দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ২০২২ সালের শেষের দিকে আসা করা যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে। দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন বাস্তব রূপ লাভ করবে, এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত অঞ্চলগুলোতে একের পর এক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের দূরত্ব অনেকটাই কমে আসবে। অর্থনীতিতে আসবে নতুন দিগন্ত। এই পদ্মা সেতু যখন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তখন আন্তর্জাতিকভাবে ও বাংলাদেশেরে ভেতর দিয়ে একটি চক্র কোনোভাবেই এই পদ্মা সেতু যেন বাস্তবরূপ লাভ না করতে পারে সেই জন্য অনেক চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু তাদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকার নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।
এই পদ্মা সেতুকে নিয়ে দেশবাসীর অনেক দিনের অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু গত এক বছর থেকে আমরা লক্ষ করছি পদ্মা সেতুর আশেপাশে অনেক অবাঞ্চিত ব্যক্তি, কখনো পাগলের বেশে,কখনো পর্যটকের বেশে পদ্মা সেতু স্পর্শকাতর জায়গায় পৌঁছে গেছে। প্রথম দিকে বিষয়টি নিয়ে খুব একটি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, পরবর্তীতে যখন এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চতর গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেন তখন বের হয়ে আসে আসল রহস্য। এই পদ্মা সেতু কীভাবে নির্মিত হচ্ছে, কেন নির্মিত হচ্ছে, কীভাবে এই পদ্মা সেতুর কোনো না কোনো ক্ষতি করা যায় একটি চক্র কাজ করে যাচ্ছে। একাধিকবার কয়েকটি ফেরি পদ্মা সেতুর পিলারে আঘাত হেনেছে। বিষয়টি রহস্যজনক।
এবার আমরা মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি-পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা বেষ্টুনী লঙ্ঘন করে যারা স্পর্শকাতর অংশে পৌঁছে গিয়েছিলেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংযোগ ফাঁকি দিয়ে পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া গেছে ঐ ভবঘুরে পাগলবেশধারীরা হচ্ছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এজেন্ট। অনেকেই সন্দেহ করছেন এটা ভারতের কাজ-ভারত এমন একটি প্রতিবেশী দেশ, যা প্রত্যেকটা প্রতিবেশী দেশের কাছে অভিশাপ্ত দেশে হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, এমন একটি প্রতিবেশী দেশ যার কথা ও কাজের কোনো মিল নেই। পদ্মা সেতু নির্মাণের সাথে চীনের প্রকৌশলীরা জড়িত। তাদেরকে নানাভাবে ইতিপূর্বে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এসব কে বা করা করেছেন দেশবাসী ইতিমধ্যে অবহিত হয়েছেন।
যেহেতু চীনের সহায়তায় এই পদ্মা সেতু নির্মাণে অবদান রয়েছে সেকারণে ভারত বিষয়টি হজম করতে পারছে না। সে কারণেই তাদের গোয়েন্দাদের পদ্মা সেতুর কাছাকাছি বারবার পাঠিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল থাক এটাই ভরতের প্রত্যাশা, কিন্তু বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণের স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফল্যের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। তার এই সাফল্যকে ভারত কোনোভাবেই মানতে পারছে না। যে কারণে পাগলরূপ ধারী গোয়েন্দাদের ভারত পাঠিয়ে দিচ্ছে, এদের কাজ হচ্ছে মূল সেতু নির্মাণে কলাকৌশল আয়ত্ব কারা, প্রকৌশলীদের, নির্মাণ শ্রমিকদের মনের মধ্য আতঙ্ক তৈরি করে দেওয়া-যেন পদ্মা সেতু আর বাস্তবায়ন না হতে পারে। কিন্তু স্বস্তির বিষয় এই যে, আমাদের চৌকস গোয়েন্দা সংস্থার চোখ প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দারা ফাঁকি দিতে পারেননি, শেষ পর্যন্ত ধরা খেয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কতজন ধরা পড়েছে? যারা ধরা পড়েছে তাদের বেশিরভাগই বাংলাভাষী, যে কারণে এরা বাংলাদেশের বাসিন্দা নাকি ভারতের বাসিন্দা তা ধরা খুবই কঠিন বিষয়, তারপরেও আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার অভিজ্ঞতা এতই বেশি যে, ঐসব দুষ্কৃতিকারী গোয়েন্দারা ধরা পড়েছেন।
উপমহাদেশের প্রতিটি দেশে সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবীদরা একটি কথা বলেন, ভারত যার বন্ধু তার আর কোন শত্রুর প্রয়োজন নেই। যা ইতিমধ্যেই ভারত প্রমাণ করে দিয়েছে। এখন আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে হবে, যেন প্রতিবেশী হিংস্র বন্ধুরূপী দেশের গোয়েন্দারা কোনোভাবেই পদ্মা সেতু স্পর্শকাতর অংশে কাছাকাছি না যেতে পারেন। কারণ ভারত কোনোদিনই চাইবে না আমরা একটি স্বনির্ভর জাতিতে পরিণত হই। ভারত চাইবে আমরা ভূটানের মতো অনুগত দেশ হয়ে থাকি, কিন্তু এদেশের ১৮ কোটি জনগণ সেটি কোনোদিনই হতে দিবে না, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করব, যতই ষড়যন্ত্র হোক না কেন।
সৈয়দ রশিদ আলম : কবি ও কলামিস্ট।





Users Today : 24
Views Today : 24
Total views : 182173
