলী এমন কোনো ঐতিহ্য নয়, যা কেবল ধরে রাখা হয়। মণ্ডলী এমন কোনো প্রদর্শনী নয়, যা বসে বসে দেখা হয়। মণ্ডলী হলো একটি পরিবার, যার অন্তর্ভুক্ত আপনি। এবং সেই পরিবারের কেন্দ্র কোনো পালক নন, কোনো সম্প্রদায় নন, কোনো ভবন নয়, কোনো কর্মসূচিও নয়―সেই পরিবারের কেন্দ্র হলেন যীশু খ্রীষ্ট। এই কারণেই মণ্ডলী কেবল সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান নয়; ইহা যীশু খ্রীষ্টকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ এক পরিবার।
গালাতীয় ৬:২ “তোমরা পরস্পরের ভার বহন কর, এবং এইরূপে খ্রীষ্টের ব্যবস্থা পরিপূর্ণ কর।”অর্থ মণ্ডলী মানে শুধু নিজের বোঝা নিজে টানা নয়; বরং ভাই-বোনের দুঃখ, অসুস্থতা, অভাব, মানসিক কষ্ট, পারিবারিক চাপ―সবকিছুর অংশীদার হওয়া।
যোহন ১৩:৩৫ “তোমাদের পরস্পরের প্রতি প্রেম থাকিলে, তদ্দ্বারাই সকলে জানিবে যে, তোমরা আমার শিষ্য।” অর্থ ―সত্যিকারের মণ্ডলীকে চেনা যায় তার গানের মানে নয়, ভবনের সৌন্দর্যে নয়, বরং তার ভালোবাসার মানে।
প্রেরিত ২:৪৪ “আর যত বিশ্বাস করিল, তাহারা সকলেই একত্র ছিল, এবং সকল বস্তু সাধারণ রাখিত।” অর্থ―প্রথম যুগের মণ্ডলীতে মানুষ শুধু একই কক্ষে বসত না; তারা এক হৃদয়, এক আত্মা, এক যত্নে আবদ্ধ ছিল।
রোমীয় ১২:৫ “সেইরূপ আমরা অনেক হইয়াও খ্রীষ্টে এক শরীর, এবং প্রত্যেকে পরস্পরের অঙ্গ।” অর্থ―মণ্ডলীতে কেউ অপ্রয়োজনীয় নয়। কেউ শুধু দর্শক নয়। প্রত্যেকে শরীরের একটি অঙ্গ―কারও ভূমিকা ছোটো নয়।
ইফিষীয় ২:১৯ “অতএব তোমরা আর বিদেশি ও প্রবাসী নও; কিন্তু সাধুগণের সহনাগরিক, এবং ঈশ্বরের পরিবারের লোক।” অর্থ―বিশ্বাসীরা মণ্ডলীতে ‘অতিথি’ নয়; তারা ঈশ্বরের পরিবারের সদস্য।
ইব্রীয় ১০:২৪-২৫ “আর প্রেম ও সৎকর্মে উত্তেজিত করার নিমিত্ত পরস্পরের প্রতি মনোযোগ কর; এবং কেউ কেউ যেরূপ সমাগম ত্যাগ করে থাকে, আমরা সেরূপ না করি।” অর্থ―মণ্ডলীর সমাগম শুধু উপস্থিতির তালিকা নয়; তা পারস্পরিক উদ্দীপনা, তাগিদ, ও বৃদ্ধি।
১ করিন্থীয় ১২:২৬ “অতএব যদি এক অঙ্গ দুঃখ পায়, সকল অঙ্গ তার সঙ্গে দুঃখ পায়; আর যদি এক অঙ্গ সম্মানিত হয়, সকল অঙ্গ তাহার সঙ্গে আনন্দ করে।” অর্থ―এটাই “চার্চ ফ্যামিলি”র বাইবেলীয় রূপ―একজনের কান্না, সবার কান্না। একজনের আনন্দ, সবার আনন্দ।
বাংলাদেশে অনেক সময় চার্চ বা মণ্ডলীকে মানুষ শুধু রবিবারের উপাসনালয় হিসেবে দেখে। কিন্তু বাইবেলের শিক্ষা তার চেয়ে অনেক গভীর। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মণ্ডলী হওয়া মানে: শুধু রবিবার দেখা করা নয় অসুস্থ ভাই/বোনের খোঁজ নেওয়াবেকার যুবকের পাশে দাঁড়ানো বিধবা, একাকী, প্রবীণ, অসহায় সদস্যকে মনে রাখা পরিবারের সংকটে সাহায্য করা পরীক্ষার সময় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রার্থনা করা আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারকে সম্মানের সঙ্গে সহায়তা করা নতুন বিশ্বাসীকে গ্রহণ ও শিষ্যত্বে গড়ে তোলা
মণ্ডলীতে দলাদলি নয়, খ্রীষ্ট-কেন্দ্রিক ঐক্য গঠন করাবাংলাদেশের গ্রামের মণ্ডলী হোক বা শহরের বড়ো চার্চ―যদি সদস্যরা শুধু এসে চলে যায়, তবে তা এখনও পূর্ণ অর্থে “পরিবার” হয়নি। কিন্তু যদি তারা পরস্পরকে জানে, ভালোবাসে, বহন করে, শেখায়, শোনে, এবং প্রার্থনা করে―তবে সেটিই প্রকৃত খ্রীষ্ট-কেন্দ্রিক মণ্ডলী।
Church / ‘মণ্ডলী’ গ্রীক: ἐκκλησία (ekklesia) অর্থ: “ডাকা হয়েছে এমন লোকদের সমাবেশ”, “আহূত সম্প্রদায়”। এখানে “চার্চ” মানে মূলত ভবন নয়, বরং ঈশ্বর কর্তৃক আহূত বিশ্বাসীদের সম্প্রদায়।
অতএব, “চার্চে যাওয়া”র চেয়ে বড়ো সত্য হলো―“আমরাই চার্চ” অর্থাৎ আমরা যারা খ্রীষ্টে আহূত ও একত্রিত।
হিব্রু: קָהָל (qahal) অর্থ: সমাবেশ, জনগণের সভা, ঈশ্বরের জনসমাজ। হিব্রু: עֵדָה (edah) অর্থ: সম্প্রদায়, মণ্ডলী, জনগোষ্ঠী। এগুলো দেখায় যে, ঈশ্বরের লোকেরা সবসময়ই ছিল একটি চুক্তিভিত্তিক সম্প্রদায়―বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি নয়।
‘‘Fellowship’’/ “সহভাগিতা” গ্রীক: κοινωνία (koinōnia) অর্থ: অংশীদারিত্ব, সহভাগিতা, যৌথ জীবন, আত্মিক অংশগ্রহণ। এটি শুধু চা-বিস্কুট খাওয়া বা গল্প করা নয়; এটি হলো খ্রীষ্টে একসঙ্গে জীবন ভাগ করে নেওয়া।
“Body” / “শরীর” গ্রীক: σῶμα (sōma) রোমীয় ১২ এবং ১ করিন্থীয় ১২-এ মণ্ডলীকে “খ্রীষ্টের শরীর” বলা হয়েছে। অর্থাৎ, মণ্ডলীর ঐক্য কৃত্রিম নয়; তা জীবন্ত ও অঙ্গগত।
‘Love’ / ‘প্রেম’ গ্রীক: ἀγάπη (agapē) অর্থ: আত্মত্যাগী, ঈশ্বরীয়, প্রতিশ্রুতিমূলক প্রেম।এই প্রেম আবেগের চেয়ে বেশি; এটি সিদ্ধান্ত, দায়বদ্ধতা, সেবা, ক্ষমা, ও আত্মদান।
নতুন নিয়মের যুগে যীশু ও তাঁর শিষ্যদের দৈনন্দিন কথ্যভাষার মধ্যে অরামীয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ‘সমাজ’, ‘সমাবেশ’, ‘ঈশ্বরের লোক’, ‘গৃহভিত্তিক সম্প্রদায়’―এই ধারণাগুলো অরামীয়-ইহুদি সংস্কৃতিতে ঘনিষ্ঠ ও পারিবারিক রূপে বিদ্যমান ছিল। অর্থাৎ, প্রাথমিক খ্রীষ্টীয় মণ্ডলী ছিল সম্পর্কভিত্তিক, শুধু প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নয়।
মণ্ডলী কোনো অনুষ্ঠান নয়, সম্পর্ক অনেক অভিজ্ঞ পালক বলেন, “যেখানে সম্পর্ক নেই, সেখানে চার্চ কার্যক্রম থাকতে পারে; কিন্তু বাইবেলীয় মণ্ডলী গড়ে ওঠে না।”
খ্রীষ্ট-কেন্দ্রিক ঐক্যই মূল মানুষ, মত, রুচি, প্রজন্ম, আর্থসামাজিক পার্থক্য―এসব ছাড়িয়ে যে ঐক্য দাঁড়ায়, তা যীশু খ্রীষ্টকে কেন্দ্র করেই। অপূর্ণ মানুষ, পরিপূর্ণ ত্রাণকর্তাএকজন পরিণত পালক কখনোই মণ্ডলীকে ‘পারফেক্ট’ মানুষের স্থান বলেন না। বরং, মণ্ডলী হলো সেই স্থান যেখানে পাপী মানুষ অনুগ্রহ পায়,আহত মানুষ সান্ত্বনা পায়, দুর্বল মানুষ শক্তি পায়,এবং অপূর্ণ মানুষ শোধিত হয়।
শাস্ত্রবিহীন ঐক্য দুর্বল যদি ভালোবাসা থাকে কিন্তু সত্য না থাকে, তবে ঐক্য ভেঙে পড়ে। যদি সত্য থাকে কিন্তু ভালোবাসা না থাকে, তবে হৃদয় শুকিয়ে যায়। সুতরাং সুস্থ মণ্ডলীর জন্য প্রয়োজন―বাক্য + প্রেম + প্রার্থনা + সহভাগিতা।
ছোটো মণ্ডলীও মহান হতে পারে মন্ডলীর মহত্ত্ব সংখ্যায় নয়; বরং এ প্রশ্নে: তারা কি সত্যিই একে অপরকে বহন করে? তারা কি শাস্ত্রকে ভালোবাসে? তারা কি খ্রীষ্টকে কেন্দ্র করে থাকে?
মণ্ডলীর পরিচয়মণ্ডলীর পরিচয় “ইভেন্ট” নয়, ‘কোভেন্যান্ট কমিউনিটি’ বা চুক্তিভিত্তিক সম্প্রদায়। ঈশ্বর তাঁর লোকদের আলাদা আলাদা করে শুধু রক্ষা করেন না; তিনি তাঁদের একত্রে একটি দেহ হিসাবে গড়েন।
কেন্দ্রবিন্দু: যীশু খ্রীষ্টএই লেখার সবচেয়ে শক্তিশালী সত্য হলো: মন্ডলীর কেন্দ্রপালক নন কোনো ডিনোমিনেশন, নয় কোনো স্থাপনা, নয় কোনো মন্ত্রণালয় ।
যীশু খ্রীষ্টকে খ্রীষ্ট কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিলে মণ্ডলী দ্রুতই সামাজিক ক্লাব, সাংগঠনিক রীতি, বা কেবল সাংস্কৃতিক ধর্মচর্চায় নেমে আসে।
সহভাগিতা ও দায়বদ্ধতা সত্যিকারের বাইবেলীয় মণ্ডলীতে থাকে: পারস্পরিক জবাবদিহি প্রার্থনামূলক সহায়তা দুঃখে-সুখে অংশীদারিত্ব শাস্ত্রপাঠ ও প্রয়োগ শিষ্যত্বশোধন ও পুনরুদ্ধার উপাসনা ও জীবনের সংযোগমণ্ডলী কেবল রবিবারের আরাধনা নয়; সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্তও একে অপরের জীবনে খ্রীষ্টের উপস্থিতি বহন করা।
যদি আমরা সত্যিই ‘চার্চ ফ্যামিলি’ হতে চাই, তবে: ছোটো ছোটো সহভাগিতা গোষ্ঠী গড়ে তুলতে হবে যাতে মানুষ পরিচিত হয়, কথা বলে, প্রার্থনা করে, শাস্ত্র শেখে।
শুধু মঞ্চকেন্দ্রিক না হয়ে মানুষকেন্দ্রিক হতে হবে যেন নতুন কেউ এলে সে শুধু অনুষ্ঠান না দেখে, পরিবার অনুভব করে।
সংকটে পাশে দাঁড়াতে হবে―অসুস্থতা, বেকারত্ব, পারিবারিক ভাঙন, পড়াশোনার চাপ, মানসিক কষ্ট―এসব বাস্তব জায়গায় মণ্ডলীকে নামতে হবে।
তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে অনেক তরুণ আজ একা, বিভ্রান্ত, বা অনলাইন-নির্ভর। তাদেরকে কেবল শ্রোতা নয়, পরিবারের সদস্য করে তুলতে হবে।
শাস্ত্রভিত্তিক প্রেম গড়ে তুলতে হবেশুধু আবেগ নয়, বাইবেলীয়, পবিত্র, আত্মত্যাগী, সত্যভিত্তিক প্রেম।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, মণ্ডলী এমন একটি স্থান নয়, যেখানে আমরা কেবল সপ্তাহে একদিন হাজিরা দিই। মণ্ডলী হলো এমন এক পরিবার, যেখানে আমরা একে অপরকে জানি, একে অপরের জন্য কাঁদি, একে অপরের জন্য প্রার্থনা করি, একে অপরকে উঠাই, এবং একসঙ্গে খ্রীষ্টের দিকে চলি।
আজ পৃথিবী মানুষকে একা করছে। সম্পর্কগুলো ভঙ্গুর হচ্ছে। মনের ভেতর কান্না আছে, কিন্তু বলার মানুষ নেই। এই সময়েই প্রকৃত মণ্ডলীকে আলাদা হতে হবে। মন্ডলী হবে সেই স্থান―যেখানে ভাঙা মানুষ আশ্রয় পায়, ক্লান্ত মানুষ বিশ্রাম পায়, দুর্বল মানুষ শক্তি পায়, এবং পাপী মানুষ অনুগ্রহ পায়।
কারণ, মণ্ডলী কেবল সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান নয়; ইহা যীশু খ্রীষ্টকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ এক পরিবার।
পাস্টর কিশোর তালুকদার: খ্রীষ্টিয় ধর্মতত্ত্ববিদ ও লেখক।




Users Today : 7
Views Today : 11
Total views : 180996
