স¤প্রতি রাজধানীর স্কুল পড়ুয়া মেধাবী এক কিশোরীর আত্মহত্যার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইন্টারনেটভিত্তিক গেম ‘ব্লু হোয়েল’। বলা হচ্ছে, এটি এমন একটি গেম যেখানে ঢোকা যায়, কিন্তু বের হওয়া কঠিন। আর বের হতে না পারা মানা আত্মহনন দেওয়া। এখন আপনার প্রশ্ন আসতেই পারে, কি এমন গেম যে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিতে হবে।
২১ বছর বয়সী রুশ ছাত্র ফিলিপ বুদেইকিন ২০১৩ সালে প্রথম ব্লু হোয়েল গেমটি তৈরি করেন। তাঁর পড়াশোনার বিষয় ছিল মনোবিজ্ঞান। এই গেম ২০১৬ সাল থেকে ছড়াতে থাকে। গেমটির মূল লক্ষ্য দুর্বলচিত্তের মানুষ, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা। চলতি বছর পর্যন্ত রাশিয়া, ভারতসহ ব্লু হোয়েল খেলে বেশ কিছু আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর এসেছে। ইউটিউবের অনেক ভিডিওতেও এগুলোর কিছু নমুনা পাওয়া গেলেও তার বেশির ভাগই ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ব্লু হোয়েল মোটেও ইন্টারনেট ভিত্তিক অন্যান্য সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন কিংবা নিছক গেম নয়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক একটি ডিপওয়ে গেম। বলা হচ্ছে, যেসব কম বয়সী ছেলে-মেয়ে অবসাদে ভোগে, তারাই অসাবধানতাবশত এই গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো ক্লান্তি বা বিষণœতা দূর করার গেম নয়। আত্মহত্যার প্রবেশ পথ মাত্র।
ব্লু হোয়েল গেমে ৫০টি লেভেল রয়েছে। এক বা একাধিক কিউরেটর দ্বারা পরিচালিত এই গেমের শেষ লেভেলের টাস্কগুলো খুবই ভয়ংকর। তবে প্রথম দিকের লেভেল ও তার টাস্কগুলো বেশ মজার হওয়ায় এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। নিয়ম অনুযায়ী একবার এই গেম খেললে বের হওয়া যায় না। কেউ বের হতে চাইলেও তাদের চাপে রাখতে পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয় বলে প্রচলিত আছে।
এই গেমের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। যেমন ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা, সারা গায়ে আঁচড় কেটে রক্তাক্ত করা, কখনো ভোরে একাকি ছাদের কার্নিশে ঘুরে বেড়ানো, রেল লাইনে সময় কাটানো, ভয়ের সিনেমা দেখা ইত্যাদি। চ্যালেঞ্জ নেয়ার পর এসব ছবি কিউরেটরকে পাঠাতে হয়। ২৭তম দিনে হাত কেটে ব্লু হোয়েলের ছবি আঁকতে হয়। একবার এই গেম খেললে কিউরেটরের সব নির্দেশই মানা বাধ্যতামূলক। তার শেষের দিকের লেভেলে আত্মনির্যাতনমূলক বিভিন্ন টাস্ক সামনে এলেও কিশোর-কিশোরীরা এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, গেম ছেড়ে বের হতে পারে না। তবে গেমের শেষ ধাপ অর্থাৎ ৫০তম ধাপে ইউজারদের এমন কিছু টাস্ক দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ করা মানেই আত্মহত্যা। আর এর মাধ্যমেই ঘটে গেমের সমাপ্তি।
বলা হয়, এই গেমিং অ্যাপ মোবাইলে একবার ডাউনলোড হয়ে গেলে তা আর কোনো ভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ওই মোবাইলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইলের ইউজারকে এই গেম খেলতে বাধ্য করে।
প্রতিরোধে দরকার সামাজিক সচেতনতা
ব্লু হোয়েল গেমের বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছে ¯^রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় ¯^রাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আমরা শুনেছি, ইন্টারনেট-নির্ভর একটি গেমে আসক্ত হয়ে একজন আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।’
মানসিক বিকারগ্রস্ত এক রুশ তরুণের তৈরি ব্লু হোয়েল এমন একটি অনলাইন গেম, যা ইন্টারেনেটে প্রকাশ্য কোনো ওয়েবসাইটে (পাবলিক ডোমেইন) পাওয়া যায় না। ইন্টারেনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. আমিনুল হাকিম বলেন, ‘এই গেম কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ স্টোরে থাকে না। কারও কাছ থেকে পাওয়া ওয়েবসাইটের ঠিকানা (লিংক) থেকে গেমটি নামিয়ে (ডাউনলোড) নিয়ে খেলতে হয়। বাংলাদেশে কোনো নেটওয়ার্কে এখনো ব্লু হোয়েলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’
তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ বলেন, ব্লু হোয়েলের মতো গেম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইনস্টাগ্রামসহ কয়েকটি মাধ্যমে এরই মধ্যে গেমটির লিংক বা ছবি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই ব্লু হোয়েলকে গেম নয়, বরং একটি অপরাধচক্র। এই গেম কারিগরিভাবে বন্ধ করার কিছু নেই, এটি ঠেকাতে হবে সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে। যাদের মধ্যে মানসিকভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে, তারা যাতে এ গেম খেলতে না পারে, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।
ব্লু হোয়েল গেম প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি নৈতিকতাবিষয়ক গবেষক ইউনিভার্সিটি অব ওলংগং ইন দুবাইয়ের সহযোগী অধ্যাপক জিনাত রেজা খান বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে বসে থাকা যাবে না। অপেক্ষা করার কোনো সুযোগই নেই। এই গেমের অস্তিত্ব বিশ্বে রয়েছে। ভারতে প্রামাণিক ভিডিও পাওয়া গেছে, যেখানে দেখা যায়, ব্লু হোয়েল খেলে আত্মহত্যা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ব্লু হোয়েলের নির্মাতা রুশ ছেলেটিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ছেলে মানসিক বিকারগ্রস্ত। সে মনে করে, যাদের মানসিক শক্তি কম, যারা বিষণœতায় ভোগে, তারা ‘বায়োলজিক্যাল ওয়েস্ট’। এসব ‘জঞ্জাল’ পৃথিবী থেকে দূর করাই নাকি তার উদ্দেশ্য। তাই মা-বাবাদের সচেতন হতে হবে। সন্তানকে সময় দিয়ে বুঝিয়ে বলতে হবে এ রকম গেমের চরম পরিণতি সম্পর্কে। শুধু মা-বাবা নয়, শিক্ষকদেরও এই গেম সম্পর্কে জেনে শিক্ষার্থীদের জানাতে হবে। সচেতনতা ছাড়া এ রকম পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যাবে না।
মায়া ভন শা’র ১৩ টি নির্দেশনা
শিশু মনস্তাত্তি¡ক ও শিশুতোষ গ্রন্থ রচয়িতা মায়া ভন শা বলেছেন, ব্লু হোয়েলের কথিত নির্মাতাদের মতো ব্যক্তিরা সব সময়ই থাকবে এবং মানসিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের টার্গেট করবে। এসব ব্যক্তিকে হটিয়ে দিয়ে কিংবা অল্প বয়সীদের ইন্টারনেটের বাইরে রেখে সমাধান হবে না। সমাধান প্রথম খুঁজতে হবে পরিবারে। গেমটি নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের জন্য মিয়া ভন চা ১৩টি নির্দেশনা দিয়েছেন, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে।
১. বড়দের প্রধান কাজটি হবে সন্তানের সঙ্গে গভীরভাবে মেশা। অনলাইনে, অফলাইনে মিশুন তাদের ভাষা বুঝুন। বেশি বেশি কথা বলুন। তাদের জীবন ও অনুভ‚তি বুঝুন, তাদের বন্ধুদের জানুন। তারা কোন সাইটে বেশি যায় বের করুন। কোনো ওয়েবসাইট জোর করে টেনে বের না করে বরং চেষ্টা করুন এমন নিরাপদ সাইটে সময় দিতে, যেখানে দুজনেরই ভালো লাগে।
২. সন্তানের মূল্যবোধগুলো কী, কিসে তারা প্রাণ পায়, উৎসাহ পায়, সেগুলোর প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। এর বাইরে তাদের অর্থপূর্ণ যেসব কাজ করা উচিত সেগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সময় শিশু প্রতিদিনই যাতে পায় তা নিশ্চিত করুন। সবাই কী চাইছে, সমাজ কী আশা করছে কেবল সেসবের পেছনে যদি দৌড়ান সন্তান শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে পড়বে।
৩. বাচ্চাদের বেশি চাপে রাখা বন্ধ করুন। ভবিষ্যতে কী করবে, ক্যারিয়ার কী হবে এখনই এসব নিয়ে অতিমাত্রায় ভাববেন না। শিশুর নিত্যদিনকার চাহিদাগুলো পূরণ করুন। মানুষ হিসেবে মানবিকভাবে মিশুন। তার মানসিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত অবসর সময়ও বের করতে হবে।
৪. সন্তানকে কখনোই ওয়ানসাইডেড বা একপেশে হতে বলবেন না। যদি সারাক্ষণ তাকে বলতেই থাকেন, দয়ালু হও, কঠোর হয়ো না। ভদ্র হও, রূঢ় আচরণ করো না, অন্যের উপকার করো, আলসেমি করো নাÑতার হতাশা আসবেই। আপনি নিজে যা নন, তা করতে বলবেন, শিশুর কাছে অবাস্তব হয়ে ধরা দেবে, নিজের প্রতি আত্মবিদ্বেষ তৈরি হবে।
৫. সন্তান আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে যদি চলে গিয়েই থাকে এবং যদি অসহায় বোধ করেনÑএমন বিশ্বস্ত বন্ধু, ¯^জন ও থেরাপিস্ট, কোচ, গাইড খুঁজে বের করুন যে আপনার শিশুর সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে (ননজাজমেন্টাল), বন্ধুর মতো মিশতে পারবে।
৬. নিজের মনকে বিশ্বাস করুন। যদি মন বলে কোথাও বড় ভুল হয়ে গেছে, হয়তো তা ঠিক কথাই বলছে। তাই সন্তানের বিষয়ে ঝুঁকি নেবেন না। তার অ¯^াভাবিক পোশাকও বড় কিছুর আভাস হতে পারে।
৭. আত্মহত্যার কারণ হতে পারে এমন গেম বা সাইট নিয়ে শিশুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। হতাশার কথা, এই সমস্যা থেকে কারো কারো আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা তৈরি হওয়ার বিষয়টি তাকে জানান। তাকে বুঝতে দিন, কখনো কখনো মানুষ বিপজ্জনক আচরণ করে এবং এ ব্যাপারে ছোট-বড় সবারই সাবধান থাকা উচিত। যদি আপনার বাচ্চা মরে যাওয়ার ইচ্ছের কথা ব্যক্ত করে ফেলেÑএকে গুরুত্বের সঙ্গে নিন। আত্মহত্যা যারা করে তাদের বেশির ভাগই বিষয়টি আগেভাগে একজনের সঙ্গে হলেও শেয়ার করে।
৮. শিশু-কিশোর খাদ্যের তালিকা দেখুন। খুব গুরুত্বপূর্ণ এটি। কিছু পুষ্টির অভাবেও বিষণœতা দেখা দেয়। সন্তানকে বিষাদগ্রস্ত দেখালে নিশ্চিত হোন তার খাবারে ওমেগা-৩, ভিটামিন বি৩, ভিটামিন ডি, মাগনেসিয়াম ও প্রোবায়োটিকস আছে কি না। চিনি ও মিহি শর্করা কমানো যেতে পারে।
৯. তাদের আচরণ লক্ষ করুন। ক্ষুধামান্দ্য, ঘুমের এলোমেলো সময়, চোখের নিচে কালো দাগ, নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা, সামাজিকভাবে একা হয়ে যাওয়া, বিষণœতা, খিটখিটে মেজাজ, রাগী ভাব, পছন্দের জিনিসগুলো অপছন্দ লাগাÑএ জাতীয় সমস্যায় কথা বলুন।
১০. সন্তানকে বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলুন। কৌশল বাতলে দিন। একটি বিষয় আপনার কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু সন্তান হয়তো অনেক বড় করে দেখছে। যেমন বন্ধুদের টিজিংয়ের শিকার হওয়া, পরীক্ষার চাপ, ব্যক্তিগত সম্পর্কে সমস্যা, অর্থনৈতিক কারণে হীনমন্যতা, নিঃসঙ্গতা, নিজ পরিবারে সহিংস পরিবেশ, কারোর চলে যাওয়া, মৃত্যু, বিয়েবিচ্ছেদ, নির্যাতন, কারোর মদ্যপানে আসক্তি এসব বিষয় তাকে ভেতরে ভেতরে প্রবলভাবে আলোড়িত করতে পারে।
১১. সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহার কমিয়ে দিতেই হবে এমন নয় (মোবাইল ফোন হাতে না দিয়ে আজকাল পারবেনও না)। তবে শতভাগ নিশ্চিত হোন ইন্টারনেট সংযোগ সে কী কাজে ব্যবহার করছে। ছোটরাও জীবনের অসম্পূর্ণতার বিকল্প খুঁজছে ইন্টারনেটে। যেমন খেলাধুলার সময়, পরিবেশ বা মাঠে যাওয়া হয় না বলেই সে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে বন্ধুদের সময় দিচ্ছে। মোবাইলে গেম যে খেলে তার কারণ হচ্ছে সেখানে তার যাতায়াতের সুযোগটি অবাধ।
১২. সন্তানকে উপলব্ধি করতে দিন যে তাকে আপনারা ভালো বাসেন, গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। আমরা অনেকেই অনেক সময় ভেতরের আবেগটা চেপে রাখি। মুখে বলতেই হবে এমন নয়। আলিঙ্গন, চুমু, পিঠ চাপড়ে দিয়ে, হাত-পা ম্যাসাজÑকতভাবেই ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়। তাদের জগৎটা এখন অফলাইনে যেমন, অনলাইনেও। সবভাবেই বুঝুন, ভেতর থেকে, বাইরে থেকে। সন্তানকে জানান, তাকে ভালোবাসেন। মাঝেমধ্যে অর্থবহ কিছু উপহার দিন; যেমন কয়েক লাইনের কবিতা বা ছড়া, কিংবা একটি ফুলÑযা তীব্র আবেগ বোঝায়। তাদের চমকে দিন, কিছু বানিয়ে খাওয়ান। সম্পর্কে সৃজনশীল হোন।
১৩. সবশেষে শুনুন, শুনুন, শুনুন। মন দিয়ে শোনার দক্ষতা শিখুন। উপস্থিত থাকুন। শান্ত থাকুন। বেশি প্রশ্ন করা নয়। তাদের ভাবনা অনুসারে সাড়া দিন। নিজের ভুল সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবেন না। নিরপেক্ষ থাকুন। সন্তানের উপলব্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না, কখনোই না।
[বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক]





Users Today : 173
Views Today : 218
Total views : 182066
