• প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
No Result
View All Result
মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
Somoyer Bibortan
No Result
View All Result

মতামত ● আদিবাসী জরিপে শুধু সংখ্যা নয়, উঠে আসুক অস্তিত্ব, পরিচয় ও অধিকারের প্রশ্ন ■মিথুশিলাক মুরমু

মতামত ● আদিবাসী জরিপে শুধু সংখ্যা নয়, উঠে আসুক অস্তিত্ব, পরিচয় ও অধিকারের প্রশ্ন ■ মিথুশিলাক মুরমু

Admin by Admin
অক্টোবর ৫, ২০২৬
in প্রচ্ছদ, মতামত
0 0
0
মতামত ● আদিবাসী জরিপে শুধু সংখ্যা নয়, উঠে আসুক অস্তিত্ব, পরিচয় ও অধিকারের প্রশ্ন ■মিথুশিলাক মুরমু
0
SHARES
54
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব কেবল তার জনসংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। এটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জাতিগত আত্মপরিচয়, মাতৃভাষা, ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি, ভূমির অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রশ্ন। কোনো জনগোষ্ঠীর সঠিক পরিসংখ্যান জানা না থাকলে তার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বৈষম্য দূরীকরণও কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের আদিবাসীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং জীবনসংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈজ্ঞানিক জরিপ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বাস্তবায়নাধীন ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিরূপণ জরিপ ২০২৫’-এর মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ২০২৬ সালের ১ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালনার কথা রয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কম্পিউটার-সহায়িত ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার পদ্ধতি বা সিএপিআই (CAPI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে জরিপটির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কতোজন মানুষকে গণনা করা হলো, তার পাশাপাশি তাদের জীবন ও বাস্তবতা কতটা যথাযথভাবে উঠে এলো, তার ওপর।
সংখ্যা গণনার পাশাপাশি প্রয়োজন পরিচয়ের স্বীকৃতি: বাংলাদেশের ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯ জন। কিন্তু আদিবাসী অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, প্রকৃত জনসংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক ঢের বেশি। তাদের দাবি অনুযায়ী, দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৪০ লাখেরও বেশি। এই ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। দুর্গম অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা, অভিবাসন, আত্মপরিচয়ের জটিলতা কিংবা গণনার পদ্ধতিগত দুর্বলতার কোন বিষয় কতোটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জরিপের প্রথম শর্ত হলো—জাতিগত আত্মপরিচয়ের স্বাধীনতা। সরকারি তালিকাভুক্ত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নামের পাশাপাশি তালিকার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব পরিচয় জানানোর সুযোগ থাকা উচিত। কারণ, কোনো জনগোষ্ঠীর নাম সরকারি তালিকায় নেই বলে তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায় না। একজন মানুষ নিজেকে যে জাতিগত পরিচয়ে পরিচিত করতে চান, জরিপে তা প্রকাশের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
জনসংখ্যার পরিসংখ্যান কেবল প্রশাসনিক হিসাব নয়; এটি উন্নয়ন পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই পরিচয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মতামত ও আত্মপরিচয়কে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
ধর্মীয় পরিচয় কি শুধু ‘অন্যান্য’?
আদিবাসী সমাজের বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য। সাঁওতালদের সারনা বিশ্বাস, উরাঁওদের সাংসারেকসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ধর্মীয় ও আচারগত ঐতিহ্য রয়েছে। পাশাপাশি এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষও রয়েছেন। ২০২২ সালের জনশুমারির প্রশ্নমালায় ধর্মের পরিচয় জানতে চাওয়া হলেও আদিবাসীদের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মের জন্য পৃথক বিকল্প না থাকার বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে। কোনো জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় পরিচয় যদি ‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তাদের ধর্মীয় বৈচিত্র্যের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই নতুন জরিপে ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সারনা, সাংসারেকসহ সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পরিচয় জানানোর সুযোগ রাখা যেতে পারে। তবে ধর্মীয় পরিচয় ব্যক্তির নিজস্ব বিষয়; কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো ধর্মীয় পরিচয়ে চিহ্নিত করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে আরেকটি বিষয় বিবেচনা করা দরকার। কিছু সাঁওতাল পরিবার খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে সারনা বিশ্বাসে ফিরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে—খ্রিস্টান সাঁওতালরাও নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়ে আসছেন। এই বাস্তবতা কোনো একটি ধর্মকে অন্যটির প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর বিষয় নয়। বরং প্রত্যেক মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও সমাজের লক্ষ্য।
মাতৃভাষার প্রশ্নে নীরবতা কেন?
একটি জনগোষ্ঠীর ভাষা তার ইতিহাস, স্মৃতি ও সংস্কৃতির বাহক। অথচ আদিবাসীদের মাতৃভাষার ব্যবহার, ভাষাগত দক্ষতা এবং প্রজন্মান্তরে ভাষা হস্তান্তরের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া ভাষা সংরক্ষণের কার্যকর পরিকল্পনা করা কঠিন। জরিপে তাই জানতে চাওয়া প্রয়োজন—পরিবারের সদস্যদের মাতৃভাষা কী, বাড়িতে তারা কোন ভাষায় কথা বলেন, শিশুরা সেই ভাষায় কথা বলতে পারে কি না এবং মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে কি না? পাশাপাশি ভাষার লিখিত রূপ, পাঠ্যপুস্তকের প্রাপ্যতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাতৃভাষার ব্যবহার সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। আদিবাসী শিশুদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার এবং তার কারণগুলোও অনুসন্ধান করা জরুরি। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য, বিদ্যালয়ের দূরত্ব কিংবা পারিবারিক অর্থনৈতিক চাপ—কোন বিষয়গুলো শিক্ষার পথে বাধা সৃষ্টি করছে, তা জানা গেলে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব হবে।
ভূমির অধিকার ও বাস্তুচ্যুতির হিসাব কোথায়?
সমতল ও পাহাড়ের বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ভূমি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। কিন্তু ভূমির মালিকানা, পৈতৃক বসতভিটা হারানো, জমি দখল, উচ্ছেদ এবং প্রথাগত ভূমির ওপর অধিকার সংক্রান্ত তথ্য ছাড়া তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন সম্ভব নয়। জরিপে পরিবারের নিজস্ব জমি, প্রথাগতভাবে ব্যবহৃত ভূমি, যৌথ সম্পদ এবং জমির মালিকানার কাগজপত্র সম্পর্কে প্রশ্ন থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গত দশ বছরে কোনো পরিবার ভূমি দখল, জোরপূর্বক উচ্ছেদ কিংবা পৈতৃক ভিটা হারানোর শিকার হয়েছে কি-না, তা জানতে হবে। কেউ ভূমিহীন হয়ে থাকলে তার কারণও অনুসন্ধান করা জরুরি। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী আন্দোলন এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ ও আদিবাসীরা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। জমি, জীবিকা ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা ছিলো আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ। এই অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়—উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমি, পরিবেশ ও জীবনযাত্রার অধিকার বিবেচনা করা অপরিহার্য।
সরকারি জনশুমারির তথ্য সংগ্রহে কোথায় সীমাবদ্ধতা ছিল?
নতুন জরিপে কী সেই দুর্বলতাগুলো দূর করার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই জরিপ কি আদিবাসীদের কেবল আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিরূপণ করবে, নাকি তাদের দীর্ঘদিনের অধিকারসংক্রান্ত সমস্যাগুলোও নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরবে?
প্রথমত—পরিচয় নির্ধারণে রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি দীর্ঘদিনের দাবি হলো, তাদের জাতিগত আত্মপরিচয়কে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেওয়া। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান ও নীতিগত পরিভাষায় ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দটির ব্যবহার এবং ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের প্রশ্নটি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। আইডব্লিউজিআই’র ২০২৬ সালের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়ের জনগোষ্ঠীর উল্লেখ থাকলেও রাষ্ট্র আদিবাসীদের ‘Indigenous Peoples’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের তুলনায় তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বিশেষত ভূমির অধিকারের প্রশ্নগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এখানেই রাষ্ট্রের নীতিগত দুর্বলতা। কোনো জনগোষ্ঠীকে প্রশাসনিকভাবে একটি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তার নিজস্ব জাতিগত পরিচয়, ইতিহাস ও অধিকারকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা এক বিষয় নয়। সরকারের দায়িত্ব হলো—পরিচয় সংক্রান্ত বিতর্ককে এড়িয়ে না গিয়ে সংবিধান, প্রযোজ্য আইন এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর বক্তব্যের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা। জরিপের প্রশ্নপত্রে আত্মপরিচয়ের সুযোগ, তালিকার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর তথ্য লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা এবং পরিচয় নির্ধারণের স্বচ্ছ পদ্ধতি থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় রাষ্ট্রের তৈরি তালিকাই যদি পরিচয়ের একমাত্র ভিত্তি হয়, তাহলে তালিকার সীমাবদ্ধতা পরিসংখ্যানেও প্রতিফলিত হতে পারে।
দ্বিতীয়ত—জনসংখ্যার ব্যবধানের বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা: জনশুমারি একটি বিশাল প্রশাসনিক কার্যক্রম। দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছানো, তথ্য সংগ্রহ এবং তা যাচাই করা সহজ নয়। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, প্রত্যন্ত সমতল এলাকা, ভাষাগত দূরত্ব এবং স্থানান্তরিত জনগোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহে বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ আগে থেকেই জানা থাকলে সেগুলো মোকাবিলার প্রস্তুতিও যথাযথ হওয়া প্রয়োজন ছিলো। ২০২২ সালের জনশুমারির পর আদিবাসী সংগঠনগুলো অভিযোগ করে যে তাদের প্রকৃত জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি হিসাব কম এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৩ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এই অভিযোগ এবং জনসংখ্যার সরকারি হিসাবের সঙ্গে আদিবাসী ফোরামের অনুমানের পার্থক্য উল্লেখ করা হয়েছিলো। এটি আদিবাসী সংগঠনগুলোর অভিযোগের একটি নথিভুক্ত উদাহরণ; তবে অভিযোগটিকে একাই গণনার ত্রুুটির চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এখন সরকারের দায়িত্ব হলো—নতুন জরিপের মাধ্যমে এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর দেওয়া। কোনো এলাকায় কতোটি পরিবার গণনার আওতায় এসেছে, কতোটি পরিবারকে পাওয়া যায়নি, কতোজনের পরিচয় অনির্ধারিত থেকেছে এবং তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি কী ছিল—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। শুধু নতুন একটি সংখ্যা প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। আগের সংখ্যার সঙ্গে নতুন সংখ্যার পার্থক্য কেন তৈরি হলো, তারও ব্যাখ্যা দিতে হবে।
তৃতীয়ত—প্রশ্নমালায় অধিকারসংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি: বিবিএসের ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিরূপণ জরিপ ২০২৫’ প্রকল্পের ঘোষিত উদ্দেশ্য হলো—ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ, আর্থ-সামাজিক সূচক নির্ধারণ, দারিদ্র্যের মাত্রা নিরূপণ এবং সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী চিহ্নিত করার জন্য একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা। ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত স্টেকহোল্ডার পরামর্শকর্মশালা সম্পর্কে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিলো, জরিপে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গণনাকারীর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, প্রতিবন্ধিতা, ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পরিবারের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগ প্রয়োজনীয় কিন্তু এখানেই প্রশ্ন, আর্থ-সামাজিক তথ্যের পাশাপাশি আদিবাসীদের বিশেষ অধিকারসংক্রান্ত সমস্যাগুলো কতোটা গুরুত্ব পাচ্ছে? পরিবারের আয় কতো, সদস্যরা কী কাজ করেন কিংবা তারা সরকারি সহায়তা পান কি-না—এসব তথ্য দিয়ে দারিদ্র্যের চিত্র পাওয়া সম্ভব। কিন্তু কোনো পরিবার পৈতৃক জমি হারিয়েছে কি-না, ভূমি দখল বা উচ্ছেদের শিকার হয়েছে কি না, কিংবা প্রথাগতভাবে ব্যবহৃত জমির ওপর তাদের অধিকার নিয়ে বিরোধ রয়েছে কি-না—এসব তথ্য ছাড়া আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক সংকটের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন। একটি পরিবার বর্তমানে দরিদ্র কেন, তার পেছনে ভূমিহীনতা, জীবিকার সংকট, বাস্তুচ্যুতি কিংবা প্রজন্মগত বঞ্চনা কাজ করছে কি-না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তাই জরিপের পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নপত্র প্রকাশ করে অধিকারকর্মী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মতামত গ্রহণ করা আবশ্যিক ছিলো।
চতুর্থত—মাতৃভাষা ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের যথাযথ হিসাব: আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা ও ধর্মীয় ঐতিহ্য তাদের সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশে বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিজস্ব ভাষা ও ঐতিহ্যগত বিশ্বাস ধারণ করে। আইডব্লিউজিআই-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ৫৪টিরও বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং অন্তত ৩৫টি ভাষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু নতুন জরিপে পরিবারের আর্থ-সামাজিক তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মাতৃভাষার ব্যবহার, শিশুদের মাতৃভাষায় কথা বলার সক্ষমতা এবং প্রজন্মান্তরে ভাষা হস্তান্তরের অবস্থা কতটা বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করা হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একইভাবে, সাঁওতালদের সারনা বিশ্বাসসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত ধর্মীয় পরিচয় যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। ধর্মীয় পরিচয়কে শুধু কয়েকটি প্রচলিত শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ রাখলে সমাজের প্রকৃত বৈচিত্র্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নাও পাওয়া যেতে পারে। এখানে সরকারের দায়িত্ব হলো, প্রশ্নমালাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করা এবং প্রত্যেক ব্যক্তির আত্মপরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করা।
পঞ্চমত—ভূমির অধিকার ও বাস্তুচ্যুতির প্রশ্নে রাষ্ট্রের জবাবদিহি: আদিবাসীদের অধিকারসংক্রান্ত আলোচনায় ভূমির প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিবিরোধ, বাস্তুচ্যুতি, প্রথাগত ভূমির অধিকার এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২২ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আদিবাসীদের ভূমিসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এটি ২০২২ সালের পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মূল্যায়ন; বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারণে হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন। এ বাস্তবতায় নতুন জরিপে শুধু পরিবারের জমির পরিমাণ জানলেই হবে না। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, উচ্ছেদ, পৈতৃক বসতভিটা হারানো এবং জীবিকার জন্য বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতার তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, পরিসংখ্যান সংগ্রহ কোনো ভূমিবিরোধের নিষ্পত্তি নয়। জরিপে সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর সরকারকে আইনানুগ তদন্ত, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য প্রকাশ করে ব্যবস্থা না নিলে জরিপের উদ্দেশ্য অপূর্ণ থেকে যাবে।
ষষ্ঠত—তথ্য সংগ্রহের পর বাস্তব পরিবর্তনের নিশ্চয়তা কোথায়? সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য হলো, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা। এটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করাই উন্নয়নের নিশ্চয়তা নয়।
ক. তথ্য সংগ্রহে কোনো পরিবার বাদ পড়লে পরবর্তী সময়ে তাদের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খ. পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিরূপণের সূচক তৈরি করলেও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনা না করলে সহায়তা বণ্টনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। গ. একটি পরিবারের আয় কম হওয়ার পেছনে ভূমিহীনতা, কর্মসংস্থানের অভাব কিংবা শিক্ষার সুযোগ না থাকার মতো কাঠামোগত কারণ থাকলে শুধু ভাতা দিয়ে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই সরকারকে জরিপের তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা, উপকারভোগী নির্বাচনের মানদণ্ড, ভুল তথ্য সংশোধনের ব্যবস্থা এবং অভিযোগ জানানোর সুযোগ স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। আদিবাসী পরিবারগুলোর ব্যক্তিগত তথ্য যেন বৈষম্য বা হয়রানির কারণ না হয়, সেটিও রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।
সপ্তমত—জরিপ অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার: বাংলাদেশের আদিবাসীদের সঠিক জনসংখ্যা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্যের চিত্র নিরূপণের জন্য বিশেষায়িত জরিপ একটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ কিন্তু এর সাফল্য নির্ভর করবে কতোটি পরিবারকে গণনা করা হলো, তার পাশাপাশি কতোটা নির্ভুলভাবে তাদের বাস্তবতা তুলে ধরা গেল এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তার ওপর। সরকারের দুর্বল দিক নিয়ে আলোচনা মানে একটি জরিপকে আগেই ব্যর্থ ঘোষণা করা নয়। বরং অতীতের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে নতুন উদ্যোগকে আরও কার্যকর করার দাবি জানানো। আদিবাসী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকারি পরিসংখ্যানের সীমাবদ্ধতা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যাগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব।
বিবিএসের উচিত জরিপের প্রশ্নপত্র, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, গণনার আওতা এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। জরিপ শেষে ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি আগের জনশুমারির সঙ্গে পার্থক্যের ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় তথ্য ব্যবহারের রূপরেখাও প্রকাশ করা প্রয়োজন। আদিবাসীদের শুধু গণনা করা নয়, তাদের কথা শোনা, আত্মপরিচয়কে সম্মান করা এবং ভূমি, ভাষা, সংস্কৃতি ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই রাষ্ট্রের প্রকৃত দায়িত্ব। একটি রাষ্ট্র তার নাগরিকদের কতটা গুরুত্ব দেয়, তা বোঝার অন্যতম উপায় হলো রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানে তাদের উপস্থিতি এবং নীতিনির্ধারণে তাদের বাস্তব সমস্যার প্রতিফলন। একটি পূর্ণাঙ্গ জরিপ তখনই সফল হবে, যখন তার ফলাফল সরকারি নথির সংখ্যা হয়ে পড়ে থাকবে না; বরং আদিবাসীদের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে।

RelatedPosts

সাঁওতাল কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু—সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

মতামত ○ যুবসমাজের অবক্ষয় ও মূল্যবোধের সংকট―ধর্ম, মানবতা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ● জেমস আব্দুর রহিম রানা

‌মতামত ● আদিবাসীদের প্রাণের কথাগুলো শোনার কি কেউ নেই! ○ মিথুশিলাক মুরমু

Previous Post

সাঁওতাল কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু—সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

Admin

Admin

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ADVERTISEMENT

সময়ের বিবর্তন

সম্পাদকঃ
আবদুল মাবুদ চৌধুরী

বিভাগীয় সম্পাদকঃ
নায়েম লিটু

ফোনঃ ০২-৯০১১১৫৬ বাসাঃ -০৪, রোডঃ ০৪, ব্লক- এ, সেকশনঃ ০৬, ঢাকা -১২১৬

Our Visitor

0 4 4 0 5 9
Users Today : 71
Views Today : 106
Total views : 187167
Powered By WPS Visitor Counter

  • Setup menu at Appearance » Menus and assign menu to Footer Navigation

Developer Lighthouse.

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা

Developer Lighthouse.

Login to your account below

Forgotten Password?

Fill the forms bellow to register

All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In