ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর এটি আলোচনার শীর্ষে থাকে। নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও এর থেকে মুক্তি মিলছে না মানুষের । করোনার কারণে গত দুই ঈদে ঘরমুখো মানুষের সংখ্যা কম ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে করোনার প্রকোপ অনেকটাই কম। তাই ধারণা করা হচ্ছে এবার ঈদে যাত্রী ভোগান্তি বাড়বে। ভোগান্তি শুধু বাড়বেই না সেটা হতে পারে পূর্বের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, করোনার প্রকোপ কমে আসায় এবারের ঈদে গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি বলে আশঙ্কা করছে সংগঠনটি। প্রতিবছর ঈদ এলে এ নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা বাড়ে কিন্তু সড়কে মৃত্যু কিংবা দুর্ভোগ কোনোটাই কমছে না বরং বেড়েই চলেছে। নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২১ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ৩৭১টি। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬ হাজার ২৮৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৮ জন। যেখানে ২০২০ সালের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে সাড়ে ১৩ শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।
মূলত বেশি ভাড়া আদায়ের লোভে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ী, পণ্যবাহী যানে যাত্রীবহন, নৌপথে পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম না থাকা, চালককে বিশ্রাম না দিয়ে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিরামহীন যান চালাতে বাধ্য করা, অদক্ষ চালক দিয়ে আনফিট গাড়ি চালনার কারণে সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনায় প্রতিবছর ঈদে কয়েক শ যাত্রীর প্রাণহানি হয়। এ ছাড়া যানবাহনের বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত হকারের দখলে থাকা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে অসচেতনতা রয়েছে।
অসহনীয় যানজটে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। সড়কের বাস্তব চিত্র এতটাই নাজেহাল যে চাইলেই সড়ক নিরাপদ করা সম্ভব নয়। যাঁরা এর সুবিধাভোগী, তাঁরাই নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন জায়গায় বসে আছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য এবং পরিবহন নেতাদের চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন টোল পয়েন্টের কারণে জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট হয়। ঈদযাত্রায় রাজধানীবাসী যানজটের ভোগান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে যদি রাজধানীর ফুটপাত, রাস্তা হকার ও অবৈধ পার্কিংমুক্ত করা যায়।
এমতাবস্থায় সড়কে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত করা, প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, ফিটনেসবিহীন গাড়ী চলাচল করতে না দেওয়া, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন না করা, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলের জন্য সার্ভিস রোড নির্মাণ, দক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো নিশ্চিত করতে হবে। ব্ল্যাকে ট্রেনের টিকিট বিক্রি বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়ালে ভোগান্তি কিছুটা কমবে। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করছি।





Users Today : 23
Views Today : 24
Total views : 174577
