আজ নতুন বছর। দেখতে দেখতে ৩৬৫ দিন অতিক্রান্ত হলো, বছর পেরিয়ে নতুন বছরে আমরা পর্দাপণ করেছি। পিছন ফিরে তাকালে উপলব্ধিয় যে, এভাবেই কত বসন্ত পেরিয়ে গেছে। অতীতের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ সবকিছুকে মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে প্রতিটি মানুষ বেঁচে থাকে। বিগত দিনগুলোর জন্য স্রষ্টাকে কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ, গৌরব-প্রশংসা প্রাপ্তির দাবিদার। পৃথিবীর হাজার হাজার মানুষ এ দিনটিকে দেখার সুযোগ পাইনি, সেক্ষেত্রে আমরা সৌভাগ্যবান; তাঁর অনুগ্রহ, দয়া ও পরিবর্তনের সুযোগদানের জন্য অবশ্যই উবুড় হয়ে প্রণত হওয়া ব্যতিত ঋণ শোধিত নয়। এ ক্ষণটিতে কেউ উৎসব ও ভূরিভোজের আয়োজন করে; আবার কেউ বন্ধু-বান্ধবদের সাথে স্মরণীয় করতে আকাক্সক্ষী। কিন্তু খ্রিষ্টানুসারীরা প্রথম প্রহরে ঈশ্বরের কাছে নিজেদেরকে উৎসর্গ করে, বিশেষ উপাসনা ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। ১লা জানুয়ারি নতুন বছর উপলক্ষ্যে প্রতিটি চার্চে উপাসনা ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন গুরুত্বসহকারে খ্রিষ্টভক্তরা উপস্থিত হয়ে থাকে। চার্চে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-পৌঢ়রা কৃতজ্ঞতাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপাসনায় যোগদান করে নব চেতনায় ও প্রতিজ্ঞায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে থাকেন। ধর্মীয় অনুশাসন, রীতিনীতি, মানবকল্যাণ, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোত্তম প্রচেষ্টা এবং স্বর্গীয় ঈশ্বরের আনুকূল্যতা যাঞচনা করে।
২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের চ্যালেঞ্জগুলোকে সামনে রেখে নতুন বছরে এগিয়ে চলার প্রত্যয় ও শক্তি সঞ্চয়ের আকুল প্রার্থনা জানানো হয়। চার্চে উপস্থিত খ্রিষ্টভক্তগণ উপাসনা শেষে একে-অপরের মধ্যেকার বিবাদ-অশান্তি, রাগ-ক্ষোভ, দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়ে আলিঙ্গনে মেতে উঠে। একে-অপরকে ক্ষমা করে, এটিই হলো—চার্চের সৌন্দর্য। উপাসনায় যাজকের পবিত্র বাইবেল থেকে বাণী প্রত্যেককেই ক্ষমা, ভালোবাসা ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে আহ্বান জানানো হয়। ইতিপূর্বে পিতা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে ধর্মযাজক সবার পক্ষ থেকে প্রার্থনা উৎসর্গ করে থাকেন। তিনি বলে থাকেন—হে প্রেমময় স্বর্গীয় পিতা, এই পবিত্র উপাসনায় আমি ও আমরা সমস্ত সত্তা নিয়ে তোমার সম্মুখে উপস্থিত হয়েছি। আমরা আমাদের হৃদয়ের গভীর থেকে তোমাকে ডাকি। প্রভু, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের দীর্ঘ পথ চলায় আমাদের নিজেদের কোনো শক্তি নেই, তুমিই আমাদের একমাত্র সহায়। হে আমাদের সনাতন পিতা, আমাদের অহংকার, আমাদের জেদ এবং আমাদের সমস্ত অপূর্ণতা তোমার চরণে উৎসর্গ করছি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে আমরা যেন নিজের ইচ্ছায় নয়, বরং তোমার স্বর্গীয় ইচ্ছানুসারে চলতে পারি। আমাদের অন্তরকে তোমার পবিত্র আত্মার আগুনে পরিচ্ছন্ন ও পরিশুদ্ধ কর, যেন আমরা তোমার প্রতিচ্ছবি হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করতে পারি। হে শান্তিরাজ, বিশ্বের এই অশান্ত সময়ে তুমি তোমার স্বর্গীয় শান্তি আমাদের হৃদয়ে এবং পৃথিবীতে দান করো। এ বছর আমাদের দেশ ও দশের মধ্যে যেন সম্প্রীতি ও ভালোবাসা বজায় তাকে, সেই আশির্বাদ দান করো। প্রভু, আমাদের ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মাস এবং প্রতিটি মুহুর্তকে তোমার হাতে সঁপে দিচ্ছি। আমরা যখন অন্ধকার পথে চলব, তুমি আমার ‘পায়ের প্রদীপ’ হয়ে থেকো। যখন আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ব, তোমার ‘শান্তিরাজ’ সত্ত্বা দিয়ে আমাদের আত্মাকে বিশ্রাম দিও। আমাদের পরিবার, আমাদের আপনজন এবং বিশ্বের প্রতিটি মানুষে জন্য তোমার অজেয় সুরক্ষার প্রার্থনা করি। প্রভু পরমেশ্বর, তোমার বাক্য বলে— ‘কেননা আমি তোমার বিষয় যে সকল সংকল্প করেতেছি, তাহা আমিই জানি; সে সকল মঙ্গলের সংকল্প, অমঙ্গলের নয়, যেন তোমাদের ভবিষ্যৎ ও আশা সার্থক করি’ (যিরমিয় ২৯:১১)। রাজাধিরাজ তুমি আরো বলেছ— ‘কোনো বিষয়ে ভাবিত হইও না… তোমাদের বিনতি ঈশ্বরকে জানাও। তাহাতে ঈশ্বরের যে শান্তি সমস্ত চিন্তার অতীত, তাহা তোমাদের হৃদয় ও মন রক্ষা করিবে’ (ফিলিপীয় ৪: ৬-৭)। হে দয়াময়, আমাদের ভেতরে এমন এক ক্ষমার শক্তি জাগ্রত করো, যেন আমি কাউকে ঘৃণা না করি। আমাদের হৃদয়কে এমন এক ভালোবাসার মন্দিরে পরিণত করো, যেখানে কেবল শান্তি ও সম্প্রীতি বিরাজ করে। ২০২৬ খ্রিষ্টাাব্দে আমরা যেন কেবল তোমার আশির্বাদ গ্রহণকারী না হই, বরং অন্যের জন্য আশির্বাদের উৎস হতে পারি। পবিত্রতম প্রভু, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শেষে আমরা যখন ফিরে তাকাব, তখন যেন দেখতে পাই যে, প্রতিটি পদক্ষেপে তুমি আমাদের হাত ধরে ছিলে। আমাদের জীবনের সকল জয়-পরাজয়, আনন্দ-বেদনা তোমার চরণে সঁপে দিয়ে বলছি— তোমার ইচ্ছা পূর্ণ হোক। তোমারই অসীম প্রেম ও যিশু খ্রিষ্টের পবিত্র নামে এই বিনতী প্রার্থনা উৎসর্গ করি। আমেন।
নতুন বছরের প্রার্থনা, প্রতিশ্রুতি ও পিতা ঈশ্বরের আশির্বাদ আমাদের জীবনকে উদীপ্ত ও প্রদীপ্ত করে। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ আমাদের প্রত্যেকের জীবনে বয়ে আনুক—অনাবিল সুখ, সমৃদ্ধি, সম্প্রীতি- সৌহার্দ্য ও অফুরন্ত ভালোবাসা।






Users Today : 55
Views Today : 60
Total views : 175504
