অরুণা আসফ আলী ( ১৬.৭.১৯০৯-২৯.৭.১৯৯৬): জন্ম হরিয়ানার কালকা। পৈতৃক আদি নিবাস বরিশাল। বাবা উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, মা অম্বালিকা দেবী, স্বামী কংগ্রেসের সমাজবাদী গোষ্ঠীর নেতা আসফ আলি (১৮৮৮-১৯৫৩), ভাই অমরেন্দু, প্রভাতেন্দু ও উদিতেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়। ছোট বোন পূর্ণিমা ব্যানার্জি (১৯১১-১৯৫১)। বড়ো কাকা নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৮৯-১৯৫৪) ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) ছোট জামাতা এবং ছোটকাকা ছিলেন দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার প্রাপ্ত বিখ্যাত চলচিত্রকার ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৯৩-১৯৭৮)। অরুণার ডাক নাম বেবি।
উপেন্দ্রনাথ হরিয়ানার কালকা স্টেশনে কেলনার কোম্পানির রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার ছিলেন। তার মৃত্যুর পর অম্বালিকা দেবী পরিবারসহ মৈমিতাকালে বাস করেন।
অরুণা পড়াশনা করেন লাহোর ও ইননিতালের খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলে। ১৯ বছর বয়সে ১৯২৮ সালে বিয়ে করেন কংগ্রেস নেতা আসফ আলিকে।
১৯৩০ সালে লবণ আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে তিনি এক বছর কারারুদ্ধ থাকেন। ১৯৩২ সালে পুনরায় গ্রেপ্তার হন। দিল্লির জেলখানায় বন্দিদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে অনশন করলে তাকে গ্রেপ্তার করে হরিয়ানার আম্বালায় নির্জন কারাবাসে রাখা হয়। সেই সময় থেকে জয়প্রকাশ নারায়ণ (১৯০২-১৯৭৯), অচ্যুত পটবর্ধন (১৯১৫-১৯৯২), রামমোহন লোহিয়া (১৯১০-১৯৬৭) ইত্যাদি নেতার সান্নিধ্যে এসে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাচেতনায় উদ্দীপ্ত হন। স্বাধীনতা সংগ্রামে অদম্য সাহসিকতার জন্য খ্যাত হন অগ্নিকন্যা নামে।
১৯৪২ সালের ৮ই আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটি ভারত ছাড়ো প্রস্তাব গ্রহণ করলে অরুণা আসফ আলি দেশবাসীকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। ব্রিটিশ সরকার গান্ধি, নেহরু ইত্যাদি নেতাকে গ্রেপ্তার করে। ১৯৪২ সালের ৯ আগস্ট বোম্বাইয়ের গোয়ালিয়া ট্যাস্ক ময়দানে (ট্যাংক ময়দান) স্বাধীনতার ডাক দিয়ে পতাকা উত্তোলনের কথা ছিল কংগ্রেস- সভাপতি আবুল কালাম আজাদের (১৮৮৮-১৯৫৮)। তিনি গ্রেপ্তার হলে ময়দানে অধীর জনসমুদ্র। পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকা অরুণা নিমিষের মধ্যে ইউনিয়ন জ্যাক নামিয়ে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করে ক্রান্তিকন্যা রূপে জনসমুদ্রে দুর্বার আন্দোলনের ঢেউ তোলেন। ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ধরপাকড় এড়িয়ে আত্মগোপন অবস্থায় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সমাজবাদী কমরেডদের সঙ্গে ইনকিলাব ইত্যাদি প্রচার পুস্তিকা প্রকাশ করেছেন। ১৯৪৬ সালে অর্থাৎ দেশভাগের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন।
১৯৪৭ সালে অরুণা আসফ আলি দিল্লি প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হন। ১৯৪৮ সালে দিল্লির মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে তিনি মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৪৮ সালে কংগ্রেসের সমাজবাদী নেতারা কংগ্রেস ছেড়ে নতুন পার্টি গঠন করলে তিনি তার সাথে যুক্ত হন। ১৯৫৫ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন এবং শ্রমিক সংগঠন ও জাতীয় মহিলা ফেডারেশনে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীকালে রাজনীতি থেকে সরে সমাজসেবা ও লেখালেখিতে মনোযোগী হন।
ইংরেজি দৈনিক প্যাট্রিয়ট পত্রিকার সাথে তিনি জড়িত হন। ১৯৮৩ সালে অশান্ত পাঞ্জাবে সংহতি মিছিলে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৫ সালে সোফিয়েত ইউনিয়েনের লেনিন শান্তি পুরস্কার, ১৯৮৬ সালে ইন্দিরা গান্ধি সংহতি পুরস্কার এবং ১৯৯১ সালে জওহরলাল নেহরু পুরস্কারে তাঁকে সম্মানিত করা হয়।
মৃত্যুর পর পান মরনোত্তর ভারতরত্ন উপাধি (১৯৯৭)। বিয়াল্লিশের অগ্নিকন্যা সংগ্রামী অরুণা আসফ আলি ভারতীয় উপমহাদেশের গর্ব। তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া।





Users Today : 36
Views Today : 43
Total views : 178005
