ঐক্যমতের মধ্যে যদি অনৈক্য থাকে তবে সমাধান কেমন করে হবে। অনেক কিছুই আমরা সাদা চোখে দেখার চেষ্টা করি। আগেকার সময়ে দেখতাম, আমাদের নেতাগণ সাদা চশমা পরতেন, আর এখন পরেন কালো চশমা। এটার পেছনে তো ইতিহাস থাকতেই পারে। আর সেটা অনেক ভয়ংকর বলে মনে হয় আমার। সুশৃঙ্খল পরিবেশে প্রত্যাশা পূরণ সবার জন্যই ভালো।
বিশ্বাসঘাতকতায় কাউকে আক্রমণ করলে, সেটা অভিশাপ হয়ে তার গায়ের উপরেই পরে। সকল স্বস্তি এক সময় অস্বস্তি হয়ে দেখা দেয়। পৃথিবীর সকল যুদ্ধ সেই দিনই বন্ধ হবে, যেদিন মানুষের কা-জ্ঞাহীন মানসিক যুদ্ধ বন্ধ হবে। কোনো উত্তেজনা শান্তি এনছে, এমন নজির পৃথিবীতে কি আছে। সবার মঙ্গলের জন্য নিজের সম্মান একটু ক্ষুণ্ন হলে, সেটা কি খুবই অসম্মানিত করে নিজেকে। আজ বিবেকের বিশ্লেষণ নেই। অবেগীয় ব্যবস্থায় সামনে এসে প্রধানের চেয়ারে বসার অদম্য বাসনাই এই অনৈক্যের মূল কারণ। এক সময় ছিল যখন সবাই যেন জীবন ঘনিষ্টতায় বাস করতাম। দল-মত-পথ-জাতি-ধর্ম, সব কিছুর বাহিরে ছিল আমাদের জীবন চলা। সেই সম্মানের ঘনিষ্টতা আজ আর নেই। সেই শক্তিশালী গল্পনির্ভর জীবন আর হয়ত কোনোদিনই এই পৃথিবীতে আসবে না। আজ সেখান থেকে অচলায়তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। কী হয়েছে আজ আমাদের সমাজে যে, আমরা এমন হয়ে গেলাম। পূর্বের স্মৃতির সময়গুলো বারবার কাতর করে দেয় আমাকে। যারা বৃহস্পতি তুঙ্গে ভেবে নিজেদেরকে সমাজ বিশৃঙ্খলায় এলিয়ে দিয়েছে, তারাই চিরস্থায়ী শক্তি সঞ্চয় করেছে ভেবেছে অথচ এমন এলানো অনেক মানুষের শেষ পরিণতি দেখেছি। কত হেনস্তা, কত অপমান, কত সংঘাত, এই ২০২৪-এর পর থেকে দেখলাম। এটা যেন প্রাপ্যে পরিণত হয়ে গেছে আমাদের জন্য। কানা ছেলেই আজ পদ্মলোচন হয়ে সমাজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে। আজ পক্ষ-বিপক্ষ চেনাই বড়ো দায়। বিপর্যস্ত পরিবেশের ঘূর্ণিঝড় চলছে দেশে। তবে সামগ্রিক ঘূর্ণিঝড়ে ভালো-মন্দ দুটোরই ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি আসবেই।
আজ মর্যদার চূড়া নয়, ক্ষমতার চূড়া স্পর্শ করতে অনেকেই মরিয়া। যেখানে যা পাই তাই খাই, এই সূত্র প্রয়োগে উন্মাদ হয়ে গেছে অনেকেই। এটা একটা জটিল রোগ। আর বহু মানুষ এই রোগের শিকার হয়েছে, হচ্ছে ও হবে। কেউবা হাসপাতালে, কেউবা মাস্ক পরে নিজেকে রক্ষায় চেষ্টা করে যাচ্ছে। যাদের চোখে দাবানল দেখেছি, যারা অকৃতজ্ঞতাকে কৌশলে লালন করতে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে বা প্রতিবাদ প্রতিরোধ করেনি বা করতে হবে ভাবেনি, সামান্য কয়দিনের ব্যবধানে তাদের চোখে জল দেখেছি। আজ যদি প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার থাকতো, তবে কি আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দূরে থাকতে পারত। ফার্সি কবি জালালুদ্দিন রুমির সেই কথাটা আজ মনে হলো। তিনি বলেছিলেন, ‘‘পরখ করার শক্তি আছে যার, বিশ্বাস থেকে সন্দেহ সে পৃথক করে রাখে।’’ আমরা পারিনি। কোথায় দাঁড়িয়ে আছি আমরা। প্রতিটা দিনক্ষণ নতুন হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি দিয়ে সকল কিছুই বদলে যাচ্ছে আজ। আমাদের চিন্তা, কাজ, জীবনযাপন থেকে সকল ক্ষেত্রেই যেন নতুন হচ্ছে ক্রমান্বয়েই। আমরা যখন গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি বা পায়ে প্যাডেল রিক্সায় উঠতাম, তখন গন্তব্যে পৌঁছাতে একটু বেশি সময় নিলেও দুর্ঘটনার খরব শুনিনি। কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পাইনি। আজ প্রযুক্তি আমাদের সকল দিক থেকেই এগিয়ে দিয়েছে। কি যাওয়া, কি মৃত্যু, কি খবর। প্রতিটা ক্ষেত্রেই “যত গতি তত ক্ষতি” এই সূত্রের মধ্যে আছি। পুরাতন সকল কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন এসে সেই স্থান পূরণে ব্যাস্ত। তাই তো টিকে থাকতে হলে মানসিক প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও আত্মসচেতনতার খুবই দরকার। নিজেদেরকে যুগের সাথে বদলাতে না পারলে, আমরাও এক সময় পিছিয়ে পড়বো। আজ নিউরাল লিংক, যা চিন্তার মধ্যেই যন্ত্রের কাজ শুরু করে সেটা হয়ে গেছে। কোনো প্রকার স্পর্শ ছাড়াই মুখের কথায় বা চোখের কন্ট্রাক্ট বা মনে করলেই সেই কাজ যন্ত্র করে দিচ্ছে। একটু নড়ার আভাস পেলেই সেঞ্চর আলো জ্বালিয়ে দেয়। তাহলে বিজ্ঞান আজ কোথায়। আজ আমরা যারা কোনো কারণে নিজেকে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হই, তারাই পিছিয়ে আছি ঠিক আমার মতো। আজ অতীতের ধীর গতিতে আটকে আছি জন্যে, পরিবর্তনের সুপার ফাস্ট গাড়িতে উঠতে পারছি না।






Users Today : 56
Views Today : 59
Total views : 177701
