হেলথ ডেস্ক (বি. স.) ● করোনাভাইরাসের সংক্রমণকালে আমাদের অনেকেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারি। তাই এখেই সকলকে ভাবতে হবে, যদি আমরা এ রোগে আক্রান্ত হই, তাহলে আমাদের শরীরকে কীভাবে সেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করব, যেন বিশ্বের অধিকাংশ করোনায় আক্রান্ত মানুষের মতো আমরাও দ্রুত সুস্থ হতে পারি।
করোনাভাইরাস মূলত মানুষের ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করে। করোনাভাইরাসে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের অধিকাংশেরই আগে থেকে ফুসফুসের সমস্যা, হৃদ্রোগ ছিল। আমাদের দেশেও বয়স্ক ছাড়াও মাঝবয়সী কিংবা যুবক অনেকের মধ্যে এই সমস্যাগুলো বেশ প্রবল।
এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারি? কীভাবে আমরা আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে পারি, যাতে এ রোগের সংক্রমণ হলেও আমরা এর মৃত্যুঝুঁকি কমাতে পারি?
বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে কয়েকটি সহজ পন্থা—
১. ধূমপান বন্ধ করুন: এই মুহূর্ত থেকে সিগারেট ছেড়ে দিন। এতে আপনার ফুসফুসের ক্ষমতা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। ধূমপান এই রোগের তীব্রতা ও নেতিবাচক ফলাফলের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পৃক্ত। আপনি ধূমপায়ী হলে এখনই ধূমপান বন্ধ করুন।
২. রক্তচাপ-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন: করোনায় আক্রান্ত হলে আপনার ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ রোগীর উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে থাকে না, যার একটা বড়ো কারণ হতে পারে নিয়মিত ওষুধ না খাওয়া। তাই আপনার এই রোগগুলো থাকলে এখন থেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৩. সবজি ও ফলমূল বেশি করে খান: পুষ্টিজনিত ঘাটতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টিহীনতা আমাদের দেহের সাধারণ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে বাড়াতে সাহায্য করবে। বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখিয়েছেন প্রতিদিন বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেল, যেমন: ভিটামিন ডি (ডি৩-10000 /IU/দিন-৩ সপ্তাহ, তারপর 5000 /IU/দিন-২ সপ্তাহ), ভিটামিন সি (১-৩ গ্রাম/দিন) এবং জিংক (২০-৫০ মিগ্রা./দিন) বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
৪. মদপান ছেড়ে দিন: মদ্যপান বা যেকোনো নেশাদ্রব্য সেবন রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। যদি আপনার এসব অভ্যাস থেকে থাকে, তাহলে নিজের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার তাগিদেই মদ্যপান বা যেকোনো নেশাদ্রব্য সেবন ছেড়ে দিন।
৫. পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে: বাংলাদেশে অনেক মানুষই নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমান না। এখন লকডাউনের সময় অনেকেরই স্বাভাবিক কাজকর্মের সময় বদলে গেছে, তাই ঘুম হয়ত আরও কম ও অনিয়মিতভাবে হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, দৈনিক সাত থেকে আট ঘণ্টার কম ঘুমালে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই রাতের ঘুম বিসর্জন দেওয়ার উপায় নেই।
৬. প্রতিদিন ব্যায়াম করুন: বাংলাদেশের অনেক মানুষই, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, পর্যাপ্ত শারীরিক ব্যায়াম করেন না। তাই প্রতিদিন বাড়ির ভেতর অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটুন, একটু ফ্রিহ্যান্ড ব্যায়াম করুন। শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে ঘরের কাজ করুন। এতে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো থাকবে।
৭. দুশ্চিন্তা করবেন না: স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে। সুতরাং করোনার ভয়ে প্যানিক করে আসলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে। নিয়মিত নামাজ পড়ুন/নিজ নিজ ধর্মচর্চা করুন অথবা মেডিটেশন করুন। ভালো একটা বই পড়ুন, সুন্দর একটা মুভি দেখে ফেলুন। প্রিয়জনের সঙ্গে একটু ভালো সময় কাটানোর মাধ্যমে দুশ্চিন্তার পরিমাণ কমিয়ে আনুন।
করোনাভাইরাস প্যানডেমিকের রূপ ধারণ করেছে। বিভিন্ন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী এক থেকে দেড় বছরে এই বিশ্বের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ এতে আক্রান্ত হবে।
তাই যত দিন পর্যন্ত না আমরা ভ্যাকসিন পাচ্ছি, সবাইকে নিজের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সচেতন হতেই হবে। সুস্থ থাকুন, ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন, সচেতন হোন।





Users Today : 200
Views Today : 216
Total views : 177619
