গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ড. কামাল হোসেন। পরে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যেসব সহযোগিতা দরকার, তার সবই সম্পাদকদের কাছে চাওয়া হয়েছে।
ড. কামাল বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের যেমন কর্তব্য আছে, আমরা যারা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি, যারা নির্বাচন করতে যাচ্ছি, তাদেরও কর্তব্য আছে। দলগুলোকে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে যেন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়। তিনি বলেন, সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে কি কি জিনিস দেখেছেন। সম্পাদকরা মনে করেন এবার ঐক্যফ্রন্টের বিরত থাকতে হবে, সবাইকে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করতে হবে যেন জনগণ সত্যিকার অর্থে নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
এক প্রশ্নে ড. কামাল বলেন, নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অবাধ ও নিরপেক্ষ যেন হয় সেটাই তাদের লক্ষ্য। এটাকেই তারা সত্যিকার অর্থে মূল্যবান মনে করেন। ঐক্যফ্রন্টের সেই চেষ্টা থাকবে। তিনি বলেন, সরকারের আচরণের বিভিন্ন দিক তারা চিহ্নিত করেছেন। ঐক্যফ্রন্ট আশা করে সংবাদপত্র এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখবে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ধন্যবাদ জানান বৈঠকে অংশ নেওয়া সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা। একইসঙ্গে তারা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কাছে স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন, নির্বাচনে তারা থাকবেন কিনা। এর উত্তরে নেতারা বলেন, তারা নির্বাচনে থাকবেন। বৈঠকে সাংবাদিকরা কারও পক্ষ নিয়ে নয়, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে গণমাধ্যম অবশ্যই কার্যকর ভ‚মিকা পালন করবে বলে জানান। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আপত্তি থাকলে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বারবার বৈঠক করারও পরামর্শ দিয়েছেন কেউ কেউ।
বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জেএসডির আসম আবদুর রব, তানিয়া রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ প্রমুখ।




Users Today : 121
Views Today : 124
Total views : 175850
