বিভাগীয় সম্পাদক ● প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিচ্ছেন। একইসঙ্গে এদিন তিনি দেশের সবচেয়ে বড়ো পটুয়াখালীর পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন।
পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা পায়রায় পৌঁছেছেন। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
দীর্ঘ দুই বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি কোনো উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। একই দিনে কলাপাড়ায় একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা করারও কথা রয়েছে।
১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পায়রা এখন দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লাচালিত কেন্দ্রটি চীন ও বাংলাদেশ যৌথভাবে নির্মাণ করেছে। কেন্দ্র নির্মাণে অর্থায়ন করেছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। পায়রা বিদ্যুৎ হাবে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট কোম্পানির (সিএমসি) ৫০ শতাংশ করে মালিকানা রয়েছে।
কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট উৎপাদন শুরু করে। এর আগে ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট উৎপাদন শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম, বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ছাড়াও চীনের রাষ্ট্রদূত এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পায়রায় যাওয়ার কথা রয়েছে।
২৪৮ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের প্রথম উৎপাদনে আসা মেগা প্রকল্প। কেন্দ্রটি সরকারের অগ্রাধিকার ১০ প্রকল্পর তালিকায় না থাকলেও সবার আগে কাজ শেষ করে নজির স্থাপন করেছে।
এই কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ্ আব্দুল মওলা বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। এখন প্রধানমন্ত্রীর আসার অপেক্ষা। সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সুষ্ঠুভাবে এই কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষ করা যাবে।’
জানা গেছে, সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এসেছে। আরইবি জানায়, বর্তমান সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মাত্র পৌনে ১২ বছরে ২ কোটি ২৯ লাখ গ্রাহককে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০০৮ সাল পর্যন্ত যেখানে পল্লী অঞ্চলের মাত্র ২৭ ভাগ জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করতো, সেখানে বর্তমানে ৯৯ ভাগ জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। আরইবি দুর্গম ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মধ্যে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালিসহ মোট ১০৫৯টি গ্রামে চলমান শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ করছে। এসব প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক এই বিদ্যুৎ সুবিধা পেতে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের একমাত্র অফগ্রিড উপজেলা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালিতেও।





Users Today : 65
Views Today : 73
Total views : 189238
