বিভাগীয় সম্পাদক ● করোনার সংক্রমণরোধে আজ থেকে সারাদেশে চলছে গণটিকা কার্যক্রম। এরই প্রেক্ষিতে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল ৯টা থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। বিভিন্ন জেলায় মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে গণটিকা কার্যক্রম। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এ অবস্থায় অনেকেই টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে গণটিকা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। ওয়ার্ড কার্যালয়ের টোকেন ছাড়া মেলেনি করোনার টিকা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
টিকার জন্য সুরক্ষা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে ১৫/২০ দিন হয়ে যাওয়ার পরও এসএমএস আসেনি অনেকের।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন, পৌরসভার ওয়ার্ড এবং জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ২৬৯টি কেন্দ্রে গণটিকা দেওয়া হচ্ছে। খুব সুন্দরভাবে গণটিকা কার্যক্রম চলছে জানিয়ে সিটি কপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএচকে দেবনাথ বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতি টিকা কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। ছয় দিন কর্মসূচি চলবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে।
বরিশাল: বরিশাল জেলা ও মহানগরীর ১৪১টি কেন্দ্রে একযোগে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি কেন্দ্রে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে নগরীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে গ্রামগুলো। নগরীতে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারা কাউকে টিকা দেওয়া হয়নি। তবে গ্রামে রেজিস্ট্রেশন না করেই জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লিখে রেখে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন। টিকা না পেয়ে ফিরে যাওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, কেউ এসএমএস পেয়ে আবার কেউ এসএমএস না পেয়েও টিকা নিতে এসেছেন। আবার কেউ আগে রেজিস্ট্রেশন না করেও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে কেন্দ্রে এসেছেন টিকা নিতে। সার্ভার সমস্যা করায় তাদের টিকা দেয়নি সিটি করপোরেশন।
খুলনা: খুলনায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে টিকাদান কেন্দ্রে এসেছে মানুষ। কেন্দ্রে মানুষের ভিড় ছিল। তবে মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। খুলনা জেলা ও মহানগরীর ৩০৭টি বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। দিনভর বৃষ্টির মধ্যেই চলছিল টিকা কার্যক্রম। নগরীর ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান মনি বলেন, বৃষ্টির কারণে সবাইকে এক ভবনে আনার ফলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যায়নি। এরপর পরিকল্পনা নিয়ে ফাঁকা জায়গায় টিকা দেওয়া হবে।
রংপুর: রংপুরে করোনার টিকার চাহিদার তুলনায় কম দেওয়ায় দুপুর ১২টার পর শেষ হয়ে গেছে। অনেকেই টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন। এ নিয়ে টিকা নিতে আসা মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। টিকার সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার ৮৩ ইউনিয়নের টিকা দেওয়া হচ্ছে। রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৩ ওয়ার্ডের প্রতিটিতে তিনটি করে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে আড়াইশ করে টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চাহিদার চেয়ে টিকা কম। এ জন্য অনেকেই পায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রথম দিন সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২ হাজার ২০০ জনকে মডার্নার টিকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সিনোফার্মের ৪৩ হাজার ২০০ টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে সাড়ে সাতশ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়ার্ডগুলোতে ৬০০ করে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে টিকা নেওয়ার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।





Users Today : 7
Views Today : 7
Total views : 180741
