গাছ-পালা, আগাছা, প্রাণী, কিট সহজেই তাদের নাম পায়। কিন্তু মানুষ হিসেবে আমরা অনেক চেষ্টার ফলেই মানুষ হই। আমরা জন্ম নিলাম মানুষের আকৃতিতে। বাস করছি মানুষের প্রকৃতিতে কিন্তু আমাদের আচরণ পশুর মতো। তাহলে কীভাবে হলাম মানুষ। জন্মের মানুষ ও প্রকৃত মানুষের মধ্যে আসলে অনেকটাই পার্থক্য আছে। আমরা কেন মানুষ হতে পারি না তার একটা কারণ হলো আমাদের অজ্ঞতা অথবা নিজে যা বুঝি সেটাই ঠিক এই সূত্রে চলতে চাই।
আসলে জানার চেষ্টা করি না। যে দরজা বন্ধ থাকে তা কি জোর করে খোলা যায় । যদিও ইচ্ছার বিরুদ্ধে অথবা শক্তি প্রয়োগ করে খুলে তবে তা খুললেও সেটা ভালো মানুষের কাজ নয়। তাহলে আমাদেরকে এই দরজা খোলার জন্য নম্রতা, অনুরোধ বা প্রার্থনার কোনো বিকল্প নেই। কতভাবেই আমরা একটু শান্তির অনুসন্ধান করে থাকি। কিন্তু শান্তি কি কখনো আমার কাছে একা এসে হাজির হয়েছে বা আমার দরজায় কড়া নেড়েছে কি? হয়ত নেড়েছে বা হাজির হয়েছে কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি আথবা ডাকে সাড়াই দেইনি। সত্যই যদি আমরা শান্তি পেতে চাই তবে আমাদের শান্তিরাজকে খুঁজে বের করতেই হবে।
জীবনে বেঁচে থাকতে খোঁজার শেষ নেই। চাকুরি, কর্ম, খাদ্য, চিকিৎসা বা হাসপাতাল, ভালো কিছু যা মাটির নিচ থেকে শুরু করে মহাশূন্য পর্যন্ত।
নতুন কিছু পেলেই যেন আবিষ্কারের লেবাসটা গায়ে জড়িয়ে নেই। কিন্তু প্রজ্ঞা কি খুঁজেছি কোনো সময়? ভালো স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে জ্ঞান লাভের জন্য দৌড়াই আর সেটা শুধু এই জীবনের জন্য কিন্তু তার পরে কী হবে, কোথায় যাবো, কীভাবে যাবো। আসলে আমরা যখন সাহস হারিয়ে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলি তখন একটা শব্দ আমাদের অবশ্যই জাগিয়ে দেয়। যেটা শুধু অনুভবের বিষয় মাত্র।
ভালো হই কীভাবে। আর ভালো হওয়া কি এতই সহজ। একজন ঈশ্বর অবিশ্বাসী লোককে ঈশ্বর সম্মন্ধে প্রশ্ন করলে দেখা যায় হাজারো প্রশ্ন করেই ফেলে কিন্তু শয়তান সম্মন্ধে একটা কথাও বলে না। আমরা যারা দুর্দশাগ্রস্ত তারা কখনো দুর্দশা মুক্ত হতে পারি না, কেননা আমাদের মধ্যে নেতিবাচকতা কাজ করে। আমরা যেন বিশ্বাসই করতে চাই না যে আমাদের যা কিছুই আসে তা তো ঈশ্বরের কাছ থেকেই আসে। আর ঈশ্বর আমাদের কেনই বা দেবেন ওগুলো। কেনই বা ঈশ্বরকে আমরা বিশ্বাস করব। কেনই বা ভক্তি করব। পৃথিবীর সকল বিশ্বাসী অবিশ্বাসী তাঁর দানের অক্সিজেন, আলো, তাপ, বাতাস, মাটি, জল ব্যবহার করছি। আমরা কি এগুলো তৈরি করেছি? যদি শুধু অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য আমাদের মিটার সিস্টেম থাকত পল্লী বিদ্যুতের মতো, আর বিল না দিলেই যদি লাইন কেটে দিত তবেই হয়ত এটার গুরুত্ব পেতাম যে ঈশ্বর আসলে কে।
হিতোপদেশ ১২ : ১৫ তে লেখা আছে অজ্ঞানের পথ তাহার নিজের দৃষ্টিতে সরল। আমাদের মনের শৃঙ্খল হলো নতুন কিছুকে ভয় করা। কোনো কোনো সময় তা ধর্মের নামে কখনো বা রাষ্ট্রের নামে, কখনো বা সমাজের নামে, আবার কখনো বা পূর্ব-পুরুষের নামে। কিন্তু এগুলো অবশ্যই আমাদের পরবর্তী জীবনের জন্য বাধা সরূপ। কিন্তু আমি ঈশ্বরকে অবশ্যই ভক্তি করব কেননা তিনি আমাকে এত বিপদের মাঝেও সুরক্ষা করেছেন ও করছেন। গভীর অন্ধকার থেকে তিনিই আমাকে আলোতে এনেছেন। এখনো তিনি আমাকে ভালোবাসা ও সহভাগিতা দিয়েই চলেছেন।
তাঁর অনুগ্রহেই আমি অন্যের সাথে সহভাগিতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করতে পারছি। জীবনে চলতে তিনি আমাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছেন। আর তাই তো ঈশ্বরকে বলি, হে ঈশ্বর তুমি অমার অন্তর ও বাহির এক করে দাও। যেন মানুষ আমার মধ্যে তোমাকে দেখতে পায়। আমি যা করি তোমরা তা করো না । আমি যা বলি তোমরা তা শুন নীতিতে যেন না চলি।
অলোক মজুমদার : চিকিৎসক ও লেখক।





Users Today : 48
Views Today : 52
Total views : 182201
