বেশ কিছুদিন যাবত আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে কিছু লেখার বিষয় চিন্তা করছিলাম, কিন্তু হয়ে উঠছিল না। আগামী মাসেই নির্বাচন। সময় আর বেশি নেই। এটি আমেরিকার ৫৯তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আমরা জানি আমেরিকাতেও প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী দুটি বড় দল। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি। প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান দলের হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। আর ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন প্রাক্তন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে সিনেটর কমলা হ্যারিস। বর্তমানে মোটামোটি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ প্রচার-প্রচারণা চলছে।
ডোনাল্ট ট্রাম্প কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নন। তিনি মূলত পেশাদার একজন সফল ব্যবসায়ী। প্রথমবার নির্বাচনে এসে সমস্ত মিডিয়া, দেশ ও মানুষের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে তিনি বাজিমাত করে হিলারী ক্লিনটনকে হারিয়ে বিশ্বের শক্তিধর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে যান। তাতে অনেকে অবাক হয়েছে বটে কিন্তু কিছুই করার ছিল না। বিগত চারবছর যাবত তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আলোচিত ও সমালোচিত।
তাই অনেকে মনে করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো লোক নির্বাচিত হলে আমেরিকা তথা গোটা দুনিয়ার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন জিতলে ভালো হবে। যা হোক আর কয়েকদিনের মধ্যে আমেরিকার জনগণ তা তাদের ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন।
আমি যতটুকু আমেরিকার রাজনীতি ও বিগত চারবছরের ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকাল নিয়ে বুঝতে চেষ্টা করেছি তা অনেকের মতামতের সাথে এক নাও হতে পারে। তবুও আমার নিজের কিছু ব্যক্তিগত উপলব্ধি পাঠকগণের জন্য তুলে ধরছি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি চিন্তা হলো আমেরিকাকে পুনরায় গ্রেইট বা মহান করে তোলা। আর ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনের চিন্তা হলো ট্রাম্প খারাপ, আমেরিকাকে শেষ করে দিচ্ছে ও বিশ্বে আমেরিকার ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিচ্ছে। তাই তাকে সরিয়ে নিজেরা আসতে পারলে আমেরিকা তথা বিশ্বের জন্য ভালো হবে।
প্রথমত ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীদের মূল বিষয় হলো মাইগ্রেন্ট বা অভিবাসী ভোটার। আমেরিকায় এমন একটি ছবি আঁকা হয়েছে যে ডেমোক্রেটিক দল হলো অভিবাসীদের পক্ষে আর রিপাবলিকান দল অভিবাসীদের বিরুদ্ধে। সত্যিকথা হলো যদি দুইদলের শাসনকাল নিয়ে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে তার সত্যতা তেমন বাস্তবে দেখা যাবে না। এটি হলো ভোটটানার প্রতিযোগিতার বক্তব্য। প্রথমত, আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী বৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কেউ তেমন কোনোকিছু করতে পারবে না। হয়ত চলমান কার্যক্রমে একটু ধীরগতি আনা যাবে কিন্তু প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না। তবে প্রশ্ন হলো অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে। যদি প্রেসিডেন্ট ওবামার শাসনকাল দেখেন তাহলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে বেশি অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমস্যা হলো তিনি বলেন যত বেশি কাজটি সেভাবে করেননি। আর প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন কম কিন্তু চুপে-চাপে কাজটি ঠিকই করেছেন। আরেকটি বিষয় পাঠকদের জন্য তুলে ধরতে চাই। তাহলো ডিবি লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে ৫০০০০ (পঞ্চাশ হাজার) করে যে লোকজন আমেরিকা নেবার প্রক্রিয়া ও সেই লোকজনের আত্মীয়-স্বজন আমেরিকা যাবার প্রক্রিয়াটি কিন্তু চালু করেছে রিপাবলিকান দল তথা প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ। তারপরও অভিবাসীদের মধ্যে এমন একটা মনোভাব তৈরি করা হয়েছে যে, রিপাবলিকানেরা অভিবাসী বিরোধী। তাই যারা একটু খোঁজ-খবর রাখেন ও এর সুফল ভোগ করছেন তারা আশা করি বিভ্রান্ত হবে না। ভোটের সময় সঠিক সিদ্ধান্তটি নিবেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকানদের কর্মসংস্থান চেয়েছেন। যারা আমেরিকার নাগরিক ও ভোটার তাদের কর্মসংস্থানের জন্য অনেক কথা বলছেন ও কাজ করছেন। তা করতে গিয়ে যারা অবৈধভাবে আমেরিকায় বসবাস করছেন ও কাজ-কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করছে তাদের তা পছন্দ নাও হতে পারে। অন্যদিকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে সমস্ত আমেরিকার কোম্পানিগুলো সস্তা শ্রমের জন্য বিদেশে বিশেষ করে গণচীনে ব্যবসা করছে আর মুনাফা করছে তাদেরও তা পছন্দ নাও হতে পারে। তাই বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর খুশি না। কারণ তিনি তার প্রশাসনের নীতি দ্বারা সেইসব ব্যবসায়ী ও দেশের আর্থিক লোকসানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের চিন্তা হলো যদি আমেরিকার মাটিতে সেইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু হয় তাহলে দেশের অভ্যন্তরে মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান কোভিড-১৯ এর মহামারির প্রেক্ষাপটে তা আরো বেশি প্রাসঙ্গিক বটে।
আরেকটি বড় নির্বাচনি ইস্যু হলো কালো-সাদা দ্ব›দ্ব। এই যে কালো-সাদা বৈষম্য এটি আমেরিকার বিগত চার বছরের তৈরি কোনো সমস্যা নয়। এটি আমেরিকার জন্মলগ্ন একটি সমস্যা। এ নিয়ে অনেক কথা বলা যাবে। তবে যারা আমেরিকায় স্থায়ী বসবাস করছে তারা ভালোভাবে জানে একহাতে তালি বাজে না। আমেরিকার এমন কোনো সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি, প্রশাসনের স্তর আছে যেখানে কালো ও সাদা আমেরিকানেরা একসাথে কাজ করছে না? এককথায় বলতে গেলে সবাই মিলে মিশে একসাথে কাজকর্ম করছে। তারপরও একটি সমাজে এরকম কিছু লোক থাকে যারা বৈষম্যের সৃষ্টি করে ও সমস্যাটি চলমান থাকে। ধর্মে-ধর্মে, সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে, সাদা-কালো, বৈধ-অবৈধ এসব বিষয় নিয়ে সমস্যা নেই এমন কোনো দেশ নেই। এখন প্রশ্ন হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে এই সমস্যা বেশি হয়েছে ও তিনি তা ভালোভাবে সামাল দিতে পারেননি। হয়ত অভিযোগকারীদের চিন্তায় ও বিচার-বিবেচনায় তার সত্যতা কিছুটা আছে। তবে যদি পরিসংখ্যান নিয়ে বিচার করা হয় তাহলে দেখা যায় কালো প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনকালের থেকে বেশি ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু তা নিয়ে রিপাবলিকান দল ইস্যু তৈরি করেনি বা করতে পারেনি। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালে যে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে তার মোক্ষম রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ডেমোক্রেটিক দল ভালোভাবে ব্যবহার করে সফল হয়েছে। সমস্যায় পানি না ঢেলে তেল ঢেলেছে। ফলে আন্দোলন হয়েছে ও তাতে সহিংসতাও হয়েছে। কিন্তু সরাসরি কেন্দ্রের বা ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে সবকিছু ছিল না। কারণ যে সব রাজ্যে এরকম ঘটনাগুলো ঘটেছে তা সামাল দেয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব হলো সেই সব রাজ্যের প্রসাশনের, তারমধ্যে আবার কিছু রাজ্য ছিল যেখানে ক্ষমতায় রয়েছে ডেমোক্রেটিক দল। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করা যাবে কিন্তু সত্যি কথা হলো এই সমস্যা কেউ সম্পূর্ণ সমাধান করতে পারবে না, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সদইচ্ছা তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে মাত্র।
সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় হলো ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বে আমেরিকার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। আমেরিকাকে গ্রেট বা মহান রাখেনি। যারা এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন ও বিগত চারটি বছরে বিশ্বে আমেরিকার ভ‚মিকা নিয়ে অনেক কথা বলছেন তারা কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে সামনে নিয়ে আসতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বেশি বলেন ও ডিপ্লোমেসি প্রথা বেশি ব্যবহার করেন না। সেজন্য সমালোচনাও একটু বেশি হয়। সব কাজ তো আর প্রেসিডেন্ট নিজে একা একা করেন না। সেজন্য ভাইস-প্রেসিডেন্টসহ হোয়াইট হাউজে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক টিম রয়েছে যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তাই অনেক সময় মুখের ভাষণ ও কাজ একরকম হয় না। আমাদের মনে রাখতে হবে আমেরিকার রাজনীতি শুধু বাহিরের দেশকে খুশি করার জন্য নয় বরং তার দেশের মানুষের জন্য। তারপরও আমেরিকা বলে কথা, তাদের কাজকর্মে ও চিন্তাধারায় বিশ্ব প্রভাবিত হয়ে থাকে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিগত চারটি বছর ইরানের সামরিক প্রধানের হত্যাকাণ্ড ছাড়া তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সংঘাতে আমেরিকা জড়ায়নি। যা ক্লিনটন ও ওবামা প্রশাসনের সময় ঘটেছিল।
আমেরিকা বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের সৈন্যসংখ্যা কীভাবে হ্রাস করবে বা সেখান থেকে সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে বাড়ি যাবে সেই চেষ্টা ডোনাল্ড ট্রাম্প করে যাচ্ছে। এখন যাদের যুদ্ধ ও সংঘাত পছন্দ তাদের কাছে ট্রাম্পের এই নীতি পছন্দ নাও হতে পারে। বিশেষ করে কিছু মুসলিম বিশ্ব একটু বেশি অসন্তুষ্ট। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি চায় যুদ্ধ চায় না।
বিগত ৭০ বছর ধরে চলমান ইস্র্রায়েল ও ইসলামি দেশগুলোর সাথে সংঘাত চলছে। কেউ কেউ কোনো কোনো সময় উদ্যোগী হলেও কিন্তু উভয়ের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি। ১৯৪৭ সালে ইস্র্রায়েল নামক দেশ প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকে আরব দেশগুলো তথা মুসলিম দেশগুলোর সাথে তাদের বৈরিতা চলে আসছে। দুই-তিনটা যুদ্ধ সংগঠিত হবার পর মিশর ও জর্দানের সাথে ক‚টনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। বলা যায় যুদ্ধের মাধ্যমে শান্তি অর্জন। তখন থেকে এখন পর্যন্ত এই দেশ দুটির সমালোচনা করতে তেমন কাউকে দেখা যায়নি। কিন্তু এতবছর পর যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসলেন তিনি তার মেয়ে জামাইকে দায়িত্ব দিলেন যেন আরব ও ইস্র্রায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে দৃশ্যত দেখা যাচ্ছে সেই পথে অনেকটা সফল। আরব আমিরাত, বাহারাইন ও সুদানের সাথে ইস্র্রায়েলের ক‚টনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। তাতে ফিলিস্তীনী জনগণ ও দুয়েকটা মুসলিম দেশ ব্যতিত সকলে খুশি। জানি না সেজন্য নোবেল পুরস্কার প্রদানের বোদ্ধাগণ কী ভাবছেন? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নোবেল পাবে কি না জানি না কিন্তু আরব-ইস্র্রায়েলে যে শান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আশা করা হচ্ছে ধীরে ধীরে আরো আরব দেশ শান্তি স্থাপনে এগিয়ে আসবে।
তারপর দেখা যাচ্ছে প্রথমবারের মতো উত্তর কোরীয়ার সাথে শান্তি স্থাপনের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উদ্যোগী হলেন। উত্তর কোরীয়ার প্রেসিডেন্ট ও সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সাথে দুইবার বৈঠক করেছেন। আমেরিকার উচ্চপর্যায়ে প্রশাসনিকভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। যদিও সেখানে এখনও তেমন কোনো সফলতা দেখা যায়নি। কিন্তু একমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তির পক্ষে এগিয়ে গেছেন। যেন দুই কোরীয়ার মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা পায়। সময় বলে দিবে বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে যদি তিনি জয়ী হোন তাহলে তার নেয়া উদ্যোগ চলমান রাখবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যেহেতু একজন সফল ব্যবসায়ী তাই তিনি বুঝেন কোন দেশের সাথে কোন ধরনের ব্যবসায়ী সম্পর্ক আমেরিকার জন্য লাভবান হবে। সেজন্য তিনি ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক দেশের সাথে দ্ব›েদ্ব জড়িয়েছেন। যা মিডিয়াতে ফলাও ভাবে প্রচারিত হয়েছে।
অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থাও তেমন ভালো নেই। ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে এমন কোনো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় উপস্থাপন করতে পারেননি যা দেখে জনগণ তাদের ভোট প্রদানের জন্য চিন্তা করতে সুযোগ পাবেন। এর আগের নির্বাচনে হিলারী ক্লিনটন নারী প্রার্থী এই কথা বলে মানুষের বা নারী ভোটারের মন জয় করতে চেয়েছিল কিন্তু সফল হতে পারেনি। এবারও একজন নারী ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে মনোনীত করে এক ঢিলে তিন পাখি শিকার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথমত, তিনি নারী। জনগণকে বুঝাতে চেষ্টা করা হচ্ছে ডেমোক্রেটিক দল নারীদের অনেক বেশি সম্মান করে ও তাদের জন্য চিন্তা করে। তাই সব নারীদের উচিত গাধা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের জয়ী করা। দ্বিতীয়ত, অর্ধেক আফ্রিকান-আমেরিকান। অর্থাৎ তিনি কালো। তাই আফ্রিকান-আমেরিকানেরা যেহেতু কালো তাই তারা কালোর পক্ষে দলে দলে ভোট দিবেন। এখানে বারাক ওবামা কার্ড ব্যবহার করার উদ্যোগ। তাই তিনিও এবার দলের পক্ষে ভোট চাইতে কোমর-বেঁধে নেমেছেন। তৃতীয়ত, তিনি অর্ধেক এশিয়ান-আমেরিকান। তাই এশিয়ার দেশগুলোর অভিবাসীদের ভোট টানতে পারবেন।
যারা নিউইর্য়কের জেমাইকা নিবাসী তারা ভালো করে জানে আফ্রিকান-আমেরিকানদের আচার-আচারণ। কয়েকদিন আগে তার নির্বাচনি এলাকার এশিয়ান-আমেরিকানেরা তার বিরুদ্ধে মিছিল করল এই অভিযোগে যে, তিনি তাদের সাথ ভালো আচরণ করেন না। তার মেজাজ-মর্জি ও পক্ষপাতিত্ব নিয়ে তার নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের অনেকের অভিযোগ। অর্থাৎ যে সব চিন্তা ও আশা নিয়ে তারা তাকে ভোট দিয়ে সিনেটর করেছিল, ভোট পরবর্তী সময়ে সেই আশায় গুড়ে বালি।
গতবারের মতো এবার বিভিন্ন জরিপে দেখা যায় যে, ডেমোক্রেটিক দল এগিয়ে আছে। তাই রিপাবলিকান দল ও ডোনাল্ট ট্রাম্পও বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় ঝাপিয়ে পড়েছে। উভয়ের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ এমন পর্যায়ে গিয়েছে যা আমেরিকার অনেক ভোটারদের কাছে পছন্দ নয়। আমারও মনে হয় এসব কেমন জানি আমেরিকার রাজনীতিতে বড্ড বেমানান। তারপরও আমেরিকার জনগণকে দুজনের একজনকে পছন্দ করে ভোট দিতে হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিক হাতি। আর জো বাইডেনের নির্বাচনি প্রতিক গাধা। দেখার বিষয় হাতি ও গাধার লড়াইয়ে চ‚ড়ান্ত বিজয়ী কে হবেন? তবে আমেরিকার স্বাভাবিক ঐতিহ্য ও সার্বিক বিবেচনায় হাতির বিজয়ী হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
আবদুল মাবুদ চৌধুরী : সম্পাদক, সাপ্তাহিক সময়ের বিবর্তন।





Users Today : 173
Views Today : 219
Total views : 182067
