ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। দেশটির সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সব নাগরিকের সমান মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে কিন্তু ২০২৬ সালে এসে ভারতের খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গির্জায় হামলা, প্রার্থনাসভায় বাধা, যাজক ও সাধারণ বিশ্বাসীদের মারধর, ধর্মান্তরের অভিযোগে মামলা এবং সামাজিকভাবে বয়কট করার মতো ঘটনা সামনে আসছে। বিশেষ করে আদিবাসী ও দলিত খ্রিষ্টানদের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। প্রশ্ন উঠেছে—যে ভারত ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে, সেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানদের নিজেদের বিশ্বাস অনুযায়ী উপাসনা করার অধিকার কতটা সুরক্ষিত?
২০২৬ সালের শুরু থেকেই ভারতে খ্রিষ্টানদের ওপর নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আলোচনায় এসেছে। ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম (UCF)-এর হেল্পলাইন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে ৫৩১টি প্রতিকূল ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’র একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, মে থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬- এই পাঁচ মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে খ্রিষ্টানদের লক্ষ্য করে অন্তত ৬০টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ বা হামলা চালানো হয়েছে। ইউসিএফ’র হিসাবে, ২০১৪ সালে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ছিলো ১২৭, আর ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪-এ। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে হুমকি, হয়রানি, শারীরিক হামলা এবং উপাসনায় বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা রয়েছে। তবে এগুলো সংগঠনটির কাছে রিপোর্ট হওয়া ঘটনার হিসাব, আদালতে প্রমাণিত অপরাধের সংখ্যা নয়। অন্যদিকে, ইভানজেলিক্যাল ফেলোশিপ অব ইন্ডিয়ার রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশন (ঊঋওজখঈ) ২০২৫ সালে খ্রিষ্টান ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ৭৪৭টি যাচাইকৃত প্রতিকূল ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। ৯১৫টির বেশি অভিযোগ পর্যালোচনা করে একাধিক স্বাধীন সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা ঘটনাগুলো এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রার্থনাসভা বন্ধ করে দেওয়া, যাজকদের হুমকি, ধর্মান্তরের অভিযোগে মামলা, সামাজিক চাপ এবং শারীরিক নির্যাতন ছিলো এসব ঘটনার উল্লেখযোগ্য অংশ। উত্তর প্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে সবচেয়ে বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’-এ ভুক্তভোগী খ্রিষ্টান নারীরা নিজেদের ঘরে প্রার্থনা করার সময় উগ্রপন্থী দল কর্তৃক শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার যে লোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে ভারতের কোনো কোণই এখন আর সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ নয়। পশ্চিম মেদিনীপুর বা নদীয়া জেলায় বাইবেল কনভেনশনে হামলা এবং পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক ধর্ম ত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করা আজ প্রতিদিনের নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য পরিবারের ভয়, অনিশ্চয়তা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং নিরাপত্তাহীনতার বাস্তব অভিজ্ঞতা।
২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (টঝঈওজঋ) ভারতের খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। কমিশন জানায়, জানুয়ারি মাসে ওডিশায় যাজক বিপিন বিহারী নায়েকের ওপর হামলার অভিযোগ বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তিনি একটি বাড়িতে রবিবারের প্রার্থনা পরিচালনা করার সময় একদল লোক তাকে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে যায় এবং গোময় খেতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ করা হয়। হামলাকারীরা তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলেছিল। পশ্চিমবঙ্গেও ২০২৬ সালে খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। অল্ট নিউজের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ জুলাই থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে ৩৫টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে গির্জায় হামলা, প্রার্থনাসভা বন্ধ করে দেওয়া, যাজক ও বিশ্বাসীদের মারধর এবং ক্রুশ ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগকে হামলার কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। এমনকি নভেম্বরের শুরুতেও পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। টঈঅ ঘবংি-এর ২ নভেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর দক্ষিণ ২৪ পরগনার নারায়ণতলা গ্রামে একটি নতুন গির্জার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৩০ জনের বেশি মানুষের একটি দল প্রবেশ করে বিশপ, যাজক, নারী ও শিশুসহ উপস্থিত খ্রিষ্টানদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। গির্জাটিও ভাঙচুর করা হয়। পরদিন বর্ধমানের ট্রু লাইট হারভেস্টার্স চার্চে রবিবারের প্রার্থনাসভায় হামলার অভিযোগ ওঠে। সেখানে যাজক চাট্টু দাস গুরুতর আহ হোন বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নারায়ণতলার ঘটনায় পুলিশ দুই খ্রিষ্টান গোষ্ঠীর মধ্যে গির্জার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে। ফলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ জরুরি।
ভারতে খ্রিষ্টান নির্যাতনের আলোচনায় ধর্মান্তরবিরোধী আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বলপ্রয়োগ, প্রতারণা বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তর নিষিদ্ধ করার নামে আইন রয়েছে। এসব আইনের উদ্দেশ্য হিসেবে জোরপূর্বক ধর্মান্তর প্রতিরোধের কথা বলা হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে অস্পষ্ট সংজ্ঞা ও কঠোর শাস্তির বিধান অনেক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন এবং ধর্মীয় প্রচারকেও সন্দেহের আওতায় নিয়ে আসছে। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে জুলাইয়ে সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের ওহফরধ চবৎংবপঁঃরড়হ ঞৎধপশবৎ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের আইন যুক্ত হওয়ার পর ভারতের ১৩টি রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন কার্যকর বা আইনগতভাবে প্রণীত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়—এসব আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক সংগঠনের করা চ্যালেঞ্জের শুনানি তখনো এগোয়নি। এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে—কেউ স্বেচ্ছায় নিজের ধর্ম পরিবর্তন করলে রাষ্ট্র বা কোনো সংগঠনের তাকে বাধা দেওয়ার অধিকার কতটুকু? ধর্মান্তর যদি জারপূর্বক হয়, অবশ্যই তা তদন্ত ও আইন অনুযায়ী প্রতিরোধ করতে হবে কিন্তু শুধু খ্রিষ্টান ধর্মের উপাসনা, বাইবেল পাঠ, প্রার্থনাসভা কিংবা ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়াকে ধর্মান্তরের ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হলে তা ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়।
ভারতের খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের অনেকেই বহু প্রজন্ম ধরে খ্রিষ্টান ধর্ম পালন করছেন কিন্তু ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের সামাজিক অবস্থান, ভূমির অধিকার, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে আদিবাসী খ্রিষ্টানদের ক্ষেত্রে একটি নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে—খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করলে তাদের তফসিলি উপজাতি বা ঝপযবফঁষবফ ঞৎরনব (ঝঞ) পরিচয় ও সংরক্ষণের সুবিধা কেড়ে নেওয়া উচিত কি না। ২০২৬ সালের ২৪ মে দিল্লির লালকেল্লায় জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—ওই সমাবেশের অন্যতম আলোচ্য দাবি ছিল, খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণকারী আদিবাসীদের ঝঞ মর্যাদা থেকে বাদ দেওয়া। এই দাবি আদিবাসী সমাজে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে কারণ আদিবাসী পরিচয় শুধু ধর্মের ওপর নির্ভরশীল নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বংশপরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিক অস্তিত্ব। একজন সাঁওতাল, ওরাওঁ, মুন্ডা বা গারো খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করলেও তার জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রাতারাতি পরিবর্তিত হয়ে যায় না। দলিত খ্রিষ্টানদের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের প্রশ্ন রয়েছে। ভারতের সংবিধান (ঝপযবফঁষবফ ঈধংঃবং) ঙৎফবৎ, ১৯৫০ অনুযায়ী বর্তমানে হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেই তফসিলি জাতির স্বীকৃতি সীমাবদ্ধ। ফলে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণকারী দলিতরা সাধারণভাবে ঝঈ সংরক্ষণের সুবিধা পান না। ধর্ম পরিবর্তনের কারণে ঐতিহাসিক সামাজিক বৈষম্যের বাস্তবতা কি বিলুপ্ত হয়ে যায়? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো ভারতের নীতি ও বিচারব্যবস্থায় বিতর্কিত।
ভারতের সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ১৫ অনুচ্ছেদে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার নীতি, ২১ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার এবং ২৫ অনুচ্ছেদে বিবেকের স্বাধীনতা ও ধর্ম পালন, প্রচার ও প্রসারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৬ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকারও রয়েছে। অতএব, কোনো ব্যক্তি খ্রিষ্টান হওয়ার কারণে হামলা, হয়রানি কিংবা সামাজিক বয়কটের শিকার হলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনো গোষ্ঠী ধর্মান্তরের অভিযোগ তুললেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার পেতে পারে না। অভিযোগ থাকলে পুলিশ তদন্ত করবে, আদালত বিচার করবে। গণপিটুনি, গির্জা ভাঙচুর কিংবা যাজকদের অপমান করার কোনো সাংবিধানিক বৈধতা নেই। ২০২৬ সালের ৭ মে টঝঈওজঋ ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে শুনানিতে বলেছে— দেশটিতে খ্রিষ্টান, মুসলিমসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং কয়েকটি রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। ২৬ আগস্ট কমিশন আবারও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও উসকানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এগুলো একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার মূল্যায়ন; সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্তও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
২০২৬ সালে ভারতের খ্রিষ্টানদের পরিস্থিতি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে—ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরিচয় কি সংখ্যালঘুদের অধিকার সংকুচিত করার অনুমতি দিতে পারে? একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় বিশ্বাস যেমন সম্মানের, তেমনি সংখ্যালঘুর বিশ্বাসও সমান মর্যাদার দাবিদার। ভারতের খ্রিষ্টানরাও দেশেরই নাগরিক। তাদের পূর্বপুরুষেরা দেশটির শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার ইতিহাসে অবদান রেখেছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল, হাসপাতাল, অনাথ আশ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে খ্রিষ্টান প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রয়েছে। তাই তাদেও দেশপ্রেম বা নাগরিকত্বকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রশ্নবিদ্ধ করা ন্যায়সঙ্গত নয়। খ্রিষ্টানদের ওপর প্রতিটি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে; গির্জা ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইনের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আদিবাসী ও দলিত খ্রিষ্টানদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও অধিকার রক্ষায় বৈষম্যহীন নীতি গ্রহণ করতে হবে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা কোনো সরকারের অনুগ্রহ নয়, কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর দান নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। একজন মানুষ মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায় কিংবা নিজের ঘরে প্রার্থনা করবেন—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা তার থাকা উচিত। যে দেশে একজন খ্রিষ্টান নিরাপদে গির্জায় যেতে পারেন না, একজন যাজক নির্বিঘ্নে প্রার্থনা পরিচালনা করতে পারেন না কিংবা একটি পরিবার নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভয় নিয়ে বেঁচে থাকে, সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রশ্ন থেকেই যায়। ভারতের গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মীয় সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তি সংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষমতায় নয়, বরং সবচেয়ে সংখ্যালঘু ও দুর্বল নাগরিকটির অধিকার রক্ষার মধ্যেই প্রকাশ পায়।
তথ্যসূত্র:
১. Evangelical Fellowship of India – 2025 – ২০২৫ সালে খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে ৭৪৭টি ঘটনা, প্রকাশ ২৪ মার্চ, ২০২৬
২. South Asia Justice Campaign- India Persecution Tracker জানুয়ারি-এপ্রিল, ২০২৬
৩. South Asia Justice Campaign – India Persecution Tracker, মে- জুলাই, ২০২৬
৪. Alt News – পশ্চিমবঙ্গে গির্জার হামলা ও প্রার্থনায় বাধা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৫. UCA New- পশ্চিমবঙ্গে বিশপ, যাজক ও খ্রিষ্টান উপাসকদের ওপর হামলা, ২ নভেম্বর, ২০২৬
৬. USCIRF ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে শুনানি, ৭ মে, ২০২৬
৭. USCIRF – ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন বিষয়ে বিবৃতি, ২৬ আগস্ট ২০২৬





Users Today : 41
Views Today : 46
Total views : 189427
