পাপুলের আসন শূন্য ঘোষণা নিয়ে রিট খারিজ
বিভাগীয় সম্পাদক ● লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণা ও আসনটিতে উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটটি সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।
আসনটির সাংসদ ছিলেন শহিদ ইসলাম পাপুল। ঘুষ লেনদেনের দায়ে কুয়েতের আদালতে তিনি দণ্ডিত হলে আসনটি শূন্য ঘোষণা ও উপনির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়। তার বৈধতা নিয়ে করা রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
রিটের সারবত্তা নেই জানিয়ে আদালত রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মনে করছেন হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণা ও উপনির্বাচনের ঘোষিত তফসিল বহাল রইল ।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি শহিদ ইসলামের আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ৪ মার্চ। ঘোষিত তফসিল অনুসারে ১১ এপ্রিল ওই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে আগামী ২১ জুন নির্ধারণ করা হয়।
এ অবস্থায় লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণা ও আসনটিতে উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। শহিদ ইসলামের বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং ওই আসনের বাসিন্দা শহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী শাহাদাত হোসেন গত মার্চে ওই রিট করেন। এই রিটের ওপর গতকাল সোমবার শুনানি নিয়ে আজ আদেশ দিলেন হাইকোর্ট।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব জাফর আহমেদ খানের সই করা সেই গেজেটে বলা হয়, কুয়েতের ফৌজদারি আদালতে ঘোষিত রায়ে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে চার বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন শহিদ ইসলাম। এ কারণে বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সাংসদ থাকার যোগ্য নন তিনি। সে কারণে সংবিধানের ৬৭ (১) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ (গত ২৮ জানুয়ারি) থেকে তার আসন শূন্য হয়েছে।
ঘুষ লেনদেনের মামলায় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ শহিদ ইসলামকে গত ২৮ জানুয়ারি সাজা দেন কুয়েতের ফৌজদারি আদালত। বিচারক রায়ে এই সাংসদকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার বা ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সাংসদ বিদেশের মাটিতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। গত বছরের ৬ জুন রাতে কুয়েতের বাসা থেকে আটক করা হয় শহিদকে। আটকের সাড়ে সাত মাস আর বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সাড়ে তিন মাসের মাথায় দণ্ডিত হন তিনি।
কুয়েতে মানব পাচার ও ভিসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল টাকার মালিক হন শহিদ ইসলাম। কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের পৃথক দুই মামলায় সাংসদ শহিদসহ ৬ জনের ৬৭০টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার আদালত। মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে শহিদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলা করে সিআইডি। আসামিদের মধ্যে তার মেয়ে, ভাই ও শ্যালিকাও রয়েছেন। এর আগে ১১ নভেম্বর মানব পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে শহিদ ও তার স্ত্রী সেলিনার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।





Users Today : 30
Views Today : 32
Total views : 180731
