বিবর্তন ডেস্ক : আজ থেকে (বৃহস্পতিবার) সারা দেশে হাজার নমুনা সংগ্রহ করে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) হাবিবুর রহমান। খবর বাসস।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে কমপক্ষে দুজনের নমুনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই নির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন বিভাগীয় পরিচালককে নমুনা সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছেন। আজ সারা দেশ থেকে এক হাজার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে বলে আমরা আশা করছি।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক হাবিবুর রহমান আরও বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকায় ৬টি এবং ঢাকার বাইরে ৪টি প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পিসিআর মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই এগুলোতে কাজ শুরু হবে।
হাবিবুর জানান, এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৪৪৮ জন স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক কোভিড-১৯ চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪৭০ জন ইতিমধ্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু করেছেন।
তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সন্দেহভাজন রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিকটস্থ ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর অনুরোধ জানান।
হাবিবুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৭৩ জনকে আইসোলেশন করা হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে ২৯৫ জনকে ছেড়ে দেওয়ায় বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৭৮ জন।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য বাতায়নে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ৬৬ হাজার ৪৬৫টি কল এসেছে, এ পর্যন্ত এই নম্বরে ১০ লাখ ৪২ হাজার ৯৫২টি কল এসেছে।
ঘরে ঘরে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় মার্চ মাসের আট তারিখ। সেদিন থেকে নানা উপায়ে পরীক্ষার কথা বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আইইডিসিআর।
এবারে ঘরে ঘরে গিয়ে নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ পেয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। ভান্ডারিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এইচ এম জহিরুল ইসলাম জানান, ‘নমুনা সংগ্রহের যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সেটাই অনুসরণ করা হবে।’
মানুষের বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হবে, এক্ষেত্রে উপসর্গ আছে কি নেই সেটাই হবে মুখ্য বিষয়।
আইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গের তালিকা তৈরি করেছে, যেটাকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষার একটা মানদণ্ড হিসেবে ধরছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মীরা।
কেরানীগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর মোবারক হোসেন বলেন, সেখানে মেডিকেটেড ল্যাব আছে, কর্মীদের আলাদা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
যারা উপসর্গ নিয়ে সন্দিহান কিন্তু পরীক্ষা করতে পারছেন না তারা কী করবেন?
ড. মোবারক হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা তাদের দেখেন ও প্রাথমিক ঔষধ দেন। এরপর আবার যোগাযোগ করা হয় তার সাথে যদি দেখা যায় উপসর্গ বেড়েছে তাহলে আমরা তাকে আলাদা করে ফেলি ও নমুনা সংগ্রহ করি।”
মিটফোর্ড হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ‘এতদিন শুধু বিদেশ থেকে কেউ এলে বা তার সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদেরই পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন শুষ্ক কাশি, ঠান্ডা জ্বর বা গলাব্যথা হলেও নমুনা সংগ্রহ করা হবে, এর সাথে যদি শ্বাসকষ্ট থাকে সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তি গুরুত্ব পাবেন। ’ ফেব্রুয়ারি মাসের এক তারিখ থেকে মার্চের ২২ তারিখ পর্যন্ত ২২ হাজার লোক বিদেশ থেকে এসেছিল, এদের তালিকা সরকার উপজেলায় দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন যখন আইইডিসিআর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে কম্যুনিটি সংক্রমণ শুরু হয়েছে, তখন এই নমুনা সংগ্রহ বিস্তৃত হয়ে গেছে।





Users Today : 14
Views Today : 15
Total views : 177977
