কেবল পরিশ্রমেই শারীরিক ক্লান্তিভাব দেখা দেয় না, তার সঙ্গে থাকে আরও বেশ কিছু কারণ। টায়ার্ডনেস, ফ্যাটিগ বা এই ক্লান্তিভাবকে শারীরিক ও মানসিক শক্তির ঘাটতি কিংবা কাজ করার স্পৃহার ঘাটতি বলে অভিহিত করা যায়। ক্লান্তিজনিত সমস্যাকে আমরা শারীরিক হিসেবে ধরে নিলেও ক্লান্তি মূলত শারীরিক ও মানসিক উভয়ের সংমিশ্রণে দেখা দেয়।
এছাড়া বড়ো ধরনের শারীরিক সমস্যা থেকেও ক্লান্তিভাব দেখা দেয়। রক্তস্বল্পতা, ডায়বেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা ও হৃদরোগের ফলে খুব অল্পতে ও সহজেই ক্লান্তিভাব দেখা দেয়। ক্লান্তিভাব দেখা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ কিছু কারণ কাজ করে।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব
ঘুমের অভাব ক্লান্তিভাব দেখা দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ থাকার জন্য দৈনিক অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। নির্দিষ্ট এই সময়ের চেয়ে ঘুম কম হলে খুব স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর চাপ পড়ে। কম ঘুমানোর এই সমস্যাটি থেকেই পরবর্তীতে বড়ো ধরনের শারীরিক সমস্যা ও ক্রমাগত ক্লান্তি বোধ হওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। এছাড়া ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’র জন্যেও অনেকে ক্লান্ত বোধ করে থাকে।
খাদ্যাভ্যাসের অনিয়ম
সঠিক খাদ্যাভ্যাস শরীরকে শুধু সুস্থ নয়, এনার্জিতে ভরপুর রাখতেও কাজ করে। অনেকেই স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে জাঙ্কফুড খেতে পছন্দ করেন। যা খুব সহজেই রক্তে ইনস্যুলিন ও ফ্যাটের মাত্রা বৃদ্ধি করে। অথচ শরীর তার প্রয়োজনীয় শক্তি একেবারেই পায় না এইসকল খাবার থেকে। যে কারণে সবসময় স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রক্তস্বল্পতা
অ্যানিমিয়া কিংবা রক্তস্বল্পতার সমস্যায় রোগীর শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। পর্যাপ্ত আয়রনের অভাবে রক্তের লোহিত রক্ত কণিকা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অক্সিজেন ভালোভাবে পৌঁছে দিতে পারে না। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে হৃদযন্ত্র অনেক বেশি পাম্প করে, যার ফলে অল্প কিছুক্ষণ কাজ করলে কিংবা হাঁটলেও ক্লান্তিভাব দেখা দেয়।
ক্যাফেইন গ্রহণ
অবশ্যই ক্যাফেইন এনার্জি বুস্টার হিসেবে খুব চমৎকার কাজ করে। তবে ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় তথা চা কিংবা কফি পানের সঙ্গে চিনিও গ্রহণ করা হয়। এই চিনি শরীরের এনার্জি ওঠানামার জন্য দায়ী। ক্যাফেইন গ্রহণের সঙ্গে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করা হয় তবে একটা নির্দিষ্ট সময় পরে ক্লান্তিভাব দেখা দিবেই এবং সময় গড়ানোর সঙ্গে তার মাত্রা বাড়তে থাকবে।
পানিস্বল্পতা
প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্যাস পানি পানের প্রয়োজনীয়তা শুধুমাত্র শরীরে পানির অভাব মেটানোর জন্যেই নয়, শরীরে এনার্জির জন্যেও। পানি শরীরে পুষ্টি সরবরাহ ও রক্ত চলাচলের গতিকে স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। যার ফলে হৃদযন্ত্রে অক্সিজেন খুব সহজেই পাম্প হয় ও মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। এতে করে সহজে ক্লান্তিভাব দেখা দেয় না।
এসব বয়সজনিত কারণেও ক্লান্তিভাব দেখা দিতে পারে। তখন নিজেকে নিয়মিত রুটিন ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
শারমিনা ইসলাম/ সময়ের বিবর্তন





Users Today : 43
Views Today : 45
Total views : 177296
