• প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
No Result
View All Result
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
Somoyer Bibortan
No Result
View All Result

স্মরণে ● কমরেড ইলা মিত্রের শততম জন্মজয়ন্তী এবং নাচোল বিদ্রোহ ○ মিথুশিলাক মুরমু

Admin by Admin
অক্টোবর ১৮, ২০২৫
in Uncategorized
0 0
0
স্মরণে ● কমরেড ইলা মিত্রের শততম জন্মজয়ন্তী এবং নাচোল বিদ্রোহ ○ মিথুশিলাক মুরমু
0
SHARES
106
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

১৮ই অক্টোবর কমরেড ইলা মিত্রের শততম জন্মজয়ন্তী। ঝিনাইদহের বাগুটিয়া গ্রাম পৈত্রিক ভিটা। অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেল নগেন্দ্রনাথ সেন ও মনোরমা সেনের তিন ছেলে তিন মেয়ের মধ্যে সবার বড় ইলা সেন কলকতায় ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। বেথুন স্কুল ও বেথুন কলেজ থেকে ১৯৪৪ সালে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন রাজ্য জুনিয়র অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়ন। বাঙালি মেয়েদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯৪০ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য আসরটি বাতিল করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিধান সভায় চারবার সদস্য নির্বাচিত হোন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে জনমত সংগঠিত করতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সাঁওতাল পরগনার সাঁওতাল বিদ্রোহকে ব্রিটিশ সরকার স্তব্ধ করে দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু তাদের মধ্যে বিদ্রোহের আগুন কখনোই নিভে যায়নি। ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের পরবর্তীকালে স্বাধীনচেতা সাঁওতালরা বরাংবার নিজেদেরকে অধীনস্ত থাকতে অস্বীকার করে। তারা স্বপ্ন দেখেন―জমিতে ফসল ফলাবেন, ঘরে তুলবেন, প্রাণখুলে হাসি-খুশি জীবন প্রবাহ করবেন। কোনো জমিদার, জোতদার কিংবা মহাজন কেউই মাথার ওপর ছুড়ি ঘুরাতে পারবে না। জুলুম-নির্যাতন, হয়রানি চিরতরে বিদায় নেবে; থাকবে না কারো চোখ রাঙানি ও ভয়-ভীতি। ১৯৩২ সালের দিকে মালদহ এবং দিনাজপুরে দু-হাজার সাঁওতাল সংগটিত হয়ে শুরু করে সংগ্রাম। ১৯৩২ সালে জিতু-রাজ (যেখানে সাম্য, স্বাধীনতা থাকবে এবং না থাকবে কোনো বিদেশীর হস্তক্ষেপ এমন রাজত্ব) প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে দিয়ে, সাঁওতালরা যে, সঙ্ঘবদ্ধ নতুন স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্নের বিফলতার পর নতুনভাবে কমিউনিষ্ট পার্টির ছত্রচ্ছায়ায় সাঁওতাল সমাজ এবং সাঁওতাল কৃষক নেতা কর্মী মাতলা মাঝির সুযোগ্য সাংগঠনিক নেতৃত্বে জীবন যুদ্ধের দ্বারা তেভাগা’র দাবি, ‘সাত আড়ি জিন’ দাবি আদায়ের মধ্যে দিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। কাঁটাতারে প্রজাপতি উপন্যাসে সেলিনা হোসেন লিখেছেন―‘ওদের আক্রমণে জোতদারদের ধানের গোলা পুড়ে যায়, পুড়ে যায় বাড়িঘর, ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয় কিংবা লুট হয়ে যায়। এই অবস্থা তো বেশিদিন চলতে পারে না। জোতদাররা কি আর চুপচাপ থাকবে? ওরা প্রতিশোধ শুরু করলো। বন্দুকের সামনে টিকতে না পেয়ে এরা পান্ডুয়া আদিনা মসজিদে জমা হয়।’ সাঁওতাল কৃষকের এই বিদ্রোহকে দমন করার জন্য ব্রিটিশ সরকার জোতদারদের পক্ষ অবলম্বন করে। প্রথম দিকে অল্প পরিসরে এই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এই আন্দোলন। নেতৃত্ব দিচ্ছিল জিতু, বেটকা ও সামু সাঁওতাল। ওদের সাহস ছিল অপরিসীম। কিন্তু শুধু সাহস দিয়ে অনেক সময়ই কিছু হয় না- সেদিন সাঁওতালরা স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়েছিল। দীর্ঘ সংঘর্ষের পর সাঁওতালরা পরাজিত হয় কিন্তু তারা পরাজিত হলেও তাদের ক্ষোভের আগুন শেষ হয় না। জিতু বেটকা ও সামুর নেতৃত্বে ১৯৩২ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহের যে তীর্থভ‚মি হয়ে উঠে ছিল মালদহ ও দিনাজপুর জেলা; সেই সব সংগ্রামী সাঁওতালদের স্মৃতি, সংগ্রাম এবং বলিদান ছিল জাগরুক অবস্থায় স্থানীয় সাঁওতালদের গল্প ও গাঁথায় তা তাদের নতুনভাবে প্রেরণা যুগিয়েছিল। ১৬ বছর পর ১৯৪৮ সালে নাচোলে কৃষকদের আন্দোলন শুরু হয়।
৭৫ বছর পূর্বে নাচোল ছিল আদিবাসী অধ্যুষিত একটি জনপদ। কিংবদন্তি বিপ্লবী নেত্রী ইলা মিত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের যেসব গ্রামের সাঁওতাল আদিবাসীদের নিয়ে তেভাগা আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, সেই গ্রামগুলোতে এখন সাঁওতালদের খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে একটি পুকুর ও একটি মন্দির আন্দোলনের স্মৃতি আজও বহন করে চলেছে। তেভাগা কিংবা সাত আড়ি জিন দুটোই সমার্থক। নিয়মটা ছিল―বিশ আঁটি ধান কাটা-মাড়াই ও ঝাড়াই করে জোতদারের গোলায় তুলে দিতে হবে। বিনিময়ে কৃষক মজুরি হিসেবে পাবে তিন আঁটি ধান। এটাই ছিল জিন কাটা। তেভাগা আন্দোলনের ঘাঁটি ছিল নাচোলের কেন্দুয়া, ঘাসুরা, রাওতাড়া, চণ্ডীপুর প্রভৃতি সাঁওতাল গ্রামগুলো। জমিদার ও জোতদারদের শোষণ এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মালদা জেলার কমিউনিষ্ট কর্মী ও সাঁওতাল সংগঠন হয়ে ছিল সংঘবদ্ধ। চণ্ডীপুর, মল্লিকপুর, পলাশকান্দা, ধরমপুর, নাপিতবাড়ি, ধবল শ্যামপুর, কেন্দুয়া, জগদল, খিওন, ঘাসুড়া, তেলেঙ্গাপাড়া, পলান পাড়া, বিষপুকুরিয়া প্রভৃতি মালদা জেলার গ্রামে কমিউনিষ্ট পার্টির প্রচার এবং কৃষক আন্দোলন কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়েছিল। এসব গ্রামে এখন কোনো আদিবাসী বসবাস করেন না। সেখানে আন্দোলনকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তো দূরের কথা, খুঁজে পাওয়া যায় না তাদের উত্তরসূরীদেরও। রাওতাড়া মন্দিরটি ইলা মিত্র মঠ নামেই সমাধিক পরিচিত। শ্রুতি আছে যে, এই মন্দিরের পাদদেশে সংগ্রামীদের নিয়ে ইলা মিত্র সভা করতেন।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পূর্ব পর্যন্ত নাচোল এবং নবাবগঞ্জ দুটিই মালদা জেলার অন্তভর্‚ক্ত ছিল। পরবর্তীকালে বাউন্ডারি কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী জ.থ. এবং ৬ ঘ.ছ মালদা জেলার পাঁচটি থানা নাচোল, নবাবগঞ্জ, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর এবং নাচোল রাজশাহী জেলার অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল। ১৯৪৬ সালের পর থেকেই মালদা জেলার আধিয়ার এবং তেভাগা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। তৎকালীন বাংলার ২৫টি জেলার মধ্যে ১৯টি জেলার ২৯টি মহাকুমায় সংগঠিত হয়েছিল কৃষকদের মহাসংগ্রাম তেভাগা আন্দোলন। দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, যশোহর, ফরিদপুর, বগুড়া, চট্টগ্রাম, মেদিনীপুর, ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলী, নদীয়া, বাঁকুড়া, বীরভ‚ম, মালদহ এবং জলপাইগুলি জেলার দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল আন্দোলনের দাবানল। মালদহ জেলার নাচোল ও চাঁপাই নবাবগঞ্জের সাঁওতাল কৃষকদের বাসভ‚মিতে একদিনেই এতে বড়ো আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। ক্রমশঃই খাজনা বৃদ্ধি, নানা আবওয়াব (তহুরা, মার্চা, খোলান চাচা, মহলদারী, বরকান্দাজী, গোলা পূজা, সন্ন্যাসী বিদায়, মশুনা সেলামী, হাতি খোয়া, মাছ খোয়া, পার্বণী, গাজন, থিয়েটার, পালাগান প্রভৃতি) আদায় বৃদ্ধি ঘটেছিল নাচোল ও নবাবগঞ্জ অঞ্চলে। আন্দোলনের জোয়ারে ভূস্বামীরা লিখিত দিয়েছিলেন―‘আমি স্বেচ্ছায় তেভাগা মেনে নিলাম এবং বর্গাদারদের ন্যায্য পাওনা দিয়ে দিলাম।’
এ গোটা নাচোলে ষাট ভাগেরও বেশি সাঁওতাল কৃষক। প্রথম তেভাগার বীজ ওদের মধ্যেই রোপিত হয়েছে। আর সেই সাঁওতালদের একত্রিত করেছে- নেতৃত্ব দিয়েছে মাতলা মাঝি―সেই তেভাগা আন্দোলনের প্রাণশক্তি হিসেবে বিবেচিত। আর সার্বজনীন নেতৃত্ব দিয়েছেন―কমরেড ইলা মিত্র। ইলা মিত্রকে পেয়ে সাঁওতালরা নতুন উদ্যোমে উদীপ্ত হয়েছিলেন। ছোটো থেকে বড়ো, নারী-পুরুষ, পৌঢ়রা সবাই তাঁকে ‘রাণী মা’ বলেই ডাকতেন। সাঁওতালরা তাঁকে নিজেদের মধ্যে পেয়ে উজ্জীবিত হয়ে উঠল। তিনি এদের নেতৃত্ব দিয়েছেন তেজস্বিতার সঙ্গে। সাঁওতালদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল শীর্ষে। তিনি সাঁওতালী ভাষাও শিখেছিলেন। তাদের তে-ভাগার দাবি অবশেষে সকলেই মেনে নিয়েছিল। এই সাফল্যে কৃষকরা আশা করেছিলেন, তাঁদের যে সব জমি ইতিপূর্বে হস্তচ্যুত হয়েছিল, সেগুলোর অধিকারও তারা পাবেন। এক শক্তিশালী সংগঠন গড়ে ওঠার ফলে দরিদ্র নিপীড়িত কৃষকদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল। আন্দোলনের মূল জায়গা ছিল নাচোল থানার চন্ডীপুর গ্রাম। এই গ্রামেই সাঁওতাল নেতা মাতলা মাজহীর বাড়ি। নাচোল কৃষক বিদ্রোহে মাতলা মাজহী এক উল্লেখযোগ্য নাম। প্রধানত তাঁকে অবলম্বন করেই এ অঞ্চলের সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। এই অঞ্চলের কৃষকদের ওপর তাঁর যথেষ্ট প্রভাব ছিল। মাতলা মাঝি অনেক বৈঠক ও সভা-সমিতিতে উপস্থিত থাকতেন এবং সাঁওতালী ভাষায় বক্তৃতা দিতেন। তার বক্তৃতা সাঁওতাল কৃষকদের মধ্যে উন্মাদনা সৃষ্টি করত। তখন তার বয়স ছিল পঞ্চাশের মতো। মাতলা মাজহীর সাথে রমেন মিত্রের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। পুরুষানুক্রমে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে কখনো চিড় ধরেনি। তিনিই ছিলেন মালদহ জেলার কৃষক সমিতির সম্পাদক। ইলা মিত্র স্মৃতিচারণ করেছিলেন―‘ওর সামনে বসে মাতলা যখন জোতদারদের শোষণের বিরুদ্ধে করা বলে, আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা দেয়। ও মনে মনে গৌরব বোধ করে। এমন মানুষই ও দেখতে চায়, যারা অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার, যারা নিজেদের পায়ের নিচে শক্ত মাটির ভিত চায়।’ মাতলার তৎপরতায় কৃষক আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। সাঁওতালদের মধ্যে আন্দোলনের প্রাণ সঞ্চার করে সে। তেভাগা আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তার বিরুদ্ধেও হুলিয়া জারি হয়। পুলিশি নির্যাতন এবং কৌশলগত কারণে পিছিয়ে আসার বিষয়েও তার আছে জোরালো যুক্তি- ‘আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছি, আমরা পরাজিত হয়েছি কিন্তু মাথা নিচু করিনি। আবার আমরা শক্তি সঞ্চয় করব, আবার আমরা লড়ব। মনে রেখো, আমরা শোক করব না।’ এরপর দেখা যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে জোতদার বিরোধী আন্দোলন এবং তেভাগার পক্ষে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়। রাঙা মিয়া, চরণ মাঝি, ও এছান মিয়ার খোলান থেকে ধান নিয়ে আসা হয়েছে। ওরা তেভাগা ও সাত আড়ি জিন মেনে নেয়নি। আজ ধান ভাগ করে ওদের হিস্যা জোতদারদেরকে পৌঁছে দেওয়া হয়। মাতলার তত্ত্বাবধানে সব ব্যবস্থা নিখুঁত হয়―কোথায় কোনো বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা যায় না। অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর দায়িত্ব পালন করে শেখ আজহার হোসেন। তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রত্যেক রাতে এলাকার প্রতি গ্রাম থেকে দুজন করে স্বেচ্ছাসেবক সারারাত পাহারায় থাকে। প্রায় তিন-চারশো স্বেচ্ছাসেবক ক্যাম্পের আশেপাশে থাকে। নাচোল এখন মুক্ত অঞ্চল। নিজেদের শাসন চালু হয়েছে―জমিদার জোতদাররা টু শব্দ করতে পারে না। আইন মতো ধান ভাগ হয়ে চলে যায় যার যার বাড়িতে। চাষির ধান খোলানে তুলে ভ‚স্বামীকে খবর দেয়। ভূস্বামী উপস্থিত হলে তার সামনেই ভাগ হয়। উপস্থিত না হলে ধান তিন ভাগ করে দুই ভাগ কৃষকের জন্য রেখে এক ভাগ গরুর গাড়িতে করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মালিকের বাড়িতে। কৃষকদের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা দেখা যায় সুদিনের প্রত্যাশায়।
কৃষক আন্দোলন দমন করতে মুসলিম লীগ সরকার নড়েচড়ে বসলেন। ১৯৫০ সালের ৫ জানুয়ারি পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কাউকে না পেয়ে সেদিন সুরেন বর্মনের বাসায় উঠে নেতা-কর্মীদের গোপনে রাখার অভিযোগ করেন এবং মারধর করেন। এ সংবাদ পৌঁছানো মাত্র তীর-ধনুক, লাঠি সোঠা নিয়ে শত-সহস্র সাঁওতালসহ গ্রামবাসীরা ছুটে আসে এবং পুলিশদের ঘিরে ফেলে। সেদিন আনুমানিক ৬ হাজার নারী-পুরুষ পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মাঠে নেমেছিল।নাচোল থানার দারোগা কয়েকজন সেপাইকে নিয়ে ঘাসুড়া গ্রামে গিয়ে হাজির হোন গরুর গাড়িতে চড়ে, গাড়োয়ান ছিলেন লালু। চারজন পুলিশ সদস্যের দুজনকে মেরে ফেলে এবং দুজনকে মাটিতে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হয়, ওই দিনই সূর্যাস্তের আগে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে রমেন মিত্র সুকচাঁদের জামাই সুষ্ঠিকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হোক, পার্টিকে রিপোর্ট দিতে। বৃন্দাবন সাহাকে নিয়ে ইলা মিত্র আরেক রাস্তায় সীমান্ত অতিক্রমের লক্ষ্যে বেরিয়ে পড়েছেন। ১৯৫০ সালের ৭ জানুয়ারি ইলা মিত্র রহনপুর রেলস্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। ইতিপূর্বে ৬ জানুয়ারি পুলিশ ফৌজরা স্থানীয় জামলা মাঝিকে বন্দুকের বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে মেরে ফেলেছিল।
ইলা মিত্রের একমাত্র সন্তান মোহন মিত্র ‘বাঙাল নামা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “যখন ওখানে গ্রামকে গ্রাম জ¦লছে, তখন ওখান থেকে পালিয়ে যাবার জন্য দুটো দলে ভাগ হয়েছিল। ওখানে যে লিডার, মাতলা সর্দার তার নাম, সাঁওতালদের লিডার। মাতলা মাকে বলেছিল, ‘আপনাকে আমি সেফ জায়গায় নিয়ে চলে যাব। আপনি চিন্তা করবেন না।’ মা বলল যে, ‘তুমি বল কোন রাস্তা দিয়ে যাব। আরেকটা দল অন্য দিকে দিয়ে চলে গেছে। তুমি আমাকে জায়গাটা বল, রোহনপুর স্টেশনটা বলে দাও, কোনদিকে দিয়ে যাব।’ মা অপেক্ষা করতে রাজি না। তখন প্রচণ্ড পেছনে ফায়ারিং চলছে। আরো মিলিটারি আসছে, ঘিরছে। ঘিরে ফেলার আগেই রোহনপুর স্টেশনে যেতে হবে। রোহনপুর স্টেশনে মা আরো পাঁচজন সাঁওতাল মেয়েকে নিয়ে… এবং মার ড্রেসও ছিল সাঁওতালি, খালি গা, সাঁওতালি ড্রেস, কেননা মা ভীষণ ফ্লুয়েন্ট সাঁওতালি বলতে পারত। গিয়ে যখন রোহনপুর স্টেশনে বসেছে, মাটিতেই বসেছে, ট্রেন আসার অপেক্ষা করছে। তা পুলিশ তো ছেয়ে গেছে স্টেশনে, কিন্তু ধরতে পারেনি প্রথমে। কিন্তু ট্রেনটা আসছে না। That was a mistake of my mother যে সেই সময় মার ট্যাঁকে একটা ঘড়ি গোঁজা ছিল, বুঝেছ। হঠাৎ টাইমটা দেখার জন্য ট্যাঁক থেকে আস্তে করে, নিচু হয়ে ঘড়িটা দেখতে গেছিল। Somebody had noticed it.এক সাঁওতাল, মাটিতে বসে আছে, আদ্ধেক কাপড় নেই, কালো গা…মার গায়ের রং ছিল কালো… সে কী দেখছে? তখনি বুঝতে পেরেছে যে এই হচ্ছে ইলা। এবং আমাদের গ্রামেরই এক পুলিশের আইবি ছিল, হি আইডেন্টিফায়েড হার।” তিনি আরো বলেন, “৭ জানুয়ারি শুরু হলো পুলিশের প্রতিশোধ। দুই হাজার সেনা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে উপস্থিত হয়ে অভিযান শুরু করে। বারোটি গ্রাম ঘেরাও করে তছনছ করে। বাড়িঘর ধ্বংস করে। গুলি চালিয়ে হত্যা করে অসংখ্য গ্রামবাসীকে। নারীদের ধর্ষণ করে। শিশুদের উপর চালায় যৌন নির্যাতন। …পুলিশ তাদের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায়। এই অত্যাচারে ইলা মিত্রের সাথীদের মধ্যে আনুমানিক ৮০/৯০ জন মারা যায়।”
কমরেড ইলা মিত্র, বৃন্দাবন সাহাসহ অনেকে নিরাপদে সীমান্ত অতিক্রম করতে গিয়ে ধরা পড়েন রহনপুর রেলস্টেশনে। অতঃপর তাকে নাচোল থানায় নিয়ে আনা হয় এবং অকথ্য, নিমর্ম অত্যাচার চালানো হয়। ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে ইলা মিত্রের দেওয়া নির্যাতনের জবানবন্দি ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। জবানবন্দি প্রকাশিত হওয়ার পর পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর নিষ্ঠুর চেহারা উন্মোচিত হয়।
নির্যাতন মাত্রা ছিল বহুরূপী―অনবরত লাঠি দ্বারা পেটানো, দু’লাঠির মধ্যে পা দুটো ধরে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা, রুমাল দিয়ে মুখ বেঁধে চুল টেনে উপড়ে ফেলা, লাঠি দ্বারা মাথায় আঘাত করে নাক-মুখ দিয়ে অনবরত রক্ত বের করা, কিল-ঘুষিসহ তলপেটে বুটের লাথি মারা, হাঁটুতে লম্বা পেরেক ঢুকিয়ে দেয়া, সারাদিন উলঙ্গ করে রাখা পরিশেষে স্বীকারোক্তি আদায়ের নামে ধর্ষণ করা। প্রায় ১০ দিন চলে এ নারকীয় অত্যাচার। ইলা মিত্রের একটি স্মৃতিচারণ তুলে ধরা হলো- ওরা প্রথম থেকেই নির্দয়ভাবে মারতে শুরু করলো। শুধু আমাকে নয়, আমাদের সবাইকেই। সেখান থেকে আমাদের নিয়ে এল নাচোলে। আমি মারপিটের ফলে অবসন্ন হয়ে পড়েছিলাম, আমার সর্বাঙ্গে বেদনা। ওরা আমাকে একটা ঘরের বারান্দায় বসিয়ে রাখল। আমাদের সঙ্গে যে সকল সাঁওতাল কর্মীরা ছিল, আমার চোখের সামনে তাদের সবাইকে জড় করে তাদের উপর বর্বরের মত মারপিট করে চললো। আমি যাতে নিজের চোখে এই দৃশ্য দেখতে পাই, সেজন্যই আমাকে তাদের সামনে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। ওরা তাদের মারতে মারতে একটা কথাই বারবার বলছিল, আমরা তোদের মুখ থেকে এই কথাটুকু বললেই তোদের ছেড়ে দেব। কিন্তু যতক্ষণ না বলবি, এই মার চলতেই থাকবে। মারতে মারতে মেরে ফেলব, তার আগে আমরা থামব না। কথাটা তারা যে শুধু ভয় দেখাবার জন্য বলছিল, তা নয়, তারা মুখে যা বলছিল, কাজেও তাই করছিল। ও সে কি দৃশ্য! আর সেই দৃশ্য আমাকে চোখ মেলে দেখতে হচ্ছিল। এ কি শাস্তি! কিন্তু কি আশ্চর্য, সেই হিংস্র পশুর দল আঘাতের পর আঘাত করে চলেছে। রক্তে ওদের গা ভেসে যাচ্ছে, কিন্তু কারু মুখে কোনো শব্দ নাই, একটু কাতরোক্তি পর্যন্ত না। ওরা নিঃশব্দ হয়ে ছিল, কিন্তু দেখতে দেখতে কেঁদে ফেললাম আমি। এই দৃশ্য আমি আর সইতে পারছিলাম না। মনে মনে কামনা করেছিলাম, আমি যেন অজ্ঞান হয়ে যাই। কিন্তু তা হলো না, আমাকে সজ্ঞান অবস্থাতেই সবকিছু দেখতে হচ্ছিল, কিন্তু একটা কথা না বলে পারছি না, এত দুঃখের মধ্যেও আমাদের এই বীর কমরেডদের জন্য গর্বে ও গৌরবে আমার বুক ভরে উঠেছিল। একজন নয়, দু’জন নয়, প্রতিটি মানুষ মুখ বুজে নিঃশব্দ হয়ে আছে, এত মার মেরেও ওরা তাদের মুখ খোলাতে পারছে না। এমন কি করে হয়! এমন যে হতে পারতো এ তো আমি কল্পনাও করতে পারিনি। মনে মনে একটা কথা আবৃত্তি করে চলেছিলাম, হে বীর সাথীরা আমার, তোমাদের কাছ থেকে যে শিক্ষা আমি আজ নিলাম, তা যেন আমার বেলায় কাজে লাগাতে পারি। আমার উপর অত্যাচার এই তো সবে শুরু হয়েছে। আমি জানি, এরপর বহু অত্যাচার আর লাঞ্ছনা আমার উপর নেমে আসবে। সেই অগ্নি-পরীক্ষার সময়, হে আমার বীর সাথীরা, আমি যেন তোমাদের এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে নিঃশব্দে মুখ বুজে থাকতে পারি। আর যদি মরতে হয়, যেন অমনি নিঃশব্দে মরে যেতে পারি। প্রচণ্ড তর্জন-গর্জনের শব্দ শুনে চমকে উঠলাম, চেয়ে দেখি, হরেককে দলের মধ্য থেকে মারতে মারতে বার করে নিয়ে আসছে। ওদের মুখে সেই একই প্রশ্ন, বল, ইলা মিত্র সে-ই পুলিশদের হত্যা করবার আদেশ দিয়েছিল। না বললে মেরে ফেলব, একদম মেরে ফেলব। আমি চেয়ে আছি হরেকের মুখের দিকে। অদ্ভ‚ত ভাববিকারহীন একখানি মুখ। অর্থহীন দৃষ্টিতে শূন্যপানে তাকিয়ে আছে। ওদের এত সব কথা যেন তার কানেই যাচ্ছে না। ক্ষেপে উঠল ওরা। কয়েকজন মিলে তাকে মাটিতে পেড়ে ফেলল। তারপর ওরা ওদের মিলিটারি বুুট দিয়ে তার পেটে বুকে সজোরে লাথি মেরে চলল। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, হরেকের মুখ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তারপর তার উপর ওরা আরও কতক্ষণ দাপাদাপি করল। একটু বাদেই এক খণ্ড কাঠের মত স্থির হয়ে পড়ে রইল হরেক। ওদের মধ্যে একজন তাকে নেড়ে চেড়ে দেখে বলল, ছেড়ে দাও, ওর হয়ে গেছে। এই বলে ওরা আর একজনকে নিয়ে পড়ল। মরে গেছে। আমাদের ছেড়ে চলে গেছে হরেক। অনেকদিন আগেকার পুরানো একটা কথা মনে পড়ে গেল। একদিন হরেককে পার্টির একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজের সময় তার দেখা মেলেনি। এজন্য কৈফিয়ত চাইলে পরে সে বলেছিল, তার গরুটা হারিয়ে যাওয়ায়, সে তাকে খোঁজ করতে বেরিয়েছিল। সেই জন্যই সে সময় মত উপস্থিত থাকতে পারেনি। এজন্য অনেকের সামনে তাকে তিরষ্কার শুনতে হয়েছিল। তারপর থেকে তার উপর কোন দায়িত্বপূর্ণ কাজের ভার দেওয়া হতো না। এটা বুঝতে পেরেছিল হরেক। এই নিয়ে সে একদিন অভিমান-ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছিল―আমাকে কি মনে করেন আপনারা? জানেন, প্রয়োজন হলে পার্টির জন্য আমি জীবন দিতে পারি? এই ধরনের বাগাড়ম্বর অনেকেই করে। তার এই কথায় কেউ ততটা আমল দেয়নি। কিন্তু আজ? আজ হরেক তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিয়ে গেল, সেদিন সে যা বলেছিল, তা বাগাড়ম্বর নয়, অক্ষরে অক্ষরে সত্য। আমাদের ছেড়ে চলে গেছে হরেক। আর কোনদিন ফিরে আসবে না। একটু আগেই আমি কেঁদেছিলাম। কিন্তু এখন আমার সমস্ত কান্না শুকিয়ে গেছে। তার পরিবর্তে ভিতর থেকে প্রচণ্ড একটা জিদ মাথা তুলে জেগে উঠছে। আমার মন বলে চলেছে, মারুক, মারুক, ওরা আমাকেও এমনি করে মারুক। আর মনে হচ্ছে, এই যে, আমাদের কয়েক ’শ সাথী, এদের মধ্যে কাউকে দিয়ে ওরা কথা বলাতে পারবে না। কিছুতেই না। ওদের হার হয়েছে। ওদের হার মানতে হবে।” ইলা মিত্র (সত্যেন সেনের বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলন, পৃষ্ঠা- ১০৬-১০৯)। এরপরই সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর এক বিশাল অংশ সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মালদার গাজোল ও হাবিবপুরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সব কর্মীকে গ্রেপ্তার করে ভয়ংকর নির্যাতন চালানো হয়েছিল; অনুমান করা হয়, পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ১০০ জন নিহত হয়েছিলেন। লক্ষ্যণীয় হলো- ইলা মিত্র নিজের রাজনৈতিক কর্মপ্রচেষ্টার প্রেরণা হিসেবে কমিউনিষ্ট পার্টির প্রতি অঙ্গীকারের চেয়েও সাঁওতালদের আত্মত্যাগকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর তেভাগা আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তিতে নাচোলে ঘটে যায় এক অপূর্ব ঘটনা। একজন পর্যবেক্ষক বর্ণনা করেছিলেন এভাবে, “আদিবাসী নারীরা তাদের সেরা পোশাকে এসেছিলেন। তারা চুলে ফুলে গুঁজে নিজেদের সাজিয়েছিলে- তাদের কাছে দিনটি ছিল উৎসবের মতো; তারা এসেছিলেন ‘রাণি মা’ কে প্রণাম জানাতে, যাকে তারা তাদের স্বপ্নের দেবী হিসেবে দেখতেন। যখন তিনি মঞ্চে উঠলেন, সবাই উঠে দাঁড়াল উলুধ্বনিতে। পুরুষেরাও এসেছিল তাদের সেরা পোশাকে, ঐতিহ্যবাহী সাজে, সঙ্গে ছিল মাদল, ঢোল, তীর-ধনুক, বর্শা। আমরা এই মানুষদের মাঝে গভীর আবেগ প্রত্যক্ষ করলাম। তারা রাণিমার আদেশের অপেক্ষায় ছিল। তারা আবার বিদ্রোহের দিনগুলোতে নতুন করে বাঁচতে চেয়েছিল।” এটি ছিল ইলা মিত্রের নাচোলে প্রথম প্রত্যাবর্তন এবং এতোদিন তিনি কোনো সাঁওতালের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখেনি। তিনি না রাখলেও তার আগমনে শুধু নাচোলের সাঁওতালরা নয়, অত্র এলাকার হাজার হাজার সাঁওতাল সমবেত হয়েছিল নাচোলের প্রাণকেন্দ্রে। ‘রাণি মা এসেছে’ ধ্বনিতে সেদিন নাচোল কম্পিত হয়েছিল। ইলা মিত্র অনুভূতি ব্যক্ত করেছিলেন―‘নাচোলে যাওয়ার আগে আমি খুবই উৎকণ্ঠিত ছিলাম। আমি যাদের চিনতাম, তারা কেউই এখন আর বেঁচে নেই… যেদিন পৌঁছালাম, সেদিন ধর্মঘট ছিল। তবুও সেখানে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ এসেছিল। …আয়োজকরা শুধু কিছু লিফলেট বিলি করেছিল।…আমার আগমনের খবর শুনে বহু সাঁওতাল চলে এসেছিল…হাজার হাজার নারী এসেছিল। চারদিকে লাখ লাখ মানুষের ভিড়। অদ্ভুৎ এক অনুভূতি হচ্ছিল। অন্যরা যখন বক্তৃতা দিল, কেউ শোনেনি। …কিন্তু যখন আমি বক্তৃতা দিতে দাঁড়ালাম, তখন পুরো সভায় পিনপতন নীরবতা।”
আদিবাসীদের আক্ষেপ ও ক্ষোভ রয়েছে- নাচোলে এতোবড় একটি আন্দোলন হলো, তার কোনো নাম নিশানাই অদ্যাবধি চোখে পড়ে না। সংগ্রামীদের স্মরণ ও স্মৃতি সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার সমাজ পরিবর্তনকামী কর্মীদের কাছে নাচোলের কৃষক বিদ্রোহ আজও সাঁওতাল কৃষকদের আত্মবলিদানের বলিষ্ঠ উদাহরণ। তবে শুধু সাঁওতার কৃষকরাই নয়, অন্যান্য আদিবাসী ও মুসলমান কৃষকরাও এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিল। একই সঙ্গে একথা বলা যায়, কমিউনিষ্ট আন্দোলনের রাজনৈতিক চেতনা ও আদর্শ সম্পর্কে নাচোলের সাঁওতাল কৃষকরা যে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক সচেতন ছিল এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। শেষ পর্যন্ত এই বিশ্লেষণ পৌঁছায় এক অসাধারণ রাজনৈতিক ও আত্মগত পরিচয় নির্মাণের বোঝাপড়ায়―যেখানে নগরীর বামপন্থী ইতিহাস এবং গ্রামীণ সাঁওতাল সময়বোধ এক বিরল সংযোগে মিলিত হয়েছিল নাচোল বিদ্রোহে।

RelatedPosts

মুক্তকথা ● বিবেকের বিশ্লেষণ ■ ডা. অলোক মজুমদার

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোনের করপোরেট নম্বর ব্যবহার ‘বাধ্যতামূলক’

নাটোরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ৬ জনের প্রাণহানি

Previous Post

চট্টগ্রামে ইপিজেডে কারখানার আগুন পাঁচ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, কাজ করছে ১৯টি ইউনিট

Next Post

বরিশালে মেঘনায় জেলেদের হামলায় মৎস্য কর্মকর্তাসহ আহত ১৫

Admin

Admin

Next Post
বরিশালে মেঘনায় জেলেদের হামলায় মৎস্য কর্মকর্তাসহ আহত ১৫

বরিশালে মেঘনায় জেলেদের হামলায় মৎস্য কর্মকর্তাসহ আহত ১৫

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ADVERTISEMENT

সময়ের বিবর্তন

সম্পাদকঃ
আবদুল মাবুদ চৌধুরী

বিভাগীয় সম্পাদকঃ
নায়েম লিটু

ফোনঃ ০২-৯০১১১৫৬ বাসাঃ -০৪, রোডঃ ০৪, ব্লক- এ, সেকশনঃ ০৬, ঢাকা -১২১৬

Our Visitor

0 3 3 3 2 4
Users Today : 58
Views Today : 61
Total views : 174614
Powered By WPS Visitor Counter

  • Setup menu at Appearance » Menus and assign menu to Footer Navigation

Developer Lighthouse.

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা

Developer Lighthouse.

Login to your account below

Forgotten Password?

Fill the forms bellow to register

All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In