আমরা কত দিনে আলোর জগতে আসব। কবে আমরা নিজের স্বার্থ ত্যাগ করব। কবে নিজের স্বার্থটা আমরা অন্যের কাজে লাগাব। আজ কেন যেন আর পত্রিকা পড়তে বা টিভি দেখতে আর ভালো লাগে না। শুধু মৃত্যু, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, জোর দখল, পাচার, যেমন খুশি তেমন সাজো কথাবার্তা, আর মিথ্যের ছড়াছড়ি। মাঝে মাঝে মনে হয়, এ যেন স্বর্গের অবস্থান নিশ্চিত করার মতোই অবস্থা। সারা পৃথিবীতেই আজ যেন যুদ্ধ যুদ্ধ রব চলছে। বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে একর পরে এক হামলা চলছে। কত শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ কতই না সাধারণ মানুষ এর ক্ষতির শিকার হচ্ছে। কেন তৈরি করছি আমরা এই মৃত্যুপুরী। কে কোন দেশের বা কোন ধর্মের তার আগের পরিচয় তো আমরা মানুষ।
সৃষ্টির সেরা জীব আমরাই এই মানুষ হয়ে কীভাবে শয়তান আমাদের ভেতরে রাজত্ব করে অন্য মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে যাচ্ছে। আজ মানুষের প্রতি মানুষের ভক্তি, শ্রদ্ধা, মমত্ববোধ আর নেই। ব্যক্তি স্বার্থের কাছে বলি হয়েছে আমাদের মতো সাধারণ মানুষগুলো। আজ এই মানুষকে মারার জন্য বা ভয় দেখিয়ে নিজের সিদ্ধি সাধন করার জন্য, যত অর্থ ব্যয় করা হয়, তার এক হাজার ভাগের এক ভাগও যদি মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা হতো তবে হয়ত স্বর্গ খুঁজতে হন্যে হয়ে ঘুরতে হতো না আমাদের।
আজ বিশ্বের কোথাও যেন শান্তি নেই। নিজেদের অধিকার বাস্তবায়নে প্রত্যেকটা দেশই তাদের নিজ নিজ কৌশল খাঁটিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ কারো কারো সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেই যাচ্ছে। নিজের পরিচিতি ধরে রাখতে ও নিজেদের বাণিজ্য ঠিক রাখতেই তারা তাদের পরিকল্পনা-মাফিক সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এই যে যুদ্ধ মারামারি হিংসা হানাহানি বন্ধ করার কথা কত জন বলছে। আজ সমস্ত পৃথিবীটাই যেন দুটো সমাজে ভাগ হয়ে গেছে। একটা হলো পিছিয়ে পড়াদের অংশ ,আর একটা অনেক এগিয়ে যাওয়ার অংশ। মধ্যবিত্ত বলতে আমরা যা বুঝি তা আর নেই পৃথিবীতে। এই বৈষম্যই এক সময় আমাদের হিংস্রতার দিকে নিয়ে যায় এবং তাই যাচ্ছে। যুদ্ধটা এই দুই জনের। মাঝে মাঝ দুজনের আগুনেই কেউ কেউ নেভানোর উপাদান বাদ দিয়ে জ্বালানোর উপাদান বেশি করে ঢেলে দিচ্ছে যেন যুদ্ধের আগুনের স্থায়িত্বটা আরো বেশি হয়।
আজ গণতন্ত্রহীনতায় চলছে সারা পৃথিবীই। জবাবদিহিতার ঘাটটিতে আমাদের যত উন্নয়নই হোক না কেন, একটা পক্ষের কাছে নায্যতা থাকে না। কত আলোচনা-সমালোচনা হয় কিন্তু কোনো সমাধান হয় না। আর সেটার রেশ আকৃতি নেয় যুদ্ধের। নিজের কাছে আমরা যেন প্রত্যেকেই সঠিক অবস্থানে অবস্থান করি। পাশের দিকে কোনো নজর নেই আমাদের। মানুষের জন্যে মানুষ, মানুষের কল্যাণে মানুষ, আবার মানুষের ধ্বংসেও এই মানুষই। বহুরূপী এই মানুষের রূপ বদলাতে একটি মুহূর্তও দেরি হয় না, যখনই তার নিজের স্বার্থে আঘাত লাগে। আজ শুধু নিজের চাওয়া পাওয়া ছাড়া অন্য কারো চাওয়া পওয়ার গুরুত্ব দিতে শিখিনি আমরা। সংঘাত এড়াতে সংলাপে রাজি কিন্তু ছাড় দিতে রাজি নই। আর এই দ্বন্দ্বের মাঝেই বারবার ঢুকে পড়ে তৃতীয় পক্ষ, আর তখনেই শুরু হয় যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা।
আমরা পরিকল্পনা করি স¦ল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের। কথার বোমা থেকে ফসফরাস বোমা, শেষে মজুদ পারমানবিক বোমা। এই সবই মানুষ হয়ে মানুষকে ধ্বংস করার জন্য। আসলেই কি এই পৃথিবীতে ভালো মানুষের অভাব ক্রমান্বয়েই বাড়ছে। নাকি ভালো মানুষগুলো, তাদের ভালো-মন্দ বোঝার মতো ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষের আর্তনাদ এই পৃথিবী থেকে কবে কমবে। বন্ধ হোক পৃথিবীর সকল সংঘাত। জীবনের অপচয় কোনোভাবেই আমাদের কাম্য না হোক। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক আমাদের হৃদয়ে। বন্ধ হোক রক্ত ঝরা। সারা পৃথিবীই হোক সকল মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল। যেখানে থাকবে না কোনো বাধা। পাখির মতো উড়ে বেড়াতে পারবে পৃথিবীর সকল স্থানে সকল মানুষ। হিংসা হানাহানি বন্ধ হোক সকল যুদ্ধ বন্ধ হোক, সকল বেড়া ভেঙে যাক, পাখির মতো এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছুটে যাবো আমরা। ঈশ্বরের সর্ব শ্রেষ্ট সৃষ্টি এই মানুষের জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য আবাসভূমি তৈরি হোক আমাদের এই পৃথিবী।






Users Today : 78
Views Today : 92
Total views : 174645
