অর্থনীতি ডেস্ক (বি. স.) ● চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা এক আমদানিকারকের একটি ৪০ ফুটের কনটেইনার থেকে পণ্য উধাও গেছে! চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কন্টেইনারটি খুলে কোনো পণ্য পায়নি। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কনটেইনারটিতে থাকা সিল নম্বর আর আমদানিকারকের দাখিল করা সিল নম্বর এক নয়। দুটি কাভার্ডভ্যানে করে এসব পণ্য নিয়ে বন্দর থেকে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে গেছে একটি চক্র।
ঢাকার সবুজবাগে ৩৭৬, দক্ষিণ বাড্ডা (লেভেল-৭) ঠিকানার কেমস ফ্যাশন লিমিটেড ও চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ৮/৫০৫০, লাকি প্লাজা (৫মতলা) ঠিকানার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আরএম অ্যাসোসিয়েটস এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ওই কন্টেইনারের পণ্য বহনকারী দুটি কাভার্ডভ্যানের একটি পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বন্দর থানায় রাখা কাভার্ড ভ্যানটিতে (ঢাকা মেট্রো ট-১৬-০৫৬৯) থাকা পণ্য এখনো খুলে দেখা হয়নি।
এদিকে কনটেইনারটিতে আমদানি করা পণ্যের বিপরীতে কাস্টম হাউসে কোনো শুল্ক পরিশোধ করা হয়নি। আর শুল্ক পরিশোধ ছাড়া পণ্যের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পণ্য খালাসের উদ্দেশ্যে কনটেইনার নামানোর অনুমতি দেয়ার বিধান নেই। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী বন্দর থেকে পণ্য বের হওয়ার আগে অনেকগুলো নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (এআইআর) নূর এ হাসনা সানজিদা অনসূয়া বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আমরা আজ জালিয়াতিটি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছি। শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়া খালাসের উদ্দেশ্যে কনটেইনার থেকে পণ্য নামানোর কোনো বিধান নেই, যেটা এক্ষেত্রে ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে প্রতারক চক্রের সঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পেয়েছি। সার্বিক তদন্ত করে রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালানের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। থানায় আটক থাকা গাড়িটিও আমরা ইনভেন্ট্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমদানি রফতানি পণ্য নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের তিনি এ বিষয়টিও মনে করিয়ে দেন।
অবৈধভাবে ওইসব পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া সম্পর্কে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রতারক চক্রটি নিজেদের আমদানি করা দুই কনটেইনার পণ্য খালাসের জন্য বন্দরে আসে। দুই কনটেইনার মালামাল বোঝাই করতে কাভার্ডভ্যান প্রয়োজন চারটি। কিন্তু তারা বন্দরে ছয়টি কাভার্ডভ্যান নিয়ে প্রবেশ করে। বন্দর থেকে পণ্যভর্তি মোট ছয়টি কাভার্ডভ্যান নিয়ে তারা বেরিয়ে যায়। এর মধ্যে চারটি কাভার্ডভ্যানে আর্টকার্ড বোঝাই ছিল। আর দুটিতে ফেব্রিক্স ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে, আমদানি নথিতে শতভাগ রফতানির উদ্দেশ্যে কাঁচামাল হিসেবে ফেব্রিক্স আমদানির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। চালানটি চীন থেকে সাগর পথে এমসিসি ড্যানাং জাহাজে করে আনা হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। প্রতারক চক্রটি কাস্টম হাউসে ভিন্ন একটি আগামপত্র দাখিল করেছে। চালানটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এর বিপরীতে কোনো আগামপত্র দাখিল হয়নি। গোপন একটি সংবাদের সূত্র ধরে চট্টগ্রাম কাস্টমস এআইআর শাখা শনিবার কনটেইনারটি বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে খুললে পুরোটা খালি পাওয়া যায়।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, এটি নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে।





Users Today : 109
Views Today : 115
Total views : 182666
