পুরাতন নিয়মে অনেক পর্বের কথা দেখতে পাই যাহা ঈশ্বর তাঁর মনোনীত ইস্রায়েল জাতিকে দিয়েছিলেন (লেবীয় ২৩; এবং ২বিবরণ ১৬; পাওয়া যায় )। যেমন: উদ্ধার পর্ব (যাত্রা ১২ অধ্যায়, গীত ৮১;৫, মথি ২৬; ২), উপাসনা ঘর প্রতিষ্ঠা পর্ব (যোহন ১০;২২), কুড়ে ঘরের পর্ব (যোহন ৭; ২, লেবীয় ২৩; ৩৩-৪৩), খামিহীনরুটির পর্ব (মথি ২৬; ১৭, যাত্রা ১২; ১৫-২০, ২৩; ১৪-১৭), পাপ ঢাকা দেবার পর্ব (লেবীয় ১৬;, ২৩; ২৬-৩২), সাত সপ্তাহের পর্ব (লেবীয় ২৩; ১৫-২২, যাত্রা ৩৪;২২), শিংগাধ্বনির পর্ব (লেবীয় ২৩; ২৩-২৫) এবং পঞ্চাশত্তমীর পর্ব (প্রেরিত ২; ১) ইত্যাদি।
পবিত্র বাইবেল পাঠ : প্রেরিত ২; ১-১৩ পদ।
১ম বিষয় : পঞ্চাশত্তমীর পর্ব সম্পর্কে পবিত্র বাইবেল যা বলে—“সাত সপ্তাহের পর্ব” বলতে যা বুঝায় তা হলো এই, বিশ্রামবারের পরের দিন, অর্থাৎ যেদিন তোমরা দোলন উৎসর্গের জন্য শস্যের আঁটি নিয়ে আসবে, সেই দিন থেকে গুনে পর পর সাতটি সপ্তাহ বাদ দিতে হবে। এই সাত সপ্তাহ বিশ্রামের পরের দিন অর্থাৎ দোলন উৎসর্গের পর পঞ্চাশত্তমীর দিনের দিন সদাপ্রভুর উদ্দেশে নতুন গম উৎসর্গের অনুষ্ঠান করবে—লেবীয় ২৩; ১৫, ১৬-২১ পদ।
২য় বিষয় : পঞ্চাশত্তমীর পূর্বে কী কী ঘটনা ঘটেছিল অর্থাৎ কী কী আমাদের মনে আছে?
ক) আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্ট মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠবার পর ৪০ দিন যাবৎ তাঁর শিষ্যদের, মগ্দলীনী মরিয়মের নিকট নিজেকে আত্ম প্রকাশ ও অন্যান্য নারী ও শিষ্যদের এবং প্রায় ৫০০ জনের অধিক লোকদের দেখা/দর্শন দিয়েছিলেন। ১করি ১৫;৩-৮ (সাধু পৌলের আত্মস্বাক্ষ্য/ স্বীকারোক্তি অনুসারে)
খ) প্রভু যীশু খ্রীষ্টের স্বর্গারোহণ = প্রেরিত ১;৬-১১পদ। একমাত্র প্রভু যীশু খ্রীষ্টই স্বর্গ থেকে এসেছিলেন এবং পুনরায় স্বর্গে চলে গিয়েছেন।
গ) ইস্করোতীয় যিহুদার শূন্যপদে মত্তথিয়ের নিয়োগ = প্রেরিত ১;২১-২৬ পদ। মনে রাখবেন, পবিত্র বাইবেল এই কথা বলে যীশু যতদিন জীবিত ছিলেন, ঠিক ততদিন যে সকল লোকেরা তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের মধ্য থেকেই দুই জনের নাম প্রস্তাব আসে এবং পরে লটারির মাধ্যমে একজনের নাম উঠে আসে। তাঁর নাম মত্তথিয় = ২৬ পদ।
প্রয়োগ : মণ্ডলীতে কাউকে বিশেষ পদে নিয়োগ দিবার পূর্বে ভালোভাবে দেখে-শুনে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন—সে নিয়মিত সভ্য চাঁদা, দশমাংশ, উপহার দিচ্ছে কিনা, নিয়মিত উপাসনায় ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে যোগদান করেন কি না ইত্যাদি ইত্যাদি।
৩য় বিষয় : পঞ্চাশত্তমীর দিনে কী ঘটেছিল?
ক) পবিত্র আত্মার অবতরণ ঘটেছিল। পঞ্চাশত্তমীর দিনে শিষ্যেরা এক জায়গায় ছিলেন তখন হঠাৎ আকাশ থেকে জোর বাতাসের শব্দের মতো একটা শব্দ আসল এবং যে ঘরে তাঁরা ছিলেন সেই শব্দে ঘরটা পূর্ণ হয়ে গেল। শিষ্যেরা দেখলেন আগুনের জিভের মতো কি যেন ছড়িয়ে গেল এবং সেগুলো তাঁদের প্রত্যেকের উপর এসে বসল- ১-৩ পদ।
খ) শিষ্যেরা ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলতে লাগল : তাতে তাঁরা সকলে পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হলেন এবং সেই আত্মা যাঁকে যেমন কথা বলার শক্তি দিলেন, সেই অনুসারে তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলতে লাগলেন- ১-৪ পদ।
গ) অনেক লোক চমৎকৃত ও হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল : আরবীয় লোক যে আমরা, আমাদের নিজ নিজ ভাষায় তাদের ঈশ^রের মহৎ মহৎ কর্মের কথা বলতে শুনেছি। এইরূপে তাহারা সকলে চমৎকৃত হলো ও হতবুদ্ধি হয়ে পরস্পর বলতে লাগল, এই ভাব কী ? ৫-১২ পদ।
ঘ) অন্য লোকেরা পরিহাস করিল : অন্য লোকেরা পরিহাস করে বলল, তারা মিষ্ট দ্রাক্ষারসে মত্ত হয়েছে। এখনও কোনো কোনো মণ্ডলীতে পবিত্র আত্মার কাজ চলছে, আবার দুষ্ট লোকেরাও সমালোচনা করছে। এইরূপ ঘটবে কিন্তু কারোর বিচার না করে আমাদের কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত প্রভুর গৌরবের জন্য।
৪র্থ বিষয় : পিতরের বক্তৃতা —১৪-৩৬ পদ = যখন কিছু লোক পরিহাস করছিল ঠিক তখনই পিতর পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে তাদের নিকট সমস্ত সত্য তুলে ধরলেন। তিনি যোয়েল ভাববাদীর ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতার কথাই ব্যক্ত করলেন। যেখানে লেখা আছে, “শেষ কালে এইরূপ হবে, ইহা ঈশ্বর বলছেন, আমি মর্ত্যমাত্রের উপর আমার আত্মা সেচন করব, তাতে তোমাদের পুত্রগণ ও তোমাদের কন্যাগণ ভাববাণী বলবে; …। আর এইরূপ হবে, যে কেহ প্রভুর নামে ডাকবে, সেই পরিত্রাণ পাবে — ১৪-২১ পদ। এর পর তিনি সাধু দায়ুদের গীত থেকেও খ্রীষ্ট সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী তুলে ধরেন (গীত ১৬; ৮-১১, ১১০; ১)। সব শেষে পিতর বলেন, “অতএব ইস্রায়েলের সমস্ত কুল নিশ্চয় জ্ঞাত হোক যে, যাঁকে তোমরা ক্রুশে দিয়েছিলে, সেই যীশুকেই ঈশ্বর প্রভু ও খ্রীষ্ট উভয়ই করেছেন ” -৩৬ পদ।
৫ম বিষয় : তিন হাজার লোক মণ্ডলীভুক্ত হয় = এই কথা শুনে তাদের হৃদয়ে যেন শেল বিদ্ধ হলো, এবং তারা পিতরকে ও অন্য প্রেরিতদের বলতে লাগল,, ভ্রাতৃগণ, আমরা কী করব? তখন পিতর তাদের বললেন, ‘‘মন ফিরাও, এবং তোমরা প্রত্যেকজন তোমাদের পাপ মোচনের নিমিত্ত যীশু খ্রীষ্টের নামে বাপ্তাইজিত হও; তাহলে পবিত্র আত্মারূপ দান প্রাপ্ত হবে’’ – ৩৭,৩৮ পদ। তখন যারা তাঁর কথা গ্রাহ্য করল, তারা বাপ্তাইজিত হলো, তাতে সেই দিন কম-বেশি তিন হাজার লোক তাঁদের সঙ্গে সংযুক্ত (মণ্ডলীভূক্ত) হলো — ৪১, ৪২ পদ।
উপসংহার : প্রভু যীশু যখন এই পৃথিবীতে ছিলেন, তখন তিনি শিষ্যদের প্রচারে পাঠিয়েছিলেন। তখন তিনি তাদের ক্ষমতা দিয়েছিলেন যেন তারা মন্দ আত্মার উপরে এবং বিভিন্ন রোগের উপরে আশ্চর্য আশ্চর্য কাজ করতে পারে। তাদের মধ্য দিয়ে তখন অনেক অলৌকিক কাজ সাধিত হয়েছিল বটে কিন্তু তা ছিল পবিত্র আত্মারূপ দানের সূচনা মাত্র। কারণ যীশু তাদের নিকট প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি চলে যাবার পর তাদের জন্য এক সহায় (পবিত্র আত্মা) পাঠিয়ে দিবেন। সেই সহায়, সত্যের আত্মা । তিনি তাদের আরোও বলেছিলেন, যে আমাতে বিশ্বাস করে, আমি যে সকল কার্য করেছি, সেও করবে, এমনকি, এই সকল হতেও বড়ো বড়ো কার্য করবে; কেননা আমি পিতার নিকটে যাচ্ছি- যোহন ১৪;১২ পদ। প্রভু যীশুর প্রতিজ্ঞানুসারে শিষ্যেরা পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে সমস্ত পৃথিবীকে লণ্ডভন্ড করে দিয়েছিল যার ফলশ্রুতিতে আজও পবিত্র আত্মার কাজ চলমান রয়েছে এবং থাকবে যতদিন না পর্যন্ত খ্রীষ্টের আগমন হয়। ঈশ্বর তাঁর জীবন্ত বাক্যের আলোকে আমাদের সকলকে আশীর্বাদ দান করুন। আমেন।





Users Today : 18
Views Today : 21
Total views : 177983
