যারা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার দিকে ছুটে যাবেন প্রিয়জনকে নিয়ে তাদের জন্য আমাদের এই প্রতিবেদন। যারা ঢাকায় বেড়াতে আসবেন তারা প্রথমেই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, টাকা জাদুঘর, সামরিক জাদুঘর, বিমানবাহিনী জাদুঘরসহ একাধিক জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারেন। এছাড়া লালবাগ কেল্লা, হোসেনি দালান, ধানমন্ডি লেক, জাতীয় চিড়িয়াখানা (মিরপুর), মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন, বঙ্গবন্ধু নভো থিয়েটার, নন্দনপার্ক, হেরিটেজ পার্ক, ফ্যান্টাসিকিংডম, ওয়াটার কিংডম ভ্রমণ করতে পারেন। যারা বৃহত্তর বরিশালের দিকে ছুটে যাবেন চারপাশে দেখবেন সবুজের সমারোহ। দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই ছুটে যান কুয়াকাটা সমুদ্রে সৈকতে। এছাড়া শুঁটকি পল্লী, রাখাইন পল্লী ঘুরে বেড়াতে পারেন। বরিশাল নগরীতে প্রাচীন একাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে, যেমন-বরিশাল বিএম কলেজ, বিবির পুকুর, বরিশাল পার্ক, কীর্তনখোলা নদী। এই নদীতে যখন ভ্রমণ করবেন তখন বরিশালের গ্রাম বাংলার চিরন্তন রূপ উপভোগ করতে পারবেন। চট্টগ্রামের দিকে যারা যাবেন তারা গিয়েই দেখবেন কেনো চট্টগ্রামকে ১২ আউলিয়ার নগরী বলা হয়। এখানে হযরত আমানত শাহ্ (রহ.), হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রহ.), হযরত গরিব উল্লাহ শাহ্ (রহ.) সহ অগণিত সুফি দরবেশদের মাজার দেখতে পাবেন। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেড়িয়ে আসতে পারেন। এখানে অনেকটাই নির্জনতা খুঁজে পাবেন। এছাড়া চট্টগ্রামের সব বাজারেই ফরমালিন মুক্ত লইট্টা শুঁটকি, ছুরি শুঁটকি, রুপচাদা শুঁটকি সহ একাধিক শুঁটকি মাছ প্রিয়জনের জন্য ক্রয় করতে পারেন। সেখান থেকে যদি রাঙ্গামাটি যান তাহলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সংগ্রামী জীবন উপভোগ করতে পারবেন। এখানে দেখার মতো রয়েছে-রাজবাড়ি, ঝুলন্ত সেতু, উপজাতি জাদুঘর। বনরুপা বাজারে গিয়ে নৃ-গোষ্ঠিদের উৎপাদিত সব ধরনের সবজি ও কয়েক পদের বিন্নি চাল দেখতে পাবেন। এমনসব সবজি পাবেন যা ঢাকা শহরে কখনোই আসে না। এছাড়া পর্যটকরা সুযোগ পেলে অবশ্যই যেখানে যান সেটি হচ্ছে সাজেক ভ্যালি, এই সাজেক ভ্যালি যাওয়ার পর আপনার মনে হবে আপনি স্বর্গের দরজায় প্রবেশ করছেন। এখানে পাংখোয়া ও লুসাই নৃ-গোষ্ঠিরদের সংগ্রামী জীবন দেখবেন। এখানে নৃ-গোষ্ঠিদের তৈরি শাল, লুঙ্গি, চাদর, একাধিক উপকরণ ক্রয় করতে পারেন। বান্দরবান গিয়ে প্রথমেই বাংলাদেশের কাশ্মীর নীলগিরি ঘুরে আসুন। এখানে গেলে মনে হবে মেঘের রাজ্যে চলে এসেছি, এরপর আপনি ঘুরে আসতে পারেন স্বর্ণ মন্দির। পাহাড়ের ওপর এই স্বর্ণ মন্দির পরিদর্শন করার পর মনে হবে একটি স্বপ্নের দর্শনীয় স্থানে চলে এসেছি। এরপর সাঙ্গু নদীতে গিয়ে নৌভ্রমণ করতে পারেন। চারপাশে দেখবেন নীল পাহাড়। ঐ পাহাড়ের ওপর পাহাড়ী নৃ-গোষ্ঠিদের বসবাস। সেখানে একবার গেলে আপনার ইট পাথরের নগরীতে আর ফেরত আসতে মন চাইবে না। এছাড়া সারা বন্দরবানে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা এই ছোট প্রতিবেদনে বলা সম্ভব নয়। আপনি যদি সিলেটের দিকে ছুটে যান তাহলে প্রথমেই ইয়েমেন থেকে আগত সুফি দরবেশ হযরত শাহ্ জালাল (রহ.) ও তাঁর ভাগিনা হযরত শাহ্ পরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করতে পারেন। এছাড়া সিলেটে একাধিক চায়ের বাগান রয়েছে। যেখানেই যাবেন সেখানেই নির্জনতা দেখতে পাবেন। বর্তমানে দর্শনার্থীরা বিছানাকান্দি ও রাতারগুল বেড়াতে যান। এই দুটি নতুন দর্শনীয় স্থানে গেলে আপনার মনে হবে আপনি অ্যামাজনের গহিন অরণ্যে প্রবেশ করছেন। এছাড়া মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জের একাধিক দর্শনীয় স্থানে ঘুরে আসতে পারেন। বাংলাদেশের একাধিক বড় বড় হাওড় এই অঞ্চলগুলোতে রয়েছে। যেমন-হাকালুকি হাওর ও টাঙ্গুয়ার হাওর। হাওরে যখন নৌভ্রমণে বের হবেন চারপাশে দেখবেন শুধু জলের রাজ্য এছাড়া আর কিছুই নেই। এই দুটি অরণ্যে একাধিক প্রাণীকুলের সাক্ষাৎ পাবেন। যারা কক্সবাজার যাবেন তারা প্রথমেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন করবেন তারপর হিমছরির দিকে ছুটে যেতে পারেন। কক্সবাজার সৈকত থেকে খুব দ্রুত সেখানে পৌঁছে যেতে পারবেন। এছাড়া হিমছরি ও শাহ্পরীর দ্বীপ ঘুরে আসতে পারবেন। এরপর আপনি যাবেন স্বপ্নের টেকনাফে। সেখান থেকে যাত্রীবাহী জাহাজ করে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ঘুরে আসতে পারেন। এই স্বপ্নের দ্বীপে পৌঁছার পর আপনার মনে হবে নির্জন কোনো দেশে চলে এসেছেন। এখানকার মানুষের সংগ্রামী জীবন আপনাকে মুগ্ধ করবে। যারা বৃহত্তর ময়মনসিংহে যাবেন তারা প্রথমেই নেত্রকোনা সদর উপজেলার প্রথম এই উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারকারী হযরত শাহ্ সুলতান রুমি (রহ.) মাজার জিয়ারত করতে পারেন। তারপর একাধিক দর্শনীয় স্থানে ছুটে যেতে পারেন যেমন বাংলাদেশের একমাত্র পাথর উত্তোলন এই নেত্রকোনার বিরিশিরিতে পাওয়া যায়। এই পাথর থেকে সিরামিকের সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। সোমেশ্বরী নদীতে নৌভ্রমণ করতে পারেন। এই নদীর মাছ যদি একবার খাওয়ার সুযোগ পান সারাজীবন মনে থাকবে। এই নেত্রকোনাতেই বালিশ মিষ্টি কিনতে পাওয়া যাবে। নেত্রকোনা ছাড়া আর কোথাও বালিশ মিষ্টি তৈরি হয় না। নেত্রকোনার যেখানেই যাবেন সেখানেই আপনার অন্তরটা শীতল হয়ে যাবে। এরপর ফিরে আসুন ময়মনসিংহে, এখানে প্রথমেই জয়নাল গ্যালারি, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি পরিদর্শন করতে পারেন। তারপর ফিরে আসুন প্রকৃতির নগরী ভালুকাতে। এখানে এসে আপনি চির সবুজের বাগিচা দেখতে পাবেন। ১নং উথুরা ইউনিয়নের হাতিবের গ্রামে রয়েছে দেশের প্রথম কুমির খামার। এখানে গেলে শত শত কুমির কীভাবে লালন পালন করা হচ্ছে সেটা দেখার সুযোগ পাবেন। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। তারপর পাড়াগাঁওয়ে গিয়ে দেশের প্রথম সৌদি খেজুর বাগান দেখে আসতে পারেন। এই বাগানের মালিক মোতালেব ভাই সবসময় আপনাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছেন। এরপর যাবেন কাদিরগর ন্যাশনাল পার্কে, এখানে গিয়ে শত শত বৃক্ষ ও বনের জীব, যেমন-মুখ পোড়া হনুমান, বানর, সাপ, গুইসাপ ও নাম জানা না জানা শত প্রজাতির পাখি দেখতে পাবেন। ভালুকা ভ্রমণকালে মনে হবে কেন এত দেরিতে এই স্বপ্নের নগরীতে এলাম। আপনার আর মন চাইবে না ভালুকা থেকে নিজ গৃহে ফিরে যেতে। এমনই এক বৃক্ষলতা প্রকৃতি ভালুকাকে সাজিয়েছে। এছাড়া সারা বাংলাদেশে যেখানে খুশি সেখানেই বেড়িয়ে আসতে পারেন। বিদেশে যাবেন যান কিন্তু তার আগে নিজের মাতৃভূমি বাংলাদেশকে প্রাণ দিয়ে দেখুন, ভ্রমণ করুন। যার ভেতর দেশ প্রেম নেই তার ভিতর কিছুই নেই।
লেখক : রাহিয়া রিয়া, শিক্ষার্থী ও সৈয়দ রশিদ আলম, কবি ও প্রাবন্ধিক।





Users Today : 63
Views Today : 66
Total views : 177317
